সহকারী শিক্ষক
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইসলাম শিক্ষা। নবম দশম শ্রেণির
অধ্যায-৩ পাঠ ৩
সাওম
পরিচয়
সাওম আরবি শব্দ। রোজা ফার্সি আধার শব্দ।
সাওম অর্থ হলো বিরত থাকা। সংযম করা
👉 To abstain / To refrain
الكفُّ عن الشيء (আল-কাফফু ‘আনিশ্ শাই’) — কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা
👉 To withhold oneself from something
الامتناع (আল-ইমতিনা‘) — নিবৃত্ত থাকা / বিরত থাকা
👉 To abstain / To refrain
সাওমের সংজ্ঞা -
১। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, সাওম হাল- সূর্য সাদিক থেকে সূর্যায় পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় বৃত্তি থেকে বিরত থাকা।
২। আল-মু‘জামুল ওয়াসিত অনুযায়ী
الصوم: الإمساك عن الشيء.
অর্থঃ সাওম হলো কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা বা সংযম করা।
৩। লিসানুল আরব অনুযায়ী
الصوم هو الإمساك عن الطعام والشراب والكلام وغيرها.
অর্থঃ সাওম হলো খাদ্য, পানীয়, কথা ও অন্যান্য বিষয় থেকে বিরত থাকা।
৪। ফাতহুল কাদির (ফিকহী সংজ্ঞা)
هو الإمساك عن المفطرات من طلوع الفجر إلى غروب الشمس مع النية.
অর্থঃ নিয়তসহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের রোজা ভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকাই সাওম।
৫। আল-মুগনী অনুযায়ী
الصوم: التعبد لله تعالى بالإمساك عن المفطرات في زمن مخصوص.
অর্থঃ নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে রোজা ভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকাই সাওম
-প্রাপ্ত বয়ম প্রয়োষ নারী ও পুরুষের ওপর রমযান মাসের এক মাস সাওম পালন করা ফরজ।
এটি ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে একটি।
সাওমের নৈতিক শিক্ষা
১। সাওম কেবল আমাদের ওপরই ফরজ নয় বরং পূর্বের নবি-রাসুলের উম্মতের উপরও ফরজ ছিল।
২। সাওম এর মাধ্যমে সাওম পালনকারীর আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয়।
৩। সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি)
৪। সাওমের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
৫। সাওমের কারণে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়েও মানুষ মহান আতা ভালোবাসা ও ভয়ে কিছুই পানাহার করে না ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি লাভ করে না।
মহান আল্লাহ বলেন-
بانيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كنت على الدين مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.
অর্থ। হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর সওম। রেখা ফরয করা হয়েছে। যেমন করণ করা হয়েছিল যোমাস পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্থান করাতে পার (সূরা আল-বাকারা আমার। ১৯০
মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়।
সাওম মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়।
সাওম হলো কোনো ব্যাক্তি ও তার মন্দ কাজের জন্য ঢাল স্বরূপ।
মহানবি হয়রত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-
الضياءُ جنة
অর্থ। সাওম (রোযা) চালস্বরূপ (বুখারি ও মুসলিম)।
সাওমের সামাজিক শিক্ষা
১।সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের মানুষের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সাওম পালান করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়।
মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন, 'এ মাস সহানুভূতির মাস' (ইবনে বুযায়মা)।
২।সাওম অসহায় ও দরিদ্রকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে।
রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ (স.) অন্যদের দান-সাদকা করতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেছেন, তিনি নিজেও তেমনিভাবে বেশী দান-সদকা করতেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বালন, "রাসুলুল্লাহ (স.) লোকদের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমযান এলে তার দানশীলতা আরও বেড়ে যেত” (বুখারি ও মুসলিম)।
সাওমের ধর্মীয় গুরুত্ব
