Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:২১ পূর্বাহ্ণ

আল্লাহ তা'আলা বলেন কখনো নয় নিশ্চয় এটা উপদেশ বাণী

৮০ : ১১

 

كَلَّاۤ اِنَّهَا تَذۡكِرَۃٌ ﴿ۚ۱۱﴾ 

كلا انها تذكرۃ ﴿۱۱﴾
কখনো নয়, নিশ্চয় এটা উপদেশ বাণী।

-আল-বায়ান

না, এটা মোটেই ঠিক নয়, এটা তো উপদেশ বাণী,

-তাইসিরুল

না, এই আচরণ অনুচিত, এটাতো উপদেশ বাণী;

-মুজিবুর রহমান

No! Indeed, these verses are a reminder;

-Sahih International

১১. কখনো নয়, এটা তো উপদেশ বাণী(১),

(১) অর্থাৎ এমনটি কখনো করবেন না। যে সব লোক আল্লাহকে ভুলে আছে এবং যারা নিজেদের দুনিয়াবী সহায়-সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অহংকারে মত্ত হয়ে আছে, তাদেরকে অযথা গুরুত্ব দিবেন না। ইসলাম, আহি বা কুরআন এমন কিছু নয় যে, যে ব্যক্তি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে তার সামনে নতজানু হয়ে তা পেশ করতে হবে। বরং সে সত্যের যতটা মুখাপেক্ষী নয় সত্যও তার ততটা মুখাপেক্ষী নয়। বরং তাদেরই ইসলামের মহত্তের সামনে নতজানু হতে হবে। [তাতিম্মাতু আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। কক্ষনো (এরূপ করবে) না।[1] এটা তো উপদেশবাণী;

[1] অর্থাৎ, গরীব-মিসকীন ব্যক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আর ধনবান ব্যক্তির প্রতি খাস মনোযোগ দেওয়া ঠিক নয়। এর ভাবার্থ হল যে, আগামীতে যেন পুনর্বার এইরূপ না ঘটে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১২

 

فَمَنۡ شَآءَ ذَكَرَهٗ ﴿ۘ۱۲﴾ 

فمن شآء ذكرهٗ ﴿۱۲﴾
কাজেই যে ইচ্ছা করবে, সে তা স্মরণ রাখবে।

-আল-বায়ান

কাজেই যার ইচ্ছে তা স্মরণে রাখবে,

-তাইসিরুল

যে ইচ্ছা করবে সে ইহা স্মরণ রাখবে,

-মুজিবুর রহমান

So whoever wills may remember it.

-Sahih International

১২. কাজেই যে ইচ্ছে করবে। সে এটা স্মরণ রাখবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। যে ইচ্ছা করবে সে তা স্মরণ রাখবে (ও উপদেশ গ্রহণ করবে)।[1]

[1] অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তাতে আগ্রহ রাখে সে যেন তা হতে উপদেশ গ্রহণ করে। তাকে মুখস্থ করে এবং তার প্রতি আমল করে। আর যে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অমনোযোগিতা দেখায় - যেমন কুরাইশদের মর্যাদাবানরা করেছিল - তো তাদের ব্যাপারে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৩

 

فِیۡ صُحُفٍ مُّكَرَّمَۃٍ ﴿ۙ۱۳﴾ 

فی صحف مكرمۃ ﴿۱۳﴾
এটা আছে সম্মানিত সহীফাসমূহে।*

-আল-বায়ান

(এটা লিপিবদ্ধ আছে) মর্যাদাসম্পন্ন কিতাবসমূহে

-তাইসিরুল

ইহা আছে মর্যাদাময় পত্রসমূহে (লিখিত) –

-মুজিবুর রহমান

[It is recorded] in honored sheets,

-Sahih International

*অর্থাৎ লওহে মাহফুজে।

১৩. এটা আছে মর্যাদা সম্পন্ন লিপিসমূহে

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। সম্মানিত পত্রসমূহে (লওহে মাহফূযে তা লিপিবদ্ধ আছে)। [1]

