Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ

বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জন্য "প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬" প্রকাশ করেছে । এই নীতিমালাটি ২০২৫ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এর আগের সকল নীতিমালা প্রতিস্থাপন করেছে । নিচে এই নীতিমালার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।


✍️ পরীক্ষার যোগ্যতা ও অংশগ্রহণ


· শ্রেণি: শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে ।

· পূর্বশর্ত: চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন) -এর ফলাফলের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হবে। প্রতি শ্রেণি থেকে সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে ।

· বিদ্যালয়ের বাধ্যবাধকতা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকেও নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেমে সক্রিয় থাকতে হবে ।


📚 পরীক্ষার বিষয় ও মানবণ্টন


২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট । বিষয় ও নম্বর বণ্টন নিচের ছকে দেখানো হলো:


বিষয় মোট নম্বর সময়

বাংলা ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

ইংরেজি ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

প্রাথমিক গণিত ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত) ১০০ (৫০+৫০) ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

মোট ৪০০ 


উল্লেখ্য: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটি সময় পাবেন । বৃত্তি পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে ।


🏆 বৃত্তির ধরন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া


· বৃত্তির ধরন: শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে: ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ ।

· লিঙ্গ কোটা: উভয় ক্ষেত্রেই মোট বৃত্তির ৫০% ছাত্র এবং ৫০% ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ।

· বিদ্যালয় কোটা: মোট বৃত্তির ৮০% পাবেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বাকি ২০% পাবেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ।

· নির্বাচন পদ্ধতি:

  · ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: উপজেলা বা থানা ভিত্তিতে মেধা ক্রমানুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে ।

  · সাধারণ বৃত্তি: সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট ধরা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫টি করে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে, যার মধ্যে ২ জন ছাত্র, ২ জন ছাত্রী এবং ১ জন মেধা কোটায় (ছেলে/মেয়ে) বৃত্তি পাবে ।


⚙️ প্রশাসনিক কাঠামো ও অন্যান্য তথ্য


· পরীক্ষা পরিচালনা: পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং সভাপতি থাকবেন সচিব । জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাক্রমে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কমিটির নেতৃত্ব দেবেন ।

· অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা অবহেলার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে ।

· অর্থায়ন: পরীক্ষা ফি জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি নির্ধারণ করবে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেবে ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