প্রভাষক
২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৮:১২ পূর্বাহ্ণ
স্বাধীনতার সোনালী সূর্য উদয়
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘ শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র বিপ্লব। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন ও বৈষম্যের প্রতিবাদে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।
নিচে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সোনালী সূর্য উদয়ের ইতিহাসের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. প্রেক্ষাপট ও স্বাধিকার আন্দোলন
বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এরপর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে সংকট ঘনীভূত হয়।
২. অসহযোগ আন্দোলন
স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা, যা পুরো জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে।
৩. অপারেশন সার্চলাইট ও স্বাধীনতার ঘোষণা
২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গণহত্যা শুরু করে। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
৪. নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
মুক্তিবাহিনী: ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। তারা গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাজেহাল করে তোলে।
যৌথ বাহিনী: ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি সহায়তায় যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়।
৫. চূড়ান্ত বিজয়
অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী তাঁর ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের।
৫৩
৯২ মন্তব্য