সহকারী শিক্ষক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ
স্মার্ট পিসি সেটআপের জন্য কিবোর্ড, মাউস এবং মাউসপ্যাড
কম্পিউটার ব্যবহার করি আমরা সবাই। কিন্তু একটা ভালো সেটআপ মানে শুধু একটা ভালো প্রসেসর বা বড় মনিটর না। আমি দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেশন নিয়ে কাজ করতে করতে বুঝেছি, সত্যিকারের স্মার্ট পিসি সেটআপের অর্ধেকটা নির্ভর করে ইনপুট ডিভাইসের উপর। অর্থাৎ কিবোর্ড, মাউস আর মাউসপ্যাড।
এই তিনটি জিনিস প্রতিদিন আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবহার করেন। ভালো না হলে হাত ব্যথা হয়, কাজ ধীরে হয়, গেম খেলতে গেলে মন খারাপ হয়। আর ভালো হলে? পুরো অভিজ্ঞতাটাই আলাদা হয়ে যায়।
এই লেখায় আমি বাংলাদেশের বাজারের কথা মাথায় রেখে কিবোর্ড, মাউস এবং মাউসপ্যাডের পূর্ণাঙ্গ গাইড লিখেছি। গেমার হন, ফ্রিল্যান্সার হন, অফিসের কাজ করুন বা স্টুডেন্ট হন, সবার জন্য কিছু না কিছু পাবেন এখানে।
কম্পিউটারের অন্যান্য যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেখুন কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ: সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ গাইড।
কিবোর্ড কী এবং কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
কিবোর্ড হলো কম্পিউটারের সাথে আপনার সবচেয়ে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। টাইপ করা, শর্টকাট দেওয়া, গেম খেলা, সব কিছুই কিবোর্ডের মাধ্যমে হয়। তাই এটা বেছে নেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি মনে হয়।
কিবোর্ডের ধরন
মেমব্রেন কিবোর্ড: এটা সবচেয়ে সাধারণ এবং সস্তা ধরনের কিবোর্ড। নিচে একটা রাবারের স্তর থাকে, চাপ দিলে সেটা সার্কিট ছুঁয়ে ইনপুট দেয়। শব্দ কম হয়, দামও কম। অফিসের কাজ বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য ঠিকঠাক।
মেকানিক্যাল কিবোর্ড: প্রতিটা কীর নিচে আলাদা আলাদা মেকানিক্যাল সুইচ থাকে। টাইপ করার অনুভূতি অনেক ভালো, দ্রুত টাইপ করা যায়, আর এগুলো অনেক বেশি দিন টেকে। গেমার, প্রোগ্রামার বা যারা অনেকক্ষণ টাইপ করেন তাদের জন্য এটাই সেরা পছন্দ।
সুইচ তিন ধরনের হয়: Blue (ক্লিকি শব্দ হয়), Red (নরম ও দ্রুত), Brown (মাঝামাঝি, সবচেয়ে জনপ্রিয়)। নতুনদের জন্য Brown সুইচ দিয়ে শুরু করা ভালো।
ওয়্যারলেস কিবোর্ড: তার ছাড়া কাজ করে, ডেস্ক পরিষ্কার থাকে। Bluetooth বা 2.4GHz ডঙ্গলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়। বাংলাদেশে দাম পড়ে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে সাধারণত।
RGB কিবোর্ড: আলো জ্বলে, দেখতে সুন্দর লাগে। গেমিং সেটআপে জনপ্রিয়। এটা পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি দেখার বিষয়, তবে রাতে কাজ করলে সুবিধা হয়।
কিবোর্ড কেনার সময় কী দেখবেন
অ্যান্টি-ঘোস্টিং ফিচার আছে কিনা দেখুন। গেমে একসাথে অনেক কী চাপতে হয়, অ্যান্টি-ঘোস্টিং না থাকলে কিছু কী কাজ করে না। TKL (Tenkeyless) লেআউট নিলে ডেস্কে জায়গা বাঁচে। বাংলা টাইপিং করলে বাংলা লেআউট সাপোর্টেড কিবোর্ড দেখুন।
জনপ্রিয় ব্র্যান্ড
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চলে Logitech, Fantech, Redragon, A4Tech, Havit আর Rapoo। Logitech আর Razer প্রিমিয়াম, Fantech আর Redragon বাজেটের মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।
