প্রধান শিক্ষক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ
শিখন শেখানো কার্যাবলী
শিখন–শেখানো কার্যাবলী: কার্যকর শিক্ষার মূল ভিত্তি
ভূমিকাঃ
শিক্ষা একটি চলমান ও গতিশীল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিখন–শেখানো কার্যাবলী। শিক্ষার্থী কীভাবে শিখবে এবং শিক্ষক কীভাবে শেখাবেন—এই দুইয়ের সমন্বিত প্রয়াসই শিখন–শেখানো কার্যাবলী। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় কেবল তথ্য প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।
শিখন–শেখানো কার্যাবলীর ধারণা
শিখন (Learning) হলো শিক্ষার্থীর আচরণ, জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির স্থায়ী পরিবর্তন।
শেখানো (Teaching) হলো পরিকল্পিত উপায়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
অতএব, শিখন–শেখানো কার্যাবলী বলতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত সকল পরিকল্পিত কার্যক্রমকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
শিখন–শেখানো কার্যাবলীর উদ্দেশ্যঃ
শিখন–শেখানো কার্যাবলীর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো—
শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,
জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা ও মনোভাব গড়ে তোলা।
সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক, চিন্তার বিকাশ,
বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ স্থাপন।
শিক্ষাকে আনন্দময় ও অর্থবহ করা
শিখন–শেখানো কার্যাবলীর ধরন------
১. শিক্ষককেন্দ্রিক কার্যাবলীঃ
এই পদ্ধতিতে শিক্ষক প্রধান ভূমিকা পালন করেন। যেমন—
লেকচার পদ্ধতি,
ব্যাখ্যা প্রদান,
প্রশ্নোত্তর,
সুবিধা: স্বল্প সময়ে বেশি তথ্য দেওয়া যায়।
অসুবিধা: শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম।
২. শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কার্যাবলী-----
আধুনিক শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এই পদ্ধতিকে। যেমন—
দলগত কাজ,
আলোচনা,
সমস্যা সমাধানমূলক শিক্ষা,
প্রজেক্ট ও অ্যাসাইনমেন্ট।
সুবিধা: শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়।
অসুবিধা: সময় ও পরিকল্পনার প্রয়োজন বেশি
৩. কার্যক্রমভিত্তিক শিখন
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী কাজের মাধ্যমে শেখে। যেমন—
রোল প্লে,
ডিবেট,
কেস স্টাডি,
হাতে–কলমে কাজ,
এতে শিখন হয় স্থায়ী ও বাস্তবভিত্তিক।
কার্যকর শিখন–শেখানো কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্যঃ
একটি কার্যকর শিখন–শেখানো কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্য হলো—
শিক্ষার্থীর বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী উপযোগী,
স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারিত,
শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত,
জীবনমুখী ও বাস্তবভিত্তিক,
মূল্যায়নের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভূমিকা
শিক্ষকের ভূমিকা:
সহায়ক ও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করা
শিক্ষার্থীর আগ্রহ সৃষ্টি করা।
বিভিন্ন শিক্ষণ কৌশল প্রয়োগ করা
শিক্ষার্থীর ভূমিকা:
সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা
প্রশ্ন করা ও মত প্রকাশ করা
দলগত কাজে সহযোগিতা করা
শিখন–শেখানো কার্যাবলীতে প্রযুক্তির ব্যবহার
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি শিখন–শেখানো কার্যাবলীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেমন—
মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন
অনলাইন ক্লাস
শিক্ষামূলক ভিডিও
ডিজিটাল কুইজ ও লার্নিং অ্যাপ
এতে শিক্ষণ আরও আকর্ষণীয় ও সহজ হয়।
উপসংহারঃ
শিখন–শেখানো কার্যাবলী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ। সঠিক পরিকল্পনা ও উপযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত শিখন–শেখানো কার্যাবলী শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করে। একজন দক্ষ শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই শিক্ষা হয়ে ওঠে ফলপ্রসূ, আনন্দময় ও জীবনঘনিষ্ঠ।
৭
৬ মন্তব্য