Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

হিসাবভুক্ত ও ধার্যকৃত কী?

হিসাবভুক্ত কী?

ধার্যকৃত কী?


অবচয় হিসাবভুক্ত করা হয় মিলকরন নীতি অনুযায়ী।


অবচয় ধার্য করা হয় চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা অনুযায়ী।


অবচয় হিসাবভুক্ত আর ধার্যকৃত এর মধ্যে পার্থক্য কী ? 


মিলকরণ নীতির মূলকথা হলো যে, প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট বছরে যে আয় করবে তার বিপরীতে ঐ নির্দিষ্ট বছরের সকল খরচ ও হিসাবভুক্ত করতে হবে বা লিপিবদ্ধ করতে হবে বা খরচের খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।


ধরুন একটি নির্দিষ্ট বছর ২০২২ । ২০২২ সালে একটি কোম্পানি অবশ্যই কিছু আয় করবে। এবং ঐ আয় করতে কোম্পানিকে অবশ্যই ২০২২ সালে কিছু খরচ ও করতে হয়েছে। ২০২২ সালের আয়ের বিপরীতে খরচকে ও লিপিবদ্ধ করতে হবে বা হিসাবভুক্ত করতে হবে। 


যদি প্রতিষ্ঠান ভুলক্রমে ২০২২ সালের আয়ের পাশে ২০২১ বা ২০২৩ সালের খরচ হিসাবভুক্ত করে , তখন সেটি মিলকরণ নীতির লঙ্গন হবে। ২০২২ এর আয় এর সাথে কেবল ২০২২ এর খরচ রেকর্ড করলে মিলকরণ নীতি কাজ করবে।


Example: প্রতিষ্ঠান ৫,০০,০০০ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক মেশিন ক্রয় করেছে পণ্য উৎপাদনের জন্য। মেশিনটির আনুমানিক আয়ুস্কাল নির্ধারন করা হয়েছে ৫ বছর। 


এখন প্রতিষ্ঠান ঐ মেশিন দিয়ে প্রথম বছর অনেক পণ্য উৎপাদন করল । তারপর ঐ পণ্য বিক্রি করে অনেক আয় ও করল।


এই যে প্রতিষ্ঠান আয় করল , এর পিছনে কী কোন খরচ নেই । অবশ্যই অনেক খরচ হয়েছে এর পিছনে। অনেক গুলো খরচের পিছনে অন্যতম খরচটি হলো মেশিনের অবচয়। 


প্রথম বছরের বিক্রয় আয়ের বিপরীতে মেশিন ক্রয় এর মূল্য ৫,০০,০০০ লিখা যাবে না। এমনটি করলে মিলকরণ নীতির লঙ্গন হবে। মেশিনটি আয়ুস্কাল ৫ বছর হওয়ার কারনে , মেশিনটি দিয়ে কিন্তু প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ৪ বছর পণ্য উৎপাদন করবে । তারমানে পরবর্তী ৪ বছর ও প্রতিষ্ঠান প্রথম বছরের ন্যায় পণ্য বিক্রয় বাবদ আয় করবে। 


তাহলে আমরা কোন লজিকে আমরা প্রথম বছরের বিক্রয়ের বিপরীতে খরচ হিসেবে মেশিনের সম্পূর্ণ মূল্য বাবদ ৫,০০,০০০ টাকা চার্জ করব? তাই আমাদের প্রথম বছরের বিক্রয় আয়ের বিপরীতে মেশিনের মূল্য কে তার আয়ুস্কাল দিয়ে ভাগ দিয়ে (৫,০০,০০০/৫)=১,০০,০০০ টাকা প্রথম বছরের খরচ হিসেবে হিসাবভুক্ত করতে হবে। এই ১,০০,০০০ টাকা খরচের সুন্দর নাম বা Accounting term হলো অবচয়( depreciation)


আর এই ১,০০,০০০ টাকা খরচ বাবদ মেশিনের অবচয় শিরোনামে বিশদ আয় বিবরনীতে পরিচালন ব্যয়ের অধীনে চার্জ করা বা লেখাকে অবচয়ের হিসাবভুক্তি বলা হয়।


চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণার মূলকথা হলো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যখন শুরু করা হয় তখন সেটি ধরে নেওয়া হয় যে , প্রতিষ্ঠানটি বা ব্যবসায়টি লাভজনকভাবে অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত চলবে। 


কেন লাভজনকভাবে ? 

যদি প্রতিষ্ঠান লাভ না করে তাহলে তো আর অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত Run করা সম্ভব নয়।


এসব ধরণা বা নীতিমালা হলো হিসাববিজ্ঞানের সূত্র। এসব ধারণা বা নীতিসমূহ অনুসরণ করেই হিসাববিজ্ঞান করতে হয়।


চলমান প্রতিষ্ঠান ধরণা অনুযায়ী যেহেতু প্রতিষ্ঠান অদূর ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে , তাই একটি প্রতিষ্ঠান যখন শুরু করা হয় তখন প্রতিষ্ঠানকে একটি concept বা ধারণা মাথায় নিয়ে চলতে হয় যে যদি ৫ বছর বা ১০ বছর পর যদি আমরা আমাদের স্হায়ী সম্পদের মূল্য জানতে চাই তাহলে কীভাবে জানব? কী করলে এটা possible?


আর তখনই প্রতিষ্ঠানের অবচয় এর concept বা অবচয় ধার্যের কথা মাথায় আসে। যদি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর স্হায়ী সম্পদের উপর অবচয় ধার্য করে তাহলে যে কোন সময়ের পুজ্ঞীভুত অবচয় বের করে যে কোন সময় স্হায়ী সম্পত্তির বইমূল্য বা পুস্তক মূল্য নির্ধারন করা যাবে । 


এখন ভাল করে বোঝেন ….. যদি প্রতিষ্ঠানটি going concern বা চলমান না হতো তখন কী আদৌ অবচয় ধার্যের প্রয়োজন হতো? আর একটি প্রতিষ্ঠানকে তখনই চলমান বুঝায় না যখন সেটি ১২ মাসের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। মানে ভবিষৎতে আর প্রতিষ্ঠান Run করছে না। 


প্রতিষ্ঠান ১ বছরের আগে বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের আর সম্পত্তির বইমূল্য নির্ণয় করার প্রয়োজন নেই। কেননা তখন পুরাতন সম্পত্তি বিক্রি করে নতুন সম্পত্তি ক্রয় বা replacement এর কোন প্রয়োজন নেই। কারণ আমার প্রতিষ্ঠানই তো বন্ধ বা (liquidate) হয়ে যাচ্ছে।


তার মানে আমরা এতটুকু ক্লিয়ার বুঝতে পারছি যে ,যদি  প্রতিষ্ঠান going concern বা চলমান হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই অবচয় ধার্যের প্রয়োজন আছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