সহকারী শিক্ষক
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। অথচ মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে আমাদেরকে জীবন দিতে হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় দিন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। শুরু থেকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব-পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৯৪৮ সালের ২১মার্চ এবং ২৪মার্চ কার্জন হলে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দিলে ছাত্ররা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে। ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তানি শাসক ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে শহিদ হন। অতপর পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন। রক্তঝরা এ দিনটিকে সারা বিশ্বে স্মরণীয় করে রাখতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭নভেম্বর 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্মান জানিয়েছে ভাষা শহিদদের প্রতি। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর শুধু আমাদের মাতৃভাষা দিবস নয়। প্রতি বছর 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে।একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। এ দিবস উপলক্ষে কালো ব্যাজধারণ, প্রভাতফেরি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন করে থাকে। এছাড়া বাংলা একাডেমি প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী ঢাকায় একুশে বই মেলার আয়োজন করে থাকে।
৬৪
১০০ মন্তব্য