Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:০৬ অপরাহ্ণ

বোর্ড পরিক্ষা ও মানসিক চাপ: শিক্ষার্থী কি অদৃশ্য শিকার?

শিক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় বিষয় হিসেবে-

*বোর্ড পরিক্ষা ও মানসিক চাপ: শিক্ষার্থী কি অদৃশ্য শিকার?

বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের বার্ষিক ও বোর্ড পরিক্ষা নির্ভর। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি (পূর্বে চালু ছিল) ও এসএসসি এবং এইচএসসি—প্রতিটি ধাপেই পরিক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ এর অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফলকে ঘিরে সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। দেশের প্রেক্ষাপটে বোর্ড পরিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ আজ গভীর আলোচনার দাবি রাখে।


*বোর্ড রেজাল্ট নির্ভর শিক্ষা ও সামাজিক প্রত্যাশা-

আমাদের সমাজে ভালো ফলাফল মানেই ভালো শিক্ষার্থী—এমন একটি ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। জিপিএ-৫ পাওয়া যেন সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এমনকি প্রতিবেশীর প্রত্যাশাও শিক্ষার্থীর কাঁধে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলাফল প্রকাশের দিন অনেকের জন্য আনন্দের হলেও, কারও কারও জন্য তা হয়ে ওঠে হতাশা ও আত্মবিশ্বাস হারানোর সূচনা। নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নৈতিকতা কিংবা দক্ষতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারে না—তবুও সমাজে নম্বরই যেন সবকিছু।


*মানসিক চাপের অদৃশ্য প্রভাব-

বোর্ড পরিক্ষার আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়—  

(i)অনিদ্রা

(ii) উদ্বেগ

(iii) আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি

(iv) তুলনামূলক মানসিকতা

(v) বিষণ্নতার প্রবণতা

(vi) কিশোর বয়সে এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে

(vii) এমনকি এ দেশে পরিক্ষায় ব্যর্থ হয়ে আত্মহননের ইতিহাসও দেখা যায়। 

  অনেক শিক্ষার্থী নিজের সামর্থ্য নয় বরং পরীক্ষার ফলাফল দিয়েই নিজেকে বিচার করতে শেখে। এতে আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


*শিক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় বিষয় হিসেবে করণীয়-

বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও দক্ষতাভিত্তিক করতে কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। যেমন- 

১. বহুমাত্রিক মূল্যায়ন পদ্ধতি:

শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রজেক্ট, উপস্থাপনা, ব্যবহারিক কাজ ও সৃজনশীল মূল্যায়ন বাড়ানো প্রয়োজন।

২. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা পরিক্ষাভীতি বা মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে।

৩. অভিভাবক সচেতনতা:

অভিভাবকদের বুঝতে হবে—শিক্ষা কেবল নম্বর অর্জনের জন্য নয়; বরং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া।

৪. দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা:

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কেবল জিপিএ নয়, প্রয়োজন আইসিটি দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ইত্যাদি। 


পরিশেষে আমরা বলতে পারি, একাডেমিক পরিক্ষা শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও এটি তার পুরো জীবনের পরিচয় নয়। “শিক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় বিষয়” হিসেবে আমাদের ভাবতে হবে—আমরা  মেধা বিকাশে মনোযোগ দিচ্ছি, নাকি শুধুই রেজাল্ট নির্ভর প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ঠেলে দিচ্ছি। একটি মানবিক, দক্ষতাভিত্তিক ও চাপমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে আগামী প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে।


মন্তব্য করুন