Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী (Basic আলোচনা)

ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী (Basic আলোচনা): 

Part-1:


১. একটি নির্দিষ্ট দিনে আপনার প্রস্তুতকৃত নগদান বইয়ের ব্যাংক কলাম এবং ব্যাংক প্রস্তুতকৃত পাশ বইয়ের Balance বা উদ্বৃত্তের মধ্যে হিসাবের গরমিল হলেও হতে পারে, না হলে ভাল। আর যদি গরমিল হয়ে যায় সেই গরমিল সমাধানের জন্য ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুত করা হয়।


আচ্ছা এই গরমিল কীভাবে হয়?


ক. আপনি যখন ৫০,০০০ টাকা ব্যংকে জমা রাখেন তখন আপনি এই লেনদেন নগদান বইতে কীভাবে লিপিবদ্ধ করেন?


Answer: এটি একটি contra entry । তা ভুলে যান। এই লেনদেন আপনার নগদান বইয়ের ডেবিট দিকের ব্যাংক ঘরে লিখতে হয়। তা আপনার জন্য সম্পদ এবং এটি আপনার জন্য  ডেবিট ব্যলেন্স। তখন আপনি এইভাবে বলবেন যে , ব্যাংক হিসাবে ৫০০০০ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। তাই নগদান বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার ব্যলেন্স ডেবিট।


তাহলে উপরের লেনদেনের জন্য ব্যাংকের বইয়ে কী প্রভাব হবে। মানে আপনার জন্য ব্যাংক যে বই প্রস্তুত করে তাকে পাশ বই বা ব্যাংক বই বলে। আপনি যদি ব্যাংকে ৫০,০০০ টাকা জমা দেন , তাহলে ব্যাংক আপনার টাকা জমা রাখার দায়িত্ব নিল। ব্যাংকে যে জমা টাকা আছে সেটা আপনার জন্য সম্পদ। কিন্তু এটি কী ব্যাংকের জন্য সম্পদ? না। আমানতকারী বা আপনার জমানো অর্থ ব্যাংকের নিকট দায়। এটি ব্যাংকের জন্য ক্রেডিট ব্যলেন্স। কেননা, গ্রাহক বা আমানতকারী চাহিবামাত্র ব্যাংক সেই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য। আপনি টাকা ব্যংকে জমা করলে যেমন বলেন ব্যাংক জমা হিসাবে ৫০,০০০ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। ঠিক তখনই অপরপাশ হতে ব্যাংক বলবে আমানতকারীর হিসেবে ৫০,০০০ টাকা ক্রেডিট করা হয়েছে। তাই পাশ বই বা ব্যাংক বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত ক্রেডিট ব্যলেন্স।


আরেকটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাই, 

আপনার তো উপরে ৫০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এখন আপনি আপনার কর্মচারীকে বেতন বাবদ ১০,০০০ টাকার চেক প্রদান করলেন। আপনি যখন চেক প্রদান করলেন তখনই আপনি ধরে নিলেন যে আপনার ব্যাংক জমা আর ৫০,০০০ টাকা নেই। এখন আছে ( ৫০,০০০-১০,০০০)=৪০,০০০ টাকা। কেননা, বেতন বাবদ চেক প্রদানের জন্য আপনার ১০,০০০ টাকা ক্রেডিট করা হয়েছে। যা আপনার ব্যাংক জমা নামক সম্পদ কমেছে। তাহলে এই লেনদেনের জন্য ব্যাংকের কী হবে?  আপনি আপনার কর্মচারীকে যে ১০,০০০ টাকার চেক দিলেন সেই চেক সাথে নিয়ে কর্মচারী ব্যাংকে গেল এবং জমা দিল। ব্যাংক চেক পেয়ে  কর্মচারীকে ১০,০০০ টাকা ক্যাশ দিয়ে দিল। ব্যাংক কিন্তু নিজের পকেটের ১০,০০০ টাকা কর্মচারীকে দেয়নি। যেহেতু চেকটি আপনার দেয়া তাই ব্যাংক আপনার জমা টাকা হতে ১০,০০০ টাকা কর্মচারীকে দিবে। আপনি যখন ব্যাংকে ৫০,০০০ টাকা জমা রেখেছিলেন তখন ব্যাংক আপনার জমাকে ৫০,০০০ টাকা ক্রেডিট করেছিল। এই টাকা ব্যাংকের জন্য দায়। এখন বলেন তো দায় কখন ডেবিট হয়? সবাই  বলবেন দায়তো কমলে ডেবিট হয়। আপনার নিকট ব্যাংক এখন আর ৫০,০০০ টাকা দায়বদ্ধ নেই। আপনার প্রদান করা চেক পেয়ে ব্যাংক আপনার কর্মচারীকে আপনার Account হতে ১০,০০০ টাকা দিয়েছে। এখন আপনার নিকট ব্যাংকের দায় আছে অবশিষ্ট ৪০,০০০ টাকা। তার মানে এই চেকে বেতন প্রদান আপনার জন্য ক্রেডিট হলেও তা ব্যাংকের জন্য ডেবিট। কারণ এটি ব্যাংকের দায় কমিয়েছে আমানতকারী বা আপনার নিকট। আর আমীনতকারী বা আপনার কমেছে সম্পদ বা ব্যাংক জমার পরিমান।


