প্রভাষক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ
মাইক্রো টিচিং (Micro-teaching) বা অনুশিক্ষণ
মাইক্রো টিচিং (Micro-teaching) বা অনুশিক্ষণ হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণের একটি বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি, যেখানে স্বল্প সময়ে (সাধারণত ৫-১০ মিনিট) অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী (৫-১০ জন) নিয়ে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষণ দক্ষতা (Teaching Skill) অনুশীলন করা হয়। এটি ১৯৬০-এর দশকে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ডুইট ডব্লিউ অ্যালেন (DW Allen) কর্তৃক প্রবর্তিত হয় [৭]। এই পদ্ধতিতে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে আত্ম-মূল্যায়ন এবং সহকর্মী বা মেন্টরদের কাছ থেকে গঠনমূলক ফিডব্যাক (Feedback) নিয়ে পাঠদানের ত্রুটি সংশোধন করা হয়, যা পেশাগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
মাইক্রো টিচিংয়ের বিবরণ:
জনক: ডুইট ডব্লিউ অ্যালেন (DW Allen) [৭]।
সময়কাল: সাধারণত একটি সেশন ৫ থেকে ১০ মিনিট বা সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হয়।
শিক্ষার্থী: ৫-১০ জন সহপাঠী বা শিক্ষার্থী ।
মূল উপাদান: নির্দিষ্ট দক্ষতা (যেমন: প্রশ্নকরণ, ভূমিকা, ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার)।
প্রক্রিয়া: এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া (Micro-teaching Cycle): পরিকল্পনা
পাঠদান
ফিডব্যাক
পুনরপরিকল্পনা
পুনরপাঠদান
পুনঃফিডব্যাক।
মাইক্রো টিচিং চক্রের ধাপসমূহ (Steps):
১. দক্ষতা নির্ধারণ: কোন দক্ষতাটি (যেমন: প্রশ্ন করার দক্ষতা) অনুশীলন করা হবে তা ঠিক করা ।
২. পাঠ পরিকল্পনা (Planning): ছোট বিষয়ের ওপর পাঠ তৈরি করা ।
৩. পাঠদান (Teach): ৫-১০ মিনিট ক্লাস নেওয়া (রেকর্ডিং করা হয়)।
৪. ফিডব্যাক (Feedback): শিক্ষক বা সহকর্মীরা ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেন।
৫. পুনরপরিকল্পনা (Re-plan): ফিডব্যাকের ভিত্তিতে পাঠ পরিকল্পনা উন্নত করা।
৬. পুনরপাঠদান (Re-teach): আবার ক্লাস নেওয়া ।
৭. পুনঃফিডব্যাক (Re-feedback): দক্ষতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চক্রটি চলতে থাকে।
সুবিধাসমূহ:
শিক্ষণ দক্ষতা উন্নতির জন্য কার্যকর।
ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজের ভুল নিজে দেখার সুযোগ ।
তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক (Immediate feedback)।
শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
অসুবিধাসমূহ:
প্রকৃত ক্লাসরুমের পরিবেশের সাথে পুরোপুরি মিল থাকে না ।
সময় সাপেক্ষ।
মাইক্রো টিচিংয়ের মাধ্যমে একজন নতুন শিক্ষক সরাসরি বড় ক্লাসে যাওয়ার আগেই তার শিক্ষণ পদ্ধতি ও দক্ষতাগুলো নিখুঁত করতে পারেন ।
০
০ মন্তব্য