মুফাসসির
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:০৯ অপরাহ্ণ
শিশুদের সাথে আচরণ: নববী আদর্শ ও আমাদের দায়বদ্ধতা
শিশুদের মন বোঝা ও নববী শিক্ষা
আমরা যারা শিশুদের সামান্য দুষ্টুমিতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলি, তাদের জন্য মদিনার একটি দৃশ্য বড় শিক্ষার।
হাদিস (১)
একবার রাসুল (সা.) সাহাবিদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ছিলেন। তিনি সিজদায় গেলেন, কিন্তু মাথা ওঠালেন না। সাহাবিরা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। নামাজ শেষে জানা গেল, সিজদারত অবস্থায় নবীজির পিঠের ওপর তাঁর নাতি চড়ে বসেছিলেন। শিশুটি কষ্ট পাবে ভেবে দোজাহানের বাদশা সিজদা দীর্ঘায়িত করেছিলেন, তবুও তাকে নামিয়ে দেননি। (সুনানে নাসায়ি: ১১৪১)
হাদিস (২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন: “যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৩)
ইসলাম শিখিয়েছে, একটি শিশুর সাথে করা ভালো আচরণও সদকা। অথচ আমরা অনেক সময় শাসনের নামে তাদের সাথে এমন রূঢ় আচরণ করে ফেলি, যা তাদের কোমল হৃদয়ে চিরস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। আনাস (রা.) দীর্ঘ ১০ বছর নবীজির খেদমত করেছেন, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একবারও নবীজির কাছ থেকে 'উহ' শব্দটুকু শোনেননি। ধমক দেওয়া তো দূরের কথা, তিনি কখনও বলেননি—"এটা কেন করলে?" বা "ওটা কেন করলে না?"
আজ আমাদের ক্লাসরুম বা ঘরে শিশুদের ভুলত্রুটিতে আমরা কতটা সহনশীল? ইসলাম শিখিয়েছে, শিশুর সাথে কথা বলতে হলে তার উচ্চতায় নেমে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে। তাদের ধমক দিয়ে নয়, বরং সম্মান দিয়ে বড় করতে হয়। কারণ, যার আত্মসম্মান ছোটবেলাতেই ভেঙে দেওয়া হয়, সে কখনোই বড় মানুষ হতে পারে না।
আসুন
রাসুল (সা.)-এর মতো ভালোবাসা দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে গড়ে তুলি।
১
১ মন্তব্য