প্রভাষক
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:২৩ অপরাহ্ণ
কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীরা ক্লাসের প্রতি অনুৎসাহী কিন্তু কোচিং ও প্রাইভেটের প্রতি ঝুঁকিপ্রবণ
কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীরা ক্লাসের প্রতি অনুৎসাহী কিন্তু কোচিং ও প্রাইভেটের প্রতি ঝুঁকিপ্রবণ
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একটি লক্ষণীয় ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হলো—কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীরা ধীরে ধীরে নিয়মিত কলেজ ক্লাসের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে এবং কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ার দিকে অধিক ঝুঁকছে। এই প্রবণতা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করছে এবং কলেজকেন্দ্রিক শিক্ষার গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কলেজে পাঠদানের মান ও পরিবেশগত দুর্বলতা। অনেক কলেজে শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত ক্লাস গ্রহণ এবং আধুনিক ও কার্যকর পাঠদান পদ্ধতির অভাব দেখা যায়। ফলে ছাত্র–ছাত্রীরা ক্লাসে প্রত্যাশিত শেখার সুযোগ পায় না এবং ক্লাসকে সময়ের অপচয় বলে মনে করতে শুরু করে। এর বিপরীতে কোচিং সেন্টারগুলো পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি, নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ ও সাজেশন প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ফলাফলনির্ভর হওয়ায় ছাত্র–ছাত্রীদের মধ্যে ভালো ফল অর্জনের প্রবণতা প্রবল। বোর্ড পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রতিযোগিতা তাদের কোচিং ও প্রাইভেটমুখী করে তোলে। অনেক অভিভাবকও মনে করেন, কোচিং ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব নয়। ফলে তারা সন্তানদের নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে কোচিংয়ের ওপর বেশি নির্ভর করতে উৎসাহিত করেন।
সহপাঠীদের প্রভাবও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন্ধুবান্ধব যখন অধিকাংশই কোচিংয়ে অংশগ্রহণ করে, তখন অন্য ছাত্র–ছাত্রীরাও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় একই পথে অগ্রসর হয়। ধীরে ধীরে কলেজের ক্লাস তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।
তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। কলেজের নিয়মিত ক্লাস শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান অর্জন, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়ক। কোচিং ও প্রাইভেট পড়া কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না; বরং তা সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
এই সমস্যা সমাধানে কলেজ পর্যায়ে পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কলেজ শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ছাত্র–ছাত্রীরা পুনরায় ক্লাসমুখী হবে এবং কোচিংনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
১
১ মন্তব্য