বাংলাদেশে কিবোর্ডের দাম
সাধারণ ওয়্যার্ড কিবোর্ড পাওয়া যায় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মেকানিক্যাল কিবোর্ড শুরু হয় ৩,০০০ টাকা থেকে এবং ভালো মানের গেমিং কিবোর্ড ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত যায়। বিভিন্ন অপশন দেখতে পারেন কিবোর্ড এর দাম পেজে।
মাউস: ছোট কিন্তু অনেক বড় পার্থক্য
মাউস ছাড়া পিসি ব্যবহার প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সব মাউস এক না। ভালো মাউস কব্জির ব্যথা কমায়, গেমে নির্ভুল কন্ট্রোল দেয়, আর সাধারণ কাজও সহজ করে।
মাউসের ধরন
অফিস মাউস: সাদামাটা, স্ক্রোল হুইল আছে, বেসিক বাটন আছে। দাম কম। সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট।
গেমিং মাউস: বেশি DPI (ডটস পার ইঞ্চি), দ্রুত সেন্সর, এক্সট্রা বাটন থাকে। প্রতিটা নড়াচড়া নির্ভুলভাবে ধরে। FPS গেমে এই পার্থক্যটা অনেক বড়।
ওয়্যারলেস মাউস: তার নেই, স্বাধীনভাবে নাড়ানো যায়। আগে ল্যাটেন্সি (দেরি) সমস্যা ছিল, এখন প্রিমিয়াম ওয়্যারলেস মাউস প্রায় ওয়্যার্ডের মতোই দ্রুত।
এরগোনমিক মাউস: হাতের আকারের সাথে মিলিয়ে তৈরি। দীর্ঘ সময় কাজ করলে কব্জিতে ব্যথা কম হয়।
DPI মানে কী?
DPI হলো মাউসের সংবেদনশীলতা। বেশি DPI মানে মাউস একটু নাড়ালেই কার্সর অনেক দূর যায়। গ্রাফিক ডিজাইনারদের কম DPI দরকার (নির্ভুলতার জন্য), গেমারদের বেশি DPI লাগে। সাধারণত ৮০০ থেকে ১৬০০ DPI বেশিরভাগ কাজের জন্য যথেষ্ট।
গ্রিপ স্টাইল
মাউস ধরার তিনটি স্টাইল আছে: Palm Grip (পুরো হাত দিয়ে ধরা), Claw Grip (আঙুল বাঁকিয়ে ধরা) আর Fingertip Grip (শুধু আঙুলের ডগায় ধরা)। কীভাবে ধরেন সেটা বুঝে মাউস কিনলে আরামে কাজ করা যায়।
কম্পিউটারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে পড়ুন র্যাম (RAM) কি? র্যামের প্রকারভেদ এবং কিভাবে কাজ করে?
জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশে দাম
Logitech, Razer, Fantech, A4Tech আর iMICE সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বেসিক অফিস মাউস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যায়। ভালো গেমিং মাউস ২,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে। Logitech বা Razer-এর প্রিমিয়াম মাউস ১০,০০০ টাকার উপরেও যায়। বর্তমান দাম জানতে দেখুন মাউস এর দাম।
মাউসপ্যাড: যেটা অনেকেই ভুলে যান
মাউসপ্যাড ছাড়া মাউস ঠিকমতো কাজ করে না, বিশেষ করে অপটিক্যাল সেন্সর মাউসে। ডেস্কের উপর সরাসরি মাউস চালালে ট্র্যাকিং এলোমেলো হয়, কার্সর লাফ দেয়। একটা ভালো মাউসপ্যাড এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করে।
মাউসপ্যাডের ধরন
কাপড়ের মাউসপ্যাড: সবচেয়ে জনপ্রিয়। নরম, হাতের জন্য আরামদায়ক, ভালো ট্র্যাকিং দেয়। ধোয়া যায়।
হার্ড মাউসপ্যাড: শক্ত প্লাস্টিকের তৈরি। মাউস অনেক দ্রুত স্লাইড করে। পরিষ্কার রাখা সহজ।
RGB মাউসপ্যাড: আলো জ্বলে, দেখতে সুন্দর। সাধারণত এক্সটেন্ডেড সাইজে আসে।
XL বা XXXL ডেস্ক ম্যাট: পুরো ডেস্ক ঢেকে দেয়। কিবোর্ড আর মাউস দুটোই এই প্যাডের উপর রাখা যায়। গেমারদের মধ্যে এটা এখন অনেক জনপ্রিয়।
কোন সাইজ নেবেন?
