Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

বাতজ্বর (Rheumatic Fever)
বাতজ্বর (Rheumatic Fever) হলো এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগ, যা সাধারণত গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত গলার সংক্রমণের ২-৪ সপ্তাহ পর দেখা দেয় এবং হৃদপিণ্ড, জয়েন্ট, ত্বক ও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে; এর লক্ষণগুলো হলো জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা এবং হৃদপিণ্ডে প্রদাহ, যা চিকিৎসা না করালে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং এর কারণ ও লক্ষণ নির্ণয়ে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।  
কারণ:
মূলত স্ট্রেপটোকক্কাস পায়োজেনস (Group A Streptococcus) ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া গলার সংক্রমণ (Streptococcal pharyngitis)। 
এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণের (যেমন স্কারলেট ফিভার) কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করলে এই রোগ হয়। 
লক্ষণ: 
মুখ্য লক্ষণ: 
জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা (Polyarthritis), হৃদপিণ্ডের প্রদাহ (Carditis), ত্বকে লাল ফুসকুড়ি (Erythema marginatum), এবং অনিয়ন্ত্রিত অঙ্গ সঞ্চালন (Chorea)।
গৌণ লক্ষণ: 
দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ইত্যাদি।
রোগ নির্ণয়:
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর ইতিহাস, লক্ষণ এবং রক্ত পরীক্ষা (যেমন ASO titre) ও অন্যান্য পরীক্ষা (ECG, Echocardiogram) করা হয়। 
শুধুমাত্র গিরায় ব্যথা বা ASO titre বেশি থাকলেই বাতজ্বর নিশ্চিত হয় না, অন্যান্য লক্ষণ ও পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। 
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ:
অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দমন করা, প্রদাহ কমানোর ওষুধ এবং হৃদপিণ্ডের জটিলতা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে। 
স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণ হলে দ্রুত ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা (যেমন অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করা) বাতজ্বর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। 
গুরুত্বপূর্ণ: বাতজ্বর একটি গুরুতর রোগ যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে, তাই সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। 
মন্তব্য করুন

ব্লগ