Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ণ

আঁকিবুঁকি থেকে লিখতে শেখা

আঁকিবুঁকি থেকে লিখতে শেখা! 


পৃথা তখন খুব ছোট। তার হাতে যখন খাতা আর রংপেন্সিল তুলে দেওয়া হলো, সে কিছুই লিখল না।

শুধু খাতার পাতাজুড়ে এঁকেবেঁকে দাগ কাটতে লাগল।কখনো সোজা দাগ, কখনো গোল, কখনো এলোমেলো আঁকিবুঁকি।

বড়রা কেউ কেউ বলল,

“এসব দাগ কেটে কী হবে? বর্ণ শেখাও!”

কিন্তু পৃথার শিক্ষক হাসলেন।

তিনি জানতেন, এই অর্থহীন দাগগুলো মোটেও অর্থহীন নয়।

প্রতিদিন পৃথা দাগ কাটে। কাটতে কাটতে তার হাতটা নরম হয়ে আসে।

আঙুল আর কবজি কথা শুনতে শেখে।

হাত ঘোরানো সহজ হয়, কলম ধরা আর কষ্টের মনে হয় না।

একদিন হঠাৎ পৃথা খাতায় একটা গোল দাগ কাটল।

শিক্ষক বললেন,

“দেখো, এটা তো ‘অ’-এর মতো!”

আরেকদিন বাঁকা দাগ,

সেটাই হয়ে গেল ‘আ’।

ধীরে ধীরে আঁকিবুঁকির দাগগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক একটা বর্ণ।

পৃথা বুঝল,

আগে যে দাগগুলোর কোনো অর্থ ছিল না,

সেগুলোই তাকে বর্ণ লেখার পথে নিয়ে এসেছে।

তাই আঁকিবুঁকি কোনো অপচয় নয়।

এটাই শিশুর হাতকে প্রস্তুত করে,

আর হাত প্রস্তুত হলেই,

বর্ণ আপন মনে ধরা দেয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