সহকারী শিক্ষক
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইসলাম শিক্ষা। নবম দশম শ্রেণির
অধ্যায়-পাঠ ৬
মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক عَلَاقَةُ المالِكِ بِالعامل
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘ফরজ ইবাদতগুলোর পর হালাল উপার্জন ফরজ দায়িত্ব। ’ (তিরমিজি)
অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হালাল উপার্জনগুলোর মধ্যে তা সর্বোত্তম, যা কায়িক শ্রম দ্বারা অর্জন করা হয়। ’ (মুসলিম)
অন্য হাদিসে এসেছে—‘নিজ হাতের শ্রমে উপার্জিত জীবিকার চেয়ে উত্তম আহার কেউ কখনো গ্রহণ করেনি। ’
(বুখারি, হাদিস : ২০৭২)
শ্রমের মর্যাদা বোঝাতে গিয়ে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কারো জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য আর নেই। আর আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) স্বহস্তে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ’
(বুখারি, হাদিস : ২৭৫৯)
মানুষের মৌলিক অধিকার
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ইত্যাদি একজন মানুষের মৌলিক অধিকার।
মালিক কারা
মালিক (مالك) শব্দটি আরবি “ملك” ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ—অধিকারী, স্বত্বাধিকারী, কর্তা বা যিনি কোনো কিছুর উপর বৈধ মালিকানা রাখেন।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
আল-মু‘জামুল ওয়াসীত (المعجم الوسيط) অনুযায়ী:
المالك: صاحب الشيء المتصرف فيه
অর্থ: “মালিক হলো সে ব্যক্তি, যে কোনো বস্তুর অধিকারী এবং তাতে হস্তক্ষেপ/ব্যবহার করার ক্ষমতাসম্পন্ন।”
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়:
মালিক হলো সেই ব্যক্তি, যার উপর কোনো সম্পদের বৈধ মালিকানা (Milk) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যে শরীয়তসম্মতভাবে তা ভোগ, ব্যবহার ও হস্তান্তর করতে পারে।
ফিকহবিদদের ভাষায়:
الملك: اختصاص يثبت لشخص على شيء يقتضي تمكنه من الانتفاع به والتصرف فيه شرعًا
অর্থ: “মালিকানা হলো এমন একটি বিশেষ অধিকার, যা কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যা তাকে শরীয়তসম্মতভাবে তা থেকে উপকার গ্রহণ ও তাতে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেয়।”
সংক্ষেপে:
মালিক বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়,
✔️ যার কোনো সম্পদের উপর বৈধ অধিকার আছে
✔️ যে শরীয়ত অনুযায়ী তা ব্যবহার ও হস্তান্তর করতে পারে
শ্রমিক কারা
শ্রমিক শব্দের অর্থ হলো—যে ব্যক্তি নিজের শ্রম বা কর্মশক্তি প্রদান করে জীবিকা অর্জন করে।
১️⃣ বাংলা একাডেমি অভিধান অনুযায়ী
শ্রমিক: যে ব্যক্তি মজুরি বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শারীরিক বা মানসিক শ্রম দেয়।
২️⃣ ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় (أجير)
ইসলামী শরীয়তে শ্রমিককে বলা হয় “আজীর (أجير)”।
ফিকহবিদদের সংজ্ঞা:
الأجير: من يعمل لغيره بعوض معلوم
অর্থ: “আজীর হলো সে ব্যক্তি, যে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জন্য কাজ করে।”
৩️⃣ আধুনিক আইনগত সংজ্ঞা (শ্রম আইন অনুযায়ী)
শ্রমিক হলো সেই ব্যক্তি—
✔️ যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অধীনে কাজ করে
✔️ নির্দিষ্ট মজুরি বা বেতন গ্রহণ করে
✔️ নিয়োগকর্তার অধীনে শ্রম প্রদান করে
সংক্ষেপে
শ্রমিক হলো সেই ব্যক্তি, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জন্য কাজ করে—তা শারীরিক হোক বা মানসিক।
-নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের কাজ করে প্রমের মূল্য গ্রহণ করা ঘৃণার কাজ নয়।
-আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ও শ্রমিকের কাজ করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো- কোন প্রকারের উপার্জন উত্তম ও পরিত্র? তিনি বললেন, কোনো ব্যাক্তির নিজ প্রমের উপার্জন এবং সৎব্যবসালব্ধ মুনাফা। (বায়হাকি)
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার
১। ইসলাম অধীনস্থ লোকদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَبِالْوَالِدَني إِحْسَانًا ويذى القربى واليتى والمسكني والجار فى الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِب بالجانب وَالِي السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
অর্থ। আর তোমরা শিয়া-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকিনদের সাথে ভালো আচরণ কর এবং নিকট প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধীনস্থ যেসব দাস-দাসী (শ্রমিক) রয়েছে তাদের প্রতিও সদয় হও (সুরা আন-নিসা, আয়াত ৩৬)।
