সহকারী শিক্ষক
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কম্পিউটার কেসিং কি? পিসি কেসিং ফ্যান কেন দরকার? বিস্তারিত
আমি প্রতিদিন কম্পিউটার নিয়ে কাজ করি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেকেই পিসি বিল্ড করতে গিয়ে কেসিং আর কেসিং ফ্যানকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই দুটো জিনিস আপনার পুরো কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘস্থায়ী করে।
আপনি যদি নতুন পিসি বানাতে চান, বা পুরনো পিসি আপগ্রেড করতে চান, তাহলে কেসিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। এই লেখায় আমি সহজ ভাষায় সব বুঝিয়ে দেব।
আরও জানতে পারেন: কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ: সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ গাইড
কম্পিউটার কেসিং কি?
কম্পিউটার কেসিং হলো একটি বাক্সের মতো কাঠামো, যার ভেতরে কম্পিউটারের সমস্ত যন্ত্রাংশ থাকে। মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই সব কিছু এই কেসিংয়ের ভেতরে সাজানো থাকে।
সহজ কথায়, কেসিং হলো আপনার কম্পিউটারের "বাড়ি"। যেভাবে একটি বাড়ি মানুষকে ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি কেসিং আপনার দামি হার্ডওয়্যারকে ধুলা, আঘাত আর বাইরের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
কেসিংকে অনেকে "CPU" বলেও ডাকেন, যদিও এটা সঠিক না। CPU আসলে প্রসেসরের নাম। তবে সাধারণ মানুষের কাছে পুরো কম্পিউটার বাক্সটাকেই CPU বলার চল আছে।
কম্পিউটার কেসিংয়ের মূল উপাদান কি কি?
একটি ভালো কেসিংয়ে কি কি থাকে সেটা জানলে বেছে নেওয়া সহজ হয়।
ফ্রেম বা কাঠামো: কেসিংয়ের মূল শরীর। বেশিরভাগ কেসিং স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। স্টিল সস্তা কিন্তু ভারী। অ্যালুমিনিয়াম হালকা এবং দেখতে সুন্দর কিন্তু দাম একটু বেশি।
সাইড প্যানেল: কেসিংয়ের পাশের দরজা। আজকাল অনেক কেসিংয়ে Tempered Glass (টেম্পার্ড গ্লাস) প্যানেল থাকে, যাতে ভেতরের RGB আলো দেখা যায়।
ফ্যান মাউন্ট: কেসিংয়ে যেসব জায়গায় ফ্যান লাগানো যায়। সামনে, পেছনে, উপরে, নিচে বিভিন্ন জায়গায় ফ্যান মাউন্ট থাকতে পারে।
ড্রাইভ বে: হার্ডডিস্ক বা SSD রাখার জায়গা। ৩.৫ ইঞ্চি ও ২.৫ ইঞ্চি বে আলাদা থাকে।
ফ্রন্ট প্যানেল পোর্ট: USB, অডিও জ্যাক যেগুলো কেসিংয়ের সামনে থাকে, সহজে ব্যবহারের জন্য।
পাওয়ার বাটন ও LED: চালু-বন্ধের বোতাম এবং কম্পিউটার চলছে কিনা দেখানোর আলো।
আরও বিস্তারিত জানুন: মাদারবোর্ড কি? কত প্রকার এবং এর ব্যবহার কি কি
কম্পিউটার কেসিং কত প্রকার?
