Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ

নেপথ্যের নায়ক যখন ব- ফলা

নেপথ্যের নায়ক যখন ব- ফলা!


বাংলা ভাষা বলি আর সাহিত্য বলি,কোন বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই। যা আছে তা নিতান্তই তুচ্ছ।  তবে হালকা আগ্রহ আছে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষায় ব- ফলার একটা বৃহৎ অংশ আছে। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটা অংশ ব ফলা। তারই আলোকে ব- ফলা নিয়ে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস! 

একদিন বর্ণমালার সভা বসেছে।

সব ব্যঞ্জন, স্বর—সবাই হাজির। মঞ্চের এক কোণে চুপচাপ বসে আছে ব-ফলা।

ক-কার ফিসফিস করে বলল, “তুমি তো প্রায় শোনা যাও না! তবু তোমাকে কেন সবাই লিখে?”

ব-ফলা হালকা হাসল। কিছু বলল না।

ঠিক তখনই স্বাধীনতা শব্দটা উঠে দাঁড়াল।

 “আমার গায়ে ও আছে,” সে বলল,

“কিন্তু মানুষ আমাকে উচ্চারণ করে সাধিনতা বলে।

তবু ও না থাকলে আমি আমি থাকতাম না।”

পেছন থেকে দ্বিতীয় এগিয়ে এলো।

 “আমাকেও দেখো,” সে বলল,

“ব-ফলা আছে বলেই আমি দ্বিত্বের অর্থ বহন করি।

উচ্চারণে ও নীরব, কিন্তু গঠনে অপরিহার্য।”

সভায় একটু নীরবতা নামল।

তখন ব-ফলা ধীরে উঠে দাঁড়াল।

— “আমি কথা বলি না বলে অকার্যকর নই,” সে বলল,

“আমি শব্দের ভেতরে থাকি, উচ্চারণের ভিড়ে নয়।

আমি শোনা না গেলেও, ভাষার শৃঙ্খলা আমাকে ছাড়া চলে না।”

সবাই বুঝে গেল—

ব-ফলা কোনো সান্ত্বনা নয়।

সে বাংলা ভাষার সেই নীরব সৈনিক,

যে নিজে চুপ থেকে শব্দকে ঠিক রাখে।

সভা শেষ হলো।

ব-ফলা আবার চুপচাপ নিজের জায়গায় ফিরে গেল,

নীরব, কিন্তু স্বাধীন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