১। সকল সৎকাজে মহান আল্লাহ দশগুণ থেকে সাতশতগুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন।
২। সাওমের এর প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
অর্থ। সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান আমি নিজে দিব। (বুখারি)
রাসূল (সা.) বলেন,
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
‘‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১১৫১।
৩। সাওম পালনকারীর পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
যেহেতু সাওয়াবের আশায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওম পালন করা হয় সেহেতু আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
রাসূল (স.) বলেছেন।
অর্থ। যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশায় রমযান মাসে রোযা রাখে আল্লাহ তায়ালা তার। পূর্ণের সমস্ত পাপ জমা করে দেন (বুখারি)।
৪। সাওম ফরজ ইবাদত।
৫। সাওম অস্বীকারকারী কাফির।
৬। সাওমের প্রতিদান হবে জান্নাত।
مَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ،
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় রোযা রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৩৩২৪, মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৩৯১৯।
৭।সাওম কিয়ামাতের দিন সুপারিশ করবে।
اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ
সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর।
অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। (আহমাদ : ২/১৭৪)
৮। হাশরের মাঠে আল্লাহ তায়ালা রোযাদারকে বিশেষ পানি পান করাবেন।
اِنَّ اللهَ تبارَك وتعالى قَضَى على نَفْسه أَنَّه مَنْ أَعْطَشَ نَفْسَه له في يَوْمٍ صَائِفٍ، سَقَاهُ اللهُ يَوْمَ العَطَشِ
আল্লাহ তায়ালা নিজের উপর আবশ্যককরে নিয়েছেন,যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোযার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন
(কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।-মুসনাদে বাযযার ১০৩৯ মাজমাউয যাওয়াইদ ৫০৯৫
৯। রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও উত্তম।
وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِه لَخُلوفُ فَمِ الصائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ
সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।-সহীহ বুখারী,১৯০৪
১০।রোযাদারের দুআ আল্লাহ কবুল করেন।
- إنَّ للصائمِ عند فِطْرِهِ دَعْوَةً ما تُرَدُّ
ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়)।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫৩,
১১। রোযাদার ব্যক্তি রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে যাবে।
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন শুধু সিয়ামপালনকারীরা ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। তারা প্রবেশ করার পর ঐ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ আর সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে ঢুকতে পারবেনা। (বুখারী : ১৮৯৬; মুসলিম : ১১৫২)
১২। রোযাদার ব্যক্তি জান্নাতে আল্লাহর দীদার লাভ করবে।
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ
সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টো বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত রয়েছে : একটি হল ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয়টি হল তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। (বুখারী : ৭৪৯২; মুসলিম : ১১৫১)
১৩। রোযাদারের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ
যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।
বুখারী ১৭৭৭।
১৪। সাওম পালনকারীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে।
১৫। সায়িমকে বিশেষ পাঁচটি জিনিস প্রদান করা হবে। রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন,
أغنيت أنني خمس جمال في رمضان لم تعطها أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ خُلُوفٌ قيم العاليم أعين عند الله من ريح البسك وتستغفر لهم الملائكة حتى يُفْطِرُوا وَيُرينُ الله على وجل كل يوم وتعمد فيه مرنا الشياطين ، وتغفر لهم في آخر ليلة قبل يا رسول الله أمن ليلة القدر قال لا ولكن العامل إنما يوفى أجره إذا قضى عملة (مسند احمد)
