সহকারী শিক্ষক
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
আমার বন্ধু রূপন্তী ও খাসিদের জীবন
আমার বন্ধু রূপন্তী ও খাসিদের জীবন!
২০০৮ সালের ২রা মে।
সেদিন সকালেই পরিচয় হয় রূপন্তী দিদির সঙ্গে। দেখেই বুঝেছিলাম উনি আমাদের ধর্মের নন। পরিচয় দিলেন ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে। বললেন, বাড়ি সিলেটেই। মিষ্টি হাসি।
ওনারা খাসি। আছে ওনাদের পৃথক জীবন।
ধীরে ধীরে জানলাম, খাসিদের দৈনন্দিন জীবনটা খুবই সরল, কিন্তু শিকড় গভীরে। সকাল শুরু হয় পাহাড় আর জঙ্গলের সঙ্গে কথা বলে। ঘরের উঠোন পরিষ্কার করা, পান-সুপারির বাগানে যাওয়া, কারও কারও কাজ চা-বাগান বা জুমচাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রকৃতি যেন তাদের জীবনের অংশ নয়—জীবনটাই প্রকৃতি।
রূপন্তী দিদি বলতেন, তাদের সমাজে মেয়েরাই পরিবারের কেন্দ্র। মায়ের নামেই বংশ পরিচয়, সম্পত্তিও মেয়েদের হাতে থাকে। সংসারের বড় সিদ্ধান্তে নারীর কথাই শেষ কথা। পুরুষরা কাজ করেন, কিন্তু কর্তৃত্ব নয়—সহযাত্রী।
খাসিদের খাবারেও আছে সহজতা। ভাত,শাক-সবজি, পাহাড়ি ফল—সবই প্রায় নিজের হাতে উৎপাদিত। বাজারের ওপর নির্ভর কম। সন্ধ্যা নামলেই বাড়িতে ফেরা, গল্প, হাসি, আর আগুনের পাশে বসে দিনের কথা বলা—এই হলো তাদের নিত্যদিনের ছন্দ।
রূপন্তী দিদির জীবনেও সেই ছন্দটা স্পষ্ট ছিল। খুব বেশি চাওয়া নেই, খুব বেশি অভিযোগও নেই। সময়মতো কাজ, সময়মতো বিশ্রাম, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক—এই নিয়েই তাদের দিন কেটে যায়।ওনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বুঝেছিলাম, খাসিদের জীবন আমাদের থেকে আলাদা হলেও, সুখের সংজ্ঞাটা খুব কাছাকাছি। কমে সন্তুষ্ট থাকা, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই নয়—সহাবস্থান।
রূপন্তী দিদি আর খাসিদের জীবন আমাকে শিখিয়েছে,আধুনিকতা নয়, মানবিকতাই মূল।
১৩
১৮ মন্তব্য