প্রভাষক
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
দাখিল পরীক্ষা প্রস্তুতি- ইসলামের ইতিহাস
দাখিল পরীক্ষা প্রস্তুতি: ইসলামের ইতিহাস- প্রথম অধ্যায়:
সম্পূর্ণ পাঠ্যবইয়ের সারসংক্ষেপ মাত্র ২০ পৃষ্ঠায় ১৮১৮টি টিপস:
১.ইসলামের প্রাণকেন্দ্র > পবিত্র আরব ভূ-খণ্ড (হিজাজ)
২.আরব ভূমি অবস্থিত > ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মিলনস্থলে
৩. পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা> আরবের মাটি
৪. ام القرى বা আদি নগরী > মক্কা নগরী
৫. العربة নামক স্থান > হিজাজ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
৬. আরব শব্দের উৎপত্তি > আরাবা , ইয়ারাব ও আবহার থেকে
৭. ইয়ারাব > দক্ষিণ আরবিয়দের পূর্বপুরুষ কাহতানের পুত্র
৮. الابهر শব্দটি প্রচলিত > হিব্রু ভাষায়
৯. সাহারা শব্দ থেকে > সারাসিনি
১০. আরব অর্থ > বাগ্মিতা (পান্ডিত্যপূর্ণ ও সুন্দর ভাষায় কথা বলা)
১১. আরব শব্দের প্রতিশব্দ > আবহার
১২. মরুভূমির প্রতিশব্দ > আরব, আবহার, সারাসিনি
১৩. আরব নামকরণের কারণ > অধিকাংশ স্থান মরুময়
১৪. আরবিয়দের সারাসিনি বলে ডাকতো > পাশ্চাত্য অঞ্চলের লোকগণ
১৫. পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ > পবিত্র আরব ভূ-খন্ড
১৬. আরব উপদ্বীপ > এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে
১৭. جزيرة العرب অর্থ > আরব উপদ্বীপ
১৮.আরব দেশকে উপদ্বীপ বলার কারণ > তিনদিকে সমুদ্র একদিকে স্থল
১৯. আরবের পূর্বে > পারস্য উপসাগর ,পশ্চিমে > লোহিত সাগর, উত্তরে > সিরিয়া মরুভূমি, দক্ষিনে > ভারত মহাসাগর
২০. সাহারাভূমির অন্তর্ভুক্ত > আরব ভূমি
২১. আরবের মেরুদন্ড > লোহিত সাগরের তীরব্যাপী পর্বতমালা
২২. সমগ্র আরব ভূ-খন্ড > পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু
২৩. আরবের পূর্ব ভূ-খণ্ডে > ওমান পর্বতমালা
২৪. আরবের দক্ষিণাঞ্চল > নিচু ও কিয়দাংশ ঢালু
২৫. আরবের উত্তরে নজদ > একটি উচ্চ মালভূমি
২৬. আরবের উত্তরাংশে > النفود বা সাদা ও লালচে বালিযুক্ত অঞ্চল
২৭. النفود এর প্রাচীন নাম > البادية
২৮. الدهناء বিস্তৃত > আন নুপুদ থেকে আল- রাব আল-খালি বা ফাঁকা অঞ্চল পর্যন্ত
২৯. আল-রাব আল-খালি বিস্তীর্ণ > ৬০০ মাইলের বেশি
৩০. আদ-দাহনা অর্থ > লাল বালিপূর্ণ ভূমি
৩১. আরব ভূ-খণ্ডের আয়তন > ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল বা ২৬,৫৮,৭৮১ বর্গ কিলোমিটার ; আরব ভূখণ্ড > ইউরোপের চার ভাগের এক অংশ, যুক্তরাষ্ট্রের তিন ভাগের এক অংশ
৩২. আরব ভূখন্ড > ৩ অঞ্চলে বিভক্ত- মরু, পার্বত্য, উর্বর
৩৩. উর্বর তৃণঅঞ্চল >হিজাজ, নজদ, ইয়ামেন,
হাজরামাউত, ওমান প্রদেশে বিভক্ত
৩৪. ইসলামের প্রাণকেন্দ্র > হিজাজ ; আরব দেশের মধ্যভাগে; এর প্রধান তিনটি শহর > মক্কা, মদিনা, তায়েফ
৩৫. ঘনবসতিপূর্ণ ব্যবসা ও কৃষিতে বিখ্যাত> দক্ষিণ আরব; হাজরামাউত, ওমান, ইয়ামেন
৩৬. বিষাক্ত লু- হাওয়া প্রবাহিত > মরু অঞ্চলে
৩৭. আরব উপদ্বীপ > শুষ্ক-গ্রীষ্ম প্রধান দেশ
৩৮. সাইমুম > মরুর বালু ঝড়
৩৯. সামান্য বৃষ্টিপাত হয় > ওমান, হাজরামাউত, হিজাজে
৪০. চাষের উপযোগী বৃষ্টিপাত হয় > ইয়ামেন ও আসির প্রদেশে
৪১. ইয়ামেনের আধুনিক রাজধানী > সানা ; সুন্দর- স্বাস্থ্যকর স্থান ; সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৭০০ ফুট বা ২১৩.৩৬ মিটার উঁচু
৪২. আরব উপদ্বীপ > বিস্তৃত মালভূমি
৪৩. মধ্য আরবের পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা > সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৪- ৬ হাজার ফুট উঁচু
৪৪. এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মিলন কেন্দ্র > আরব উপদ্বীপ
৪৫. আরব ভূ-খন্ড মরুময় > তিন ভাগের এক অংশ
৪৬. আরবের বৃহত্তম মরুভূমি > আদ-দাহনা ; বিস্তৃত ৬০০ মাইল
৪৭. আরবের পশ্চিমের ক্ষুদ্র মরুভূমি > আলহাররা
৪৮. আরবদের প্রধান খাদ্য > খেজুর
৪৯. বেদুইনদের পানীয় > খেজুর গাছের রস
৫০. আরবের বৃক্ষ রানী > খেজুর গাছ
৫১. খেজুরের বীজ চূর্ণ > উটের খাদ্য
৫২ বেদুইনদের দুটি স্বপ্ন দুটি কৃষ্ণদ্রব্য > পানি ও খেজুর
৫৩. হিজাজে প্রচুর উৎপন্ন > খেজুর ; ইয়ামেনে > গম ; ওমান ও আলহাসায় > ধান
৫৪. ঘোড়ার খাদ্য হিসেবে চাষ > বার্লি
৫৫. খাঁটি স্বর্ণ পাওয়া যায় যেত > ইয়ামেন অঞ্চলে
৫৬. আরবের প্রাকৃতিক সম্পদ > পেট্রোল, স্বর্ণ, গ্যাস, কয়লা
৫৭. অতি পরিচিত পাখি > ঝুঁটিওয়ালা পাখি হুদহুদ, বুলবুল, পায়রা
৫৮. আরবি সাহিত্যে আল কাতা > এক ধরনের তিতির পাখি
৫৯. মনিবের প্রতি মর্মস্পর্শী আনুগত্যের জন্য সুপ্রসিদ্ধ, উত্তমভাবে প্রতিপালিত > আরবিয় ঘোড়া
৬০. যাযাবরদের ধাত্রীসম > উট
৬১. মরুভূমির জাহাজ > উট
৬২. যার যত বেশি উট > সে তত বেশি ধনী
৬৩. বেদুঈনদের নিত্য সহচর, পথের বন্ধু > উট
৬৪. আরবদের অন্যতম খাদ্য > উটের গোশত
৬৫. পুষ্টিকর পানীয় > উটের দুধ
৬৬. বেদুঈনদের তাবু > উটের চামড়ার ; পোশাক > উটের পশমের তৈরি
৬৭. আরব জাতি প্রধানত দু'ভাগে বিভক্ত > আল বাইদা, আল বাকিয়া
৬৮. আদ, সামুদ, তামস ও জাদীস বিলুপ্ত গোত্রগুলো > বায়দা জাতির অন্তর্ভুক্ত
৬৯. বর্তমানে আরবের প্রধান অধিবাসী > বাকিয়া জাতি
৭০. বাকিয়া জাতি > দুভাগে "عاربة বা প্রকৃত আরব ; مستعربة বা আরবিকৃত আরব
৭১. সর্বাপেক্ষা আদিম ও নিষ্কলুষ রক্তের অধিকারী > কাহতানের বংশোদ্ভূত আরিবা গোত্র
৭২. আরিবা গোত্র পরিচিত > ইয়ামেনীয় বা হিমারিয়া বলে
৭৩. আরব জাতির প্রকৃত ইতিহাসের সূত্রপাত > কাহতানের বংশের অভ্যুত্থান হতেই
৭৪. রক্তের পবিত্রতার জন্য অধিক শক্তিশালী গোত্র আরিবা বা ইয়ামেনীয় গোত্র
৭৫. মুস্তারিবা গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা > ইসমাইল (আ) এর বংশধর আদনান
৭৬. মুস্তারিবা গোত্রের বসবাস > হিজাজ, নজদ, পেত্রা, পালমিরা অঞ্চলে
৭৭. কুরাইশ বংশের উৎপত্তি > মুস্তারিবা গোত্রের নিযারী হতে
৭৮. মুস্তারিবা গোত্রের নিযারীগণ সমধিক পরিচিত > হিজাজী বা মুদারী
৭৯. উত্তর আরব গোত্র অভিহিত > নিযারী বা মুদারী নামে, যাযাবর হিসেবে
৮০. দক্ষিন আরব বা ইয়ামেনিরা > শহরবাসী, সাবিয়ি ও হিমায়ারি রাজ্যের অধিবাসী
৮১. উত্তর আরবের ভাষা > কুরআনের ভাষা, আরবী
৮২. দক্ষিণ আরবের ভাষা > সেমেটিক সাবেয়ি, হিমায়ারি
৮৩. দক্ষিণ আরব তথা ইয়ামেনিদের সভ্যতার উন্মেষ > খ্রিস্টের জন্মের ১২শত বছর পূর্বে
৮৪. ভূ-প্রকৃতিতে আরবরা > ২ শ্রেণিতে ; শহরবাসী এবং মরুবাসী
৮৫. মরুবাসিরা পরিচিত যাযাবর, বেদুইন নামে
৮৬. শহরবাসীর প্রধান জীবিকা > কৃষিকার্য, ব্যবসা-বানিজ্য
৮৭. বেদুইনদের প্রধান জীবিকা > লুটতরাজ
৮৮. বেদুইনদের গৃহ > তাঁবু ; আহার্য > উটের গোশত ; পানীয় > উট ও ছাগলের দুগ্ধ
৮৯. বেদুইনদের প্রধান বাসস্থান > মরুভূমি ; পাদুকা বা জুতা ব্যবহারে অভ্যস্ত নয় > বেদুইনরা; মূলভিত্তি > গোত্রপ্রথা ; গোত্র প্রধান > শাইখ, পরামর্শ করতেন- পারিবারিক প্রধানদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিলরদের সঙ্গে
৯০. বেদুইনদের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য > কওম চেতনা বা আসাবিয়্যাহ
৯১. বেদুইনদের প্রধান বৈশিষ্ট্য > ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য, গোত্র-মানসিকতা, সহিষ্ণুতা, পৌরুষত্ব
৯২. আরব বেদুইনদের সর্বজনস্বীকৃত > অতিথিপরায়ণতা; মরুভূমির বিপদ হতে পথিককে রক্ষা করে > অতিথিপরায়ণতা
৯৩. বেদুইনদের গর্বের বস্তু > রক্তের পবিত্রতা, পূর্বপুরুষদের আভিজাত্য ও বীরত্ব, কবিতা বাগ্মিতা, অশ্ব, তরবারি
৯৪. বেদুইনদের সংগ্রামী করেছে → সাইমুম ঝড়, প্রখর উত্তাপ, রৌদ্রদগ্ধ বালুকা, উত্তপ্ত লু-হাওয়া, রুক্ষ পর্বতমালা, কণ্টকাকীর্ণ বৃক্ষাদি
৯৫. বেদুইনদের প্রধান পেশা > পশুচারণ ও পশুপালন
৯৬. বেদুইনদের সমাজ ব্যবস্থা > যুদ্ধাংদেহী
৯৭. বেদুইনরা কাফেলায় হামলা চালাত কিংবা পার্শ্ববর্তী এলাকায় লুটতরাজ করত > খাদ্যের অভাবে
৯৮. বেদুইনদের নিকট দূষনীয় ছিল না > লুণ্ঠন, তৎপরতা, রাহাজানি, খুনখারাবি
৯৯. সমাজের বোঝা ছিল > কন্যা সন্তানগণ
১০০. আরবদের ধারণায় কন্যা সন্তান বৃদ্ধি মানে > অনাহার বা অর্ধাহার