আমার উম্মতকে রামাদান বিষয়ক পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দান করা হয়নি।
(১) সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষাও উত্তম।
(২) যতক্ষণ তারা ইফতার না করেছে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য মাগফেরাত কামনা করতে থাকেন।
(৩) আল্লাহ তা'আলা প্রতিদিন তাদের জন্য তাঁর জান্নাতকে সুসজ্জিত করে রাখেন।
(৪) এ মাসে বিদ্রোহী শয়তানদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
(৫) আর নেক বান্দাদের জন্য শেষ রাত্রে মাগফিরাত দান করা হয়। রাসূলুল্লাহ স.-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, হে আল্লাহর রাসূল। সেটা কি লাইলাতুল কদরের কথা। তিনি বললেন: না, কারণ আমলকারী যখন তার আমল সম্পূর্ণ করে, তখন তার প্রতিফল তাকে পুরোপুরি দেয়া হয়।" (মুসনাদে আহমদ: ৭৫৭৬)
১৬। সায়িমের জন্য দু'টি খুশী: রাসুলুল্লাহ স. বলেছেন,
الصائم فرحتان فرحة عند فطره وفرحةً عِنْدَ لِقَاء رَبِّهِ (مُتَقَى عَلَيْهِ)
'সায়িমের জন্য দু'টি খুশি। একটি খুশি ইফতারের সময় আর অপরটি তার প্রভুর সাথে সাক্ষাতের সময়।" (সহীহ আল-বুখারী: ১৯০৪; সহীহ মুসলিম: ২৭৬৩: মিশকাত: ১৯৫৯)
১৭। সাওম তুলনাবিহীন ইবাদাত: হাদীসে এসেছে,
عن أبي أمامة، الله سأل رسول الله صلى الله علَيْهِ وَسَلَّمَ أَبي العَمَل الفضل قال
عَلَيْكَ بالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لا عدل لله (نسائی)
"এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ স.-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন আমল উত্তম? তখন তিনি বললেন, তুমি সাওম রেখে যাও কেননা তার কোন তুলনা নেই। (সুনান আন নাসাঈ: ২২২০, ২২২২, সহীহ)।
সাওমের সামাজিক গুরুত্ব
১। সাওম পালনের মাধ্যমে একজন লোক ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলদ্ধি করতে পারে।
২। সাওম পালনের মাধ্যমে সমাজের নিরন্ন ও অভাবিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে।
৩।সাওম পালনকারী ব্যাক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে।
৪। সাওম পালনের মাধ্যমে হানাহানি থেকে দূরে থাকে।
৫। সাওম পালন করলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে।
৬।সাওম পালনকারী অধিক সাওয়াব পাওয়ার আশায় একে অপরকে সাহারি ও ইফতার করায়।
৭।সাওম পারনকারী অভাবীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এতে পরস্পায়ের মধ্যে প্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়।
৮।আদর্শ সমাজ গঠন।
৯।সদ্ব্যবহারের শিক্ষা।
১০।বিপ্লবী শিক্ষা
১১।ত্যাগের শিক্ষা
১২।সমবেদনা প্রকাশ।
১৩।সাম্য প্রতিষ্ঠা।
১৪।নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ।
১৫।বদভ্যাস দূরীকরণ
১৬।দৈহিক উপকারিতা
১৭।পরিচ্ছন্ন সামাজিক জীবন
১৮।ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান হ্রাস
১৯।মানুষের ষড়রিপু দমন : রোজা শুধু পেটের রোজা নয়। চোখের রোজা, কানের রোজা, মুখের রোজা, হাত-পায়ের রোজা
২০। সুস্থ বিবেকের বিকাশ
◼️ রমাদানের ২৭ টি বিশেষ আমল।
১. রমাদানের চাঁদ দেখা।
২. রোজা রাখা।
৩. তারাবির সালাত আদায় করা। (রাত্রি যাপন করে তারাবির সালাত কে দীর্ঘায়িত করা উত্তম)
৪. সাহরী করা।
৫. শেষ সময়ে সেহরি করা। (তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন সময়ের মধ্যেই সেহরি খাওয়া সম্পন্ন হয়)
৬. ইফতার করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যকে ইফতার করানো।
৭. ইফতারের ওয়াক্ত হওয়ার পরপরই দ্রুত ইফতার করা।
৮. ইফতারের পূর্বে দোয়ার ইহতেমাম করা এবং ইফতারের দোয়া পড়া।
৯. সাহরী ও ইফতারে খেজুর খাওয়া।
১০. দিনভর আল্লাহর কাছে অধিক প্রার্থনা করা।
১১. সকল প্রকার গুনাহ ও পাপাচার বর্জন করা।
১২. মিথা কথা না বলা, প্রতারণা না করা এবং ধোকা না দেওয়া।
১৩. সকল প্রকার ঝগড়া-ফাসাদ থেকে বিরত থাকা।
১৪. বেশি বেশি নেক কাজ করা। (সাধারণ আমল ও ভালো কাজগুলো সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে করা)