[1] অর্থাৎ, লওহে মাহ্ফূযে সংরক্ষিত আছে। কেননা, সেখান হতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অথবা এর মর্মার্থ এই যে, এই সহীফা আল্লাহর নিকটে বড় মর্যাদাপূর্ণ বস্তু। কেননা, তা প্রজ্ঞা ও জ্ঞানে ভরপুর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৪

 

مَّرۡفُوۡعَۃٍ مُّطَهَّرَۃٍۭ ﴿ۙ۱۴﴾ 

مرفوعۃ مطهرۃ ﴿۱۴﴾
সমুন্নত, পবিত্র,

-আল-বায়ান

সমুন্নত, পবিত্র।

-তাইসিরুল

(এবং) উন্নত পুতঃ –

-মুজিবুর রহমান

Exalted and purified,

-Sahih International

১৪. যা উন্নত, পবিত্ৰ(১),

(১) مكرمة অর্থ সম্মানিত, মর্যাদাসম্পন্ন। مرفوعة বলে এর মর্যাদা অনেক উচ্চতা বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর] আর مطهرة বলে বোঝানো হয়েছে হাসান বসরীর মতে, যাবতীয় নাপাক থেকে পবিত্র। সুদ্দী বলেন, এর অর্থ কাফেররা এটা পাওয়ার অধিকারী নয়। তাদের হাত থেকে পবিত্র। হাসান থেকে অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে, এর অর্থ মুশরিকদের উপর নাযিল হওয়া থেকে পবিত্ৰ। [কুরতুবী] ইবন কাসীর বলেন, এর অর্থ এটি বাড়তি-কমতি ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র ও মুক্ত।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। যা উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ, পূত-পবিত্র। [1]

[1] مرفوعة অর্থাৎ, আল্লাহর নিকটে মর্যাদাপূর্ণ। অথবা এটা সন্দেহ এবং পরস্পরবিরোধিতা থেকে বহু উচ্চে। مطهرة অর্থাৎ, সেটি একেবারে পূত-পবিত্র। কেননা, তাকে পবিত্র লোক (ফিরিশতা)গণ ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না। কিংবা তা কম-বেশী হতে পাক-পবিত্র।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৫

 

بِاَیۡدِیۡ سَفَرَۃٍ ﴿ۙ۱۵﴾ 

بایدی سفرۃ ﴿۱۵﴾
লেখকদের হাতে,

-আল-বায়ান

(এমন) লেখকদের হাতে

-তাইসিরুল

লেখকদের হাতে (সুরক্ষিত)।

-মুজিবুর রহমান

[Carried] by the hands of messenger-angels,

-Sahih International

১৫. লেখক বা দূতদের হাতে।(১)

(১) سفرة শব্দটি سافر এর বহুবচন হতে পারে। তখন অর্থ হবে লিপিকার বা লেখক। আর যদি سفرة শব্দটি سفارة থেকে আসে, তখন এর অর্থ দূতগণ। এই শব্দ দ্বারা সাহাবীদেরও উদ্দেশ্য হতে পারে। প্রথমটিই অধিক শুদ্ধ। সহীহ হাদীসে السَّفَرَةُ الْكِرامُ البَرَرَةُ এর তাফসীর ফেরেশতাদেরই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘কিরাতে বিশেষজ্ঞ কুরআন পাঠক সম্মানিত নেককার দূতদের (ফেরেশতাদের) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিশেষজ্ঞ নয় কিন্তু কষ্টে সৃষ্টি পড়ে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। [বুখারী: ৪৯৩৭, মুসলিম: ৭৯৮] [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। এমন লিপিকারদের হস্ত দ্বারা (লিপিবদ্ধ)। [1]

[1] سفرة শব্দটি سافر এর বহুবচন। এর মানে দূত। এখানে এ থেকে উদ্দেশ্য হল ফিরিশতাদল। যাঁরা আল্লাহর ওহী তদীয় রসূল পর্যন্ত পৌঁছে থাকেন। অর্থাৎ, আল্লাহ এবং রসূলের মাঝে দূতের কর্ম আঞ্জাম দেন। এই কুরআন এমন দূতগণের হাতে থাকে যাঁরা তা লাওহে মাহ্ফূয থেকে বহন করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৬

 

كِرَامٍۭ بَرَرَۃٍ ﴿ؕ۱۶﴾ 

كرام بررۃ ﴿۱۶﴾
যারা মহাসম্মানিত, অনুগত।

-আল-বায়ান

(যারা) মহা সম্মানিত পূত-পবিত্র।

-তাইসিরুল

(ঐ লেখকগণ) মহৎ ও সৎ।

-মুজিবুর রহমান

Noble and dutiful.

