সহকারী শিক্ষক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
মির্জা গালিবের জীবন ও দর্শন :-৩
খ্যাতনামা কবি মির্জা গালিবের প্রকৃত নাম মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ; গালিব তার পারিবারিক নাম। গালিব শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের সভাকবি ছিলেন। কাব্যসাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য সম্রাট তাকে দাবির-উল-মালিক ও নাজিম-উদ-দৌলা উপাধিতে ভূষিত করেন।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতের ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক পেশা অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সমরকন্দ থেকে আগত গালিবের বাবা আবদুল্লাহ বেগ খান আগ্রার এক অভিজাত পরিবারে বিয়ে করেছিলেন। সৈনিক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে তিনি তার স্ত্রীকে আগ্রায় বাবার পরিবারেই অবস্থান করতে বলেন। গালিবের জন্মও নানার বাড়িতে। গালিবের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল্লাহ বেগ খানের মৃত্যুর পর তার পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ছোট ভাই নসরুল্লাহ বেগ খান। অত্যল্পকাল পরে তার চাচাও মৃত্যুবরণ করেন; সে সময়ে গালিবের বয়স মাত্র ৯ বছর।
মির্জা গালিব আগ্রার খ্যাতিমান পণ্ডিত শেখ মোয়াজ্জেমের কাছে অনানুষ্ঠানিক লেখাপড়ার তালিম নেন। তিনি একটি মাদরাসায়ও কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। সাহিত্য, ইতিহাস ও যুক্তিবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অধ্যয়ন করেন। তবে তার ঝোঁক ছিল ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি; বিশেষত, ফার্সি ভাষার প্রতি। এ সময়ে আরবি ও ফার্সি ভাষায় দক্ষ আবদুস সামাদ নামে এক পণ্ডিত ব্যক্তি আগ্রা সফর করেন। আবদুস সামাদ গালিবের মামার বাড়িতে দুই বছর অবস্থান করেন। গালিব তার কাছে ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। মির্জা গালিবের জীবনাখ্যান বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, তিনি আভিজাত্য ও অহংকার ধারণ করেই জীবনযাপন পছন্দ করতেন।
তখন গালিবের বয়স মাত্র ১৩। নওয়াব ইলাহী বখশ খানের কন্যা ওমরাও বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার শ্বশুর দিল্লির অভিজাত নাগরিকদের একজন। সে সময় অব্যাহত রাজনৈতিক সমস্যার কারণে বিখ্যাত কবি মীর তকী ও কবি সওদাকে দিল্লি ত্যাগ করতে হয়েছিল; তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির উপস্থিতিতে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে। গালিব মনে করলেন, কবি হিসেবে খ্যাতি লাভের জন্যে আগ্রার চাইতে দিল্লিই শ্রেয়। এ কারণে তিনি আগ্রা থেকে দিল্লিতে চলে আসেন। গালিব তার গোটা জীবনে কোনো দিনই কোনো পেশায় সম্পৃক্ত হননি। পারিবারিক বিত্ত, শ্বশুরকুলের সঙ্গতি এবং অযোদ্ধার নওয়াব ও মোগল বাদশাহের মসোহারার ওপরে নির্ভর করেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি বিত্তশালী ছিলেন না, তথাপি পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে নাগরিক আভিজাত্যের মোড়কে আচ্ছন্ন করে রাখত। তার আয়-রোজগার ছিল সীমিত ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ, তথাপি দিল্লিতে সস্ত্রীক বসবাসের জন্য চাঁদনি চকের কাছে প্রাসাদসদৃশ একটি ভবন ভাড়া নেন। শ্বশুরের প্রভাবের কারণে দিল্লির অভিজাত মহলে পরিচিত হতে তাকে বেগ পেতে হয়নি। তিনি রাজকীয় ভবনে বসবাস করতেন; বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় কিংবা চাঁদনি চকে যেতেন ছয় বেহারার পালকিতে চড়ে। গালিব ১৮১১ সালে দিল্লিতে আসেন এবং পরবর্তী ৫১ বছর তিনি দিল্লিতেই বসবাস করেছেন, অবশ্য এর মধ্যে মোকদ্দমা মোকাবিলার জন্য দুই বছর তাকে কলকাতায় থাকতে হয়েছিল।
