সহকারী শিক্ষক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক

ছবির উৎস,SEERAT ALBUM, PSO
সৌদি আরবের মদিনা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে বদর হুনাইন প্রান্তর অবস্থিত। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই প্রান্তরে এক যুদ্ধ হয়, যাকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের অন্যতম ‘ইতিহাস-নির্ণায়ক’ যুদ্ধ হিসেবে।
আশ্চর্যের বিষয়, সামরিক দিক থেকে এই যুদ্ধে অংশ নেয়া মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু এই যুদ্ধের গুরুত্ব এত বেশি ছিল যে, মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনেও এই দিনটিকে আল-ফুরকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যার মানে, সিদ্ধান্ত বা রায়ের দিন।
মদিনার নবজাতক মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই যুদ্ধের গুরুত্ব বুঝতে হলে, আগে জানতে হবে কেন বদরের ময়দানটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এর নামকরণ হয়েছিল কীভাবে?

ছবির উৎস,SEERAT ALBUM, PSO
মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে পাহাড়ে ঘেরা এক প্রান্তর। ডিম্বাকৃতির সুবিশাল সেই প্রান্তরের প্রস্থ প্রায় সাড়ে চার মাইল।
আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা ছিল এর। ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বাণিজ্য পথ গেছে এই পাহাড় ঘেরা জায়গাটির ওপর দিয়েই।
বণিকদের কাফেলা যাওয়ার সেই স্থানেই আবার মিলেছে মক্কা ও মদিনা থেকে আসা দুটি পথ।
এখান থেকে লোহিত সাগরও নিকটবর্তী। মোটে মাইল দশেকের দূরত্ব।
স্থানটির নামকরণ ‘বদর’ করার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা জানা যায়।
তারমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্যটি হলো, বদর বিন ইয়াখলাদ নামে এক ব্যক্তি এখানে একটি কূয়া খনন করেছিলেন।
কূয়ার পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ।
কথিত আছে, সেখানকার পানিতে চাঁদের প্রতিফলন ঘটতো। যেহেতু চাঁদকে আরবিতে বদরও বলা হয়, তাই উভয় দিকের সূত্র মিলিয়ে এই স্থানের নাম বদর রাখা হয়েছিল।
মা’আরিফ ইসলাম নামক বই থেকে জানা যায়, প্রাক-ইসলামী ‘জাহিলিয়া’ যুগে প্রতি বছর পহেলা জ্বিলকদ থেকে আটই জ্বিলকদ পর্যন্ত এই স্থানে একটি বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।

ছবির উৎস,SEERAT ALBUM, PSO

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মদিনায় হিজরতের আগে মক্কার নেতৃস্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল মুসলমানদের। তবে, পরবর্তীতে মক্কা ও মদিনার মধ্যে যুদ্ধের নেপথ্যে এটাই একমাত্র কারণ নয়।
দ্বিতীয় হিজরি বর্ষের রজব মাসের ১১ তারিখে মক্কার একজন গোত্র প্রধান আমর বিন আল-হাদরামি দুর্ঘটনাবশত মুসলমানদের হাতে নিহত হন। ইসলামের নবী স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে এই হত্যার জন্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেন।
কিন্তু মক্কায় কুরাইশদের প্রধানরা এই ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়।
ইবনে খালদুন লিখেছেন, আমর ইবনে আল-হাদরামির মৃত্যুতেই বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সূচিত হয়।
শা'বান মাসে ঘটে আরেকটি ঘটনা।
কুরাইশদের সম্পদ বোঝাই একটি কাফেলা সিরিয়া থেকে মক্কায় আসছিল। তখন গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মুসলমানরা সেই বহরকে আক্রমণ করতে চায়।
আবু সুফিয়ান ছিলেন কাফেলার নেতা। তিনি সহায়তার জন্য মক্কায় দূত মারফত খবর পাঠান।
বার্তা পেয়ে মক্কা থেকে কুরাইশদের একটি দল আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে সাহায্য করার জন্য মদিনার উদ্দেশে রওনা হয়।
মা’আরিফ ইসলামির অনুসারে, সিরিয়া থেকে আগত কাফেলা মক্কায় পৌঁছে গিয়েছিল ঠিকই। অর্থাৎ, কুরাইশদের উচিত ছিল মদিনার দিকে যাওয়া কাফেলাকে ফেরত আনা।
কিন্তু, আবু জাহলের পীড়াপীড়িতে তারা মদিনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
১৬ই রমজান তারা বদর নামক স্থানটিতে শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, এই পক্ষে লোক সংখ্যা ছিল নয়শো থেকে এক হাজার। তারা সবাই ছিল সশস্ত্র।
সংবাদ পেয়ে ১২ই রমজান ইসলামের নবীও বদরের উদ্দেশে অগ্রসর হন। ১৭ই রমজান ৩১৩ জন সঙ্গী নিয়ে তিনি ময়দানের কাছাকাছি পৌঁছান। খ্রিস্টাব্দে নিরিখে তারিখটা ৬২৪ সালের ১৩ই মার্চ।
তখন পর্যন্তও কুরাইশদের মধ্যে শান্তিপ্রিয় কিছু ব্যক্তি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, আবু জাহেলের একগুঁয়েমির কারণে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
ফলে, যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে।
১৪
২১ মন্তব্য