হযরত আনাস (রা.) বলেন, "আমি দশ বছর যাবত রাসুলুল্লাহ (স.)-এর খেদমত করেছি। তিনি আমার সম্পর্কে কখনো ইহা এক বানি, এটা করেনি কেন। এটা করেছ কেন ? আমার বহুকাজ তিনি নির হাতে করে দিয়েন' (বুখারি)।
হয়রত উমর (রা) আমিরুল মুমিনিন ছিলেন। জেরুজালেম সফরে উটের পিঠে চমড়া ও উট টেনে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি সাম্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উটের পিঠে চড়া ও উটের রশি টানার বিষয়ে নিজের ও ভূতোর মায়ে পলাতম ঠিক করে নিয়েছিলেন যদিও পরিতের এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরলইবাদত
২। শ্রমিককে ক্ষমা করে দিতে হবে
বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে কতবার ক্ষমা করা যেতে পারে? হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছিলেন-
كُلَّ يَوْمٍ سَبْعِينَ
অর্থ: দৈনিক সত্তর বার (তিরমিযি)।
৩। সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ দেয়া
মনিবের উচিত তার শ্রমিকের শক্তি ও সামর্থ্য বিচার করে তাকে কাজ দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-
وَلَا يُكَلِّفُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا يُطِيقُ
অর্থ। আর তাকে (শ্রমিককে) তার সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে কোনো কাজ দেওয়া যাবে না (মুসলিম)।
৪। বৈষম্য করা যাবে না
খাওয়া পরা থেকে আরম্ভ করে সকল কাজে মালিক-শ্রমিকের মাঝে কোনো বৈষম্য ইসলাম অনুমোদন করে না।
শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "তারা (যারা তোমাদের কাজ করে) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সে (মালিক) যা খার তার অধীনস্থদেরও যেন তা খাওয়ায়। সে (মালিক) যা পরে তাদেরকে যেন তা পরতে দেয়। আর তাকে এমন কর্মভার দেবে না যা তার ক্ষমতার বাইরে। এমন কাজ (ক্ষমতার বাইরের) হলে তাকে (শ্রমিককে) যেন সাহায্য করে।” (বুখারি ও মুসলিম)
৫। পারিশ্রমিক দিয়ে দিতে হবে
খুব দ্রুত শ্রমিকের পারিশ্রমিক আদায়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-
أعطوا الْأَجِيمُ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ تَجِلَ عَرَفَهُ
অর্থ। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও (ইবনু মাজাহ)।
৬। পারিশ্রমিক বিলম্বে দেয়া যাবে না
পারিশ্রমিক দিতে অকারণে বিলম্ব করা সমীচীন নয়। শ্রমিক যাতে তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায় সে ব্যাপারে হাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'মজুরের পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ করো না। একইভাবে প্রমিককেও তার মালিকের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার ব্যাপারে ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, 'গোলাম (শ্রমিক) যখন তার মালিকের কাজ সুচারুরূপে করে এবং সুষ্ঠুভাবে আল্লাহর ইবাদত করে তখন সে দ্বিগুণ প্রতিদান পায়।” (বুখারি ও মুসলিম)
৭। ন্যায্য মজুরি পাওয়ার অধিকার
শ্রমিক তার কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার রাখে।
মানুষের জন্য তাই আছে, যা সে চেষ্টা করে।” — (সূরা আন-নাজম ৫৩:৩৯)
৮। চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারণের অধিকার
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” — (সূরা মায়িদা ৫:১)
অতএব, কাজ শুরুর আগে মজুরি নির্ধারণ করা ও তা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
৯। কাজের মর্যাদা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার
“নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সে-ই অধিক সম্মানিত, যে অধিক পরহেজগার।” — (সূরা হুজুরাত ৪৯:১৩)
ইসলামে পেশাভেদে মানুষের মর্যাদা কমে না।
১০। সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে না দেওয়ার অধিকার
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” — (সূরা বাকারা ২:২৮৬)
১১। মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন। তোমরা যা খাও, তাদেরকেও তা খাওয়াও; যা পর, তাদেরকেও তা পরাও। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে। যদি দাও, তবে তাদের সাহায্য কর।” — (সহীহ বুখারি, মুসলিম)
১২। অন্যায় আচরণ থেকে নিরাপত্তার অধিকার
আর তোমরা মানুষের হক কমিয়ে দিও না।” — (সূরা আরাফ ৭:৮৫)
১৩। বিশ্রাম ও মানবিক পরিবেশ পাওয়ার অধিকার