১০১. আরবদের ধারণায় যুদ্ধ পরাজয়ের অর্থ > নারীদের দাসত্ব
১০২. গোত্রপ্রীতি জন্ম দেয় > মনুষত্ব, আত্মসংযম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র
১০৩. সকল নাগরিকের অধিকার সমান > শেখের নিকট
১০৪. বৈদেশিক আক্রমনের হাত থেকে আরববাসী সবসময় নিরাপদ ছিল > নির্দিষ্ট চলাচলের পথ না থাকায়
১০৫. আরববাসী অধিক মাত্রায় অনুরক্ত > কাব্যের প্রতি
১০৬. আরবদের কাব্য ছিল > সংঘাত, অদম্য সাহসিক, গোত্রপ্রীতি, বীরত্ব ও প্রেম সম্পর্কিত
১০৭. আধুনিক সভ্যতা ঋণী > পূর্ববর্তী সভ্যতার কাছে
১০৮. বিভিন্ন কৃষ্টির ক্রমবিকাশের ফল > পৃথিবীর ইতিহাস (ঐতিহাসিক আরনল্ড টয়েনবি)
১০৯. সভ্যতার উন্মেষের মূল প্রধান কারনগুলো > সামাজিকীকরণ, লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ
১১০. পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন > ইউফ্রেটিস, টাইগ্রীস, নীল ও সিন্ধু নদের অববাহিকায়
১১১. সর্বপ্রাচীন সভ্যতা > মিসরীয় ও মেসোপটেমীয় সভ্যতা
১১২. পৃথিবীর সুসমৃদ্ধ সভ্যতা > মিসরীয় সভ্যতা
১১৩. মেসোপটেমীয় সভ্যতা > সুমেরীয়, কালদীয়, ব্যাবলনীয়, আক্কাদীয় ও অ্যাসিরীয় কৃষ্টির সমন্বয়ে।
১১৪. নীতি ধর্মভিত্তিক সভ্যতা > মিসরীয় সভ্যতা
১১৫. আইন শাস্ত্রভিত্তিক সভ্যতা > মেসোপটেমীয় সভ্যতা
১১৬. টাইগ্রীস নদীর বর্তমান নাম > দজলা; ; ইউফ্রেটিস বর্তমানে > ফোরাত নদী
১১৭. টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল > মেসোপটেমীয়া নামে পরিচিত
১১৮. মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা > সুমেরীয় সভ্যতা
১১৯. সুমেরীয় সভ্যতার নামকরণ > অসেমেটিক সুমেরীয়গণের নামানুসারে
১২০. লিখন পদ্ধতি, আইন কানুন, ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রথম চর্চা শুরু করে > সুমেরীয়গণ
১২১. টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যস্থিত অববাহিকা অঞ্চলের অধিবাসী > সুমেরীয়গণ
১২২. সুমেরীয় সাম্রাজ্যের পতনে ঘটে > সুমেরীয় রাজা ডুঙ্গীর মৃত্যুর পরে
১২৩.টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী অবস্থিত > ইরাকে
১২৪. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা > মেসোপটেমীয়ার দক্ষিণে
১২৫. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে > টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস নদীর উপত্যকায় অ-সেমেটিক সুমেরীয় জাতির সম্বনয়ে
১২৬. ব্যাবিলনীয়দের কাছে ঋণী > গ্রীকগণ
১২৭. পৌরাণিক কাহিনী, লৌকিক উপাখ্যান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে > ব্যাবিলনীয়রা
১২৮. অংকশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূ-তত্ত্ববিদ্যা, ইতিহাস, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ, দর্শন, অভিধান সংকলনের ভিত্তি রচনা করে গেছে > ব্যাবিলনীয়রা
১২৯. মহাকাব্য, ধর্মীয় গীতি প্রবাদের প্রবর্তক > ব্যাবিলনীয়রা
১৩০. সেমেটিক জাতির উল্লেখযোগ্য শাখা > হিব্রুগণ বা যাযাবর শ্রেণির লোকজন
১৩১. হিব্রুগণ প্রথমে আরবদেশ থেকে প্যালেস্টাইনে গমন করে বসতি স্থাপন করে > মেসোপটেমিয়ায়
১৩২. হিব্রুগণ সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে > ইবরাহীম (আ.) এর নেতৃত্বে
১৩৩. হিব্রুগণ ৩ শ্রেণিতে বিভক্ত >ফিনিসীয়, আরামীয়, হিব্রু
১৩৪. সাসানীয় সভ্যতা মানে > পারসিক সভ্যতা
১৩৫. পারস্য উপসাগরের দক্ষিনে যারা বসতি গড়ে > পারসিক নামে পরিচিত
১৩৬. পারস্য উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম পর্বত সংকুল এলাকায় বসবাসকারীরা > মেদ নামে পরিচিত
১৩৭. খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে সম্রাট সাইরাসের অধীনে মেদরা দখল করে > কালদীয় সামাজ্য
১৩৮. সম্রাট সাইরাস আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে > এশিয়া মাইনরের লিডিয়া (বর্তমান তুরস্ক) দখল করে
১৩৯. সাইরাসের পর ক্যামবিসাস খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে জয় করে > মিসর
১৪০. ক্যামবিসাসের মৃত্যুর পর খ্রিস্টপূর্ব ৫২১ অব্দে সিংহাসনে বসেন ডেরিয়াস (দারায়ুস)
১৪১. পারসিক সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট > ডেরিয়াস
১৪২. ডেরিয়াসের সাম্রাজ্য বিস্তৃত> সিন্ধু নদের তীর পর্যন্ত
১৪৩. আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য সমৃদ্ধির শীর্ষ চূডায় পৌঁছে (ডেরিয়াসের শাসনামলে)
১৪৪. আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য দখল করে > সম্রাট জারজেসের শাসনামলে
১৪৫. ইউরোপের দক্ষিণে অবস্থিত আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগর পরিবেষ্টিত এবং অসংখ্য দ্বীপাঞ্চল সম্বলিত > গ্রীস ; প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান
১৪৬. গ্রীকরা তাদের দেশকে বলতো > হেলাস
১৪৭. গ্রীক সভ্যতার অপর নাম > হেলেনিক সভ্যতা
১৪৮. গ্রীসে জন্মগ্রহণ করেন > আলেকজান্ডার, সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো, হিরোডোটাস, পিথাগোরাস, আর্কিমিডিস, ইউক্লিড
১৪৯. বিশ্বজগৎ যখন সভ্যতার দিকে হাঁটছিল > গ্রিক জাতি তখন জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে চারদিক আলোকিত করছিল
১৫০. বিশ্ব সভ্যতা বহুদিক দিয়ে ঋণী > গ্রিকদের কাছে
১৫১. রোমানদের অবদান বিভক্ত দুভাগে > গ্রীকদের জ্ঞানভান্ডার সজীব রাখা, নতুন উপাদানে বিশ্ব সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়া
১৫২. রোমান সভ্যতার বিকাশ > রোম নগরীকে কেন্দ্র করে
১৫৩. রোম নগরী অবস্থিত > বর্তমানে ইতালির পশ্চিম-দক্ষিণ ভূমধ্যসাগরের উপকূলে
১৫৪. সাতটি টিলার উপর ছিল > রোম নগরী
১৫৫. সাতটি পর্বতের নগরী বলা হয় > রোম নগরীকে
১৫৬. খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ অব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন > নির্বাসিত দুই রাজাপুত্র রোমুলাস ও রেমাস
১৫৭. রোম নগরী নামকরণ করা হয় > রোমুলাসের নামে
১৫৮. রোমান সাম্রাজ্য অখন্ড রাখে > সম্রাট কনস্টানটাইন
১৫৯. অখন্ডতা বিনষ্ট হয় > থিওডোসিয়াস এবং তার পুত্রের শাসনামলে
১৬০. কনস্টানটাইন, থিওডোসিয়াস > খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী
১৬১. সম্রাট জুলিয়ান > খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না ; প্রাচীন হেলেনীয় ধর্মে বিশ্বাসী বা পোত্তলিক
১৬২. সম্রাট হিরাক্লিয়াস পর্যন্ত রোমানদের রাষ্ট্রভাষা ছিল > ল্যাটিন
১৬৩. পরবর্তীতে রোমানরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহন করে > গ্রীক ভাষাকে
১৬৪. থিওডোরাসের পর রোমান সম্রাট> জাসটিনিয়ন
১৬৫. বিশ্বের নিকট রোমান প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সম্পদ > রোমান আইন সংকলন ও সাম্রাজ্য বিস্তার
১৬৬. রোমান আইন সংকলন, প্রকাশনা > সম্রাট জাসটিনিয়নের কীর্তি
১৬৭. অগাস্টাস ছিলেন > রোমান সম্রাট
১৬৮. রোমান সাম্রাজ্য পতনের কারণ > সম্রাটদের দ্বন্দ্ব, বিদ্বেষ, বিলাসিতা, দাসপ্রথা
১৬৯, মহানবী (স.) কর্তৃক প্রেরিত দূতকে সসম্মানে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন > রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস
১৭০. রোমান সংকলন আইন বিশ্বের নিকট রোমান প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সম্পদ > ঐতিহাসিক মায়ার্স
১৭১. মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়ত প্রকাশের পূর্বযুগ আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগ
১৭২. আইয়াম অর্থ যুগ আর জাহেলিয়া অর্থ→ অন্ধকার, কুসংস্কার, বর্বরতা, অজ্ঞতা
১৭৩. যে যুগে আরবদেশে কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মীয় অনুভূতি লোপ পেয়েছে > সে যুগ অন্ধকার যুগ
১৭৪. আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে > হিজাজ এবং এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীদের সময়কাল
১৭৫. উত্তর আরবের সমৃদ্ধশালী নগরী > হীরা
১৭৬. হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) কর্তৃক হীরা অধিকৃত হয় > ৬৩৩ খ্রি.
