Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা- লেখক: মোঃ মাইনুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি)

এসডিজি বাস্তবায়নে

সরকারের ভূমিকা

লেখক: মোঃ মাইনুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি)

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) বাস্তবায়ন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অঙ্গীকার। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট জলবায়ু ঝুঁকির এই সময়ে বাংলাদেশে . মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসডিজিকে কেন্দ্র করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এই সরকার উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করছেযা এসডিজির মূল দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) বাস্তবায়ন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর একটি। . মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষকেন্দ্রিক ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে। এই দর্শন এসডিজির মূল চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

. দারিদ্র্য বিলোপ: ইউনুস সরকার ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করতে কাজ করছে।
. ক্ষুধামুক্তি: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য এবং পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
. সুস্বাস্থ্য কল্যাণ: সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
. মানসম্মত শিক্ষা: বিনামূল্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
. লিঙ্গ সমতা: নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারী শিক্ষার প্রসার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে।
. নিরাপদ পানি পয়ঃনিষ্কাশন: বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
. সাশ্রয়ী পরিষ্কার জ্বালানি: সৌরশক্তি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
. শোভন কাজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
. শিল্প, উদ্ভাবন অবকাঠামো: প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
১০. অসমতা হ্রাস: ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে সামাজিক সুরক্ষা ন্যায্য অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
১১. টেকসই নগর জনপদ: পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. পরিমিত ভোগ উৎপাদন: সম্পদের অপচয় রোধ পুনঃব্যবহার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে।
১৩. জলবায়ু কার্যক্রম: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবুজ অর্থনীতি অভিযোজনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
১৪. জলজ জীবন: নদী জলাশয় সংরক্ষণ এবং জলদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
১৫. স্থলজ জীবন: বন সংরক্ষণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইন সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার কার্যকর প্রতিষ্ঠান: সুশাসন, দুর্নীতি দমন মানবাধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১৭. অংশীদারিত্ব: সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপসংহার:- সার্বিকভাবে বলা যায়, ইউনুস সরকারের মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শন এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সরকার, সমাজ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

 

মন্তব্য করুন