Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষকের দায়বদ্ধতা কতটুকু?
সম্প্রতি +8802477741224 এই নম্বর থেকে ফোন করে শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আসার জন্য ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অস্পষ্টতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিক্ষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশার মানুষদের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং তাদের অজ্ঞতার সুযোগে নিজেদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
পোস্টাল ব্যালট কি শিক্ষকদের সংগ্রহ করতে হবে?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থাকা ভোটকর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ডাক বিভাগের। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো, সরকারি কর্মচারীরা যেন তাদের দায়িত্ব পালন করেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কোনো শিক্ষককে তার শ্রেণিকার্যক্রম বন্ধ রেখে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করতে বলাটা কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং ডাক বিভাগের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণও বটে।
শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষকের দায়বদ্ধতা কতটুকু?
শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব হলো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করা। প্রতিটি কর্মদিবসে তাদের মূল কাজ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। এমন পরিস্থিতিতে, পোস্টাল ব্যালট আনার মতো কাজের জন্য শিক্ষকদের বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলা হলে, তাতে কেবল শিক্ষার্থীদের মূল্যবান পাঠদানের সময়ই নষ্ট হয় না, বরং শিক্ষকদের তাদের মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা হয়।
অজ্ঞতা এবং ফাঁকিবাজির সুযোগে যেভাবে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে
অনেক শিক্ষকই হয়তো সরকারি বিভিন্ন পরিষেবার সঠিক নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত নন। এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। শিক্ষকদের সরলতা এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাকে ব্যবহার করে তাদের দিয়ে এমন সব কাজ করিয়ে নেওয়া হয়, যা আদতে তাদের করার কথা নয়। এর ফলে:
শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়: যখন একজন শিক্ষককে তার মূল দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে কেরানির মতো অন্য দপ্তরের কাজ করতে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার পেশার মর্যাদা কমে যায়।
সরকারি অফিসে ফাঁকিবাজির সংস্কৃতি জন্মায়: এক দপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যখন দেখেন যে, ফোন করলেই অন্য দপ্তরের কেউ এসে তার কাজটি করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তার মধ্যে নিজের দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ফাঁকিবাজির মানসিকতা তৈরি হয়। এভাবেই সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একটি অশুভ চক্র তৈরি হয়, যা সার্বিকভাবে সুশাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়: দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষকরা যদি শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকেন, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাদের পাঠ্যক্রম অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং তারা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
আমাদের করণীয় কী?
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের নিজেদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কোনো দপ্তর থেকে ফোন করে তাদের এখতিয়ারের বাইরের কোনো কাজের জন্য চাপ দেওয়া হলে, বিনীতভাবে নিজের অপারগতার কথা এবং নিয়মের কথা তাদের জানানো উচিত। পাশাপাশি, শিক্ষক সংগঠনগুলোকেও এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে এবং প্রয়োজনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
শিক্ষকরা হলেন জাতির মেরুদণ্ড। তাদের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কোনোভাবেই যেন তাদের অজ্ঞতা বা সরলতার সুযোগে কোনো ফাঁকিবাজ কর্মকর্তা নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে না পারে, এবং শিক্ষকদের মর্যাদা যেন বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে আমাদের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই শিক্ষকের মূল পরিচয় এবং এই পরিচয়কে সমুন্নত রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। #PostalVoteBD #OverseasBangladeshis #BangladeshElection2026 #VoteByMail #YourVoteMatters
মন্তব্য করুন