সহকারী অধ্যাপক
০২ মার্চ, ২০২৬ ০৩:২১ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
সাধারণভাবে, কোনো দেশের সম্পদের তুলনায় যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে সেই দেশটির মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকেই কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়।
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ স্যার আলেকজান্ডার কার-সন্ডার্স (Sir Alexander Carr-Saunders) এই তত্ত্বের আধুনিক রূপকার। তাঁর মতে, কাম্য জনসংখ্যা হলো সেই জনসংখ্যা, যা একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কারিগরি জ্ঞানকে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করে।
১. সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়: কাম্য জনসংখ্যার মূল লক্ষ্যই হলো দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ করা।
২. সম্পদ ও জনসংখ্যার ভারসাম্য: দেশের মোট প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মোট জনসংখ্যার মধ্যে একটি আদর্শ ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. পরিবর্তনশীলতা: কাম্য জনসংখ্যা স্থির কোনো সংখ্যা নয়। দেশের প্রযুক্তির উন্নতি বা নতুন সম্পদ আবিষ্কৃত হলে কাম্য জনসংখ্যার স্তরও পরিবর্তিত হতে পারে।
অধ্যাপক ডাল্টন একটি গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে কাম্য জনসংখ্যা থেকে বিচ্যুতির পরিমাপ দেখিয়েছেন:
যেখানে,
$M$ = অসামঞ্জস্যের পরিমাণ (Degree of Maladjustment)
$A$ = প্রকৃত জনসংখ্যা (Actual Population)
$O$ = কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population)
ফলাফল বিশ্লেষণ:
যদি $M$ এর মান ধনাত্মক (+) হয়, তবে দেশটিতে জনধিক্য (Over-population) বিদ্যমান।
যদি $M$ এর মান ঋণাত্মক (-) হয়, তবে দেশটি অল্প জনসংখ্যা (Under-population) সমস্যায় ভুগছে।
যদি $M = 0$ হয়, তবে দেশটিতে কাম্য জনসংখ্যা বিরাজ করছে।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব যেখানে কেবল খাদ্য উৎপাদন ও জনসংখ্যার বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়, সেখানে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব দেশের জীবনযাত্রার মান এবং মাথাপিছু আয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এটি একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি।
একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাম্য জনসংখ্যা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত জনসংখ্যা যেমন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তেমনি প্রয়োজনের চেয়ে কম জনসংখ্যা দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহারে বাধা দেয়। শিক্ষক হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।
৭১
১৪৫ মন্তব্য