ছোট প্যাড (২৩x১৯ সেমি) বেসিক কাজের জন্য ঠিক আছে। মিডিয়াম (৩৫x২৫ সেমি) বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট। XL বা XXXL প্যাড নিলে মাউস কখনো প্যাডের বাইরে যাবে না, গেমিংয়ে অনেক সুবিধা।
জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশে দাম
Redragon, Fantech, Corsair, Razer আর Havit ভালো মাউসপ্যাড বানায়। সাধারণ কাপড়ের প্যাড ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় পাওয়া যায়। XL গেমিং প্যাড ৬৫০ থেকে ২,২৯০ টাকা। XXXL ডেস্ক ম্যাট ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকার মধ্যে। দেখুন মাউসপ্যাড এর দাম।
কম্বো কিনবেন নাকি আলাদা আলাদা?
এই প্রশ্নটা অনেকেই করেন। উত্তর নির্ভর করে আপনার বাজেট আর প্রয়োজনের উপর।
কম্বো প্যাকেজে কিবোর্ড, মাউস আর মাউসপ্যাড একসাথে আসে। সুবিধা হলো ডিজাইন ম্যাচ করে, দাম একটু কম পড়ে। অসুবিধা হলো একটা পার্ট নষ্ট হলে পুরোটাই বদলাতে হতে পারে।
আলাদা কিনলে প্রতিটা পার্ট নিজের পছন্দমতো বাছাই করতে পারবেন। কিবোর্ড ভালো লাগলে বেশি টাকা দিন, মাউসে কম দিন। এটা বেশি স্মার্ট পছন্দ যদি আপনি একটু বেশি বুঝে কিনতে পারেন।
বাজেট অনুযায়ী গাইড
৳১,৫০০ থেকে ৳৩,০০০ (স্টুডেন্ট বা বেসিক ব্যবহার): এই বাজেটে ভালো মেমব্রেন কিবোর্ড, একটা সাধারণ অপটিক্যাল মাউস আর একটা মিডিয়াম কাপড়ের মাউসপ্যাড নেওয়া যায়। Fantech বা Havit-এর কম্বো প্যাকেজ এই রেঞ্জে ভালো অপশন।
৳৩,০০০ থেকে ৳৮,০০০ (অফিস বা মিড-রেঞ্জ গেমার): এই বাজেটে একটা RGB মেকানিক্যাল কিবোর্ড, ভালো গেমিং মাউস আর XL মাউসপ্যাড নেওয়া যায়। Redragon বা A4Tech-এর প্যাকেজ এখানে বেশ জনপ্রিয়।
৳৮,০০০ থেকে ৳২০,০০০ বা তার বেশি (সিরিয়াস গেমার বা প্রফেশনাল): এই রেঞ্জে Logitech G, Razer বা Corsair-এর প্রিমিয়াম কম্বো নেওয়া সম্ভব। মেকানিক্যাল কিবোর্ড, হাই-DPI গেমিং মাউস আর XXXL ডেস্ক ম্যাট মিলিয়ে নিলে সেটআপ দেখতেও সুন্দর, পারফরম্যান্সেও শক্তিশালী।
পিসির ভেতরের পার্টগুলো সম্পর্কে জানতে পড়ুন প্রসেসর (CPU) কি? কিভাবে কাজ করে? এর গঠন এবং প্রকারভেদ।
ব্যবহারকারী টাইপ অনুযায়ী কী নেবেন
সবার জন্য একই পরামর্শ কাজ করে না। আপনি কী কাজ করেন সেটার উপর নির্ভর করে পছন্দ আলাদা হয়।
গেমারদের জন্য: মেকানিক্যাল কিবোর্ড (Blue বা Red সুইচ), হাই-DPI গেমিং মাউস, আর বড় কাপড়ের মাউসপ্যাড। অ্যান্টি-ঘোস্টিং আর N-Key Rollover দেখে কিনুন। Fantech, Redragon বা Logitech G সিরিজ ভালো।
ফ্রিল্যান্সার বা প্রোগ্রামারদের জন্য: Brown সুইচের মেকানিক্যাল কিবোর্ড সবচেয়ে মানানসই। শব্দ কম, টাইপিং কমফোর্ট বেশি। এরগোনমিক মাউস নিলে কব্জিতে চাপ কম পড়বে। Logitech MX সিরিজ এই ক্যাটাগরিতে খুব ভালো।
অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য: মেমব্রেন বা শান্ত মেকানিক্যাল কিবোর্ড (Red বা Brown সুইচ) নেওয়া ভালো কারণ কলিগরা বিরক্ত হবেন না। ওয়্যারলেস কম্বো নিলে ডেস্ক গোছানো থাকে। Rapoo বা Logitech-এর ওয়্যারলেস কম্বো এখানে দারুণ।
স্টুডেন্টদের জন্য: বাজেটের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স দরকার। Havit বা iMICE-এর কম্বো প্যাক কম টাকায় ভালো কাজ করে। একটা মিডিয়াম সাইজ মাউসপ্যাড নিলেই যথেষ্ট।
কম্পিউটারের স্টোরেজ নিয়ে জানতে পড়ুন SSD কি? এসএসডি এর প্রকারভেদ, কেন এসএসডি ব্যবহার করবেন?।
কোথায় কিনবেন বাংলাদেশে
ভালো পণ্য পেতে হলে বিশ্বস্ত জায়গা থেকে কিনতে হবে। নকল বা নিম্নমানের পণ্য কিনলে বেশিদিন টেকে না।
অনলাইনে কেনার সুবিধা: ঘরে বসে তুলনা করা যায়, বেশি অপশন পাওয়া যায়, দাম প্রায়ই কম থাকে। PCB Store, Ryans Computers, Star Tech, TechLand, Potaka IT আর Creatus-এর অনলাইন শপে ভালো কালেকশন আছে।
ভালো একটা অপশন হলো PCB Store যেখানে কিবোর্ড, মাউস আর মাউসপ্যাড তিনটাই পাওয়া যায়। দাম আপডেটেড থাকে, ডেলিভারিও দেওয়া হয়।
অফলাইনে কেনার সুবিধা: হাতে ধরে দেখতে পারবেন, কিবোর্ডের টাইপিং ফিল চেক করতে পারবেন, সাথে সাথে নিয়ে যেতে পারবেন। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার আর বসুন্ধরা সিটিতে প্রচুর দোকান আছে।
কম্পিউটার কেনার পরে যত্ন নেওয়াও জরুরি। পড়ুন কম্পিউটারের যত্ন কীভাবে নেবেন।
কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন
কিছু ছোট ছোট বিষয় আছে যেগুলো অনেকে কেনার সময় ভুলে যান।
ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখুন। বাংলাদেশে লোকাল ওয়ারেন্টি সাপোর্ট থাকলে পরে ঝামেলা কম হয়। Havit, Fantech আর Logitech-এর লোকাল সার্ভিস সেন্টার আছে।
USB পোর্ট দেখুন। কিবোর্ড আর মাউস আলাদা পোর্ট নেয়। ওয়্যারলেস হলে ডঙ্গলের জন্য আরেকটা পোর্ট লাগে। পিসিতে পোর্ট কমে গেলে হাব লাগাতে হবে।
কিবোর্ডের লেআউট দেখুন। ১০৪ কী ফুল সাইজ, ৮৭ কী TKL, ৬৮ কী কমপ্যাক্ট। ছোট লেআউটে নাম্বার প্যাড থাকে না, কিন্তু মাউসের জন্য বেশি জায়গা পাওয়া যায়।
মাউসপ্যাডের নিচে রাবার আছে কিনা চেক করুন। না থাকলে ব্যবহারের সময় সরে যাবে, বিরক্তিকর।
কম্পিউটার স্লো হলে পেরিফেরাল পরিবর্তন করলেই সমস্যা ঠিক হবে না, সেক্ষেত্রে পড়ুন কম্পিউটার স্লো হলে কী করবেন – ১০টি সহজ সমাধান।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: মেকানিক্যাল কিবোর্ড কি সত্যিই ভালো নাকি শুধু দামি?
