Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:২৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থী–নেতৃত্বাধীন পাঠচক্র: শেখায় আগ্রহ বাড়ানোর একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

বর্তমান সময়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পড়াশোনায় অনীহা ও শ্রেণিকক্ষে নিষ্ক্রিয়তা। অনেক শিক্ষার্থী পাঠ মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করলেও বিষয়ভিত্তিক গভীর বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকে যায়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমি শ্রেণিকক্ষে একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করি, যার নাম “শিক্ষার্থী–নেতৃত্বাধীন পাঠচক্র”।

এই উদ্যোগে শিক্ষক কেন্দ্রবিন্দু না হয়ে শিক্ষার্থীরাই শেখার প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয়। প্রতিটি দল থেকে একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট পাঠের উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পায়। শিক্ষক এখানে শুধুমাত্র দিকনির্দেশক ও সহায়কের ভূমিকা পালন করেন।

পাঠচক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়ে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করার সুযোগ পায়। এতে তাদের ভয় ও জড়তা ধীরে ধীরে দূর হয়। শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী আলোচনায় অংশ নিতে সংকোচ বোধ করলেও সহপাঠীদের সহযোগিতা ও উৎসাহে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে শ্রেণিকক্ষে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন প্রশ্ন করতে আগ্রহী, নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে এবং দলগতভাবে সমস্যা সমাধানে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের কাছ থেকে সহজভাবে বিষয় বুঝতে পারছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

পাঠচক্র উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বনির্ভর শেখার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কোনো খরচ প্রয়োজন হয় না। অল্প পরিকল্পনা ও আন্তরিকতা থাকলেই যে শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, পাঠচক্র তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

উপসংহার

শিক্ষার্থী–নেতৃত্বাধীন পাঠচক্র প্রমাণ করে যে, শিক্ষাকে আনন্দময় ও ফলপ্রসূ করতে শিক্ষককে সব সময় বক্তা হতে হয় না; বরং শিক্ষার্থীদের ভাবতে, বলতে ও শেখাতে সুযোগ দেওয়াই হতে পারে প্রকৃত উদ্ভাবন। এই উদ্যোগটি মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

লিখেছেন:

মোঃ রফিকুল ইসলাম

সহকারী শিক্ষক

চর আফজাল SESDP মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