বর্তমান বাংলাদেশে ১১-২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং বেতন কাঠামো নিয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নতুন তথ্য ও পরিবর্তনের প্রস্তাবনা সামনে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবেতর জীবনের কারণ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে নিম্ন গ্রেডের (১১-২০) কর্মচারীরা আর্থিকভাবে চরম সংকটে রয়েছেন ।
- আয়ের সীমাবদ্ধতা: বর্তমান ২০১৫ সালের বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন মাত্র ৮,২৫০ টাকা, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি পরিবারের নূন্যতম চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত ।
- ভাতা ও বৈষম্য: উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন বৃদ্ধির ব্যবধান অনেক বেশি, যা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে ।
প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল ও সর্বশেষ আপডেট (জানুয়ারি ২০২৬)
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:
- বেতন বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে (প্রায় ১৪২% বৃদ্ধি) ।
- গ্রেড সংস্কার: বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২ থেকে ১৩টি করার জোরালো দাবি থাকলেও কমিশন ২০টি গ্রেডই রাখার সুপারিশ করেছে ।
- ভাতা বৃদ্ধি: ১১-২০ গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ।
- গৃহীত সিদ্ধান্ত: প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে [১.৩.১]। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের ফলে যেন দ্রব্যমূল্য আরও না বাড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ।
কর্মচারীদের বর্তমান দাবিদাওয়া
কর্মচারী সংগঠনগুলো (যেমন: ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরাম) আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে যদি তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩২,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা করা ।
- বেতনের বৈষম্য কমাতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৪ বা ১:৬ নির্ধারণ ।
- দ্রুত নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন ।
১৭
২৭ মন্তব্য