এতক্ষণ আমি আপনাদের এটাই বুঝানোর চেষ্টা করেছি….. আমানতকারী বা আপনার নগদান বইয়ের বিপরীত হলো ব্যাংক। ঠিক একই ভাবে ব্যাংকের পাশ বইয়ের বিপরীত হলো আমানতকারীর বই বা নগদান বই।


মানে যেটি আপনার নগদান বইয়ের ডেবিট করা হবে সেটি ব্যাংকের পাশ বইয়ে ক্রেডিট করা হবে।


ঠিক যে লেনদেন ব্যাংকের পাশ বইয়ে ক্রেডিট করা হবে তা আপনার বা আমানতকারীর নগদান বইয়ে ডেবিট করা হবে।


তাহলে গরমিলটা লাগে কীভাবে?

আমি সবার উপরে একটি কথা লিখেছি যে ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রস্তুত করা হয়। এখন আরেকটি কথা বলব …. গরমিল সমাধানের জন্য ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুত করে আমানতকারী বা আপনি। ব্যাংক কখনো ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুত করে না।


ধরুন, আপনি প্রতি মাসের শেষে ব্যাংক বইয়ের সাথে আপনার প্রস্তুতকৃত নগদান বইয়ের ব্যাংক কলামের মিল আছে কী না তা খতিয়ে দেখেন।


ধরে নিন ব্যাংকে আপনার ৫০০০০ টাকা জমা আছে। এক পাওনাদার আপনি যার নিকট হতে পূর্বে ধারে পন্য ক্রয় করেছিলেন। ২০০০০ টাকা। এখন আপনি জুন ২৮ তারিখে তার দেনা বাবদ ২০০০০ টাকার একটি চেক প্রদান করলেন। চেক প্রদান করা মাত্রই আপনি ধরে নিবেন যে এখন হয়তো আমার acccont এ আর ৫০০০০ টাকা নেই। আমার পাওনাদার তো ব্যাংকে গিয়ে আমার account থেকে ২০০০০ টাকা তুলে নিবে। তার মানে এখন আমার ব্যালেন্স আছে (৫০০০০-২০০০০০)=৩০০০০ টাকা। এটা। আপনি কেন আমি এবং পৃথিবীর সবলোকই এরকম ভাববে। এখন দেখি আসল ঘটনা কী হলো?আপনিতো পাওনাদারকে চেক দিলেন ২৮ শে জুন। দেখা গেল পাওনাদার আপনার নিকট থেকে পাওয়া চেক জুন মাসে জমা দেয়নি । হতে পারে সে ব্যস্ত বা অসুস্হ। আর পাওনাদার যদি ব্যাংকের নিকট চেক ইস্যু না করে তাহলে ব্যাংক টাকা কাকে প্রদান করবে? এখানে তো আপনি আপনার নগদান বইয়ের ব্যাংক কলামের balance ৫০০০০ থেকে কমিয়ে ৩০০০০ টাকা করে বসে আছেন। অপরদিকে আপনার পাওনাদার চেক নিয়ে ব্যাংকে উপস্থাপন না করায় ব্যাংক আপনার জমানো balance হ্রাস করে নাই বা ডেবিট করে নাই। আপনার balance ব্যাংকের নিকট এখনও ৫০০০০ টাকাই আছে। 

আর এমতঅবস্হায় আপনি যখন জুন মাসের শেষে আপনার নগদান বইয়ের ব্যাংক কলামের সাথে ব্যাংক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পায় বইয়ের balance চেক করতে বা মিলাতে যাবেন তখন আপনি দেখবেন যে আপনার acccont এ টাকা কম (৩০০০০)এবং ব্যাংকের acccont টাকা বেশি দেখাচ্ছে (৫০০০০)।


ভুল কী আপনি করছেন নাকি ব্যাংক?

ভুল কেউ করেনি।তারপরও নানাবিধ কারনে ভুল হয়ে থাকে। তাই ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুতের প্রয়োজন পরে।


গরমিলের আরেকটি কারন দেখি…..