১৭৭. হীরা দখলে মুসলিম বাহিনীকে স্তম্ভিত করে > হীরার সুরম্য হর্মরাজি (চিত্রে প্রদর্শিত কাল্পনিক সুন্দর হীরা খচিত প্রাসাদ বা অট্টালিকার সারি)
১৭৮. খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর এক বিস্ময়কর প্রতিভা → দক্ষিণ আরবের হিমাইয়ারী রাজ্য
১৭৯. কাবাঘর ধ্বংস করতে যায় > হিমাইয়ারী রাজবংশের অহংকারী বাদশাহ আবরাহা
১৮০. দক্ষিণ আরবকে অন্ধকারাচ্ছন্ন বলা যায় না ⇒ মিনাইয়ান, সাবিয়ান, ও হিমাইয়ারী সভ্যতার উপস্থিতির কারণে
১৮১. উত্তর আরবকে অন্ধকারাচ্ছন্ন বলা যায় না > নুফুদ অঞ্চলে নাবাতিয়ান, পালমির, ঘাসসানি ও লাখমিদ রাজ্যের সমৃদ্ধির কারণে
১৮২. প্রাক-ইসলামি যুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায় > অত্যাচারী হিজাজ ও নজদবাসীর ইতিহাস
১৮৩. নৈরাজ্যের ঘনঘটা বিরাজমান ছিল > হিজাজ ও তৎপার্শ্বস্থ এলাকায়
১৮৪. কুরআন অবতীর্ণ হয় > হিজাজে প্রচলিত আরবী ভাষায়
১৮৫. গোত্রীয় শাসন প্রাধান্য লাভ করে → কেন্দ্রীয় শক্তির নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব না থাকায়
১৮৬. গোত্রপতি বা শেখ নির্বাচনে বিবেচিত হতো > শক্তি, সাহস, আর্থিক স্বচ্ছলতা, অভিজ্ঞতা, বয়োজ্যেষ্ঠতা ও বিচার বুদ্ধি
১৮৭. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সর্বদা সচেতন > গোত্রের লোকেরা
১৮৮. আরব জাতি কলুষিত > গোত্র কলহের বিষবাষ্পে
১৮৯. রক্তপাত করতে কুণ্ঠাবোধ করতো না > গোত্রের মান সম্মান রক্ষার্থে
১৯০. রক্তপাতের সূত্রপাত হতো > তৃণভূমি, পানির ঝর্না এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে
১৯১. ایام العرب বলা হতো > দিনের পর দিন চলমান যুদ্ধকে
১৯২. আরবের মধ্যে চালু ছিল > খুনের বদলা, রক্ত বিনিময় প্রথা
১৯৩. বুয়াস ও ফিজার যুদ্ধের মূল কারণ > উট- ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, পবিত্র মাসের অবমাননা, কুৎসা রটনা ইত্যাদি।
১৯৪. উত্তেজনাপূর্ণ কবিতা পাঠ করে যুদ্ধে রক্ত প্রবাহে মেতে উঠত > বেদুইনগণ
১৯৫. যুদ্ধপ্রিয় গোত্র > আউস, খাযরাজ, কুরাইশ, বনু বকর, বনু তাগলিব, আবস ও জুবিয়ান
১৯৬. আরবেরা মত্ত থাকতো > মদ ও নারী নিয়ে
১৯৭. হযরত মুহাম্মদ (স.) সমগ্র আরবকে দেখতে পান > মুর্খতা, বর্বরতা ও প্রকৃতি পূজায় নিমজ্জিত
১৯৮. গর্হিত কাজ করতে দ্বিধা করতো না > অধিক মদপানের কারণে
১৯৯. আরব সমাজ বলতে বুঝাতো > শহরবাসী ও বেদুইনদেরকে
২০০. কখনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হতো → বংশ মর্যাদা ও কৌলিন্য প্রথা সংরক্ষণে
২০১. জাহেলী যুগে নারীদের স্থান >অতি নিম্নে
২০২. নারীরা ছিল > ভোগবিলাসের সামগ্রী, অস্থাবর সম্পত্তি ও গৃহপালিত পশুর মতো
২০৩. জাহেলী যুগে ব্যাপক ছিল > অবৈধ প্রণয়, অবাধ মেলামেশা ও একই নারীর বহু স্বামী গ্রহণ
২০৪. পুত্র সন্তানের আশায় নারীরা গমন করতো > বহু পুরুষের সান্নিধ্যে
২০৫. স্ত্রীর আধকার ছিল না > বিষয়-সম্পত্তিতে
২০৬. "তোমরা দরিদ্রতার ভয়ে সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমিই তাদের জীবিকা সরবরাহ করে থাকি"> আল্লাহর বাণী
২০৭. মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না > দাস দাসীদের
২০৮. হাট-বাজারে পণ্যদ্রব্যের মতো ক্রয় বিক্রয় হতো > দাস দাসী
২০৯. দাস-দাসীরা বিয়ে করতে পারতো না > প্রভুর বিনা অনুমতিতে
২১০. দাস-দাসীর সন্তানদের মালিক হতো > তাদের মনিব
২১১. কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবরস্থ করতো > দারিদ্রতার ভয়ে
২১২. কন্যা সন্তানকে মনে করতো → অভিশপ্ত, লজ্জাজনক, অপয়া (অলক্ষ্মী)
২১৩. কঠিন অত্যাচারের তীব্র কষাঘাত ছিল > কন্যা সন্তান জন্মদানকারীর ভাগ্যে
২১৪. আরব সমাজে বিদ্যমান ছিল > ব্যভিচার, অনাচার, লুটতরাজ, মদ্যপান, জুয়াখেলা, সুদ, নারীহরণ ইত্যাদি অপকর্ম
২১৫. সুদ আদায়ে অপারগ ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানরা > সুদদাতার হাতে দাসদাসীরূপে বিক্রি হতো হাট বাজারে
২১৬. অধিকাংশ আরব ছিল > জড়বাদী পৌত্তলিক
২১৭. আরবদের প্রকৃতি পূজা ছিল > চন্দ্র, সূর্য, তারকা, বৃক্ষ, প্রস্তরখন্ড, কূপ, গুহা
২১৮. আরবদের মূর্তিপূজা ছিল > আল-লাত, আল-মানাহ ও আল-উজ্জাকে কেন্দ্র করে
২১৯. তায়েফের অধিবাসীদের দেবী > আল লাত ; যা চারকোনা বিশিষ্ট একটি পাথর
২২০. কালো পাথরের তৈরি আল মানাহ > ভাগ্যের দেবী
২২১. আল মানাহ তথা ভাগ্য দেবীর মন্দির ছিল > মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী কুদায়েদ স্থানে
২২২. আল মানাহ দেবীর জন্য বলি দিত > আউস ও খাযরাজ গোত্রের লোকেরা
২২৩. মক্কাবাসীদের অতিপ্রিয় দেবী আল উজ্জাকে সম্মান করতো > কুরাইশরা
২২৪. আল উজ্জা দেবীর মন্দির > নাখলা নামক স্থানে
২২৫. পবিত্র কাবা ঘরে দেবদেবীর মূর্তি ছিল > ৩৬০টি
২২৬. কাবাঘরের সবচেয়ে বড় মূর্তি বা দেবতা > হোবল, যা মনুষ্যাকৃতি, এর পাশে ভাগ্য গণনার শর বা তীর রাখা হতো
২২৭. আরববা পশু ও নর বলি দিত > দেবদেবীর উদ্দেশ্যে
২২৮. আররবা বিশ্বাসী ছিল > মন্ত্রতন্ত্র, যাদু টোনা, ভূত, প্রেত ও ভবিষ্যদ্বাণীতে
২২৯. জাহেলী যুগের বিভিন্ন সম্প্রদায় > পৌত্তলিক, ইইদী, খ্রিস্টান ও হানীফ সম্প্রদায়
২৩০. আসমানী কিতাবের অধিকারী ও একেশ্বরবাদী বলে দাবি করলেও সঠিক ধারণা ছিল না > ইহুদী-খ্রিস্টানদের
২৩১. পৌত্তলিকতার ব্যাপকতায় মূর্তি তৈরির জন্য ছিল> কারিগর শ্রেণী
২৩২. মরুবাসী বেদুইনরা ডাকাতি রাহাজানি ও লুটতরাজ করতো > জীবিকার তাগিদে
২৩৩. "পৃথিবীতে সম্ভবত অন্য কোন জাতি আরবদের ন্যায় সাহিত্য চর্চায় এতবেশি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ প্রকাশ করেনি "> পি. কে. হিট্টি
২৩৪. খ্রিস্টানরা বিশ্বাসী > ত্রিত্ববাদে
২৩৫. এক সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী, পরকাল সম্পর্কে ধারণা ও সৎ জীবন যাপনকারী হানীফ সম্প্রদায়ভুক্ত > ওয়ারাকা বিন নওফেল, যায়েদ বিন আমর ও আবু আনাস
২৩৬. ভৌগোলিক পরিবেশ ও. জীবিকার ভিত্তিতে আরব বাসীদের ভাগ করা > ৫ ভাগে, কৃষিজীবি, ব্যবসায়ী, সুদী, কারিগর, মরুবাসি বেদুইন
২৩৭. কৃষির উপযোগী ভূমি > তায়েফ, ইয়ামেন, মদিনা অঞ্চল
২৩৮. কৃষি কাজে নিয়োজিত > বনু নাজীর, বনু কুরাইযা
২৩৯. উর্বর তায়েফ ভূমিতে উৎপন্ন হতো > তরমুজ, খেজুর, ডুমুর, আঙুর, জলপাই, ইক্ষু
২৪০. আঞ্চলিক বসবাসের ভিত্তিতে আরবরা দুভাগে বিভক্ত > শহরবাসী, মরুবাসী
২৪১. মক্কাবাসী কুরাইশরা বানিজ্য করে > মিসর, সিরিয়া, পারস্য ও ভারতের সঙ্গে
২৪২. ইসলাম পূর্বযুগে বিত্তশালী ব্যবসায়ী > আবু বকর (রা), উসমান (রা), খাদিজা (রা.)
২৪৩. সুদের ব্যবসা ও কারবার করতো > ইহুদি সম্প্রদায়
২৪৪. ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদ ব্যবসায়ীদের দখলে যেত > স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও বিত্ত-সম্পত্তি
২৪৫. মরুবাসী বেদুইনদের জীবিকা > লুটতরাজ, পশুপালন
২৪৬. আরবদের সাহিত্য প্রতিভা প্রকাশ পেত > কবিতার মাধ্যমে
২৪৭. আরব জাতির ইতিহাস লিখিত > লোকগাঁথা, জনশ্রুতির উপর নির্ভর করে
২৪৮. আরবদের রচনা রুচিসম্মত ছিল না > ৫২২ খ্রি. থেকে ৬২২ খ্রি. পর্যন্ত
২৪৯. আরবরা গীতিকাব্য রচনা করত > যুদ্ধের ঘটনা, বংশ গৌরব, বীরত্বপূর্ণ কাহিনী, যুদ্ধের বিবরণ, উটের বিস্ময়করগুনাবলী, নারী, প্রেম ও যৌন সম্পর্কিত
২৫০. বৈদুইনদের সাংস্কৃতিক সম্পদ > কাব্যপ্রীতি
২৫১. উষ্ট্র চালকের ধ্বনিময় সঙ্গীত > হুদা
২৫২. আরবদের উৎকৃষ্ট কাব্যরীতি > কাসীদা
২৫৩. সর্বপ্রথম দীর্ঘ কবিতা রচনা করেন → বসুস যুদ্ধে তাঘলিব বীর মুহালহিল
২৫৪. মক্কার অদূরে উকাযের বাৎসরিক মেলাকে 'Academic Francaise' বলেছেন > হিট্রি
২৫৫. السبع المعلقات বা সাতটি ঝুলন্ত গীতি কবিতা ঝুলানো হতো > উকাযের মেলায়
২৫৬. সোনালী হরফে লিখিত ৭টি গীতি কবিতার কবিগণ > আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ বিন রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, তারাফা ইবনে আবদ, হারিস ইবনে হিলজা, জুহাইর ইবনে আবি সালমা
২৫৭. আরবদের শেক্সপিয়র > ইমরুল কায়েস
২৫৮. প্রাক-ইসলামি যুগের শ্রেষ্ঠ কবি > ইমরুল কায়েস
২৫৯. প্রতি সপ্তাহে সাহিত্য আসরের আয়োজক বা উদ্যোক্তা > তাকিব গোত্রের ইবনে সালাময়
২৬০. আরবদের সাহিত্য আসরে অনুষ্ঠিত হতো > কবিতা পাঠ, সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা-সমালোচনা
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাক্কী জীবন (৫৭০- ৬২২ খ্রি.)
২৬১. আরবদের অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ বলতে বুঝায় > হযরত মুহাম্মদ (স) নবুয়ত প্রকাশের তথা ৬১০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে হিজাজের অবস্থা
২৬২. হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আবির্ভাব > ৫৭০ খ্রি. ১২-ই রবিউল আউয়াল সোমবার প্রভাতে মক্কা নগরে মা আমিনার কোলে
২৬৩. মুহাম্মদ (স.) এর নবুয়ত প্রকাশ ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রি.
২৬৪. মক্কায় অবস্থান > ৫৩ বছর ; মদীনায় ১০ বছর
২৬৫. মুহাম্মদ (স.) এর বংশ -- ইবরাহীম > ইসমাইল > আদনান > মাআদ > নিযার > মুদার > ইলিয়াস > মুদরিকাহ > খুযাইমাহ > কিনানাহ > নদর > মালিক > ফিহর (কুরাইশ) > গালিব > লুআই > কা'ব > মুররা > কিলাব > কুশাই → আবদে মানাফ > আবদুল হাশিম > আব্দুল মুত্তালিব > আব্দুল্লাহ → হযরত মুহাম্মদ (স.)
