মাইকেল ফ্যারাডে (১৭৯১-১৮৬৭) একজন স্বশিক্ষিত ইংরেজ বিজ্ঞানী, যিনি তড়িচ্চুম্বকীয় আবেশ, তড়িৎচুম্বকীয় আবর্তন, ডায়াম্যাগনেটিজম এবং বেনজিন আবিষ্কারের জন্য বিশ্বখ্যাত। ১৭৯১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর লন্ডনে জন্ম নেওয়া ফ্যারাডে খুব অল্প বয়সে বই বাঁধাইয়ের কাজ শিখলেও, হামফ্রে ডেভির লেকচার শুনে বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে রয়্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দিয়ে তিনি বৈদ্যুতিক মোটর ও ডায়নামোর মূল নীতি প্রতিষ্ঠা করেন ।
মাইকেল ফ্যারাডের জীবনের উল্লেখযোগ্য তথ্য:
- জন্ম: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৭৯১; ইংল্যান্ডের নিউইংটন বাটস (বর্তমানে লন্ডন)।
- প্রাথমিক জীবন: দরিদ্র পরিবারে জন্ম এবং শৈশবে খুব কম আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছিলেন।
- কর্মজীবন: বই বাঁধাইয়ের কাজের ফাঁকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং পরে স্যার হামফ্রে ডেভির সহকারী হিসেবে রয়্যাল ইনস্টিটিউটে কর্মজীবন শুরু করেন ।
- প্রধান আবিষ্কারসমূহ:
- তড়িচ্চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) (১৮৩১): বিদ্যুৎ জেনারেটর ও ট্রান্সফরমারের ভিত্তি ।
- তড়িৎচুম্বকীয় আবর্তন (১৮২১): বৈদ্যুতিক মোটরের প্রাথমিক রূপ ।
- ইলেক্ট্রোলাইসিস বা তড়িৎ বিশ্লেষণ: রসায়নে তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র ।
- বেনজিন আবিষ্কার (১৮২৫): একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ ।
- ফ্যারাডে ক্রিয়া (Faraday Effect): চুম্বক ও আলোর মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপন ।
- বৈজ্ঞানিক অবদান: তিনি 'ইলেক্ট্রোড', 'ক্যাথোড', 'আয়ন', 'ডায়াম্যাগনেটিজম' ইত্যাদি পারিভাষিক শব্দ প্রবর্তন করেন।
- অন্যান্য অবদান: ১৮২৫ সালে তিনি রয়্যাল ইনস্টিটিউটে শিশুদের জন্য 'ক্রিসমাস লেকচার' চালু করেন, যা আজও প্রচলিত।
- মৃত্যু: ২৫ আগস্ট, ১৮৬৭; ইংল্যান্ডের হ্যাম্পটন কোর্ট।
ফ্যারাডে আধুনিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তির অন্যতম জনক হিসেবে পরিচিত। তাঁর আবিষ্কারসমূহ সরাসরি আধুনিক শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
২
২ মন্তব্য