১৫. তাওবা ও ইস্তেগফার পাঠ করা। (আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা )
১৭. বিশেষ গুরুত্বের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করা। (পারলে অর্থ সহকারে তেলাওয়াত করা)
১৮. অন্যের তেলাওয়াত শোনা এবং অপরকে তেলাওয়াত করে শোনানো।
১৯. বেশি বেশি দান সাদাকা করা।
২০. তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা ও দোয়া করা।
২১. উমরা করা। (সামর্থ্য থাকলে)
২২. রোজা রেখে বেশি বেশি মেসওয়াক করা।
২৩. রমাদানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা।
(পুরুষরা মসজিদে এবং নারীরা নিজ বাসায় নির্দিষ্ট কোন স্থানে)
২৪. রমাদানের শেষ ১০ দিন ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। (সময় নষ্ট না করে ইবাদতে মনোনিবেশ করা)
২৫. রমাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা। (বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদরকে তালাশ করা)
২৬. লাইলাতুল কদর পেয়ে গেলে বিশেষ দোয়া করা।
২৭. রমজানের শেষে ফিতরা দেওয়া। (গরিব ও মিসকিনদের বাসায় খাবার পৌছে দেওয়া)
-রাসূল (সা.)-এর সুস্থতার আরেকটি বড়ো কারণ ছিল রোজা। তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন।
-আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান এই রোজা রাখার পদ্ধতিকে 'অটোফেজি' বলে অভিহিত করে থাকে। রোজা মূলত শরীর থেকে যারতীয় ক্ষতিকর বস্তু এবং অতিরিক্ত মেদ-চর্নি ইত্যাদি অপসারণ করে শরীরকে ঝরঝরে করে তোলে।
রাসূল বলেন
'প্রতিটি বস্তুর জাকাত আছে। আর শরীরের জাকাত হলো রোজা।' (ইবনে মাজাহ। ১৭৪৫)
আল্লার রাসূল নিয়ম করে সপ্তাহে দুদিন-সোমবার ও বৃহস্পতিার রোজা রাখতেন। এ ছাড়া প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ বোজা রাখতেন তিনি। এই তিনটি রোজাকে বলা হয় জাইয়ামে বিজের রোজা আয়িশা (রা) বলেন-
'রাসুলুল্লাহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।
(আলবানি, ইরওয়াউল গালিল। ১/১০৫)
আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলছেন-
'প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার আল্লাহ তায়ালার কাছে বান্দার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং আমার পছন্দ হলো-আমার আমলসমূহ যেন রোজা রাখা অবস্থায় পেশ করা হয়।'
(তিরমিজি। ৭৪৭: ইবনে মাজাহ: ১৭৪০।
প্রতি সপ্তাহ ও মাসের এই নিয়মিত রোজার পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ মাসে নবিজি অতিরিক্ত সিয়াম পালন করতেন। যেমন। মুহাররম মাসের ১০ তারিখকে ঘিরে তিনি দুটি রোজা রাখতেন। এই ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
'রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।' (মুসলিম: ১১৬৩)
রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের প্রায় পুরো সময়জুড়ে নরিজি রোজা রাখতেন। আয়িশা (রা.) বলেন-
'শাবানের তুলনায় অন্য কোনো মাসে আমি তাঁকে এত অধিক হারে রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসের কয়েকদিন ব্যতীত প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন।' (মুসলিম: ২৭৭৭)
এ ছাড়া শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ ছয়টি রোজা রাখতেন। এই ছয়াট রোজা পালন করলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব হয়। নিয়মিত এই রোজা রাখার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ফিট থাকতেন রাসূল। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, নবিজি বলেছেন-
'যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং রমজানের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।'(মুসলিম: ২৮১৫)।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে রোজার মাধ্যমে মানুষের শরীরের কোষ পরিষ্কার হয়, নতুন করে রিসাইকেল হয় প্রোটিন। রোজা রোগ প্রক্রিয়াকে পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। লিভার, ব্রেন ও কোষের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ করে ফলে রোজাদার ব্যক্তি খুব সহজেই চর্বি ও প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।
৫৩
৯১ মন্তব্য