সহকারী শিক্ষক
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
সম্রাট আকবর এর রাজ্য বিজয়
সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) সামরিক বিজয় ও কূটনীতির মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যকে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে বিস্তৃত করেন, যার মধ্যে ছিল দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ (১৫৫৬) জয়, রাজপুতানা (চিতোর, রণথম্ভোর), গুজরাট (১৫৭৩), বিহার ও বাংলা (১৫৭৬) বিজয়, এবং কাশ্মীর, সিন্ধু ও কান্দাহার দখল; তাঁর বিজয় অভিযান ডেকান মালভূমির খানদেশ ও বেরার পর্যন্ত প্রসারিত হয়, যা মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
আকবরের প্রধান রাজ্য বিজয়সমূহ:
দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ (১৫৫৬): হিমুকে পরাজিত করে মুঘল সিংহাসন সুদৃঢ় করেন ও সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের পথ খোলেন।
মালওয়া (১৫৬১-৬২): বাজ বাহাদুরকে পরাজিত করে মালওয়া জয় করেন।
রাজপুতানা (১৫৬১-৬৯): বলপ্রয়োগ ও কূটনীতি উভয়ই ব্যবহার করে চিতোর (১৫৬৮), রণথম্ভোর (১৫৬৮)সহ রাজপুত রাজ্যগুলো আয়ত্তে আনেন, যদিও महाराণা প্রতাপের প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
গন্ডোয়ানা (১৫৬৪): রাণী দুর্গাবতীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও এই রাজ্য মুঘলদের অধিকারে আসে।
গুজরাট (১৫৭৩): এই লাভজনক বাণিজ্য অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
বিহার ও বাংলা (১৫৭৬): আফগান শাসক দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করে বাংলা ও বিহার মুঘল সাম্রাজ্যে যুক্ত করেন।
উত্তর-পশ্চিম (১৫৮৬-১৫৯৫): কাশ্মীর (১৫৮৬), সিন্ধু (১৫৯১), ও কান্দাহার (১৫৯৫) জয় করেন।
ডেকান (১৬০১): খানদেশ, বেরার এবং আহমদনগরের অংশবিশেষ তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা বুলন্দ দরওয়াজা নির্মাণের কারণ হয়েছিল।
বিজয়ের কৌশল: আকবর কেবল যুদ্ধ নয়, বরং রাজপুতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও তাদের প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমেও সাম্রাজ্য বিস্তার করেন, যা ভারতে মুঘল শাসনের ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করে।
১৩
১৮ মন্তব্য