কেসিং মূলত সাইজ অনুযায়ী ভাগ করা হয়। কোন সাইজ আপনার জন্য সঠিক সেটা নির্ভর করে আপনি কি কি পার্টস ব্যবহার করবেন তার উপর।
ফুল টাওয়ার (Full Tower)
এটি সবচেয়ে বড় কেসিং। গেমিং পিসি বা হাই-পারফরম্যান্স ওয়ার্কস্টেশনের জন্য আদর্শ। এর ভেতরে অনেক জায়গা থাকে, তাই বড় গ্রাফিক্স কার্ড, একাধিক হার্ডডিস্ক এবং বড় কুলিং সিস্টেম সহজেই রাখা যায়। বাংলাদেশে এর দাম সাধারণত ৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হয়।
মিড টাওয়ার (Mid Tower)
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কেসিং। ATX মাদারবোর্ড সাপোর্ট করে। সাইজ আর ফিচারের মধ্যে ভালো ব্যালেন্স আছে এটায়। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে গেমার পর্যন্ত সবার জন্য এটি উপযুক্ত। দাম ২,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে।
মিনি টাওয়ার / Micro-ATX কেসিং
মিড টাওয়ারের চেয়ে ছোট। বাজেট পিসির জন্য ভালো। Micro-ATX মাদারবোর্ড সাপোর্ট করে। দাম ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা।
Mini-ITX / SFF কেসিং
সবচেয়ে ছোট কেসিং। যাদের জায়গা কম, বা যারা ছোট কিন্তু শক্তিশালী পিসি চান তাদের জন্য। তবে এতে কুলিং ব্যবস্থা একটু সীমিত থাকে।
| কেসিং প্রকার | মাদারবোর্ড সাপোর্ট | বাংলাদেশ মূল্য |
|---|---|---|
| Full Tower | E-ATX, ATX, mATX, ITX | ৪,০০০+ টাকা |
| Mid Tower | ATX, mATX, ITX | ২,০০০-৮,০০০ টাকা |
| Mini Tower | mATX, ITX | ১,৫০০-৪,০০০ টাকা |
| Mini-ITX/SFF | ITX | ২,৫০০-৬,০০০ টাকা |
বাংলাদেশে জনপ্রিয় কেসিং ব্র্যান্ড
বাংলাদেশের বাজারে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের কেসিং পাওয়া যায়।
Mercury: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড। দাম কম, মান মোটামুটি ভালো। অফিস পিসি আর সাধারণ ব্যবহারের জন্য পারফেক্ট। দাম শুরু ১,২০০ টাকা থেকে।
Gigabyte: মিড-রেঞ্জ থেকে হাই-এন্ড কেসিং পাওয়া যায়। দেখতে সুন্দর, বিল্ড কোয়ালিটি ভালো।
Corsair: প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। গেমিং পিসির জন্য অনেক পছন্দের। টেম্পার্ড গ্লাস, RGB সহ বিভিন্ন মডেল আছে।
NZXT, Lian Li, Cooler Master: এগুলো মিড থেকে হাই-এন্ড রেঞ্জের কেসিং। পিসি বিল্ডারদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়।
Thermaltake: বাজেট থেকে প্রিমিয়াম সব রেঞ্জে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে কেসিং কিনতে চাইলে PCB Store-এ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেসিং দেখতে পারেন, দামও তুলনা করতে পারবেন সহজে।
বাংলাদেশে কম্পিউটার কেসিংয়ের দাম (এপ্রিল ২০২৬)
শুধু ফ্যান না, কেসিংয়ের দামও জানা দরকার। কেসিং কেনার আগে নিজের বাজেট আর দরকার বুঝে নিন। বাংলাদেশের বাজারে এখন তিনটি মূল রেঞ্জে কেসিং পাওয়া যাচ্ছে।
আপনি চাইলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের আপডেটেড প্রাইস দেখতে পারেন 👉 কম্পিউটার কেসিং এর দাম এই পেজে।
বাজেট বা এন্ট্রি লেভেল (৯৫০ থেকে ২,৫০০ টাকা)
NJ, OVO বা Value-Top এর মতো ব্র্যান্ডের কেসিং এই রেঞ্জে পাওয়া যায়। সাধারণ অফিস কাজ, পড়াশোনা বা নেট ব্রাউজিংয়ের পিসির জন্য এটাই যথেষ্ট। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, OVO R-1701 Mini Tower পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১,১০০ টাকায়।
এই রেঞ্জের কেসিংয়ে সাধারণত ফ্যান থাকে না, আলাদা কিনতে হয়। তবে দাম কম হওয়ায় বাজেটের মধ্যে ভালো কম্পিউটার বানানো সম্ভব হয়।
মিড-রেঞ্জ গেমিং (৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা)
Monarch, Antec বা DeepCool ব্র্যান্ডের কেসিং এই রেঞ্জে আছে। এগুলোতে সামনে Mesh প্যানেল থাকে, ফলে এয়ারফ্লো অনেক ভালো। অনেক মডেলে RGB ফ্যান আগে থেকেই লাগানো থাকে। Monarch Mystery Box X5 White পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩,১০০ টাকায়, যেটা দাম বিবেচনায় বেশ ভালো একটি অপশন।
হালকা গেমিং বা মাল্টিমিডিয়া কাজের পিসির জন্য এই রেঞ্জই সবচেয়ে বেশি সুপারিশ করি।
প্রিমিয়াম গেমিং (৮,০০০ থেকে ২০,০০০+ টাকা)
Corsair, Lian Li, NZXT বা ASUS এর কেসিং এই রেঞ্জে পড়ে। টেম্পার্ড গ্লাস সাইড প্যানেল, প্রি-ইনস্টল RGB ফ্যান, চমৎকার কেবল ম্যানেজমেন্ট সব মিলিয়ে এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, পারফরম্যান্সেও তেমনি ভালো।
যারা হাই-এন্ড গেমিং পিসি বানাচ্ছেন বা কম্পিউটারকে শোপিস হিসেবেও রাখতে চান, তাদের জন্য এই রেঞ্জ।
| কেসিং রেঞ্জ | ব্র্যান্ড উদাহরণ | দাম (টাকা) | উপযুক্ত ব্যবহার |
|---|---|---|---|
| এন্ট্রি লেভেল | NJ, OVO, Value-Top | ৯৫০ থেকে ২,৫০০ | অফিস, পড়াশোনা |
| মিড-রেঞ্জ | Monarch, Antec, DeepCool | ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ | গেমিং, মাল্টিমিডিয়া |
| প্রিমিয়াম | Corsair, Lian Li, NZXT | ৮,০০০ থেকে ২০,০০০+ | হাই-এন্ড গেমিং |
কম্পিউটারের অন্যান্য পার্টস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন: SSD কি? এসএসডি এর প্রকারভেদ, কেন এসএসডি ব্যবহার করবেন? এবং র্যাম (RAM) কি? র্যামের প্রকারভেদ এবং কিভাবে কাজ করে?