২৬৬. খ্রিস্টীয় ৩য় শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি → ফিহর
২৬৭. কুরাইশ নামকরণ করা হয় > ফিহর এর অপর নাম কুরাইশ হিসেবে
২৬৮. কুরাইশ অর্থ → সওদাগর
২৬৯. কাবা ঘরের সংস্কার ও তীর্থ যাত্রীদের সেবাযত্ন করায় প্রসিদ্ধি লাভ করেন- কুশাই
২৭০. মক্কার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা-- কুশাই > আব্দুদ্দার > ভাই আবদে মানাফ > পুত্র আব্দুশ শামস > ভাই হাশিম > ভাই মুত্তালিব > ভাতিজা আব্দুল মুত্তালিব
২৭১. বীরত্ব ও দানশীলতায় বিখ্যাত ছিলেন হাশিমের ভাই মুত্তালিব
২৭২. আব্দুল মুত্তালিব নাম দেওয়া হয় > দানশীল মুত্তালিবের ক্রীতদাস মনে করে
২৭৩. আবিসিনিয়ার বাদশাহ কাবাঘর ধ্বংসের জন্য আসে > ৫৭০ খ্রি
২৭৪. আব্দুল মুত্তালিব ইন্তিকাল করেন > ৫৯ বছর বয়সে
২৭৫. আব্দুল মুত্তালিবের ছিল > ১২ পুত্র, ৬ কন্যা
২৭৬. আব্দুল মুত্তালিবের কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন > আব্দুল্লাহ
২৭৭. আব্দুল্লাহ শাদী করেন > মদীনার বানু জোহরা গোত্রের নেতা আব্দুল ওয়াহাবের কন্যা আমেনাকে
২৭৮. আব্দুলাহ ইন্তিকাল করেন > সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মদীনার উপকণ্ঠে ২৫ বছর বয়সে
২৭৯. হযরত মুহাম্মদ এর উর্ধ্বতন একাদশ পুরুষের নাম > ফিহর বা কুরাইশ
২৮০. মুহাম্মদ নাম রাখেন > দাদা আব্দুল মুত্তালিব
২৮১. আহমদ নাম রাখেন > মাতা আমিনা (রা.)
২৮২. মুহাম্মদ অর্থ অধিক প্রশংসিত আহমদ অর্থ অধিক প্রশংসাকারী
২৮৩. মহানবী (স.) মায়ের দুধ পান করেন > জন্মের পর প্রথম ৭ দিন
২৮৪. হালিমাতুস সাদিয়ার গৃহে লালিত পালিত হন > ৫ বছর বয়স পর্যন্ত
২৮৫. হালিমাতুস সাদিয়ার কাছে থাকাকালে আয়ত্ত করেন > বিশুদ্ধ আরবি ভাষা
২৮৬. দুজন ফেরেশতা সিনা চাক করেন> ৪ বছর বয়সে
২৮৬. মা আমিনা (রা.) মদিনা থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন > আবওয়া নামক স্থানে
২৮৭. মাতার ইন্তেকালের পরে তাঁকে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে পৌঁছে দেন > দাসী উম্মে আইমান
২৮৭. মাতার ইন্তেকালের পরে তাঁকে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে পৌঁছে দেন > দাসী উম্মে আইমান (রা.)
২৮৮. দাদা আব্দুল মুত্তালিব এর কাছে লালিত হন > মাত্র দু'বছর ; আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন > ৫৭৯ খ্রি.
২৮৯. আবু তালিবের উট ও মেষ চরাতেন ; মক্কায় তীর্থযাত্রীদের পানি পান করাতেন > রাসূলুল্লাহ (স.)
২৯০. দ্বিতীয়বার সিনা চাক করা হয় > ১০ বছর বয়সে
২৯১. চাচার সাথে বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়া গমন করেন > ১২ বছর বয়সে ৫৮২ খ্রি.
২৯২. সিরিয়া যাত্রা কালে মহানবী (স.) কে শেষ নবী হিসেবে চিনতে পারেন > পাদ্রী বুহাইরা
২৯৩. ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় গমন করেন > ৩ বার
২৯৪. বাল্যকালে লাত ও উজ্জার নামে কোন কাজ করার কথা বললে রাসূলুল্লাহ (স.) বলতেন > এই মূর্তিগুলোর দোহাই দিয়ে তোমরা আমাকে কিছুই বলো না
২৯৫. অশ্ব, বর্শা ও তলোয়ার চালনা শিক্ষা গ্রহণ করেন> চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে
২৯৬. আল-আমীন উপাধি পান > কর্মনিষ্ঠা, সত্যবাদিতা, নম্রতা, আত্মবিশ্বাস এর জন্য
২৯৭. মক্কার উকায মেলায় ভয়াবহ যুদ্ধ হয় > জুয়া খেলা, ঘোড়াদৌড় ও কাব্য প্রতিযোগিতা নিয়ে মেলার সংগঠিত যুদ্ধকে বলা হয় হারবুল ফুজ্জার বা পাপাচারীদের যুদ্ধ
২৯৮. হারবুল ফুজ্জার স্থায়ী হয়েছিল > পাঁচ বছর ; সংঘটিত হয়েছিল কুরাইশ ও কায়েস বংশের মধ্যে
২৯৯. হারবুল ফুজ্জারে রাসূলুল্লাহ (স.) চাচার হাতে তুলে দিতেন > নিক্ষিপ্ত তীর
৩০০. আর্ত- পীড়িত, অসহায়, গরীব, দুর্বল ও অত্যাচারিতকে জালেম ও ধনীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য, আরবে শান্তি বজায় রাখার জন্য শান্তিপ্রিয় যুবকদের নিয়ে গঠন করেন> হিলফুল ফুযূল বা শান্তি সংঘ
৩০১.হিলফুল ফুজুলের উদ্দেশ্য ছিল > ৫টি
৩০২. রূপেগুনে বংশ মর্যাদায় হিজাজের অদ্বিতীয়া > খাদিজাতুল কুবরা (রা.)
৩০৩. চরিত্রের পবিত্রতা, স্বাভাবিক শুদ্ধাচারের জন্য মক্কাবাসীরা অভিহিত করেছিল > খাদিজাতুত তাহিরা বা নিষ্কলঙ্ক খাদিজা নামে
৩০৪. মা খাদিজা (রা.) কে স্ত্রী হিসেবে বরণ করেন রাসূলুল্লাহ (স.) > আবু তালেবের অনুমতি নিয়ে
৩০৫. বিবাহের সময় রাসূলুল্লাহ (স.) এর বয়স > ২৫ বছর আর মা খাদিজা (রা.) এর বয়স > ৪০ বছর
৩০৬. রাসূলুল্লাহ (স.) এর সাথে মা খাদিজা (রা.) সংসার করেন > ২৫ বছর
৩০৭. খাদিজার গর্ভে রাসূলুল্লাহ (স.) এর ২ পুত্র > কাসেম, আব্দুল্লাহ (আব্দুল্লাহ এর ডাকনাম তৈয়ব ও তাহের) ; ৪ কন্যা > জয়নাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা তুয যুহরাহ ; মারিয়া কিবতীর গর্ভে ১ পুত্র - ইবরাহীম , সুতরাং পুত্র-কন্যা মোট ৭ জন
৩০৭. বিশ্বের সর্বপ্রধান ইবাদত খানা > কাবাঘর
৩০৮. কাবাগৃহ নির্মাণ শেষে কুরাইশদের বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়> হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর স্থাপন নিয়ে
৩০৯. হাজারে আসওয়াদ স্থাপন দ্বন্দ্বে ৪ দিন পরে যখন সকল গোত্র যুদ্ধ করতে প্রস্তুত , তখন আবু উমাইয়া বললেন > স্থির হও, স্থির হও, আমার কথা শোনো
৩১০. জ্ঞানবৃদ্ধ আবু উমাইয়ার প্রস্তাব > যে ব্যক্তি আগামীকাল সর্বপ্রথম কাবা গৃহে প্রবেশ করবে তিনিই এ বিবাদের ফয়সালা দিবেন । তিনি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সকলেই তা মেনে নেবে।
৩১১. রাসূলুল্লাহ (স.) হাজরে আসওয়াদ পুনরায় স্থাপন করেন> ৩৫ বছর বয়সে
৩১২. রাসূলুল্লাহ (স.) প্রতিবছর মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানে মগ্ন থাকতেন > এক মাস / ৪০ দিন
৩১৩. আল্লাহর পক্ষ হতে ওহিপ্রাপ্ত হন > ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের ২৭ তারিখ হেরাগুহায় জিবরাঈল (আ.) এর মাধ্যমে
৩১৪. মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান গ্রহণকারী > খাদিজাতুল কুবরা (রা.)
৩১৫. গোপনে ইসলাম প্রচার করেন > প্রথম ৩ বছর
৩১৬. খাদিজা (রা.) এর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন> হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), হযরত যায়েদ (রা.), হযরত বিলাল (রা.), হযরত উসমান (রা.), হযরত আব্দুর রহমান (রা.), হযরত সাদ (রা.), হযরত তালহা (রা.), হযরত যুবায়ের (রা.)
৩১৭. রুহুল কুদ্দুস তথা পবিত্র আত্মা > ফেরেশতা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম
৩১৮. প্রথম পর্যায়ে লাওহে মাহফূজ থেকে সম্পূর্ণ কুরআন মাজিদ একই সাথে নাযিল হয়> রমজান মাসের কদর রজনীতে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে বাইতুল ইযযাতে
৩১৯. সর্বপ্রথম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে রাসূলুল্লাহ (স.) এর চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় লাইলাতুল কদর রজনীতে অবতীর্ণ হয় > সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত
৩২০. প্রথম দিকে নাযিল হয় আল্লাহর অস্তিত্ব তাঁর একত্ববাদ ও পরকালের নিশ্চয়তা বিষয়ক সূরা
৩২১. হিজরতের পরে নাযিল হয় সামাজিক, নৈতিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক আইন কানুন বিষয়ক সূরা
৩২২. মাক্কী সূরা > ৮৬ মতান্তরে ৯২; মাদানী সূরা > ২৮ মতান্তরে ২২
৩২৩. পবিত্র কোরআনের সূরা > ১১৪টি, আয়াত > ৬২৩৬টি, শব্দ > ৭৭৯৩৪টি, অক্ষর > ৩২৩৬২১টি
৩২৪. প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন > ৬১৩ খ্রিস্টাব্দে
৩২৫. দুনিয়ায় সম্পূর্ণ কুরআন দীর্ঘ ২৩ বছরে নাযিল হয় > অবস্থা, প্রয়োজন ও বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে।
৩২৬. মক্কার সকল গোত্রের সর্দারকে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেন > মক্কার অদূরবর্তী ছাফা পর্বতের চূড়ায়।
৩২৭. মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ > আবু সুফিয়ান, আবু লাহাব, আবু জাহল
৩২৮. হযরতকে নির্যাতনের ধরন > ঠাট্টা- বিদ্রুপ, উপহাস, ধর্মদ্রোহী আখ্যা, পাগল সম্বোধন, প্রস্তারাঘাত, আবর্জনা নিক্ষেপ, অপমান, অত্যাচার-নির্যাতন, লাঞ্ছনা, প্রলোভন
৩২৯. কুরাইশদের তাওহীদের বিরোধিতার কারণ > তারা মূর্তিপূজক, জড়বাদ, পৌত্তলিক
৩৩০. কুরাইশরা প্রতিজ্ঞা করল > দেহে প্রাণ থাকতে তারা কখনো তাদের পূর্ব-পুরুষদের পৌত্তলিকতা বিসর্জন দিবে না।
৩৩১. ইসলামের আদর্শ ছিল > কুরাইশদের স্বার্থ বিরোধী
৩৩২. কুরাইশদের বিরোধিতার কারণ > কাবাঘরের পৌরোহিত্যে ও রক্ষণাবেক্ষণে কুরাইশদের প্রচুর অর্থ উপার্জনের পথরুদ্ধ
৩৩৩. আবিসিনিয়ায় ১ম- ২য় হিজরত ছিল > মদিনায় হিজরতের সূচনা ও পূর্বাভাস
৩৩৪. কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ (স.) ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বয়কট নীতি প্রচলন করল > নবুয়তের ৬ষ্ঠ বছর ৬১৬ খ্রি.
৩৩৫. কুরাইশরা মুসলমানদের যেসব বিষয়ে বয়কট করলো > বেচা-কেনা, সামাজিক লেনদেন, কথাবার্তা , কন্যা গ্রহণ বা কন্যাদান এবং যে কোন প্রকার সাহায্য
৩৩৬. কুরাইশদের প্রতিজ্ঞাপত্রটি বলব থাকবে > যতদিন না মুসলমানরা মুহাম্মদ (স.) কে হত্যা করার জন্য তাদের কাছে সমর্পণ করবে
৩৩৭. রাসূলুল্লাহ (স.) ও মুসলমানরা শিবু আবি তালিবে বন্দি থাকেন > ৩ বছর
৩৩৮. আমুল হুযন বা দুঃখের বছর > নবুয়তের দশম বছর ৬১০ খ্রি.
