Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২০ অপরাহ্ণ

রিজিকের তারতম্যে স্রষ্টার হিকমত

একজন মুসলিমের দৃঢ় বিশ্বাস যে রিজিক একমাত্র আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই বান্দাদের মধ্যে রিজিকের তারতম্য নির্ধারণ করেছেন। রিজিক বণ্টনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর গভীর হিকমত ও নিখুঁত পরিকল্পনা আছে। তিনি কাউকে ধনী করেছেন, কাউকে দরিদ্র করেছেন, যাতে মানুষের পারস্পরিক প্রয়োজন পূরণ হয় এবং সমাজের ভারসাম্য বজায় থাকে।আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা তার জন্য রিজিক প্রশস্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন। (সুরা : শুরা, আয়াত : ১২)

অতএব, রিজিকের পার্থক্য কোনো অবিচার নয়, বরং এটি আল্লাহর মহান প্রজ্ঞা ও পরীক্ষারই অংশ।

প্রথম হিকমত : যদি মানুষের রিজিক ও জীবনযাত্রার অবস্থা সম্পূর্ণ সমান হতো অর্থাৎ সবাই ধনী, সচ্ছল ও সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন যাপন করত, তাহলে পৃথিবীর জীবনব্যবস্থা ঠিকভাবে চলত না।সমাজের স্বাভাবিক গতি থেমে যেত। কারণ মানুষের প্রয়োজন ও পেশার বৈচিত্র্যই সমাজকে সচল রাখে। যদি সবাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যেত, তবে আমাদের আবর্জনা পরিষ্কার করার কেউ থাকত না, পোশাক সেলাই করার কেউ থাকত না, শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক পাওয়া যেত না কিংবা সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যও কাউকে পাওয়া যেত না।

দ্বিতীয় হিকমত : মানুষের মধ্যে রিজিকের পার্থক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেনকে কৃতজ্ঞ আর কে অকৃতজ্ঞ। তিনি ধনীদের সম্পদ দান করেন তাদের পরীক্ষা করার জন্যতারা কি এই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে? তারা কি তাদের সম্পদ থেকে দান-সদকা করবে, অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করবে, নাকি তারা এই নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে, অপচয় করবে এবং দরিদ্রদের অধিকার ভুলে যাবে?

অন্যদিকে, আল্লাহ কখনো কখনো তাঁর কিছু বান্দার রিজিক সংকুচিত করেন, যাতে দেখা যায় তারা দারিদ্র্যের মধ্যেও ধৈর্য ধারণ করে কি না। তারা কি আল্লাহর অন্য নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকবে, নাকি অভাব তাদেরকে চুরি, ডাকাতি বা অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেবে? এ বিষয়টি নবী করিম (সা.) এভাবে বলেছেন, মুমিনের বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর। তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর, আর এই বৈশিষ্ট্য মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়। যদি তার কাছে সুখকর কিছু আসে, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, এতে তার জন্য কল্যাণ হয়।আর যদি তার ওপর কোনো কষ্ট আসে, সে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

তৃতীয় হিকমত : অনেক মানুষ এমন আছে, যদি আল্লাহ তাদের জন্য বিপুল রিজিক উন্মুক্ত করে দেন, তবে তারা পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করবে, অহংকারী হয়ে উঠবে। তাই কখনো কখনো তাদের জন্য রিজিক সীমিত করাই তাদের জন্য কল্যাণকর হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রিজিক অবারিত করে দিতেন, তবে তারা অবশ্যই পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘন করত। কিন্তু তিনি যাকে যতটুকু ইচ্ছা নির্ধারিত পরিমাণে তা অবতীর্ণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা।

(সুরা : শুরা,  আয়াত : ২৭)

আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের অন্তরের অবস্থা সবচেয়ে ভালো জানেন। কিন্তু অনেক মানুষ এই সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। তারা মনে করে, ধন-সম্পদ পাওয়া মানেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মর্যাদার নিদর্শন আর দারিদ্র্য মানেই আল্লাহর অপমান বা অসন্তুষ্টির চিহ্ন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে এই ভুল ধারণা স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের অবস্থা এই যে যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করার জন্য সম্মান ও নিয়ামত দান করেন, তখন সে বলে, আমার প্রভু আমাকে সম্মানিত করেছেন। আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করার জন্য তার রিজিক সীমিত করে দেন, তখন সে বলে, আমার প্রভু আমাকে অপমানিত করেছেন। (সুরা : ফজর, আয়াত : ১৫-১৬)

অতএব, ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মানদণ্ড নয়। আল্লাহর কাছে প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের আমাদের নিকটবর্তী করতে পারে না; শুধু তারাই নিকটবর্তী হতে পারে, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে।

(সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৭)

মন্তব্য করুন