উত্তর: মেকানিক্যাল কিবোর্ড সত্যিই ভালো, বিশেষ করে যারা অনেকক্ষণ টাইপ করেন তাদের জন্য। একটা মেকানিক্যাল কিবোর্ড প্রায় ৫ কোটি কীস্ট্রোক সহ্য করতে পারে। মেমব্রেন কিবোর্ড ১ কোটিতেই নষ্ট হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে মেকানিক্যালই সাশ্রয়ী।
প্রশ্ন: ওয়্যারলেস মাউসে কি গেমে সমস্যা হয়?
উত্তর: সাধারণ ওয়্যারলেস মাউসে ল্যাটেন্সি থাকতে পারে। তবে Logitech Lightspeed বা Razer HyperSpeed প্রযুক্তির মাউসে এই সমস্যা নেই। দাম একটু বেশি, কিন্তু পারফরম্যান্স ওয়্যার্ডের মতোই।
প্রশ্ন: মাউসপ্যাড কি আসলেই দরকার?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। ডেস্কের উপর সরাসরি মাউস চালালে সেন্সর ঠিকমতো কাজ করে না, ট্র্যাকিং এলোমেলো হয়। এছাড়া মাউসের নিচের অংশ (ফিট) দ্রুত ক্ষয় হয়। ১৫০ টাকার একটা প্যাডও অনেক পার্থক্য করে।
প্রশ্ন: XXXL মাউসপ্যাড কি সত্যিই দরকার নাকি শুধু দেখতে ভালো?
উত্তর: গেমারদের জন্য সত্যিই দরকার। Low DPI-তে গেম খেললে মাউস অনেক দূর নাড়াতে হয়। XXXL প্যাডে মাউস কখনো সীমানার বাইরে যায় না। অফিসের কাজে মিডিয়াম সাইজ যথেষ্ট।
প্রশ্ন: বাজেট ২,০০০ টাকার মধ্যে ভালো কম্বো পাব?
উত্তর: এই বাজেটে Fantech, Havit বা iMICE-এর কম্বো প্যাক পাওয়া যায়। মেমব্রেন কিবোর্ড, বেসিক অপটিক্যাল মাউস আর একটা ছোট মাউসপ্যাড থাকে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট ভালো।
প্রশ্ন: কিবোর্ড কতদিন টেকে?
উত্তর: মেমব্রেন কিবোর্ড সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর টেকে নিয়মিত ব্যবহারে। মেকানিক্যাল কিবোর্ড ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত টিকতে পারে। ভালো ব্র্যান্ডের পণ্য কিনলে আরো বেশি টেকে।
শেষ কথা
স্মার্ট পিসি সেটআপ মানে শুধু ভালো প্রসেসর বা বড় র্যাম না। কিবোর্ড, মাউস আর মাউসপ্যাড এই তিনটা জিনিস প্রতিদিনের ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। একটু বেশি সময় নিয়ে, নিজের প্রয়োজন বুঝে কিনলে অনেকদিন ভালো সার্ভিস পাবেন।
নতুন হলে মিড-রেঞ্জ কম্বো দিয়ে শুরু করুন। অভিজ্ঞতা হলে আলাদা আলাদা পার্ট কিনুন। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো অপশন আছে সব বাজেটে।
কম্পিউটারের সব বিষয় ভালোভাবে জানতে পড়ুন কম্পিউটার কী, কীভাবে কাজ করে – সব প্রশ্নের উত্তর এখানে। আর পিসির ইতিহাস জানতে পারেন কম্পিউটারের ইতিহাস ও বিবর্তন: অ্যাবাকাস থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) লেখাটিতে।
ভালো থাকুন, স্মার্ট সেটআপ গড়ুন।
লেখক: মোঃ মাসুম খান | কম্পিউটার অপারেশন সুপারভাইজার
৫৩
৯১ মন্তব্য