Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ণ

শিশুর পুষ্টিহীনতা হলো প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের অভাব

শিশুর পুষ্টিহীনতা হলো প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের অভাব, যা শরীরের বৃদ্ধি, মেধার বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং শিশুমৃত্যুর বড় কারণ।
এর ফলে শিশু খর্বকায় (বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম) ও কৃশকায় (উচ্চতার তুলনায় ওজন কম) হয়ে পড়ে। অপুষ্টি প্রতিরোধে জন্মের পর ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং পরে সুষম খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 
শিশুর পুষ্টিহীনতার লক্ষণ ও ঝুঁকি: 
শারীরিক বৃদ্ধি কমে যাওয়া: শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে যাওয়া, বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা না বাড়া।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ঘন ঘন অসুখ হওয়া, যেমন—ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া বা জ্বর।
মানসিক বিকাশ ধীর হওয়া: বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়া, শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অলসতা।
অন্যান্য লক্ষণ: চুল পড়ে যাওয়া বা পাতলা হয়ে যাওয়া, চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মুখ গহ্বরে ঘা, এবং চোখের সমস্যা।
পানিশূন্যতা: চোখ ডেবে যাওয়া, খুব শুষ্ক মুখ এবং প্রস্রাব কমে যাওয়া। 
পুষ্টিহীনতার কারণসমূহ:
পর্যাপ্ত খাবারের অভাব: প্রোটিন ও ক্যালরিযুক্ত খাবারের ঘাটতি [৭]।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: নোংরা পরিবেশ ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, যা বারবার সংক্রমণের কারণ।
সচেতনতার অভাব: জন্মের পর সঠিক উপায়ে বুকের দুধ না খাওয়ানো বা ৬ মাস পর সঠিক পরিপূরক খাবার না দেওয়া।
অসুস্থতা: দীর্ঘমেয়াদী হজমের সমস্যা বা অন্যান্য রোগ। 
পুষ্টিহীনতা দূর করার উপায় ও করণীয়:
মায়ের দুধ: জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
সুষম খাবার: ৬ মাসের পর বুকের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার (খিচুড়ি, সবজি, ডিম, ছোট মাছ, ডাল) দিতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা: খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করা।
চিকিৎসকের পরামর্শ: শিশু ঠিকমতো না খেলে বা ওজন কমে গেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। 
বাংলাদেশে অপুষ্টির হার কমলেও, এটি এখনো একটি বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