বাংলা
শুদ্ধ উচ্চারণ এবং বানান রীতি দুটিই ভাষার নান্দনিকতা ও স্পষ্টতা রক্ষার
জন্য অপরিহার্য। নিচে বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান ও উচ্চারণ রীতির প্রধান
নিয়মগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. শুদ্ধ উচ্চারণ রীতি (Pronunciation Rules)
বাংলায় অনেক সময় বর্ণের লিখিত রূপ ও উচ্চারিত রূপের মধ্যে পার্থক্য থাকে।
- ‘অ’-এর উচ্চারণ:
- শব্দের শুরুতে ‘অ’ থাকলে এবং পরের বর্ণে ই, উ বা য-ফলা থাকলে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয় (যেমন: অণু ওনু, কবি কোবি)।
- নেতিবাচক বা না-অর্থে ‘অ’ বা ‘অন্’ যুক্ত হলে ‘অ’-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে।
- ‘এ’-এর উচ্চারণ:
- শব্দের শুরুতে ‘এ’-কারের পর অং ধ্বনি (ং, ঙ, ঙ্গ) এবং তারপর ই বা উ থাকলে ‘এ’-এর উচ্চারণ ‘অ্যা’ হয় (যেমন: এখন অ্যাখোন্, এমন অ্যামোন্)।
- ব-ফলা ও য-ফলা:
- শব্দের শুরুতে ব্যঞ্জনবর্ণে ব-ফলা থাকলে তার উচ্চারণ হয় না (যেমন: স্বাগতম শাগোতোম)।
- আদ্য বর্ণে য-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণ সাধারণত ‘অ্যা’-কারান্ত হয় (যেমন: ব্যথা ব্যাথা)।
- ‘স’-এর উচ্চারণ:
- খাঁটি বাংলা শব্দে ‘স’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘শ’-এর মতো হয়। প্রমিত উচ্চারণে ‘স’-কে ‘ছ’ বলা আঞ্চলিকতা হিসেবে ধরা হয়।
২. প্রমিত বানান রীতি (Standard Spelling Rules)
বাংলা একাডেমি ১৯২ সালে প্রথম প্রমিত বানানের নিয়ম প্রবর্তন করে যা পরবর্তীতে আরও পরিমার্জিত হয়েছে।
- তৎসম শব্দ: সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের বানান ব্যাকরণ অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবে।
- ই/ঈ এবং উ/ঊ-কার: যেসব শব্দে ই/ঈ বা উ/ঊ উভয়ই শুদ্ধ, সেক্ষেত্রে কেবল ই-কার (ি) বা উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে (যেমন: শ্রেণি, পল্লি, বাড়ি)।
- রেফ (র্): রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না (যেমন: ‘ধর্ম’ নয় ‘ধম’, ‘কার্য’ নয় ‘কার্য’)।
- বিসর্গ (ঃ): শব্দের শেষে বিসর্গ বসবে না (যেমন: মূলত, প্রধানত)।
- অনুস্বার (ং) ও ঙ: শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ‘ং’ ব্যবহার হবে (যেমন: রং, সং)। তবে স্বর যুক্ত হলে ‘ঙ’ হবে (যেমন: রঙিন, বাঙালি)।
- বিদেশি শব্দ: বিদেশি শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে (যেমন: একাডেমি, স্টুডিও) এবং ক্ষেত্রে-অনুযায়ী ‘অ্যা’ ব্যবহৃত হবে (যেমন: অ্যাকাউন্ট, অ্যাসিড)।
অনুশীলনের টিপস:
- উচ্চারণ শুদ্ধ করতে নিয়মিত স্পষ্ট স্বরে পড়া এবং ভালো বক্তাদের কথা শোনা জরুরি।
১
১ মন্তব্য