বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার ক্ষেত্রেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। বইয়ের ভারে নুয়ে পড়া ব্যাগ এবং হাজারো বইয়ের আলমারির দিন প্রায় শেষ হতে চলেছে। আজকের যুগের শিক্ষার্থীদের কাছে বই মানে কেবল ছাপানো পৃষ্ঠা নয়, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু, যা সহজলভ্য ও আকর্ষণীয়। এই পরিবর্তনের অন্যতম ধারক হলো ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বুক। ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি এই বইগুলো আমরা অনায়াসেই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা ই-বুক রিডারের মাধ্যমে যেখানে সেখানে পড়ে নিতে পারি। ই-বুক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি বহনের ঝামেলা একদমই নেই। একটি ছোট ডিভাইসে আপনি কয়েক হাজার বই একসাথে নিয়ে ঘুরতে পারবেন, যা এক আস্ত লাইব্রেরির মতোই। এটি শুধুমাত্র ভারী বই বহনের কষ্টই কমায় না, বরং খরচও ব্যাপকভাবে সাশ্রয় করে। ছাপানো বইয়ের তুলনায় ই-বুকের দাম সাধারণত অনেক কম এবং অনেক ক্ষেত্রে এনসিটিবি (NCTB) সহ বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে পাঠ্যবইগুলোর ডিজিটাল কপি সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও ডাউনলোড করা যায়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ই-বুক এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এর 'ইন্টারেক্টিভ' বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। অনেক ই-বুকে এখন অডিও, ভিডিও এবং আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন যুক্ত থাকে, যা কঠিন বিষয়গুলো সহজ ও সাবলীলভাবে বুঝতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে দারুণ কাজ করে। এর আরেকটি অনন্য দিক হলো তথ্যের সহজলভ্যতা। কোনো বড় বইয়ের বিশেষ অংশ বা সংজ্ঞা খুঁজে পেতে সাধারণ বইয়ের মতো পৃষ্ঠা উল্টানোর দরকার নেই, কেবল 'সার্চ' অপশনে লিখে কয়েক সেকেন্ডেই তা খুঁজে পাওয়া যায়। তাছাড়া কাগজের ব্যবহার না থাকায় এটি পরিবেশ রক্ষাতেও বড় অবদান রাখে। যদিও দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের সুরক্ষার বিষয়টিতেও আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি এবং পড়ার মাঝখানে নিয়মিত বিরতি দেওয়া প্রয়োজন, তবুও এই আধুনিক সময়ে ই-বুক কেবল এক নতুন প্রযুক্তিই নয়, বরং শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নে এক অমূল্য ও অপরিহার্য হাতিয়ার।
৫৩
৯১ মন্তব্য