-Sahih International

১৬. (যারা) মহাসম্মানিত ও নেককার।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। (যারা) সম্মানিত ও পুণ্যবান (ফিরিশতা)। [1]

[1] চরিত্রের দিক দিয়ে তাঁরা হলেন সম্মানিত; অর্থাৎ, শ্রদ্ধেয় এবং বুযুর্গ। আর কর্মের দিক দিয়ে তাঁরা পুণ্যবান ও পবিত্র। এখান থেকে জানা যায় যে, কুরআন বহনকারী (হাফেয এবং আলেমগণ)-কেও চরিত্র এবং কর্মের দিক দিয়ে ‘কিরামিম বারারাহ’র মূর্ত-প্রতীক হওয়া উচিত। (ইবনে কাসীর) হাদীসেও ‘সাফারাহ’ শব্দ ফিরিশতাদের জন্য ব্যবহার হয়েছে। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে কুরআন পাঠ করে এবং তাতে সুদক্ষ হয়, সে ‘কিরামিম বারারাহ’র সাথে - অর্থাৎ, সম্মানিত পুণ্যবান ফিরিশতাগণের সাথী হবে। আর যে কুরআন পাঠ করে কিন্তু কষ্টের সাথে (আটকে আটকে) পাঠ করে তার জন্য ডবল সওয়াব রয়েছে।’’ (সহীহ বুখারী তাফসীর সূরা আবাসা, মুসলিম নামায অধ্যায়, কুরআনে সুদক্ষ হওয়ার মাহাত্ম্যের পরিচ্ছেদ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৭

 

قُتِلَ الۡاِنۡسَانُ مَاۤ اَكۡفَرَهٗ ﴿ؕ۱۷﴾ 

قتل الانسان ما اكفرهٗ ﴿۱۷﴾
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতইনা অকৃতজ্ঞ!

-আল-বায়ান

মানুষ ধ্বংস হোক! কোন্ জিনিস তাকে সত্য প্রত্যাখ্যানে উদ্বুদ্ধ করল?

-তাইসিরুল

মানুষ ধ্বংস হোক! সে কত অকৃতজ্ঞ!

-মুজিবুর রহমান

Cursed is man; how disbelieving is he.

-Sahih International

১৭. মানুষ ধ্বংস হোক! সে কত অকৃতজ্ঞ!(১)

(১) এর অর্থ, সে কত বড় সত্য-অস্বীকারকারী। তাছাড়া এ আয়াতের আর একটি অর্থ হতে পারে অর্থাৎ “কোন জিনিসটি তাকে সত্য অস্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? [তাবারী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। মানুষ ধ্বংস হোক! সে কত অকৃতজ্ঞ! [1]

[1] এ থেকে সেই মানুষ উদ্দেশ্য, যে বিনা প্রমাণ ও দলীলে কিয়ামতকে অস্বীকার করে। قتل অভিশপ্তের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। ما أكفره ফে’ল তাআজ্জুব। অর্থাৎ, কত বড় অকৃতজ্ঞ ও নিমকহারাম সে! পরবর্তীতে এই অকৃতজ্ঞ মানুষকে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য আহবান জানানো হচ্ছে, যাতে সে কুফরী হতে ফিরে আসে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৮

 

مِنۡ اَیِّ شَیۡءٍ خَلَقَهٗ ﴿ؕ۱۸﴾ 

من ای شیء خلقهٗ ﴿۱۸﴾
তিনি তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?

-আল-বায়ান

আল্লাহ তাকে কোন বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন?

-তাইসিরুল

তিনি তাকে কোন বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন?

-মুজিবুর রহমান

From what substance did He create him?