কেসিং কেনার সময় কি কি দেখবেন?
শুধু দাম দেখলেই হবে না, কিছু বিষয় মাথায় রাখুন।
মাদারবোর্ড কম্প্যাটিবিলিটি: আপনার মাদারবোর্ড ATX নাকি mATX সেটা দেখে কেসিং বেছে নিন। মাদারবোর্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
মেশ ফ্রন্ট প্যানেল: কেসিংয়ের সামনে জালি (Mesh) থাকলে বায়ু চলাচল অনেক ভালো হয়। পিসি ঠান্ডা থাকে।
ফ্যান মাউন্টের সংখ্যা: কেসিংয়ে কয়টি জায়গায় ফ্যান লাগানো যাবে সেটা দেখুন।
কেবল ম্যানেজমেন্ট: পেছনের দিকে কেবল লুকানোর জায়গা আছে কিনা দেখুন।
PSU সাপোর্ট: আপনার পাওয়ার সাপ্লাই কেসিংয়ে ঠিকমতো ঢুকবে কিনা নিশ্চিত করুন। পাওয়ার সাপ্লাই সম্পর্কে বিস্তারিত
কম্পিউটার কেসিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকে ভাবেন, "যেকোনো বাক্সে তো পার্টস রাখলেই হয়"। কিন্তু আসলে কেসিং শুধু বাক্স নয়, এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
হার্ডওয়্যার সুরক্ষা: ধুলা, পোকামাকড়, আর আকস্মিক আঘাত থেকে ভেতরের যন্ত্রাংশ রক্ষা করে। একটি ভালো কেসিং ছাড়া মাদারবোর্ড বা গ্রাফিক্স কার্ড সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এয়ারফ্লো ও কুলিং: কেসিংয়ের ডিজাইন নির্ধারণ করে বায়ু কীভাবে ভেতরে আসবে এবং গরম বায়ু কীভাবে বের হবে। এটি সরাসরি কম্পিউটারের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে।
কম্পোনেন্ট সংগঠন: সব পার্টস একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। এতে কেবল ম্যানেজমেন্ট সহজ হয় এবং পরবর্তীতে আপগ্রেড করতে সুবিধা হয়।
নান্দনিকতা: টেম্পার্ড গ্লাস প্যানেল, RGB লাইটিং সহ আধুনিক কেসিং দেখতে চমৎকার।
জানুন: পাওয়ার সাপ্লাই বা PSU কি এবং এর কাজ কি?
পিসি কেসিং ফ্যান কেন দরকার?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনেকে মনে করেন, প্রসেসরের সাথে যে কুলার ফ্যান দেওয়া থাকে সেটাই যথেষ্ট। কিন্তু আসলে তা নয়।
আপনার কম্পিউটার চালু থাকলে ভেতরের প্রতিটি যন্ত্রাংশ গরম হয়। প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র্যাম, মাদারবোর্ড সব কিছু থেকে তাপ বের হয়। এই তাপ যদি কেসিংয়ের ভেতরে আটকে থাকে, তাহলে পিসির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
জানুন: সিপিউ কুলার কি? কিভাবে কাজ করে এবং কেন দরকার?
অতিরিক্ত গরম হলে কম্পিউটারের কি হয়?