ইসলাম কষ্টদায়ক ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ করেছে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।” — (সূরা নাহল ১৬:৯০)
১৪। কাজের স্পষ্টতা জানার অধিকার
হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি কাউকে কাজে নিয়োগ করবে, সে যেন তার মজুরি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে।” — (বাইহাকি)
মালিকের অধিকার
ইসলামে মালিকের অধিকারসমূহ
১. কাজ গ্রহণের অধিকার
মালিক যে কাজের জন্য শ্রমিককে নিয়োগ দিয়েছেন, সেই নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে আদায় করার অধিকার রাখেন।
📖 “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” — (সূরা মায়িদা ৫:১)
২. চুক্তি অনুযায়ী কাজ দাবি করার অধিকার
চুক্তিতে নির্ধারিত সময়, দায়িত্ব ও শর্ত অনুযায়ী কাজ আদায় করার অধিকার মালিকের আছে।
৩. কাজে আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততা পাওয়ার অধিকার
শ্রমিক কাজের ক্ষেত্রে আমানতদার ও সৎ থাকবে—এটি মালিকের অধিকার।
📖 “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানত যথাস্থানে আদায় করার নির্দেশ দেন।” — (সূরা নিসা ৪:৫৮)
৪. কাজে অবহেলা হলে জবাবদিহিতা চাওয়ার অধিকার
শ্রমিক দায়িত্বে গাফিলতি করলে মালিক জবাবদিহিতা চাইতে পারেন।
৫. কর্মস্থলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার অধিকার
প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন মানার দাবি করার অধিকার মালিকের রয়েছে, যদি তা শরীয়তবিরোধী না হয়।
৬. ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার
শ্রমিক ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করলে মালিক শরীয়তসম্মতভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
৭. গোপনীয়তা রক্ষা পাওয়ার অধিকার
প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য ফাঁস না করার অধিকার মালিকের রয়েছে।
৮. ন্যায়সঙ্গত তদারকি করার অধিকার
মালিক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ইসলামে মালিকের অধিকার থাকলেও তা ন্যায়, ইনসাফ ও দয়া-র ভিত্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।
📖 “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।” — (সূরা নাহল ১৬:৯০)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের অধীনস্থদেরকে তোমরা সেই খাবার খাওয়াও যা তোমরা নিজেরা খাও এবং সেই পোশাক পরাও যা তোমরা নিজেরা পর।” — (সহীহ বুখারি)
মালিক ম্রমিক সম্পর্ক
ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হবে পিতা-সন্তানের মতো। নিজের পরম আত্মীয়ের মতোই শ্রমিকের সঙ্গে আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের আপ্যায়ন করা, শ্রমিকের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি মালিকের খেয়াল রাখা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শ্রমিককে তার প্রাপ্য পূর্ণভাবে যথাসময়ে প্রদান করাও মালিকের একটি প্রধান দায়িত্ব।
কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তাদের মধ্যে একজন হলো—যে শ্রমিকের কাছ থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার পূর্ণ মজুরি প্রদান করে না। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৮৪)
শ্রমিকের কর্তব্য
অন্যদিকে একজন শ্রমিকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, চুক্তি মোতাবেক মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে সম্পাদন করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ওই শ্রমিককে ভালোবাসেন যে সুন্দরভাবে কার্য সমাধা করে। ’
(সহিহুল জামে, হাদিস : ১৮৯১)
সৎ শ্রমিকের জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যেই সত্তার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ তাঁর কসম! যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, হজ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকত, তাহলে আমি শ্রমিক হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতাম। ’
রাসূল (সা.) বলেছেন,
তিন শ্রেণির লোককে দ্বিগুণ সওয়াব প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো—ওই শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক আদায় করে এবং আল্লাহর হকও আদায় করে। ’
(মেশকাত, হাদিস : ১১)
মু. নাজিম উদ্দীন
সহকারী শিক্ষক - চুনতি মেহেরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
১৩
১৮ মন্তব্য