প্রভাষক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত
শবে বরাত বা ‘লাইলাতুল বারাআত’ (মুক্তির রাত) হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত, যা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও ইবাদতের রাত হিসেবে পালিত হয়। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং দোয়া কবুল করেন। হাদীস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে এসে বান্দাদের ক্ষমা ও অনুগ্রহের আহ্বান জানান।
শবে বরাতের বিস্তারিত ফজিলত ও গুরুত্ব:
গুনাহ মাফ ও ক্ষমা লাভের রাত: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এই রাতে আল্লাহ কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তিকে আল্লাহ এই রাতে ক্ষমা করেন না [৮]।
ভাগ্য নির্ধারণ (কিছু আলেমদের মতে): এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, হায়াত, জন্ম ও মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণ করা হয়।
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: এটি দোয়া কবুলের বিশেষ রাত, যাতে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।
ইবাদতের রাত: নবী করিম (সা.) এই রাতে নফল নামাজ, জিকির ও দোয়া-কালামের মাধ্যমে বিশেষ আমল করতেন।
করণীয় আমল:
নফল নামাজ: দীর্ঘ সিজদা ও কিয়ামের মাধ্যমে নফল নামাজ আদায় করা।
কোরআন তেলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করা।
দোয়া ও ইস্তিগফার: নিজের ও মুসলিম উম্মাহর মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা।
নফল রোজা: শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের ফজিলত পাওয়ার জন্য ১৫ই শাবান নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
বর্জনীয়:
শবে বরাতকে শবে কদরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া বা সমতুল্য মনে করা ভুল।
আতশবাজি, ফটকা ফুটানো এবং আলোকসজ্জার মতো ইসলামবিরোধী ও বিদআত কাজ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, শবে বরাত হলো আল্লাহর রহমত পাওয়ার এবং নিজেদের পাপরাশি মোচন করার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
১
১ মন্তব্য