গালিব জুয়াখেলা ও শুরাসক্ত ছিলেন। গালিবের কবিখ্যাতি আলোচনায় প্রাসঙ্গিকভাবে যে বিষয়টি চলে আসে তা হচ্ছে, তার সুরা পান। তিনি নিয়মিত সুরা পান করতেন। শায়ের রচনার সময় সুরাপান তার মজ্জাগত অভ্যাস ছিল। তিনি মনে করতেন- সৃজনশীলতা ও কল্পনার ক্ষেত্রে মদিরা ‘সহায়ক উপাদান’। বন্ধু-বান্ধবদের কাছে হামেশাই বলতেন মদিরা ছাড়া সৃজনশীলতা কীভাবে সম্ভব? জুয়া খেলার কারণে ১৮৪১ সালে দিল্লির শহর কোতোয়াল গালিবকে সতর্ক করেন এবং ১০০ রুপি জরিমানাও করেন। কিন্তু তিনি জুয়া খেলা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। জরিমানা পরিশোধের পরেও তিনি নিজ বাসাতেই জুয়া খেলতেন এবং দিল্লির কোতোয়াল ফৈয়াজ হাসান খান গালিবের বাড়িতে হানা দিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাকে পাকড়াও করেন; বিচারে তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ রুপি জরিমানা করা হয়। শহরের অভিজাত ব্যক্তিরা ব্রিটিশ পেনশনভোগী মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের স্মরণাপন্ন হন। তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার পরও সরকার অনড় থাকে বরং সম্রাটকে বিচারাধীন বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব গালিবের জীবনে চূড়ান্ত বিপর্যয় বয়ে আনে। সিপাহী বিপ্লবের পরে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মোগল বাদশাহকে বন্দি করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়। ফলে তিনি বাদশাহের কাছ থেকে যে ভাতা পেতেন, তা বন্ধ হয়ে যায়। তার আগেই অযোধ্যার নবাব প্রদত্ত ভাতাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে গালিবের জীবনে অন্ধকারের অমানিশা নেমে আসে। কেননা, বৃদ্ধ বয়সে সম্পদহীন গালিবের বাঁচার পথও তখন রুদ্ধ হয়ে যায়।
গালিব সব সময় ফার্সি ভাষাকে তার প্রথম প্রেম বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি শৈশবে ও যৌবনেও উর্দুতে কবিতা লিখতেন। যদিও গালিব উর্দুর চেয়ে ফারসিকে বেশি মূল্য দিতেন এবং তার কবিখ্যাতি ফারসিতে কবিতা লেখার ওপর ভিত্তি করে। গালিবের উর্দু গজল সংকলনগুলোর ওপর অসংখ্য ভাষ্য উর্দু পণ্ডিতরা লিখেছেন। কবি আলতাফ হোসেন হালীর বর্ণনায় কানাইয়া লাল নামে এক কবি গালিবের একটি উর্দু মসনবী সংরক্ষণ করেছিলেন। গালিব এসব কবিতার অস্তিত্ব বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে যখন এগুলো তাকে দেখানো হয়, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যাগ্রতার সঙ্গে সেগুলো পাঠ করেন এবং আবেগাপ্লুুত হন।
সূচনালগ্নে গালিবের কবিজীবন খুব স্বচ্ছন্দ ছিল না। সমসমায়িক কবিরা দিল্লিতে যথেষ্ট জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ছিলেন। এদিকে গালিবের বৈচিত্র্যময় জীবনধারার কারণে তার বন্ধু ছাড়াও অনেক নিন্দুকও তৈরি হয়। মোঘল-রাজের রাজকীয় উৎসাহ ও প্রণোদনার কারণে সে সময়ে দিল্লি হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক নগরী। উর্দু সাধারণ মানুষের ভাষায় পরিণত হওয়ায় সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গালিবের ওপর ফারসি ভাষার কবি বোখারি, আসীর ও বেদীর প্রভাব ছিল। সমালোচকদের মতে, গালিবের কবিতা তার ব্যক্তিগত জীবনের