সহকারী শিক্ষক
০৬ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল
জাতীয় পাখি দোয়েল
বাংলাদেশের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল। দেশের প্রায় সব জায়গায় দোয়েল পাখি দেখা যায়। এরা মানুষ-বসতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় ফসলের ক্ষেত এবং নদী বা জলাশয় আছে। অন্য সব পাখির মতো দোয়েল পাখিও সুন্দর। এর গায়ের রং কালো বা ধূসর এবং পেটের দিকটা সাদা।
দোয়েল ছোট আকারের পাখি। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি। ওজন ৩০ থেকে ৮০ গ্রাম। চোখের রং কালো। লেজ বেশ লম্বা। বেশিরভাগ সময় লেজ উঁচু করে থাকে। দোয়েল পাখি গাছের কোটরে ও ঝোপঝাড়ে বাসা বানায়। বেশিরভাগ সময় এদের জোড়ায় থাকতে দেখা যায়।
এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে স্ত্রী দোয়েল ডিম পাড়ে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং হালকা নীলচে সবুজ। তার উপর বাদামি ছোপ থাকে। পুরুষ দোয়েল বাসা পাহারা দেয়। স্ত্রী দোয়েল ডিমে তা দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। দোয়েল পাখি ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এরা সাধারণত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ায়। তখন লেজের দোলা নাচায়।
নানা রকম সুরে ডাকাডাকির জন্য দোয়েল সুপরিচিত। অস্থির এই পাখিরা সর্বদা গাছের ডালে বা মাটিতে লাফিয়ে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। কীট -পতঙ্গ, ছোট ছোট শুঁও পোকা এদের প্রধান খাদ্য। কখনো কখনো সন্ধ্যার আগে আগে এরা খাবারের খোঁজে বের হয়। পুরুষ দোয়েল স্ত্রী দোয়েলকে আকৃষ্ট করার জন্য মিষ্টি সুরে ডাকাডাকি করে। তবে স্ত্রী দোয়েলও পুরুষ দোয়েলের উপস্থিতিতে ডাকতে পারে।
প্রয়োজন না হলে দোয়েল এক নাগাড়ে বেশি দূর উড়ে না। মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য খোঁজে। ধান কিংবা ভাত খাবার জন্য এ পাখি গৃহস্থের গোলাঘর, কিংবা রান্না ঘরেও ঢুকে পড়ে। শীতের সময় দোয়েল পাখি দেখা যায় না বললেই চলে। এর কারন হচ্ছে এরা শীতের সময় গান গায় না, যার কারণে এই সময় এদের আমাদের নজরে পড়ে না।
দোয়েল খুব ভোরে কিংবা বিকেলবেলায় মিষ্টি সুরে গান গায়। এদের মিষ্টি মোলায়েম সুর মানুষকে আনন্দিত করে। আমাদের আশপাশের অনেক দেশে দোয়েল পাখি আছে।
শহরে যে ধরনের আলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলো মানুষ ও পাখি, উভয়ের শরীরের পক্ষেই ক্ষতিকর। অপরদিকে এই পাখিদের ওয়েটল্যান্ড ও নদী তীরবর্তী বাসস্থানের দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণেও দোয়েল পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক পদার্থ অতিরিক্ত নির্গমন বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে দোয়েলের সংখ্যা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দেশী ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দোয়েল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের লেখাতে এই পাখির উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের মুদ্রা দুই টাকার সরকারি নোটে এই পাখির ছবি বহুল ব্যবহৃত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জোড়া দোয়েলের ভাস্কর্য রয়েছে। এটি দোয়েল চত্বর নামে পরিচিত।
৫
৫ মন্তব্য