প্রধান শিক্ষক
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস........
---
আমাদেরই হাতে পৃথিবী: বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কথা
প্রতি বছর ৫ জুন প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের এক নতুন করে হিসাব নেওয়ার দিন। ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘ প্রথম এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে সারা বিশ্বে নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে । কিন্তু শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এই দিনটি আমাদের চিন্তার খোরাক জোগায়—আমরা কি সত্যিই আমাদের গ্রহের যথাযথ যত্ন নিচ্ছি?
সময়ের সাথে সাথে থিমের বিবর্তন
মজার ব্যাপার হলো, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিমগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে, যেন প্রতিটি যুগের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করে। ২০২৪ সালে থিম ছিল "আমাদের জমি। আমাদের ভবিষ্যৎ", যেখানে মরুকরণ ও ভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল । ২০২৫ সালে আমরা ফিরে গিয়েছিলাম প্লাস্টিক দূষণের প্রসঙ্গে—"প্লাস্টিক দূষণ আর নয়" । আর ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত থিম হলো জলবায়ু পদক্ষেপ, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে চলা ঠেকানো এখন সময়ের দাবি ।
আমাদের চারপাশের বাস্তবতা
আমরা যখন ব্যস্ত শহরের ফুটপাত দিয়ে হাঁটি, তখন কি চোখে পড়ে না যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল? কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় যখন বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তখন কি মনে হয় না, এই বাতাসই তো আমাদের প্রতিদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যম ?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে, বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা বলছে, পরিবেশ দূষণ ও প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে আমরা প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ থেকে ৪ শতাংশ হারাচ্ছি । ঢাকা শহর তো প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে চলে আসে। অথচ এই শহরটাই আমাদের গর্বের, আমাদের জীবনের।
ছোট ছোট পদক্ষেপের শক্তি
পরিবেশ রক্ষার জন্য বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিজীবনের ছোট ছোট পরিবর্তনও বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণা বলছে, সুগঠিত পরিবেশ সচেতনতা প্রচারণা মানুষের আচরণে পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন আনে ।
তাই না হয় আজ থেকেই শুরু করি—
· প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো: বাজারে যাওয়ার সময় কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া, পানি কেনার বদলে নিজের বোতল ব্যবহার করা—এই ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের চারপাশ বদলে দিতে পারে ।
· গাছ লাগানো ও যত্ন নেওয়া: শুধু গাছ লাগানো নয়, সেটাকে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে ।
· পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান: নিজের আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা—এটাই তো আমাদের নাগরিক দায়িত্ব ।
শুধু একটাই পৃথিবী
মহাবিশ্বে কোটি কোটি নক্ষত্রের ভিড়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। শুক্র গ্রহে তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মঙ্গলে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি। এই দুই চরমের মধ্যে ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করেই পৃথিবী আমাদের বাসযোগ্য পরিবেশ দিয়েছে । এই গ্রহের বিকল্প আমাদের হাতে নেই।
ভবিষ্যতের জন্য আজকের অঙ্গীকার
পরিবেশ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হলো প্রতিদিনকে আমরা পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করা। আমাদের ছেলেমেয়েরা যখন একদিন বড় হয়ে জানতে চাইবে, "আপনারা পৃথিবীটাকে আমাদের জন্য কেমন রেখেছিলেন?"—তখন যেন আমরা লজ্জায় মাথা নিচু না করি।
১৯৭২ সালে স্টকহোম সম্মেলনে যখন প্রথম "একটাই পৃথিবী" স্লোগান উঠেছিল, তখনও পৃথিবী ছিল সবুজ। আজকের এই দিনে দাঁড়িয়ে এসো আমরা শপথ নেই—আমাদের পৃথিবীকে আরও সবুজ, আরও সুন্দর করে তুলব। কারণ প্রকৃতি ভালো না থাকলে আমরা কেউই ভালো থাকতে পারব না ।
"গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান"—এই স্লোগান শুধু মুখে না রেখে কাজে প্রমাণ করার দিন আজ।
ছবিঃ আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা.........
১৩
১৮ মন্তব্য