কম্পিউটার বেশি গরম হলে প্রথমে "Thermal Throttling" শুরু হয়। মানে প্রসেসর নিজেকে রক্ষা করতে গতি কমিয়ে ফেলে। তখন পিসি হঠাৎ স্লো হয়ে যায়, গেম ল্যাগ করে, ভিডিও এডিটিং আটকে যায়।
এরপরও যদি তাপমাত্রা না কমে, পিসি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় নিজেকে বাঁচাতে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চললে মাদারবোর্ড বা গ্রাফিক্স কার্ড স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সাধারণত একটি ভালো পিসিতে CPU তাপমাত্রা ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা উচিত। GPU ৮০ থেকে ৮৫ ডিগ্রির বেশি গেলে সমস্যা শুরু হয়।
কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারণ ও সমাধান জানতে পড়ুন: কম্পিউটার স্লো হলে কী করবেন – ১০টি সহজ সমাধান
এয়ারফ্লো কীভাবে কাজ করে?
কেসিং ফ্যানের মূল কাজ হলো কেসিংয়ের ভেতরে ঠান্ডা বায়ু ঢোকানো এবং গরম বায়ু বের করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়াকে এয়ারফ্লো বলে।
ইনটেক ফ্যান (Intake): কেসিংয়ের সামনে বা নিচে লাগানো হয়। বাইরের ঠান্ডা বায়ু ভেতরে টেনে আনে।
এক্সহস্ট ফ্যান (Exhaust): কেসিংয়ের পেছনে বা উপরে লাগানো হয়। গরম বায়ু বাইরে বের করে দেয়।
সহজ নিয়ম হলো সামনে বেশি ফ্যান দিয়ে বায়ু ঢোকান, পেছনে কম ফ্যান দিয়ে বের করুন। এতে কেসিংয়ের ভেতরে Positive Pressure তৈরি হয়, ধুলা কম ঢোকে এবং পিসি ঠান্ডা থাকে।
কেসিং ফ্যানের প্রকারভেদ ও সাইজ
সাইজ অনুযায়ী ফ্যানের পার্থক্য
৮০ মিমি ফ্যান: ছোট, বেশি শব্দ করে, এয়ারফ্লো কম। পুরনো কেসিংয়ে দেখা যায়।
১২০ মিমি ফ্যান: সবচেয়ে কমন এবং জনপ্রিয়। Mini-ITX বা Micro-ATX কেসিংয়ের জন্য আদর্শ। কম শব্দে ভালো বায়ু চলাচল করে।
১৪০ মিমি ফ্যান: ১২০ মিমির চেয়ে একটু বড়, আরও বেশি বায়ু সরাতে পারে এবং কম শব্দ করে। মিড টাওয়ার ও ফুল টাওয়ারে ভালো কাজ করে।
২০০ মিমি ফ্যান: সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে কম শব্দ, সবচেয়ে বেশি বায়ু প্রবাহ। দাম একটু বেশি, সব কেসিংয়ে লাগানো যায় না।
RGB বনাম Non-RGB ফ্যান
RGB ফ্যান দেখতে সুন্দর, রঙিন আলো দেয়। কিন্তু এয়ারফ্লোর ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্যান থেকে বেশি ভালো না। শুধু দেখতে ভালো লাগলে RGB নিন, না হলে সাধারণ ফ্যানই যথেষ্ট।
PWM বনাম DC ফ্যান
PWM ফ্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা অনুযায়ী গতি বাড়ায় বা কমায়। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং শব্দও কম হয়। DC ফ্যান একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলে। বাজেট কম থাকলে DC, একটু বেশি খরচ করতে পারলে PWM নিন।
ফ্যান কোথায় লাগাবেন? সঠিক পজিশনিং
অনেকে ফ্যান লাগান ঠিকই, কিন্তু সঠিক জায়গায় না লাগানোর কারণে কোনো কাজ হয় না।
সামনে (Front): ইনটেক ফ্যান লাগান। ১ থেকে ৩টি ফ্যান লাগানো যায়।
পেছনে (Rear): এক্সহস্ট ফ্যান লাগান। সাধারণত একটি ১২০ মিমি ফ্যান।
উপরে (Top): এক্সহস্ট ফ্যান লাগান। গরম বায়ু উপরে উঠে বলে এখানে এক্সহস্ট বেশি কার্যকর।
নিচে (Bottom): ইনটেক ফ্যান লাগানো যায়, তবে ধুলার ফিল্টার থাকা জরুরি।