৩৩৯. চাচা আবু তালেব ইহলোক ত্যাগ করেন > ৮৩ বছর বয়সে
৩৪০. চাচা আবু তালেব বলেন > "এই মসজিদের মালিকের শপথ! আমার আহমদকে কখনো তাদের হাতে সমর্পণ করব না, কালনাগিনী তার সমস্ত ভয়াবহতা দিয়ে দংশন করলেও নহে।"
৩৪১. চাচা আবু তালেবের পর মা খাদিজা ইন্তেকাল করেন > ৬৫ বছর বয়সে
৩৪২. রাসুলুল্লাহ (স.) এর শৈশবের আশ্রয়স্থল, যৌবনের অভিভাবক, একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন > পিতৃব্য আবু তালিব
৩৪৩. রাসূলুল্লাহ (স.) গৃহদ্বারে কাঁটা বিছিয়ে রাখতেন > কুরাইশরা
৩৪৪. রাসূলুল্লাহ (স.) নামাজরত অবস্থায় কুরাইশরা > উটের নাড়িভুঁড়ি বা সদ্যপ্রসূত ছাগির ফুল মাথার উপর চাপিয়ে দিত, ওকবা কর্তৃক গলায় চাদর পেঁচিয়ে মোড়ানো
৩৪৫. মা খাদিজা ও চাচা আবু তালেবের ইন্তেকালের পর কুরাইশরা > হযরতকে দল বেঁধে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো, গালি দিতো, খাদ্যদ্রব্যে জীবজন্তুর মলমূত্র মিশিয়ে দিতো, ঘৃণ্য আবর্জনাদি তাঁর দেহে নিক্ষেপ করতো
৩৪৬. রাসূলুল্লাহ (স.)তায়েফে যাত্রা করেন > ভক্ত পালিত পুত্র হযরত যায়েদকে সঙ্গে নিয়ে
৩৪৭. মক্কা থেকে তায়েফের দূরত্ব > ৭০ মাইল
৩৪৮. রাসূলুল্লাহ (স.) তায়েফে ১০ দিন অবস্থান করেন > তায়েফবাসীদের কে সত্য ন্যায়ের পথে আনয়নের জন্য
৩৪৯. রাসূলুল্লাহ (স.) এর প্রতি তায়েফবাসীদের অত্যাচার > ইট পাথর মারতে মারতে তাঁর পিছু ছুটতো, রাস্তার দুপাশে বসে হযরত এর চরণ যুগলের উপর প্রস্তর বর্ষণ করতো
৩৫০. তায়েফবাসীর প্রতি রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া > "হে আল্লাহ ! হে আমার প্রভু ! অপরাধীরা আজ বুঝে না যে গুরুতর অপরাধ করেছে, সেজন্য তুমি দয়া করে তাদেরকে শাস্তি দিও না ; বরং ক্ষমা করে দাও । তাদের কোন দোষ নেই । সে আমারই দুর্বলতা, আমারই অক্ষমতা। এ দুর্বলতার জন্য তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি ।"
৩৫১. রাসুলুল্লাহ অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেন > মক্কার অনতিদূরে নাখলা নামক স্থানে
৩৫২. রাসূলুল্লাহ (স.) কে তায়েফ থেকে মক্কায় পৌঁছে দেন > মুতইম ইবনে আদী
৩৫৩. রাসুলুল্লাহ (স.) ব্যাপক আকারে ইসলামের দাওয়াত দেন > মুতইম ইবনে আদির আশ্রয়ে আসার পর
৩৫৪. রাসূলুল্লাহ (স.) এর মিরাজ সংগঠিত হয় > ৬২০ খ্রি. নবুয়তের দশম বছরে রজব মাসের ২৭ তারিখ সোমবার
৩৫৫. সকল নবী ও রাসূলদেরকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) নিজের ইমামতিতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন > বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে
৩৫৬. সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলেন > ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমি আর এক বিন্দু সামনে অগ্রসর হতে পারবো না। কেননা অগ্রসর হলে আল্লাহর নূরের তাজাল্লিতে আমি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাব ।
৩৫৭. আল্লাহ তাআলা ও রাসুলুল্লার মধ্যে সালাম বিনিময় ও কুশলাদী শেষে জান্নাত জাহান্নাম পরিদর্শন করে দুনিয়ায় ফিরে আসেন > পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য
৩৫৮. মিরাজের ঘটনা শুনা মাত্রই সর্বপ্রথম বিশ্বাস করেছিলেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৩৫৯. মিরাজ ভ্রমণে সময় ব্যয় হয়েছিল > রাতের কিয়দাংশ মাত্র
৩৬০. রাসুলুল্লাহ ইসলামের দাওয়াত দিতেন > যারা মক্কায় হজের উদ্দেশ্য ও বাণিজ্যের জন্য আসতো
৩৬১. আকাবা নামক স্থান > মক্কা থেকে একটু দূরে
৩৬২. রাসুলুল্লাহর নবুওয়াতের দাবী সম্পর্কে আকাবা নামক স্থানে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন > মদিনাবাসী খাজরাজ বংশীয় ৬ জন লোক
৩৬৩. আকাবার প্রথম শপথে রাসূলুল্লাহ (স.) কুরআন শরীফের কয়েকটি আয়াত পাঠ করে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন > ৬ জন
৩৬৪. ইসলাম ধর্ম শিক্ষার জন্য রাসূলুল্লাহ (স.) ইয়াসরিবে প্রেরণ করেন > হযরত মুসআব (রা.) কে
৩৬৫. নবুয়তের একাদশ বছরে আকাবার দ্বিতীয় শপথ গ্রহণ করেন > আউস, ও খাযরাজ বংশীয় ১২ জন মদিনাবাসী
৩৬৬. আকাবার দ্বিতীয় শপথে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার জন্য মদিনায় প্রেরণ করেন > দুজন প্রতিনিধি
৩৬৭. আকাবার দ্বিতীয় শপথের পর বহুলোক ইসলাম গ্রহণ করেন > হযরত মুসআব ও ওয়াইমের (রা.) এর হাতে
৩৬৮. উসায়েদ ইবনে হোযায়ের ও সাদ ইবনে খাইসাম (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন > আকাবার দ্বিতীয় শপথের পর
৩৬৯. আউস গোত্রের সকল নরনারী মুসলমান হয়ে যান > উসাঈদ ইবনে হোযায়ের ও সাদ ইবনে খাইসাম (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর
৩৭০. আকাবার তৃতীয় শপথে ইসলাম গ্রহণ করেন
> ৭১ জন পুরুষ ২ জন নারী
৩৭১. আকাবার তৃতীয় শপথে ৭৩ জন ইসলাম গ্রহণের পর রসূলুল্লাহ ইসলাম প্রচারের জন্য নিয়োগ করেন > ১২ জন নকীব বা প্রচারক
৩৭২. মক্কায় মুসলমানদের উপর অত্যাচার শুরু হলে তারা ইয়াসরিবের দিকে যেতে থাকেন > ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে
৩৭৩. আবিসিনিয়ায় হিজরত করা ২০০ জন মুসলমান > ইয়াসরিবে আশ্রয়ে গ্রহণ করেন
৩৭৪. রাসূলুল্লাহ (স.) মদীনা হিজরত করেন > কুরাইশরা গৃহ অবরোধ করলে
৩৭৫. রাসূলুল্লাহ (স.) হিজরত করেন > হযরত আলী (রা.) কে বিছানায় শায়িত রেখে আবু বকরকে সঙ্গে নিয়ে দুটি উটের পৃষ্ঠে চড়ে
৩৭৬. রাসূলুল্লাহ (স.) আবু বকর (রা.) সহ সওর পর্বত গুহায় আত্মগোপন করেন > ৩ দিন
৩৭৭. সওর পর্বত গুহায় খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতেন > আবুবকরক(রা.) এর পুত্র আব্দুল্লাহ ও কন্যা আসমা (রা.)
৩৭৮. মক্কা থেকে ইয়াসরিবের এর দূরত্ব > ২৫০ মাইল
৩৭৯. রাসূলুল্লাহ ( স.)অবশেষে কুবায় পৌঁছলেন > ৬২২ খ্রি. ২৪ সেপ্টেম্বর ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে
৩৮০. রাসুলুল্লাহ ( স.) প্রথমে কুবা নামক স্থানে পৌঁছে ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে রাখেন > মদিনাতুন নবী বা নবীর শহর
৩৮১. হিজরী সনের প্রবর্তন করেন > উমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (স.) এর হিজরতের ১৭ বছর পর মহররম মাসের প্রথম দিন ; সন গণনা শুরু করেন > ৬২২খি. ১৬ই জুলাই হতে
৩৮২. উমর (রা.) হিজরী সনের প্রবর্তন করেন > রাসূলুল্লাহ (স.) এর হিজরতকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য
৩৮৩. প্রাথমিক পর্যায়ে নিজ জন্মভূমিতে দ্বীন প্রচারে সক্ষম হন নি >বহু নবী রাসূল গণ
৩৮৪. মক্কায় ইসলাম প্রচার করেন > গোপনে ৩ বছর প্রকাশ্যে ১০ বছর
৩৮৫. মদিনার আউস ও খাযরাজ গোত্র আদিবাসী ছিলেন > ইয়ামেনের
৩৮৬. মদিনার ৩ ইহুদি গোত্র > বনু কাইনুকা, বনু নাজির, বনু কুরাইযা
৩৮৭. রাসূলুল্লাহ (স.) এর পিতা আব্দুল্লাহ ও প্রপিতামহ হাশিম বিয়ে করেন > মদিনায়
৩৮৮. রাসূলুল্লাহ (স.) এর পিতা আব্দুল্লাহ (রা.) এর কবরও > মদীনার উপকণ্ঠে।
৩৮৯. দারুন নাদওয়া পরামর্শ সভায় নবীজীকে হত্যা করার জন্য হত্যাকারী কমিটি গঠিত হয়> আবু জাহলের নেতৃত্বে
৩৯০. রাসূলুল্লাহ (স.) রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ত্যাগ করেন > আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সাথে নিয়ে
৩৯১. মক্কায় ইসলাম প্রচার ছিল > মন্থর গতিতে এবং কন্টকাকীর্ণ
৩৯২. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মে পরিণত হয় > হিজরতের ফলে
৩৯৩. মহানবী (স.) রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবির্ভূত হন > মদিনায় হিজরতের ফলে
৩৯৪. মক্কায় ধর্ম প্রচারক ছিলেন আর মদিনায় ছিলেন > একাধারে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসক, কূটনীতিবিদ
৩৯৫. রাসূলুল্লাহ (স.) হিজরত করেন > লোহিত সাগরের উপকূল হয়ে
৩৯৬. মক্কা থেকে মদীনায় হযরতের সুপরিকল্পিত প্রস্থানকে বলা হয় > হিজরত
৩৯৭. রাসূলুল্লাহ (স.) কে হত্যা করার জন্য প্রত্যেক গোত্র থেকে এক এক জন যুবক নিয়ে হত্যাকারী দল গঠন করা হয় > আবু জাহলের নেতৃত্বে
৩৯৮. ইসলামের বাণী দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে > হিজরতের ফলে
৩৯৯. ইয়ামান, রোম ও পারস্যের শাসনকর্তাদের ইসলামের দাওয়াত দেন > দূত প্রেরণের মাধ্যমে
৪০০. ইয়াছরিবের নাম পরিবর্তন
করে রাখা হয় > মদীনাতুন্নবী বা নবীর শহর
দাখিল ইসলামের ইতিহাস-দ্বিতীয় অধ্যায়
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাদানী জীবন:
৪০১. মদীনার যে দুটি গোত্র পরস্পর হিংসাত্মক কলহ-বিবাদে লিপ্ত ছিল > আউস ও খাযরাজ
৪০২. মদীনার ইহুদি ৩টি শাখায় বিভক্ত > বনু কাইনুকা, বনু নাজির, বনু কুরাইজা
৪০৩. রাসূলুল্লাহ (স.) কর্তৃক নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ > মসজিদে কুবা; মদীনায় ইসলামের প্রথম মসজিদ > মসজিদে নববী
৪০৪. মক্কা থেকে হিজরতকারী মুসলমানদের বলা হয় > মুহাজিরিন
৪০৫. মুহাজিরদের আশ্রয়দানকারী মদিনার মুসলমানদের বলা হয় > আনসার বা সাহায্যকারী
৪০৬. মদীনায় পাঁচ শ্রেণীর অধিবাসী > মুহাজিরিন, আনসার, ইহুদি, খ্রিস্টান, মুশরিক
৪০৭. মদীনার মুনাফিক নেতা > আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল
৪০৮. মদীনার সমস্যার সমাধানে পৌত্তলিক, ইহুদি, আনসার ও মুহাজিরদের জন্য যে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন > তা মদিনা সনদ
৪০৯. কিতাব আর রাসূল, সহিফা রাসূল সংক্ষেপে > মদিনার শাসনতন্ত্র বা মদিনার সনদ ; সনদের ধারা > ৪৭ টি মতান্তরে ৫৩ টি
৪১০. মুসলমান ও অমুসলমান সকলে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে > মদিনার সনদের ধারা
৪১১. মদীনা সনদে অঙ্গীকারাবদ্ধ লোকদের জন্য > ইয়াসরিব একটি পবিত্র উপত্যকা
