প্রভাষক
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ণ
কোন সময়ে কতক্ষণ ঘুমানো ভালো
সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের পরিমাণ এবং সময় দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. বয়সভেদে ঘুমের আদর্শ সময় (Duration)
শরীরের বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের জন্য বয়স অনুযায়ী ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হয়। National Sleep Foundation এবং Mayo Clinic এর তথ্যমতে:
প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৬৪ বছর): প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা।
কিশোর-কিশোরী (১৪-১৭ বছর): প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।
শিশু (৬-১৩ বছর): প্রতিদিন ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা।
নবজাতক (০-৩ মাস): প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা (বিরতিসহ)।
২. ঘুমানোর সেরা সময় (Best Timing)
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মান কেবল কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন তার ওপর নয়, বরং কখন ঘুমাচ্ছেন তার ওপরও নির্ভর করে।
রাত ১০টা থেকে ১১টা: গবেষণামতে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm): মানুষের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি আছে যা সূর্যালোকের সাথে চলে। অন্ধকার হওয়ার পর মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোন নিঃসরণ শুরু হয় যা গভীর ঘুমের জন্য সহায়ক। তাই রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া এবং ভোরে সূর্য ওঠার সাথে সাথে জেগে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।
৩. পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব ও কম ঘুমের ক্ষতি
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে রিচার্জ করতে এবং মস্তিষ্ককে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব হলে নিচের সমস্যাগুলো হতে পারে:
শারীরিক সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা (Obesity) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মানসিক সমস্যা: খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া।
মস্তিষ্কের সক্ষমতা: স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
৪. গভীর ও ভালো ঘুমের কিছু টিপস (Sleep Hygiene)
ঘুমের মান বাড়াতে Mayo Clinic এবং Sleep Foundation কিছু পরামর্শ দিয়েছে:
নিয়মিত রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন (ছুটির দিনেও)।
ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির নীল আলো থেকে দূরে থাকুন।
পরিবেশ: শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন।
খাবার ও পানীয়: ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার, ক্যাফেইন (চা/কফি) বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
৫৩
৯১ মন্তব্য