প্রভাষক
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:৩০ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম
অটিজম হলো একটি আজীবন বা আজীবন স্থায়ী নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধকতা, যা মস্তিষ্কের বিকাশের পার্থক্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং আচরণে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি স্পেকট্রাম (Spectrum) যেখানে আক্রান্তদের লক্ষণ ভিন্ন হয়।
লক্ষণগুলো সাধারণত ৩ বছরের আগে প্রকাশ পায় এবং early intervention বা প্রাথমিক হস্তক্ষেপ ও থেরাপি উন্নত জীবনযাপনে সাহায্য করে।
অটিজম ও প্রতিবন্ধিতার বিবরণ:
সংজ্ঞা: অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) হলো এমন একটি অবস্থা যা ব্যক্তির সামাজিক আচরণ, যোগাযোগ এবং চিন্তা করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
প্রধান লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য: সামাজিক যোগাযোগ: চোখের যোগাযোগ (Eye contact) এড়িয়ে যাওয়া, নিজের নামে সাড়া না দেওয়া, একা থাকতে পছন্দ করা, বন্ধুত্ব করতে অনিচ্ছা।
আচরণ: একই কাজ বারবার করা (Repetitive behavior), নির্দিষ্ট রুটিন পছন্দ করা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কষ্ট, উচ্চ শব্দে বা বাতিতে সংবেদনশীলতা।
যোগাযোগের ধরন: দেরিতে কথা বলা বা কথা বলতে না পারা, একই কথা বারবার বলা।
অটিজমের ধরন ও গভীরতা: অটিজম একটি "স্পেকট্রাম" কারণ এটি মৃদু থেকে তীব্র - সব ধরনের হতে পারে। কেউ কেউ উচ্চ মেধার অধিকারী হতে পারেন, আবার কেউ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে পারেন।
কারণ ও নির্ণয়: অটিজমের কোনো একক সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণের মিশ্রণ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে শিশু বয়সে এটি নির্ণয় করা হয়।
থেরাপি ও সহায়তা: অটিজমের কোনো নিরাময় বা ঔষধ নেই, তবে থেরাপির মাধ্যমে (যেমন- স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, আচরণগত থেরাপি) উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।
প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম:
অটিজমকে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর অধীনে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা (NDD) হিসেবে গণ্য করা হয়। অটিস্টিক ব্যক্তিদের সাধারণত বাহ্যিক কোনো শারীরিক ত্রুটি থাকে না, কিন্তু সামাজিক ও আচরণের পার্থক্যের কারণে তারা প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন হন।
করণীয়: সহানুভূতি ও গ্রহণযোগ্যতা: অটিস্টিক শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও ধৈর্যশীল হওয়া, তাদের আচরণের জন্য বকাঝকা না করা।
বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: তাদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা এবং কাজের সুযোগ তৈরি করা।
প্রাথমিক চিকিৎসা: লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করে থেরাপি শুরু করা।
অটিস্টিক ব্যক্তিরা সঠিক পরিচর্যা, থেরাপি এবং সামাজিক সমর্থনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন যাপন করতে সক্ষম।
১
১ মন্তব্য