৪১২. পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান > মদীনা সনদ
৪১৩. মহানবী (স.) সর্বপ্রথম জনগণের মঙ্গলার্থে প্রতিষ্ঠা করেন > আইনের শাসন
৪১৪. মদীনা প্রজাতন্ত্র পরবর্তীকালে স্থাপন করে > বৃহত্তম ইসলামী সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল > পি.কে. হিট্টি
৪১৫. আল্লাহ 'সৎ ও ধর্মভীরুদের' রক্ষাকারী, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসূল > মদিনা সনদের ধারা
৪১৬. এই সনদে যা আছে তার সত্যতার সাক্ষী ও রক্ষাকারী > আল্লাহ তায়ালা
৪১৭. মদীনা সনদের ধারাগুলো থেকে প্রতীয়মান > মদীনা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র
৪১৮. যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার, সামাজিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক মর্যাদাবোধ, আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস, যোগ্য রাষ্ট্রপ্রধান থাকে > কল্যাণকর রাষ্ট্র
৪১৯. পবিত্র মক্কাবাসী মহানবী (স.) এর সঙ্গে প্রথম যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায় > গাজওয়ায়ে বদর বা বদর যুদ্ধ
৪২০. মদীনার প্রাধান্য খর্ব করার জন্য গোপনে ষড়যন্ত্র করে মদিনার খাযরাজ বংশীয় মুনাফিক নেতা > আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই
৪২১. কোন দিনই মুসলমানদের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব প্রকাশ করেনি > ইহুদিগণ
৪২২. মদীনা সনদের শর্ত লঙ্ঘন করে কুরাইশদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও গুপ্ত সংবাদ প্রেরণ করে > মদিনার ইহুদিগণ
৪২৩. সমগ্র মদীনা বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতায় ভরে গিয়েছিল > সৈয়দ আমির আলী
৪২৪. মদীনা অবস্থিত > মক্কা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বাণিজ্য পথে
৪২৫. মক্কার কুরাইশরা যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে > মদীনা ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে কুরাইশরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্যে করার সুযোগ হারানোর ভয়ে
৪২৬. মদীনার সীমান্তবর্তী এলাকায় মুসলমানদের শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দিত, ফলবান বৃক্ষ ধ্বংস করত, উট-ছাগল অপহরণ করত > কুরাইশগণ বা তাদের সাহায্যকারী আরব গোত্র
৪২৭. রাসূলুল্লাহ (স.) আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশের নেতৃত্বে ১২ জনের গোয়েন্দা দল মদীনার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রেরণ করেন > কুরাইশদের আক্রমণ ও লুটতরাজ বন্ধ করার জন্য
৪২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ ভুলক্রমে মক্কার কাফেলার ৪ জন যাত্রীর উপর আক্রমণ করলে > নাখলার খন্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়
৪২৯. নাখলার খন্ডযুদ্ধে > নিহত কুরাইশ নেতা আমর বিন হাযরামি ; বন্দি অপর ২ জন ; পলাতক ১ জন
৪৩০. আবু সুফিয়ান কাফেলা নিয়ে সিরিয়া গিয়েছিল > অস্ত্র সংগ্রহের জন্য বাণিজ্যের অজুহাতে
৪৩১. নাখলার খন্ড যুদ্ধের পর ভিত্তিহীন জনরব উঠে > আবু সুফিয়ানের কাফেলা মদিনার মুসলমান অধিবাসী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে
৪৩২. আবু সুফিয়ানের সাহায্যার্থে রওয়ানা হয় > আবু জাহল ১০০০ সৈন্য নিয়ে
৪৩৩. "আল্লাহর পথে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে " > বদর যুদ্ধ সম্পর্কে আল্লাহর ওহী
৪৩৪. বদর যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > মাত্র ৩১৩ জন
৪৩৫. বদর উপত্যকা অবস্থিত > মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে
৪৩৬. বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬২৪ খ্রি. ১৩ই মার্চ ; ২য় হিজরী, ১৭ই রমজান, জুমাবার
৪৩৭. বদর যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যের সমাবেশ এমন স্থানে > যেখানে সূর্যকিরণ চোখে পড়বে না
৪৩৮. আমির হামজা (রা.), হযরত আলী (রা.) ও আবু ওবায়দা (রা.) এর সাথে মল্লযুদ্ধের মোকাবেলায় > কুরাইশ নেতা উতবা, শায়বা, ওয়ালিদ বিন উতবা শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত হয়
৪৩৮. বদর যুদ্ধে কুরাইশ সৈন্য নিহত > ৭০ জন ; বন্দী > ৭০ জন ; মুসলিম সৈন্য শাহাদাত বরণ > ১৪ জন
৪৩৯. বদর যুদ্ধে আল্লাহ ফেরেশতা প্রেরণ করেন > ক্রমাগত ১০০০, ৩০০০, ৫০০০ ফেরেশতা
৪৪০. বদর যুদ্ধে কুরাইশ বন্দীদের মুক্তিপণ > ৪ হাজার দিরহাম
৪৪১. মুক্তিপণ দিতে অক্ষম ব্যক্তিরা ২টি শর্তে মুক্তি লাভ করে > মুসলমানদের বিরোধিতা না করার প্রতিশ্রুতি প্রদান ও মুসলিম বালককে শিক্ষাদান
৪৪২. ইসলাম ধর্ম নিজেই একটি রাষ্ট্রে পরিণত হল > বদর যুদ্ধ বিজয়ে
৪৪৩. বদর যুদ্ধের পূর্বে রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ব্যতিরেক ইসলাম শুধু ধর্ম ছিল । এখন ইসলাম একটি রাষ্ট্রের ধর্মে পরিণত হল > পি. কে. হিট্টি
৪৪৪. আবু জাহল ও উতবা প্রাণ হারালো > বদর যুদ্ধে
৪৪৫. আবু সুফিয়ান প্রতিজ্ঞা করে > বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণ না করা পর্যন্ত নারী ও তৈল স্পর্শ করবে না
৪৪৬. দুর্ধর্ষ বেদুইন সম্প্রদায়কে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে > ইহুদী কবি কাব বিন আশরাফ কবিতা রচনা করে
৪৪৭. মদিনার ক্রমাগত বৃদ্ধিতে গাত্রদাহ দেখা দেয় > উমাইয়া নেতা আবু সুফিয়ানের
৪৪৮.কুরাইশ গোত্রের দুটি শাখা হাশেমী-উমাইয়া পুরনো দ্বন্দ্ব জেগে ওঠে >বদর যুদ্ধের পর
৪৪৯. উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬২৫ খ্রি.
৪৫০. উহুদ উপত্যকা > মদিনার ৫ মাইল পশ্চিমে
৪৫১. উহুদ যুদ্ধে কাফের সৈন্য সংখ্যা > ৩০০ উষ্ট্রারোহী ২০০ অস্বারোহীসহ ৩ হাজার সশস্ত্র সৈন্য
৪৫২. উহুদ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ১০০ জন বর্মধারী ৫০ জন তীরন্দাজসহ মাত্র ৭০০ মুজাহিদ বাহিনী
৪৫৩. মুসলিম বাহিনীর ১০০০ সৈন্য থেকে পথিমধ্যে ৩০০ সৈন্য নিয়ে পলায়ন করে > মুনাফিক সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই
৪৫৪. মুসলিম শিবিরের পশ্চাতে বাম পাশে গিরিপথে পাহারায় নিযুক্ত ৫০ জন তীরন্দাজ > আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের নেতৃত্বে
৪৫৫. উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দুটি দন্ত মোবারক শহীদ হয় > কুরাইশ গোত্রের ইবনে কামিয়ার নিক্ষিপ্ত প্রস্তরাঘাতে
৪৫৬. উহুদ যুদ্ধে আমির হামজা (রা.) সহ মুসলিম সৈন্য শহীদ হন > ৭০ জন
৪৫৭. আমির হামজা (রা.) এর হৃদপিণ্ড বা কলিজা চর্বণ করে > আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা
৪৫৮. উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহর নির্দেশ > "জয় বা পরাজয় কোন অবস্থাতেই মুসলিম তীরন্দাজ বাহিনী যেন গিরিপথ অতিক্রম না করে "
৪৫৯. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম নিহত হয়েছেন গুজব ছড়িয়ে পড়ে > উহুদ যুদ্ধে
৪৬০. রাসূলুল্লাহ (স.) নিহত হওয়ার গুজব উঠে > মুসআব (রা.) শহীদ হলে এবং রাসূলুল্লাহ (স.) এর চেহারার সাথে তার মিল থাকার কারণে
৪৬১. মুসলমানদের জন্য ঈমান ও ধৈর্যের অগ্নিপরীক্ষা > উহুদ যুদ্ধ
৪৬২. রাসূলুল্লাহ (স.) ৪০ বা ৭০ জন ইসলাম ধর্ম প্রচারক পাঠান > নজদে
৪৬৩. বিরে মাউনা নামক স্থানে ৭০ জন মুসলিম ধর্মপ্রচারক রাসুলুল্লাহর দাওয়াত পত্র দূত মারফতে পাঠান > আমির গোত্র নেতা আমর ইবনে তোফায়েলের নিকট
৪৬৪. প্রথমে দূত পরে ৬৭ জন মুসলিম ধর্মপ্রচারক কে বিরে মাউনায় হত্যা করে > আমির গোত্র নেতা আমর ইবনে তোফায়েল
৪৬৫. মদীনার শহরতলিতে বসবাসকারী বেদুইনরা জীবিকা নির্বাহ করতো > লুটতরাজ করে
৪৬৬. মদীনার বেদুঈনরা কুরাইশদের সাথে হাত মিলালো > রাসূলুল্লাহ (স.)তাদের লুটতরাজ বন্ধ করে দেন বলে
৪৬৭. উহুদ যুদ্ধের পর মদীনা থেকে বহিষ্কার করা হয় > বনু নাজির গোত্রের ইহুদিদের
৪৬৮. বনু নাজির গোত্রের ইহুদিরা বসতি স্থাপন করে > খায়বরের ওয়াদিউল কুরা, সিরিয়ার বাণিজ্য পথে ও অন্যান্য জায়গায়
৪৬৯. খন্দক যুদ্ধ সংঘটিত > ৬২৭ খ্রি. ৩১ শে মার্চ
৪৭০. খন্দক যুদ্ধে কাফের সৈন্য > ১০০০০ ; মুসলিম সৈন্য > ৩০০০
৪৭১. খন্দক যুদ্ধে কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইন গোত্রের সম্মিলিত বাহিনীর নেতৃত্বে > আবু সুফিয়ান
৪৭২. মদীনা শহরের তিনদিকে অরক্ষিত স্থানে পরিখা খনন > সালমান ফারসি (রা.) এর পরামর্শে
৪৭৩. Battle of the Confederates বা সম্মিলিত শক্তিরসমূহের বা গোত্রসমূহের যুদ্ধ বলা হয় > খন্দক যুদ্ধকে
৪৭৪. পবিত্র কুরআনে আহযাবের যুদ্ধ বলা হয় > খন্দক যুদ্ধকে
৪৭৫. খন্দক যুদ্ধে শিশু ও নারীদের আশ্রয়স্থল > নিরাপদ দুর্গ ও গম্বুজ
৪৭৬. খন্দক যুদ্ধে কাফেররা মদীনা অবরোধ করে রাখে > তিন সপ্তাহের অধিককাল
৪৭৭. সংখ্যাধিক্য শক্তির উপর শৃঙ্খলা ও একতার নব বিজয় > খন্দক বা পরিখার যুদ্ধের বিজয়
৪৭৮. মহানবী (স.) এর সাথে সাক্ষরিত সন্ধি প্রথমে ভঙ্গ করলো > মদীনার ইহুদিরা (বনু কাইনুকা )
৪৭৯. বদর যুদ্ধের পর একজন মুসলিম তরুণীকে বাজারে প্রকাশ্যভাবে অপমান করে > বনু কাইনুকা গোত্রের ইহুদি যুবক
৪৮০. মুসলিম তরুণীকে বাজারে অপমানের কারণে নিহত হয় > একজন মুসলমান ও একজন ইহুদী
৪৮১. মদিনা সনদের শর্ত ভঙ্গ করে সর্বপ্রথম যুদ্ধের হুমকি দেয় > ইহুদি গোত্র বনু কাইনুকা
৪৮২. সনদ শর্ত ভঙ্গের কারণে বনু কাইনুকা গোত্রকে নিজেদের দুর্গে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় > ১৫ দিন
৪৮৩. কাইনুকা গোত্র মদীনা থেকে বিতাড়িত হয় > ৬২৫ খ্রি. তৃতীয় হিজরীতে
৪৮৪. বদরের যুদ্ধের পর মদীনা সনদের শর্ত ভঙ্গ করে > বনু নাজির গোত্রের কাব ইবনে আশরাফ বীর গাঁথা রচনা করে বিধর্মীদের উৎসাহ দেয়