মতোই দুর্বোধ্য ও সামঞ্জস্যহীন ছিল। গালিব মনে করতেন, তার কবিতা যারা উপলব্ধি করতে অক্ষম, তারাই তার কবিতাকে দুর্বোধ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তিনি এটাও মনে করতেন- শুধু সাধারণ পাঠক নয় বরং সাধারণ কবিরাও তার কবিতা উপলব্ধি ও আত্মস্থ করতে পারবেন না। কবিতার মানের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আস্থাশীল ছিলেন এবং মৃত্যুর পরে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তার কবিতা অনুবাদ ও তা নিয়ে গবেষণা প্রমাণ করে- গালিব তার কবিতার ব্যাপারে যা মনে করতেন, তা অমূলক নয়।
ব্যক্তিজীবনে গালিব সুখী ছিলেন না। বিয়েকে তিনি দ্বিতীয় কারাবাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে প্রথম কারাবাস ছিল জীবন নিজেই। তার জীবনদর্শন এবং কবিতায় তিনি জীবনের ধারাক্রমকে একটি ধারাবাহিক বেদনাময় সংগ্রামের রূপে দেখিয়েছেন, যা কেবল মৃত্যুর মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। এই গভীর এবং তিক্ত জীবনবোধ তার সাহিত্যকর্মে বারবার ফিরে এসেছে। স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরূপ সম্পর্ক, কিশোর বয়সে সাত সন্তানের মৃত্যু, আর্থিক সংকট গালিবকে সর্বদাই বেদনামথিত করে রাখত। তার কাব্যেও ব্যক্তিগত জীবনের বেদনাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
ধর্ম প্রসঙ্গে গালিবকে নিয়ে একটি ঘটনা তার ওপরে লিখিত সব জীবনীগ্রন্থেই পাওয়া যায়। বস্তুত মির্জা গালিব ধর্মকে নিজ দর্শন দিয়েই ব্যাখ্যা করতেন। মির্জা গালিবের এক শায়েরের মাধ্যমে তিনি স্বীয় জীবনদর্শন এবং আধ্যাত্মিক সংশয় প্রকাশ করেছেন। এখানে তিনি ধর্মীয় অনুশাসন এবং আত্মিক স্বাধীনতার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব অনুভব করেন, তা গভীর ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেছেন। ‘আমি কাবার চারপাশে তাওয়াফ করব না’, এই বক্তব্যে গালিব আধ্যাত্মিক সাধনার প্রচলিত ধর্মীয় পথে না গিয়ে তার নিজের পথ অনুসরণ করার প্রতীকী অনুভূতি জানিয়েছেন। আবার ‘ইহরাম শুরায় ভিজে গেছে’ এই পঙ্ক্তিতে গালিব তার জীবনের বিপরীতমুখী দিকটি তুলে ধরেছেন। একই শায়েরে জমজম কূপের উল্লেখও তার জীবনের ব্যক্তিগত সংকটের প্রতীক; অতএব, এ শায়ের গালিবের আত্মিক দ্বন্দ্ব এবং চিরায়ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তার মনের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের পরিচায়ক।
গালিবের মতে, পরকাল, বেহেশত এবং জাহান্নামের ধারণাগুলো মানুষের ভয় এবং আশা থেকে উদ্ভূত; যা ধর্ম প্রচারকরা মানুষের মনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করেছেন। এ প্রসঙ্গে গালিবের একটি বিখ্যাত শায়ের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ- ‘হাম কো মালুম হ্যায় জান্নাত কী হাকিকাৎ লেকিন,/দিল কো খুশ রাখনে কো ‘গালিব’ ইয়ে খেয়াল আচ্ছে হ্যায়।’ অর্থাৎ আমরা জানি, জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপ কী, মনকে খুশি রাখতে এ ধারণা মন্দ নয়।
আলেমদের সম্পর্কে গালিব ছিলেন সমালোচনামুখর। তিনি মনে করতেন, মাওলানাদের অধিকাংশই সংকীর্ণমনা, যারা ধর্মের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান এবং কঠোর বিধিনিষেধের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন অথচ মানুষের আত্মিক মুক্তির পথে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেন না।
