Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘা শাহী মসজিদের ইতিহাস

বাঘা শাহী মসজিদ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ (আলাউদ্দিন হুসেন শাহের পুত্র) নির্মাণ করেছিলেন। এটি সুলতানি আমলের স্থাপত্য ও চমৎকার টেরাকোটার কাজের জন্য বিখ্যাত। মাজার, সুদৃশ্য গম্বুজ ও দিঘি পরিবেষ্টিত এই মসজিদটি ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো, যা পুরোনো ৫০ টাকার নোটে চিত্রিত রয়েছে।

 

১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে (৯৩০ হিজরি) সুলতান নুসরাত শাহ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় এটি অবস্থিত। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এবং এর উপরে ১০টি গম্বুজ রয়েছে। এর চার কোণায় রয়েছে চারটি বিশাল অক্টাগোনাল বা অষ্টভুজাকৃতির টাওয়ার। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে পোড়ামাটির অপূর্ব নকশা করা হয়েছে, যেখানে গোলাপ ফুল, আম ও লতাপাতার মোটিফ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে গম্বুজগুলো ভেঙে পড়লে পরবর্তীতে তা পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা। বাঘা মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি সংরক্ষিত প্রাচীন স্থাপত্য।

 

মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। সমভুমি থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে। উত্তর পাশের ফটকের ওপরের স্তম্ভ ও কারুকাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। মসজিদটিতে ১০টি গম্বুজ আছে । আর ভেতরে রয়েছে ৬টি স্তম্ভ। মসজিদটিতে ৪টি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য খচিত। দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট এবং প্রস্থ ৪২ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেয়াল চওড়া ৮ ফুট। গম্বুজের ব্যাস ৪২ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট। চৌচালা গম্বুজের ব্যাস ২০ ফুট উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। মাঝখানের দরজার ওপর ফার্সি ভাষায় লেখা একটি শিলালিপি রয়েছে। মসজিদটির গাঁথুনি চুন-সুরকি দিয়ে। ভেতরে এবং বাইরের দেয়ালে মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে। বাঘা মসজিদের দৈর্ঘ্য ২২.৯২ মিটার,দেয়াল ২.২২ মিটার পুরু। মসজিদটিতে ৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে।

মসজিদের ভিতরে-বাইরে সবর্ত্রই টেরাকোটার নকশা বর্তমান। মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল দিঘী। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহর পুত্র নাসিরউদ্দীন নুসরত শাহ জনকল্যাণার্থে মসজিদের সামনেই একটি দিঘী খনন করেন। শাহী মসজিদ সংলগ্ন এ দিঘিটি ৫২ বিঘা জমির ওপর রয়েছে। এই দিঘির চারপাশে রয়েছে সারিবদ্ধ নারিকেল গাছ। প্রতিবছর শীতের সময় এ দিঘিতে অসংখ্য অতিথি পাখির কলতানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বর্তমানে দিঘিটির চারটি বাঁধানো পাড় নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এ মসজিদ সংলগ্ন জহর খাকী পীরের মাজার রয়েছে। মূল মাজারের উত্তর পাশে রয়েছে তার কবর। এছাড়া মসজিদ সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মহল পুকুর আবিষ্কৃত হয়।

১৯৯৭ সালে মাজারের পশ্চিম পাশে খনন কাজের ফলে ৩০ ফুট বাই ২০ ফুট আয়তনের একটি বাঁধানো মহল পুকুরের সন্ধান মেলেছে। এই পুকুরটি একটি সুড়ঙ্গপথ দিয়ে অন্দরমহলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিন দিক থেকে বাঁধানো সিঁড়ির ভেতরে নেমে গেছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে প্রচুর পোড়ামাটির ফলক। মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে একটু উঁচুতে নির্মিত একটি বিশেষ নামাজের কক্ষ আছে। এ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে প্রায় মাস ব্যাপী 'বাঘার মেলা'র আয়োজন করা হয়। মসজিদটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো, মেলাটিও ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। মসজিদের পাশে দিঘীও একটি দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর শিক্ষা সফর ও দর্শনীয় স্থান ঘুরতে আসে অসংখ্য মানুষ।

মন্তব্য করুন