৪৮৫. বনু নাজির গোত্রের সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বিশ্বাসঘাতকতা করে মদিনা সনদের শর্ত ভঙ্গ করে > উহুদ যুদ্ধে
৪৮৬. মহানবী (স.) কে বনু নাজিরের মহল্লায় হত্যার ষড়যন্ত্র করে > আমর বিন জাহাশ
৪৮৭. বনু নাজির গোত্র মদীনা থেকে বহিষ্কৃত হয় > ৬২৬ খ্রি. চতুর্থ হিজরীতে
৪৮৮. মদীনা থেকে বহিস্কৃত বনু নাজির গোত্র বসবাস করতে থাকে > সিরিয়া ও খাইবারে গিয়ে
৪৮৯. বনু নাজির গোত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় > ৬২৬ খ্রি. চতুর্থ হিজরী
৪৯০. খন্দক যুদ্ধে পৌত্তলিক, কুরাইশ ও বেদুইনদের সঙ্গে মিলিত হয় > মদীনার ইহুদি গোত্র বনু কুরাইযা
৪৯১. খন্দক যুদ্ধে বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধের বিচারের ভার ন্যস্ত হয় > আউস গোত্রের দলপতি সাদ বিন মুয়াজ (রা.) এর উপর
৪৯২. খন্দক যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতায় হযরত সাদ বিন মুয়াজ (রা.) এর ফয়সালা > বনু কাইনুকা গোত্রের ৫০ ব্যক্তিকে প্রাণদণ্ড দেওয়া ; নারী ও শিশুদের দাসদাসীতে পরিণত করা
৪৯৩. মুসলমানদের গুপ্ত খবর কুরাইশদের নিকট পরিবেশন করত > মদীনার ইহুদি গোত্র
৪৯৪. মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কায় গিয়ে বিধর্মীদের প্ররোচিত করে > বনু নাজির গোত্রের কাব বিন আশরাফ
৪৯৫. বাজারে প্রকাশ্যে মুসলিম তরুণীর শালীনতা হানির চেষ্টা করে > বনু কাইনুকা গোত্রের ইহুদি যুবক
৪৯৬. সুলাইম ও গাফফান বেদুইন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে > আবু রাফি সাল্লাম
৪৯৭. রাসুলুল্লাহ (স.) কে গৃহ চূড়ায় আরোহন করে হত্যার চেষ্টা করে > বনু নাজির গোত্রের আমর বিন জাহাশ
৪৯৮. বিরে মাউনায় মুসলিম ধর্ম প্রচারকের মৃত্যুর জন্য দায়ী মনে করা হয় > ইহুদীদের ষড়যন্ত্রে বনু সুলাইম গোত্রকে
৪৯৯. বনু আমির গোত্রের দুজনকে ভুলক্রমে হত্যা করে > বিরে মাউনা থেকে আত্মরক্ষাকারী একজন মুসলিম
৫০০. মদিনা সনদের শর্ত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স.) ইহুদি ও মুসলমান উভয়কে ক্ষতিপূরণ দিতে বললে অস্বীকার করে > বনু নাজির গোত্র
৫০১. রাসূলুল্লাহ (স.) কে হত্যার চেষ্টা করা হয় > বনু নাজির গোত্র থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে গেলে
৫০২. মদীনার মুসলমানদের বাড়িঘর লুণ্ঠন ও আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করত > খায়বরের বহিষ্কৃত ইহুদিরা
৫০৩. ইহুদিদের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার জলন্ত দৃষ্টান্ত > খায়বর যুদ্ধ
৫০৪. মুহাম্মদ (স.) কে বিষ প্রয়োগে হত্যার হীন চক্রান্ত করে > খায়বর যুদ্ধে পরাজিত ইহুদীরা
৫০৫. খ্রিস্টানদের সঙ্গে মুসলমানদের সদ্ভাব ছিল > ইসলামের প্রথম যুগে
৫০৬. খ্রিস্টানদের সনদ প্রদান করা হয় > তাদের সুহৃদয়তা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবে ৬ষ্ট হি.
৫০৭. খ্রিস্টানদের সুবিধা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয় > সিনাই পর্বতের সন্নিকটে প্রদত্ত সনদে
৫০৮. হুদায়বিয়ার সন্ধি সংগঠিত > ৬২৮ খ্রি. ষষ্ঠ হিজরীতে
৫০৯. ষষ্ঠ হিজরীতে মাতৃভূমি দর্শন ও হজ্ব পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেন > ১৪০০ সাহাবী নিয়ে
৫১০. প্রাচীন আরব্য প্রথা অনুযায়ী যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ > পবিত্র জিলকদ মাসে ( জিলহজ্ব, মহররম ও রজব এর অন্তর্ভুক্ত)
৫১১. রাসূলুল্লাহ (স.) কে প্রতিরোধ করতে কুরাইশরা একদল সৈন্য প্রেরণ করে > খালিদ ও ইকরামার নেতৃত্বে
৫১২. মক্কার ৯ মাইল অদূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন > খুজাহ গোত্রের বুদাইল বিন ওরাকার নিকট কুরাইশদের যুদ্ধাভিযানের সংবাদ পেয়ে
৫১৩. হুদায়বিয়া নামক স্থানটি > হুদায়বিয়া নামক কুপের নামানুসারে
৫১৪. রাসূলুল্লাহ (স.) বুদাইলকে দূতরুপে পাঠিয়ে কুরাইশদের জানালেন > তারা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ,যুদ্ধ নয় বরং হজ্ব করতে মক্কায় এসেছেন
৫১৫. কুরাইশরা সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে রাসূলুল্লাহ (স.) এর নিকট পাঠায় > ওরওয়া বিন মাসুদকে
৫১৬. সন্ধি চুক্তির প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় > ওরওয়া বিন মাসুদ কটুক্তি করলে
৫১৭. রাসুলুল্লাহ সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে কুরাইশদের নিকট প্রেরণ করেন > প্রথমে খারাশ বিন উমাইয়া আল-খোযাঈকে পরে হযরত উসমান (রা.) কে
৫১৮. উসমান (রা.) এর প্রত্যাবর্তনে বিলম্বিত হলে মুসলিম শিবিরের রব উঠে > মুশরিকরা হযরত উসমান (রা.) এর হত্যা করেছে
৫১৯. উসমান (রা.) হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের এ শপথকে বলা হয় > বাইয়াতুর রিদওয়ান বা বাইয়াতুশ শাজারা
৫২০. বাইয়াতুশ শাজারা বলা হয় > বৃক্ষের নিচে শপথ গ্রহণ করা হয় বলে
৫২১. সাহাবীদের দৃঢ় শপথে শংকিত হয়ে কুরাইশগণ মুক্তি দেয় > হযরত উসমান (রা.) কে
৫২২. উসমানকে মুক্তি দেওয়ার পর কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (স.) এর নিকট সন্ধির প্রস্তাব পাঠায় > সুহাইল বিন আমরকে দিয়ে
৫২৩. হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী মুসলমানও কুরাইশদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ থাকবে > আগামী ১০ বছর
৫২৪. মুসলমানগন মক্কায় হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করতে পারবে > মাত্র তিন দিন
৫২৫. পবিত্র কুরআনে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে বলা হয়েছে > ফাতহুম মুবিন বা প্রকাশ্য বিজয়
৫২৬. রাসূলুল্লাহ (স.) এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে > হুদায়বিয়ার সন্ধি
৫২৭. হুদায়বিয়ার সন্ধির পর আরবের রাজনীতি ছিল > মদিনা কেন্দ্রিক
৫২৮. হুদায়বিয়ার সন্ধির অন্যতম প্রধান তাৎপর্য > ইসলামের বিস্তৃতি ও প্রসারতা
৫২৯. আরবের যে কোন গোত্র মুহাম্মদ (স.) বা কুরাইশদের সঙ্গে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হতে পারবে- এ শর্তটির ফলে > ১৮ বছরে ইসলামে যা অসম্ভব ছিল তা মাত্র ২ বছরে সম্ভব হয়েছিল; বনু খুযায়া ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়।
৫৩০. হুদায়বিয়ার সন্ধির ফলে আমরা যেরুপ জয়ী হয়েছিলাম সেরুপ কখনো হয়নি > আবু বকর (রা.)
৫৩১.খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আস ইসলাম গ্রহণ করেন > হুদায়বিয়ার সন্ধি সাক্ষরিত হবার পর
৫৩২. সন্ধির সময় সাহাবীদের সংখ্যা > ১৪০০
৫৩৩. ইসলাম প্রচারের ১৮ বছর পর সাহাবী সংখা > ১৪০০
৫৩৪. সন্ধির ২ বছর পরে ৬৩০ খ্রি. সাহাবীদের সংখ্যা > ১০,০০০
৫৩৫. হুদায়বিয়ার সন্ধির পর ৬২৮ খ্রি. ইসলামের দাওয়াত পত্র প্রেরণ করেন > ৯ জন রাষ্ট্র প্রধানের কাছে
৫৩৬. ইসলামের দাওয়াত পত্র কবুল করেন > আবিসিনিয়ার নৃপতি নাজ্জাশী
৫৩৭. রাজনৈতিক কারণে ইসলাম গ্রহণে অপারগ > রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ও মিসর-আলেকজান্দ্রিয়ার শাসনকর্তা মুকাওকিস
৫৩৮. রাসূলুল্লাহ (স.) এর দাওয়াত পত্র ছিড়ে ফেলে > অগ্নি উপাসক পারস্য রাজা দ্বিতীয় খসরু পারভেজ বা ইরান সম্রাট কিসরা
৫৩৯. ইসলামের দাওয়াত পত্র পেয়ে মুসলিম দূতকে জঘন্যভাবে অপমানিত করে > গাসসানের শাসক হারিছ ও ইয়ামামার শাসক হাইজা
৫৪০. দাওয়াত পত্র পেয়ে মুসলিম দূতকে হত্যা করে > রোমান সামন্তরাজ সুরাহবিল
৫৪১. খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের সংঘর্ষ অনিবার্য > মুসলিম দূতকে হত্যার ফলে
৫৪২. মদীনা থেকে বিতাড়িত ইহুদি সম্প্রদায় বসতি স্থাপন করে > সিরিয়া সীমান্তবর্তী খাইবারে
৫৪৩. ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য বনু নাজির ও কুরাইজা গোত্র ষড়যন্ত্র করে > আব্দুল্লাহ ইবনে বিন উবাই , গাতফান ও অন্যান্য বেদুইন গোত্রের সঙ্গে
৫৪৪. খায়বর যুদ্ধে কাফের সৈন্যের সংখ্যা > ৪০০০
৫৪৫. খায়বরের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যের সংখ্যা ১৮০০
৫৪৬. খায়বর যুদ্ধ > ৬২৮ খ্রি. মে মাসে ,৭ম হি. মহররম মাসে
৫৪৭. খাইবর যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) কে আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দেওয়া হয় > বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে কামুস দুর্গ দখল করার জন্য
৫৪৮. খায়বর যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) কে প্রদান করা হয় > জুলফিকার তরবারি
৫৪৯. রাসূলুল্লাহ (স.) ইহুদিদেরকে ক্ষমা করে দেন > আত্মসমর্পণে
৫৫০ রাসুলুল্লাহকে খাদ্যে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করে > হারিছের কন্যা জয়নব ( পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে)
৫৫১. খায়বর যুদ্ধের পর খাদ্যে বিষ প্রয়োগে শহীদ হন > একজন সাহাবী
৫৫২. হারিছের কন্যা জয়নবকে মৃত্যুদন্ড মতান্তরে ক্ষমা করা হয় > খাদ্যে বিষ প্রয়োগে সাহাবীর মৃত্যুর জন্য
৫৫৩. রাসুলুল্লাহ (স.) কাযা উমরা পালনের জন্য মক্কায় যান > ২০০০ সাহাবী নিয়ে ৬২৯ খ্রি. মার্চে , সপ্তম হিজরীর জিলকদে
৫৫৪. রাসূলুল্লাহ (স.) উমরা পালনের সময় মক্কাবাসী ৩ দিনের জন্য চলে যায় > শহরের বাইরে
৫৫৫. হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত মুসলমানদের অভিযান > ১৭টি
৫৫৬. মহানবী (স.) এর প্রেরিত দূত হারিস বিন উমাইয়াকে হত্যা করে > রোমান সামন্তরাজ সুরাহবিল বিন আমর
৫৫৭. হারিস বিন উমাইয়ার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে সংঘটিত > মুতার যুদ্ধ
৫৫৮. মুতার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ৩০০০
৫৫৯. মুতার যুদ্ধ পরিচালনা করেন > স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স.)