-Sahih International

১৮. তিনি তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। তিনি তাকে কোন্ বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ১৯

 

مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ؕ خَلَقَهٗ فَقَدَّرَهٗ ﴿ۙ۱۹﴾ 

من نطفۃ خلقهٗ فقدرهٗ ﴿۱۹﴾
শুক্র বিন্দু থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সুগঠিত করেছেন।

-আল-বায়ান

শুক্রবিন্দু হতে। তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে পরিমিতভাবে গড়ে তুলেছেন।

-তাইসিরুল

শুক্র বিন্দু হতে তিনি তাকে সৃষ্টি করেন, পরে তার পরিমিত বিকাশ সাধন করেন,

-মুজিবুর রহমান

From a sperm-drop He created him and destined for him;

-Sahih International

১৯. শুক্রবিন্দু থেকে, তিনি তাকে সৃষ্টি করেন, পরে তার পরিমিত বিকাশ সাধন করেন(১),

(১) قدّره অর্থাৎ সুপরিমিত করেছেন, তার গঠন-প্রকৃতি, আকার-আকৃতি সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন। قدّره শব্দের এরূপ অৰ্থও হতে পারে যে, মানুষ যখন মাতৃগর্ভে সৃষ্টি হতে থাকে তখন আল্লাহ তা'আলা তার কাজ, বয়স, রিযিক, ভাগ্য ইত্যাদি তকদীর নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাছাড়া পূর্ব থেকেই প্রতিটি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট করা আছে তার গায়ের রং কি হবে, সে কতটুকু উচু হবে, তার দেহ কতটুকু কি পরিমাণ মোটা ও পরিপুষ্ট হবে। এত সব সত্বেও সে তার রবের সাথে কুফরী করে। [দেখুন: কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। শুক্রবিন্দু হতে তাকে সৃষ্টি করেছেন, [1] অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন। [2]

[1] অর্থাৎ, যার জন্ম এমন ঘৃণিত পানির বিন্দু থেকে, তার কি অহংকার করা শোভা পায়?

[2] এর ভাবার্থ হল যে, তাকে তার প্রয়োজনীয় কল্যাণ দান করা হয়েছে; দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চক্ষু এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হয়েছে। (অনেকের মতে এর অর্থ হল, অতঃপর তার নিয়তি নির্ধারণ করেছেন।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৮০ : ২০

 

ثُمَّ السَّبِیۡلَ یَسَّرَهٗ ﴿ۙ۲۰﴾ 

ثم السبیل یسرهٗ ﴿۲۰﴾
তারপর তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।

-আল-বায়ান

অতঃপর তিনি (উপায়-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে জীবনে চলার জন্য) তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।

-তাইসিরুল

অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করে দেন;

-মুজিবুর রহমান

Then He eased the way for him;

-Sahih International

২০. তারপর তার জন্য পথ সহজ করে দেন(১);

(১) অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় ক্ষমতা-বলে মাতৃগর্ভে মানুষকে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনিই তার অপার শক্তির মাধ্যমে মাতৃগর্ভ থেকে জীবিত ও পুর্নাঙ্গ মানুষের বাইরে আসার পথ সহজ করে দেয়। ফলে দেহটি সহী-সালামতে বাইরে চলে আসে এবং মায়েরও এতে তেমন কোন দৈহিক ক্ষতি হয় না। এছাড়া আয়াতের আরেকটি অর্থ হচ্ছে, দুনিয়ায় তিনি তার জন্য নিজের জন্য ভালো বা মন্দ, কৃতজ্ঞতা বা অকৃতজ্ঞতা আনুগত্য বা অবাধ্যতার মধ্যে সে কোন পথ চায় তা তার সামনে খুলে রেখে দিয়েছেন এবং পথ তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ফলে সে শুকরিয়া আদায় করে সৎপথ গ্রহণ করতে পারে, আবার কুফরী করে বিপথে যেতে পারে। [দেখুন: ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। অতঃপর তার জন্য তার পথ সহজ করে দিয়েছেন। [1]

[1] অর্থাৎ, ভাল-মন্দের পথ স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য হল মায়ের পেট থেকে বের হবার পথ। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক শুদ্ধ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