Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন (Institutional Governance)

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন (Institutional Governance) বলতে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সেই সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াকে বোঝায় যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এবং সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সকল অংশীজনের (Stakeholders) স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে। 
প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের প্রধান স্তম্ভসমূহ
বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো ৪টি: 
স্বচ্ছতা (Transparency): প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সবার কাছে স্পষ্ট হতে হবে যাতে কোনো লুকোছাপা না থাকে।
জবাবদিহিতা (Accountability): প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের কাজের জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষ বা অংশীজনদের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
অংশগ্রহণ (Participation): সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত প্রদানের সুযোগ থাকতে হবে।
আইনী কাঠামো (Legal Framework): সকল কাজ একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা আইনের শাসনের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। 
সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
একটি সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে: 
আইনের শাসন: বৈষম্যহীনভাবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা প্রয়োগ করা।
সংবেদনশীলতা: অংশীজনদের প্রয়োজন বা সমস্যার দ্রুত সমাধানে সচেষ্ট হওয়া। 
কার্যকারিতা ও দক্ষতা: ন্যূনতম সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলাফল নিশ্চিত করা।
সমতা ও অন্তর্ভুক্তি: প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে নারী-পুরুষ ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সুযোগ প্রদান。
ঐকমত্য ভিত্তিক: বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো。 
প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের গুরুত্ব
টেকসই উন্নয়ন: শক্তিশালী সুশাসন দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
দুর্নীতি রোধ: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে দুর্নীতি ও অপচয় অনেকাংশে কমে যায়।
আস্থা বৃদ্ধি: বিনিয়োগকারী, গ্রাহক এবং জনসাধারণের মাঝে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। 
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) এর 'কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮' এবং 'ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১' এর মতো আইনী কাঠামো কার্যকর রয়েছে। এসব নিয়মে বোর্ড অব ডিরেক্টরস গঠন, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ এবং বার্ষিক প্রতিবেদনে সুশাসন সংক্রান্ত তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মন্তব্য করুন