সহকারী শিক্ষক
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০১ অপরাহ্ণ
বয়স্ক শিক্ষা :আত্মজাগরণ ও উন্নয়নের এক আলোকবর্তিকা
বয়স্ক শিক্ষা: আত্মজাগরণ ও উন্নয়নের এক আলোকবর্তিকা!
খুব ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় গোঁলের ঘর ছিল। সেখানে দিনে ভিসিআরে বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশের ছবি দেখানো হতো। সকাল-বিকেল মানুষের ভিড় থাকত। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই দৃশ্যটা বদলে যেত। দুই ভাই মিলে সেই ঘরেই বয়স্ক মানুষদের পড়াতেন। যারা জীবনের নানা অবহেলা, দারিদ্র্যতা কিংবা সামাজিক কারণে লেখাপড়া শেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য ছিল এই মহৎ উদ্যোগ।
তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বয়স্ক। কিন্তু শেখার আগ্রহে ছিল তরুণদের চেয়েও উদ্দীপ্ত। এটাই ছিল প্রকৃত অর্থে বয়স্ক শিক্ষা।আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষার আয়োজন।
আমাদের দেশে বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা এখনও খুব সীমিত। অথচ এর গুরুত্ব অপরিসীম। বয়স্ক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মসচেতনতা জাগ্রত করা, গণতান্ত্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সাক্ষরতার মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়ানো। শিক্ষা মানুষকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, সমাজে মর্যাদার সাথে বাঁচতে শেখায়।
এছাড়া বয়স্ক শিক্ষা সৃষ্টিশীলতা ও আন্তরিক প্রকাশক্ষমতা বাড়ায়। মৌলিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভর হতে পারেন। নৈতিকতার উন্নয়ন ও মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পেশাগত চিন্তাশক্তির বিকাশেও সহায়ক হয়।
তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকর প্রক্রিয়া—
সহজ ও জীবনঘনিষ্ঠ পাঠ্যবিষয় নির্বাচন
স্থানীয় ভাষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যবহার
অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতি,
দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি,
প্রযুক্তির সীমিত কিন্তু কার্যকর ব্যবহার,
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়
বয়স্ক শিক্ষা কেবল অক্ষরজ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানুষের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার পথ খুলে দেয়। যে দুই ভাই সন্ধ্যায় সেই ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছিলেন, তারা আসলে সমাজ পরিবর্তনের এক নীরব বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন।
শিক্ষা বয়স দেখে আসে না,ইচ্ছা থাকলেই যে কোনো বয়সেই শেখা যায়। আর সেই শিক্ষাই মানুষকে সত্যিকারের সাকার্যসম্পন্ন ও সচেতন নাগরিক করে তোলে।
১৪
২৪ মন্তব্য