প্রভাষক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৪০ অপরাহ্ণ
রেওয়ামিল কী? (What is a Trial Balance?)
১. রেওয়ামিল কী? (What is a Trial Balance?)
†iIqvwg‡ji Bs‡iwR cÖwZkã n‡jv Trial Balance | Trial Gi A_© n‡jv cixÿv Kiv| Balance kãwUi A_© n‡jv `ycvjøv wewkó gvchš¿| LwZqv‡bi †Rimg~‡ni ZvwjKv wb‡q wnmv‡ei MvwYwZK ï×Zv hvPvB Kivi Rb¨ †h weeiYx cÖ¯‘Z Kiv nq Zv‡K †iIqvwgj e‡j| রেওয়ামিল হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে প্রস্তুতকৃত একটি বিবরণী বা তালিকা, যেখানে খতিয়ানে লিপিবদ্ধ সকল হিসাবের ডেবিট ও ক্রেডিট জেরগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়। রেওয়ামিল হলো হিসাবচক্রের একটি ধাপ, যা সাধারণত খতিয়ান প্রস্তুতের পর এবং চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুতের পূর্বে তৈরি করা হয়।
স্বভাব: এটি কোনো হিসাব (Account) নয়, বরং এটি ডেবিট ও ক্রেডিট জেরগুলোর একটি তালিকা।
উদ্দেশ্য: এই তালিকা প্রস্তুতের মূল উদ্দেশ্য হলো খতিয়ান হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা। দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতি (Double-Entry System) অনুযায়ী, সকল ডেবিটের মোট পরিমাণ সকল ক্রেডিটের মোট পরিমাণের সমান হবে। রেওয়ামিলের উভয় পার্শ্ব (ডেবিট ও ক্রেডিট) মিলে গেলে ধরে নেওয়া হয় যে, হিসাবের গাণিতিক দিকটি শুদ্ধ আছে।
২. কেন তৈরি করা হয় (উদ্দেশ্য)?
গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই (Main Objective): এটি রেওয়ামিল প্রস্তুতের প্রধান উদ্দেশ্য। রেওয়ামিলের ডেবিট ও ক্রেডিট যোগফল সমান হলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, জাবেদা ও খতিয়ানে ডেবিট-ক্রেডিট পক্ষ সমান অঙ্কে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
ভুল-ত্রুটি সহজে নির্ণয়: রেওয়ামিল প্রস্তুত করার মাধ্যমে কিছু করণিক ভুল (যেমন— খতিয়ানে পোস্টিংয়ে ভুলের পার্থক্য, যোগফলের ভুল) সহজেই ধরা পড়ে এবং তা সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ: রেওয়ামিলের উভয় দিক মিলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানে দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত হিসাব/আর্থিক বিবরণী প্রণয়নে সহায়তা: রেওয়ামিল হলো আর্থিক বিবরণী (যেমন— আয় বিবরণী, আর্থিক অবস্থার বিবরণী) তৈরির একটি ভিত্তি। রেওয়ামিল থেকে সকল হিসাবের জেরগুলো সরাসরি আর্থিক বিবরণীতে স্থানান্তর করা যায়, ফলে চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুতের কাজটি অনেক সহজ হয়।
হিসাবসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ: জাবেদা ও খতিয়ানে ছড়িয়ে থাকা হিসাবগুলোকে রেওয়ামিলের মাধ্যমে একটিমাত্র স্থানে সংক্ষিপ্ত আকারে পাওয়া যায়।
কখন তৈরি করা হয়?
এটি একটি নির্দিষ্ট তারিখের জন্য তৈরি করা হয়, যেমন: হিসাবকালের শেষ দিনে (৩১ ডিসেম্বর বা ৩০ জুন)।
অনেক প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং বা ভুল সংশোধনের জন্য ষাণ্মাসিক (ছয় মাস পর), ত্রৈমাসিক (তিন মাস পর) বা মাসিক ভিত্তিতেও রেওয়ামিল প্রস্তুত করতে পারে।
৩. কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা হয়?
যে সকল প্রতিষ্ঠানে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি (Double-Entry System) অনুসরণ করে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়, সেখানেই রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান: একমালিকানা, অংশীদারি ও কোম্পানি ব্যবসায় (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ সকল প্রকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান)।
অ-মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান (ঐচ্ছিক): যদিও তাদের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, তবুও হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য তারাও রেওয়ামিল তৈরি করতে পারে।
মোটকথা, যে কোনো আর্থিক লেনদেনযুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে রেওয়ামিল প্রস্তুত করতে পারে।
৩
৩ মন্তব্য