১৮৫৭ সালের ৫ অক্টোবর, দিল্লিতে ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহ শেষে ব্রিটিশ সেনারা কাশ্মীরি গেট দিয়ে প্রবেশ করার প্রায় তিন সপ্তাহ পর কিছু সেনা গালিবের বাড়িতে আসে এবং তাকে কমান্ডিং অফিসার কর্নেল ব্রাউনের সামনে নিয়ে যায়। গালিব সেদিন তুর্কি শৈলীর টুপি পরে উপস্থিত হন। কর্নেল ভাঙা উর্দুতে হাস্যরসের ছলে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ওয়েল! ইউ মুসলিম?’ উত্তরে গালিব ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘হাফ?’ কর্নেল জানতে চান, ‘এটার মানে কী?’ গালিব রসিকতার সুরে উত্তর দেন, ‘আমি মদ পান করি, কিন্তু শুকরের মাংস খাই না।’
গালিবের সাহিত্যকর্মের একটি বড় অংশে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসায় রচিত নাতে নিবেদিত। এটি প্রমাণ করে না যে, তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক মুসলমান। তার রচিত ‘আবর-ই-গুহর বার’ নামের নাদে এবং ১০১ শ্লোকের কাসিদা তার ধর্মপ্রেমকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। তিনি নিজেকে পাপী হিসেবে বিবেচনা করতেন, যার কারণে মহানবীর (সা.) সম্পর্কে তিনি নীরব থাকা উচিত মনে করতেন, কারণ তিনি আল্লাহর প্রশংসিত সেই মহামানব প্রসঙ্গে আলোচনার জন্য নিজেকে যোগ্য বলে মনে করতেন না।
সুফিদের মতো গালিবও স্রষ্টাকে রহস্যময় এক প্রেমময় সত্তা হিসেবে কল্পনা করেছেন। তার বহু গজলে ‘ইশক-এ-মাজাজি’ (জাগতিক প্রেম) ও ‘ইশক-এ-হাকিকি’ (আধ্যাত্মিক প্রেম)-এর মধ্যে মিশ্রণ দেখা যায়। গালিবের কাব্যে দুনিয়ার জীবনকে সাময়িক এবং মরীচিকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা অনেকটাই সুফিদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায়। তবু তাকে নিছক সুফিবাদী সুফি বলা যায় না। কেননা, ধর্ম প্রসঙ্গে তিনি শুধু স্রষ্টা একজন রয়েছেন, এটা মনে করতেন; কিন্তু স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের কথা তিনি বলেননি, এ বিষয়ে সুফিদের মতো তার কোনো অনুশীলনও ছিল না। বরং তিনি ছিলেন মুক্তচিন্তক ও সংশয়বাদী। তিনি প্রচলিত সব ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েই প্রশ্ন তুলতেন।
মির্জা গালিবকে কবিতায় অংশত সুফিবাদের গভীর দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা ফুটে উঠেছে। তার চিন্তার জগৎ ছিল বিশাল; যেখানে তিনি খোদার অস্তিত্ব, খোদাপ্রেম, মানবাত্মার অস্তিত্ব, খোদার সঙ্গে মানবাত্মার সম্পর্ক নিয়ে তার ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে বলা যায়, গালিব ছিলেন এক দার্শনিক কবি, যার মধ্যে সুফিবাদের রেশ ছিল, তবে তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্ব বা ধারায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। গালিব প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি ও আনুষ্ঠানিকতা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে তিনি খোদার অস্তিত্ব খুঁঁজে পেতে চেয়েছিলেন মানবতার গভীরে। গালিবের বিশ্বাস ছিল যে, খোদা সীমাহীন এবং চির রহস্যময় আর মানবজীবনের প্রকৃত মূল্য নিহিত রয়েছে প্রেম ও সহানুভূতির মধ্যে। তার কাব্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুফিবাদের প্রভাব এবং ধর্মীয় সংশয়বাদ প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে তিনি বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে আত্মোপলব্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য অনেকে তাকে সুফিবাদী কবি বলে অভিহিত করলেও মূলত তিনি ছিলেন সংশয়বাদী।
৫৩
৯১ মন্তব্য