Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস

প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৩২৬ - ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ) ছিল মূলত বিভিন্ন জনপদ, যেমন—পুণ্ড্রবর্ধন, বঙ্গ, সমতট, রাঢ় ও গৌড়ের উত্থান-পতন। মগধ ও মৌর্য শাসনের পর, সপ্তম শতাব্দীতে শশাঙ্ক বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা হিসেবে গৌড় প্রতিষ্ঠা করেন।
এরপর চার শতাব্দীব্যাপী পাল বংশের বৌদ্ধ শাসন এবং শেষে সেন বংশের হিন্দু শাসন ছিল উল্লেখযোগ্য। 
প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পর্যায়সমূহ:
প্রাক-ঐতিহাসিক ও জনপদ যুগ: খ্রিষ্টপূর্ব দেড় হাজার বছর আগে অজয় নদের তীরে জনবসতি গড়ে ওঠে। প্রাচীন বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল, যার মধ্যে পুণ্ড্র (উত্তরবঙ্গ) প্রাচীনতম।
মৌর্য ও গুপ্ত যুগ (৩য় খ্রি.পূ - ৬ষ্ঠ খ্রিষ্টাব্দ): মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় উত্তরবঙ্গ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে বাংলা একটি প্রাদেশিক শাসনে ছিল।
শশাঙ্ক ও গৌড় রাজ্য (৬০৬-৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ): শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি কর্ণসুবর্ণকে (মুর্শিদাবাদ) রাজধানী করে সমগ্র বাংলাকে একটি কেন্দ্রীয় শাসনে আনেন।
মাৎস্যন্যায় (শশাঙ্ক পরবর্তী সময়): শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা 'মাৎস্যন্যায়' (৭ম-৮ম শতাব্দী) নামে পরিচিত।
পাল বংশ (৭৫০-১১২০ খ্রিষ্টাব্দ): গোপাল (৭৫০-৭৭০ খ্রি.) নির্বাচনের মাধ্যমে পাল রাজবংশের সূচনা করেন, যা বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। ধর্মপাল ও দেবপাল বাংলা ও বিহার জুড়ে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। তারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
সেন বংশ (১২শ শতাব্দী): পালদের পতনের পর সেন বংশের শাসকরা (সামন্ত সেন, বিজয় সেন) বাংলা শাসন করেন। তারা দক্ষিণ থেকে এসে বাংলায় হিন্দুধর্ম ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটান।
তুর্কি বিজয় (১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ): ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজির অভিযানের মাধ্যমে লক্ষণ সেনের শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক যুগের সমাপ্তি ঘটে, যা বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করে। 
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বতন্ত্র রাজ্যের উত্থান, বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ এবং কৃষিভিত্তিক সভ্যতার এক সংমিশ্রণ। 

মন্তব্য করুন