সিনিয়র শিক্ষক
১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৬ অপরাহ্ণ
ঈদের আগে ফিতরার তাৎপর্য ও নববী নির্দেশনা
রমজানের সমাপ্তি যখন ঘনিয়ে আসে, তখন একজন মুমিনের সামনে দুটি বিষয় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিজের ইবাদতের পরিশুদ্ধি এবং সমাজের অভাবী মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন। ইসলাম এই দুই উদ্দেশ্যকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে, যা ঈদের আনন্দকে ব্যক্তিগত পরিসর থেকে বের করে সামষ্টিক কল্যাণে রূপান্তরিত করে। এ প্রেক্ষিতেই ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস আমাদের সামনে আসে—
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ .
ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন- অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (রমাজানের) সওমকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) সালাতের পূর্বে তা আদায় করে সেটা কবুল সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করে, তা সাধারন দান হিসেবে গৃহীত হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)
এই হাদিসটি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, সদকাতুল ফিতর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দান নয়; এটি রোজার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি অপরিহার্য উপায়। মানুষ রমজানে চেষ্টা করলেও অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভুল, অপ্রয়োজনীয় কথা বা আচরণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারে না। সদকাতুল ফিতর সেই ঘাটতিকে পূরণ করে রোজাকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে এটি সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য ঈদের দিনটিকে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করে তোলে।
হাদিসের শেষাংশে সময়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঈদের নামাজের আগে আদায় করলে তা কবুল সদকা, আর পরে দিলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হয়। এখান থেকে স্পষ্ট হয়, ইসলামে শুধু কাজ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক সময় ও প্রক্রিয়ায় তা সম্পাদন করাই আসল বিষয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব হলো, ঈদের আগেই যথাসময়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করে নিজের ইবাদতকে শুদ্ধ করা এবং সমাজের অভাবীদের মুখে হাসি ফোটানো। তখনই ঈদের আনন্দ সত্যিকার অর্থে পূর্ণতা পায়।
৩
৩ মন্তব্য