| ফ্যানের ধরন | ব্র্যান্ড ও মডেল | দাম (টাকা) |
|---|---|---|
| বাজেট নন-RGB | সাধারণ ব্র্যান্ড | ১৫০ – ৪০০ |
| বাজেট RGB | AITC Kingsman | ৯৯০ |
| মিড-রেঞ্জ RGB | Antec, DeepCool | ৬০০ – ১,৫০০ |
| প্রিমিয়াম ফ্যান | Corsair, Cooler Master | ২,০০০ – ৪,০০০ |
- PureFlow PF-10 (ARGB Controller): ১,২০০ টাকা
- PureFlow Lite (Solid/Infinity - ৩ পিস): ৩,২০০ টাকা
- PureFlow Switch ARGB (৩ পিস): ৪,১০০ টাকা
- PureFlow Max (হাই-পারফরম্যান্স): ৬,৮০০ টাকা
বর্তমান বাজারদর ও আপডেটেড মডেলগুলো দেখতে চাইলে 👉 পিসি কেসিং ফ্যান এর দাম! এখানে সরাসরি চেক করতে পারেন।
কেনাকাটার কিছু সহজ টিপস
একসাথে অনেকগুলো ফ্যান লাগাতে চাইলে হাব ও রিমোট কন্ট্রোলসহ কম্বো প্যাক কিনুন, আলাদা আলাদা কিনলে খরচ বেশি পড়বে।
বাজেট কম থাকলে ভালো কেসিং কিনে পরে ধীরে ধীরে ফ্যান যোগ করুন। একবারে সব কিনতে হবে না।
কেসিং কেনার পর পিসির যত্ন নেওয়াও জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ফ্যান দীর্ঘদিন ভালো থাকে। কম্পিউটারের যত্ন কীভাবে নেবেন লেখাটি পড়তে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: কেসিং ফ্যান না লাগালে কি পিসি চলবে?
হ্যাঁ, চলবে। কিন্তু দীর্ঘদিন চালালে অতিরিক্ত গরমে পার্টস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষত গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাই কেসিং ফ্যান থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: কেসিং ফ্যান কতটা দরকার?
সাধারণ পিসির জন্য একটি ইনটেক আর একটি এক্সহস্ট ফ্যান যথেষ্ট। গেমিং পিসির জন্য ৩ থেকে ৫টি ফ্যান রাখলে ভালো।
প্রশ্ন: RGB ফ্যান কি কুলিং ভালো করে?
RGB লাইটিং কুলিং পারফরম্যান্স বাড়ায় না। শুধু দেখতে সুন্দর লাগে। কুলিং নির্ভর করে ফ্যানের এয়ারফ্লো আর RPM-এর উপর।
প্রশ্ন: কেসিং ফ্যান লাগালে কি বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়?
একটি সাধারণ ১২০ মিমি ফ্যান মাত্র ২ থেকে ৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তিনটি ফ্যান লাগালেও মাসে বিদ্যুৎ খরচ খুব বেশি বাড়বে না।
প্রশ্ন: কোন ব্র্যান্ডের কেসিং সবচেয়ে ভালো?
বাজেটে Mercury বা OVO, মিড-রেঞ্জে Monarch বা Antec, প্রিমিয়ামে Corsair বা Lian Li ভালো। তবে নিজের বাজেট আর দরকার অনুযায়ী বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন: পুরনো কেসিংয়ে কি নতুন ফ্যান লাগানো যাবে?
হ্যাঁ, যায়। শুধু দেখুন কেসিংয়ে কোন সাইজের ফ্যান মাউন্ট আছে। ১২০ মিমি বা ১৪০ মিমি ফ্যান বেশিরভাগ কেসিংয়ে লাগানো যায়।
শেষ কথা
কম্পিউটার কেসিং শুধু একটি বাক্স নয়, এটি আপনার পুরো সিস্টেমের ভিত্তি। সঠিক কেসিং বেছে নেওয়া আর পর্যাপ্ত ফ্যান লাগানো মানে আপনার পিসি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে, পারফরম্যান্সও ভালো পাবেন।
কম্পিউটারের অন্যান্য পার্টস সম্পর্কে জানতে পড়ুন: প্রসেসর (CPU) কি? কিভাবে কাজ করে? এবং র্যাম (RAM) কি? র্যামের প্রকারভেদ
কম্পিউটার সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে পড়ুন: কম্পিউটার কী, কীভাবে কাজ করে
লিখেছেন: মোঃ মাসুম খান কম্পিউটার অপারেশন সুপারভাইজার
৫৩
৯২ মন্তব্য