Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ

হজ্জকে কেন ফরজ করা হয়েছে?
হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলিমের ওপর জীবনে একবার পালন করা ফরয।  আরবি ‘হজ’ শব্দের অর্থ ‘সংকল্প করা’ বা ‘ইচ্ছা করা’। পারিভাষিক অর্থে, জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে পবিত্র কাবা শরিফ ও এর পার্শ্ববর্তী স্থান (আরাফাত, মুজদালিফা, মিনা) পরিদর্শন ও ইবাদত সম্পাদন করাকে হজ বলে । 
হজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
  • ফরয হওয়ার শর্ত: সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলিমের ওপর হজ ফরয।
  • সময়: হজের মূল সময় জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ, তবে হজের ইহরামের নিয়ত শাওয়াল মাস থেকে শুরু করা যায়।
  • হজের ফরজ ৩টি: ১. ইহরাম বাঁধা, ২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (৯ জিলহজ), ৩. তাওয়াফে জিয়ারত [৯]।
  • হজের প্রকারভেদ: হজ প্রধানত তিন প্রকার: হজ্জে ইফরাদ, হজ্জে কিরান ও হজ্জে তামাত্তু।
হজ পালনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়, যা মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ঈমানি একতা, এবং পাপমুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলিমদের ওপর জীবনে একবার হজ্জ ফরজ করা হয়েছে । এটি ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি, যা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে মুসলমানের আত্মশুদ্ধি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পালিত হয় । 
হজ্জ ফরজ হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
  • আল্লাহর নির্দেশ: কুরআন (সুরা আলে ইমরান: ৯৭) এবং হাদিসের মাধ্যমে সামর্থ্যবানদের জন্য এটি অপরিহার্য করা হয়েছে ।
  • আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফ: হজ্জের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয় এবং নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
  • ঐক্যের প্রতীক: সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক স্থানে সমবেত করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমতার শিক্ষা দেওয়া। 
  • ত্যাগের চেতনা: হযরত ইব্রাহিম (আ.), হাজেরা (আ.) এবং ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করে নিজের আমিত্ব বিসর্জন দেওয়া। 
  • পরকালের স্মরণ: ইহরামের সাদা কাপড় পরিধান করে কেয়ামতের ময়দানের কথা স্মরণ করা । 
শারীরিক সুস্থতা, যাতায়াতের সামর্থ্য এবং পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা থাকলে এই ফরজ ইবাদতটি পালন করা আবশ্যক। 
মন্তব্য করুন