সহকারী শিক্ষক
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রমজান মাসে তারাবি নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি অত্যন্ত সওয়াবের একটি কাজ। আপনি যেহেতু একটি ব্লগের জন্য এই তথ্যগুলো চাচ্ছেন, তাই নিচে খুব সহজ এবং সরাসরি ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
তারাবি নামাজ এশার ফরজ এবং দুই রাকাত সুন্নতের পর পড়তে হয়। আমাদের দেশে সাধারণত ২০ রাকাত তারাবি পড়ার চল সবচেয়ে বেশি। এটি দুই রাকাত করে মোট ১০টি সালামের মাধ্যমে শেষ করতে হয়। তবে অনেকে ৮ রাকাতও পড়ে থাকেন। প্রতিটি ৪ রাকাত পর পর একটু বিরতি নিতে হয় এবং দোয়া পড়তে হয়।
নিয়ত মানে মূলত মনের ইচ্ছা। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন, সেটা মনে থাকাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে মনের প্রশান্তির জন্য আপনি চাইলে এভাবে বলতে পারেন:
"আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি নামাজের সুন্নতে মুয়াক্কাদার নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"
আরবিঃ “نويت أن أصلي سنة التراويح لله تعالى”
বাংলা উচ্চারণঃ “নাওয়াইতু আন আসলি সুননাতাত-তারাওইহি লিল্লাহি তাআলা”
অর্থঃ “আমি আল্লাহর জন্য তারাবি নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।”
আপনি যদি হাফেজ সাহেবের পেছনে নামাজ পড়েন (অর্থাৎ জামাতে), তবে শেষে বলতে হবে, "এই ইমামের পেছনে।"
প্রতি ৪ রাকাত পর যে বিরতি নেওয়া হয়, সেখানে নিচের দোয়াটি পড়ার রেওয়াজ আছে:
উচ্চারণ: সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাযি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।
সহজ কথা: এই দোয়াটি মুখস্থ না থাকলে আপনি তাসবিহ পড়তে পারেন অথবা চুপচাপ বসে আল্লাহর জিকির করতে পারেন। এটি পড়া বাধ্যতামূলক নয়।
২০ রাকাত শেষ করার পর বা মাঝপথে বিরতির সময় মোনাজাত করা যায়। প্রচলিত একটি মোনাজাত হলো:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান নার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আযীযু ইয়া গাফফার, ইয়া কারীমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রহীমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বারর। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার; ইয়া মুজীরু, ইয়া মুজীরু, ইয়া মুজীর। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই। হে জান্নাত ও জাহান্নামের স্রষ্টা! আপনার রহমতের উসিলায় আমাদের ক্ষমা করুন। হে পরম দয়ালু আল্লাহ, আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।
তাড়াহুড়ো করবেন না: অনেকে খুব দ্রুত নামাজ শেষ করেন, কিন্তু নামাজের ধীরস্থিরতা বজায় রাখা জরুরি।
বিতর নামাজ: তারাবি শেষ করে জামাতের সাথেই বিতর নামাজ পড়ে নেওয়া ভালো। তবে আপনি চাইলে শেষ রাতেও এটি পড়তে পারেন।
শারীরিক অবস্থা: দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে কষ্ট হলে আপনি বসেও তারাবি আদায় করতে পারেন।
৫৩
৯১ মন্তব্য