সহকারী শিক্ষক
২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
EMP হলো এক প্রচণ্ড শক্তিশালী বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গের ঝাপটা। এটি কোনো মানুষকে সরাসরি মারে না, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গ্রিডকে এক নিমেষে পুড়িয়ে বা অকেজো করে দিতে পারে।
এই প্রযুক্তি এক ধাক্কায় একটা দেশকে আদিম যুগে পাঠিয়ে দিতে পারে।
আধুনিক সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে সেমিকন্ডাক্টর এবং মাইক্রোচিপের ওপর।
একটি শক্তিশালী EMP অ্যাটাক হলে:
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: ট্রান্সফরমারগুলো পুড়ে গিয়ে পুরো দেশ অন্ধকার হয়ে যাবে।
যোগাযোগ: মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, এমনকি স্যাটেলাইট রিসিভারগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেবে।
পরিবহন: আধুনিক গাড়ি, বিমান বা ট্রেনের কন্ট্রোল সিস্টেম অকেজো হয়ে যাবে।
ব্যাংকিং ও খাদ্য: এটিএম থেকে টাকা আসবে না, সুপারশপে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়বে।
ফলাফল—মানুষ বেঁচে থাকবে ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আধুনিক প্রযুক্তি তাদের হাতে থাকবে না।
বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক হামলার পাশাপাশি এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কানাঘুষা করছেন।
সম্ভবত এই প্রযুক্তিই এআই এর সাথে ইন্টিগ্রেট করে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে অপহরণের সময় ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এখন বলেন কোনটা ঘটতে পারে?
১. যুক্তরাষ্ট্র মেরিন সেনা পাঠিয়ে EMP ব্যবহার করে ইরানের ইউরেনিয়াম তুলে নিয়ে যাবে?
২. আমেরিকা ইসরায়েল এক পর্যায়ে ইরানি মিসাইল আক্রমণ মোকাবেলা করে ক্লান্ত হয়ে ইরানে EMP এ্যাটাক করে বসবে?
৩. ইরানের বিদ্যুৎখাতে হামলা হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে EMP এটাক করে অন্ধ বানিয়ে দেবে?
উল্লেখ্য,ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের বিদ্যুৎখাতে আক্রমণ হলে আমরা আধাঘন্টায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে অন্ধকার করে দেব।
সেটা বাস্তব করতে হলে EMP এটাক করতে হবে।
এবং এই প্রযুক্তি চীনের হাত ঘুরে তাদের হাতে যাওয়া বিচিত্র কিছু না। আবার এখানে আয়াতুল্লাহ খামেনির নিউক্লিয়ার নিষিদ্ধের ফতোয়াও ঠিক থাকছে।
মানুষের ক্ষতি হবেনা, তবে প্রযুক্তি ধ্বংস করে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ঠিকই হবে।
৬৪
১০০ মন্তব্য