ধরুন আপনার ব্যাংক হিসাবে ৫০০০০ টাকা জমা আছে। ব্যাংক আমাদের হয়ে বিভিন্ন সেবা দেয় এজন্য ব্যাংক প্রতিমাসের শেষে চার্জ কাটে। আর এই চার্জ ব্যাংক কখনো নগদে কাটেনা। আপনার জমানো টাকা থেকেই ব্যাংক টাকা কেটে নিবে।জুন মাসের শেষে ব্যাংক আপনাকে সেবা প্রদান বাবদ ৫০০  টাকা চার্জ কেটে আপনার হিসাবে ৫০০ টাকা ডেবিট করেছে।এখন ব্যাংকে আপনার আছে (৫০০০০০-৫০০)=৪৯৫০০ টাকা। কিন্তু আপনি তো এই খবর জানেন না। আপনি জানেন যে আপনার account এ এখনো ৫০০০০ টাকা আছে। কিন্তু পৃথিবীর কোন ব্যাংক আপনাকে ফোন করে জানিয়ে চার্জ কাটবেনা। তাই এ কারনে দুজনের হিসাবের মধ্যে গরমিল হবে। 

এখন আধুনিক বিশ্ব। অনলাইন banking সিস্টেম চালু। তাই ব্যাংক এখন চার্জ কাটলে আপনার মোবাইলে sms চলে আসে। তবে এখনো কিছু ব্যাংক আছে যেখানে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্হা চালু নেই।


ব্যাংক যে রকম চার্জ কাটে ঠিক তেমনিভাবে ব্যাংক প্রতিমাসে আমাদের সুদ দিয়ে থাকে। তবে ব্যাংক আমার বাসায় এসে আমাকে নগদে সুদ দিবে না। আমার account এ plus করে দিবে। মানে interest বাবদ আমার account এ ব্যাংক টাকা ক্রেডিট করবে। কিন্তু আপনি তা জানেন না। তাই গরমিল হবে।


প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে থাকে। আপনার একজন দেনাদার। যার নিকট হতে আপনি টাকা পান। সে আপনার থেকে অনেক দূরে অবস্হান করে। তাই আপনাকে নগদে টাকা পরিশোধ করা সম্ভব না।ঐ দেনাদার আপনাকে না জানিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা করে দিবে।তখন আপনার ব্যাংক জমার পরিমান বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আপনি জানেন না। অথচ ব্যাংক এই দিকে আপনার ব্যাংক হিসাবে টাকা ক্রেডিট করে বসে আছে।তাই গরমিল হবে।


Note: 

আমানতকারী= যে ব্যাংকে টাকা জমা রাখে বা আপনি। আমানতকারী বা গ্রাহক একই কথা।


পাশ বই বা ব্যাংক বই= যে বই ব্যাংক আমানতকারী বা গ্রহকের জন্য মানে আপনার জন্য প্রস্তুত করে থাকে।


নগদান বই= যেটি আমানতকারী বা আপনি প্রস্তুত করেন।


নগদান বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত ( ডেবিট )


পাশ বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত ( ক্রেডিট)


নগদান বই অনুযায়ী ব্যাংকজমাতিরিক্ত ( ক্রেডিট)


পাশ বই অনুযায়ী ব্যাংকজমাতিরিক্ত ( ডেবিট)


ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুত করা হয় হিসাববিজ্ঞানের পূর্ণপ্রকাশ নীতি অনুযায়ী।


ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী হিসাববিজ্ঞানের কোন বাধ্যতামূলক ধাপ নয়। এটি একটি ঐচ্ছিক ধাপ।


ব্যাংক সমন্বয় বিবরনীর উদ্বৃত্ত পরবর্তীতে Balance sheet এর সম্পদ বা দায় পাসে লিখা হয়। ডেবিট উদ্বৃত্ত হলে সম্পদ পাশে আর ক্রেডিট উদ্বৃত্ত হলে দায় পাশে।


প্রকৃত ব্যাংক উদ্বৃত্ত নির্নয় করা ব্যাংক সমন্বয় বিবরনীর উদ্দেশ্য।


আপনার হিসাবে ব্যাংক  টাকা ক্রেডিট করা মানে আপনার সম্পদ বৃদ্ধি হওয়া মানে ব্যাংকে আপনার জমা টাকার পরিমান বৃদ্ধি হওয়া বোঝায়।( কিন্তু এখানে ব্যাংকের দায় বৃদ্ধি পায়)


আপনার হিসাবে ব্যাংক টাকা ডেবিট করা মানে আপনার সম্পদ হ্রাস পাওয়া মানে ব্যাংকে আপনার জমা টাকার পরিমান হ্রাস পায়।( কিন্তু এখানে ব্যাংকের দায় হ্রাস পায়।)


আমরা জানি যে, নগদান বইয়ের দুটি মুখ্য কলাম হলো নগদ আর ব্যাংক । ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী করার সময় কখনো নগদান বইয়ের নগদ কলাম নিয়ে ভাববেন না। ভাববেন নগদান বইয়ের ব্যাংক কলাম নিয়ে। ব্যাংক সমন্বয় বিবরনী প্রস্তুত করা হয় নগদান বইয়ের ব্যাংক কলমের সাথে ব্যাংক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পাশ বইয়ের মাঝে গরমিলের জন্য।

মন্তব্য করুন

ব্লগ