৫৬০. মুতার যুদ্ধে নেতৃত্বে > রাসূলুল্লাহ (স.) পালিত পুত্র জায়িদ বিন হারিস
৫৬১. মুতার যুদ্ধে কাফের খ্রিস্টান সৈন্য সংখ্যা > লক্ষাধিক
৫৬২. মুতার যুদ্ধে পর পর ৩ জন সেনাপতি শহীদ হন > সেনাপতি জায়িদ বিন হারিস, জাফর ইবনে আবু তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা
৫৬৩. মুতার যুদ্ধের সর্বশেষ সেনাপতি > খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
৫৬৪. মুতার যুদ্ধে বীরত্ব দক্ষতা প্রদর্শনে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডয়ন করে সাইফুল্লাহ উপাধি লাভ করেন > খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
৫৬৫. সাইফুল্লাহ অর্থ > আল্লাহর তরবারি
৫৬৬. রাসূলুল্লাহ (স.) কে ৬২৮ খ্রি. মক্কাবাসীরা হজ পালনে বাধা দেয় > সাফওয়ান, সুহাইল, আবু জাহলের পুত্র ইকরামা নেতৃত্বে
৫৬৭. হুদায়বিয়ার সন্ধিতে আবু সুফিয়ানের নিষ্ক্রিয়তার কারণ > তার কন্যা উম্মে হাবিবার ইসলাম গ্রহণ
৫৬৮. হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন > খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.), আমর ইবনুল আস (রা.), হযরত উসমান বিন তালহা (রা.)
৫৬৯. মক্কা বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ > হুদায়বিয়ার সন্ধি-চুক্তির অবমাননা
৫৭০. বনু খুযায়া গোত্রের লোকেরা বনু বকর গোত্রের কবিকে হত্যা করে > রাসূলুল্লাহ (স.) কে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা রচনা করায়
৫৭১. কুরাঈশদের সাহায্যে বনু খুযায়া গোত্রকে আক্রমণ করে > নওফিল বিন মুয়াবিয়া
৫৭২. প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বনু বকরকে সাহায্য করে > সাফওয়ান, সুহাইল ও ইকরামা
৫৭৩. হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ভঙ্গ হয় > বনু খুযায়া গোত্রকে আক্রমণের সময় বনু বকরকে সাহায্য করলে
৫৭৪. রাসূলুল্লাহ (স.) বনু খুযায়া গোত্রকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন > হুদায়বিয়া সন্ধির শর্তানুযায়ী
৫৭৫. রাসূলুল্লাহ (স.) কুরাইশদের নিকট শান্তিদূত প্রেরণ করেন > ৩ টি প্রস্তাব সম্বলিত ১টি পত্র
৫৭৬. রাসুলুল্লাহর ৩ টি প্রস্তাব > বনু খুযায়া গোত্রের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বনু বকরকে সাহায্য প্রদানে বিরত থাকা, সন্ধি বাতিল ঘোষণা করা
৫৭৭. রাসূলুল্লাহ (স.) ৩ টি প্রস্তাবে কুরাইশগণ গ্রহণ করেন > তৃতীয় প্রস্তাব- হুদায়বিয়ার সন্ধি বাতিল ঘোষণা
৫৭৮. মক্কা বিজয়ের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স.)প্রত্যাখ্যান করেন > আবু সুফিয়ানের শান্তি প্রস্তাব
৫৭৯. রাসূলুল্লাহ (স.) মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন > ৬৩০ খ্রি. ৬ জানুয়ারি ; অষ্টম হিজরী, ১০ই রমযান ১০,০০০ সৈন্য নিয়ে
৫৮০. আবু সুফিয়ান দুজন অনুচরসহ মুসলিম শিবিরের পরিস্থিতি দেখতে এসে বন্দী হয় > উমর (রা.) কর্তৃক
৫৮১. আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন > রাসূলুল্লাহ (স.) এর ক্ষমায় বিমুগ্ধ হয়ে
৫৮২. মক্কা বিজয়ে রাসূলুল্লাহকে বাধা প্রদানে অগ্রসর হয় > মাখযুম গোত্রের লোকজনসহ সাফওয়ান, ইকরামা, ও সুহাইল
৫৮৩. মক্কা বিজয়ের সময় পথিমধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন > রাসূলুল্লাহ (স.) এর চাচা হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
৫৮৪. কুরাইশদের আত্মসমর্পণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন > আবু সুফিয়ান
৫৮৫. ইকরামার নেতৃত্বে কুরাইশদের বিক্ষিপ্ত বাধা ও সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করেন > খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
৫৮৬. মুসলমানগন বিনা বাধায়, বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন > দীর্ঘ ৮ বছর পর
৫৮৭. মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স.) মক্কা বাসীর জন্য ঘোষণা করেন > সাধারণ ক্ষমা
৫৮৮. চারটি ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা > অস্ত্র ত্যাগ, কাবায় প্রবেশ, নিজেকে নিজের গৃহে আবদ্ধ রাখা, আবু সুফিয়ানের গৃহে প্রবেশ
৫৮৯. নিরীহ জনসাধারণের রক্তপাতের ইতিহাস > সিজার, আলেকজান্ডার ও নেপোলিয়নের দেশ জয়ের ইতিহাস
৫৯০. সমগ্র আরব বিজয়ের সমতুল্য > মক্কা বিজয়
৫৯১. মক্কা বিজয়ের বীজ নিহিত ছিল > হুদায়বিয়ার সন্ধিতে
৫৯২. মুহাম্মদ (স.) উপলব্ধি করেন মক্কা আয়ত্তে আসলে > বহির্বিশ্বে ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে
৫৯৩. রাসূলুল্লাহ (স.) বিধর্মী কুরাইশদের মন জয় করেন > উদারতা, মহানুভবতা ও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা
৫৯৪. কাবাঘরের ৩৬০ টি দেবদেবীর মূর্তি লাঠি দিয়ে অপসারণ করেন > মক্কা বিজয়ের পর
৫৯৫. "সত্য সমাগত মিথ্যা বিতাড়িত ; আর মিথ্যার ধ্বংস অনিবার্য " আয়াতটি তিলাওয়াত করেন > ৩৬০ টি দেব-দেবী মূর্তির অপসারণের সময়
৫৯৬. কাবাগৃহের দেওয়ালের অঙ্কিত বিভিন্ন ছবিও মুছে ফেলা হয় > মক্কা বিজয়ের পর
৫৯৭. আরব গোত্রের বেদুইনগণ দলে দলে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় > মক্কা বিজয়ের পর
৫৯৮. মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাস > হাওয়াজিন ও সাকিফ গোত্রদ্বয়
৫৯৯. মক্কা বিজয়ের পর ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে > হাওয়াজিন ও সাকিফ গোত্রদ্বয়
৬০০. হুনাইন উপত্যকা > মক্কার ৩ মাইল দূরে
৬০১. হুনাইন যুদ্ধ সংঘটিত > ৬৩০ খ্রি. ২৭ জানুয়ারি , ৮ম হিজরী ৬ই শাওয়াল
৬০২. হুনাইন যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ১২,০০০
৬০৩. হুনাইন যুদ্ধে কাফের সৈন্য সংখ্যা > ২০,০০০
৬০৪. হুনাইন যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করে > মহানবী (স.) এর দৃঢ়-বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও খালিদ (রা.) এর বীরত্বে
৬০৫. হুনাইনের যুদ্ধে ফলাফল > বন্দী প্রায় ৬ হাজার শত্রুসৈন্য; অসংখ্য গবাদিপশু, রৌপ্য ও সমরাস্ত্র মুসলমানদের হস্তগত
৬০৬. হুনাইনের পরাজিত শত্রু সৈন্যরা আশ্রয় গ্রহণ করে > তায়েফের দুর্গে
৬০৭. রাসূলুল্লাহ (স.) তায়েফে বিশাল মুসলিম বাহিনী প্রেরণ > আবু মুসার অধিনায়কত্বে
৬০৮. তায়েফবাসী রাসূলুল্লাহ (স.) এর নিকট আত্নসমর্পণ করে > ৩ সপ্তাহ অবরুদ্ধ থাকার পর
৬০৯. তায়েফবাসী ইসলামে দীক্ষিত হয় > রাসূলুল্লাহ (স.) এর ক্ষমায়
৬১০. রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে উত্তেজিত করে তোলে > মুসলমানদের হুনাইন-তায়েফ বিজয়, মুতার যুদ্ধে খ্রিস্টানদের পরাজয় ও ইহুদীদের প্ররোচনা
৬১১. তাবুক অভিযান > ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে
৬১২. হীরাক্লিয়াসের বায়জান্টাইন বাহিনী মদিনার দিকে অগ্রসর > গাসসানীদের সহযোগিতায়
৬১৩. রাসূলুল্লাহ (স.) শত্রুপক্ষকে গতিরোধ করেন > সিরিয়ার সীমান্তে তাবুক নামক স্থানে
৬১৪. তাবুক অভিযানে হিরাক্লিয়াসের বায়জান্টাইন বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা > লক্ষাধিক
৬১৫. তাবুক অভিযানে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > পদাতিক ৩০ হাজার, অশ্বারোহী ১০ হাজার
৬১৬. তাবুক অভিযানে হযরত আবু বকর (রা.) দান করেন > সমস্ত সম্পত্তি
৬১৭. হযরত উমর (রা.) দান করেন > অর্ধেক সম্পত্তি
৬১৮. হযরত উসমান (রা.) দান করেন > ১০০০ স্বর্ণ মুদ্রা, ১০০০ উট ও ৭০টি যুদ্ধঅশ্ব
৬১৯. তাবুক যুদ্ধ অভিযানে বায়জান্টাইন বাহিনী পলায়ন করে > মুসলমানদের যুদ্ধে জয়লাভ অবশ্যম্ভাবী মনে করে
৬২০. রাসূলুল্লাহ (স.) তাবুকে অবস্থান করেন > ২০ দিন
৬২১. রাসূলুল্লাহ (স.) এর যুগে যুদ্ধ সংঘটিত হয় > সর্বমোট ২৭টি
৬২২. রাসূলুল্লাহ (স.)সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন > তাবুক ও অন্যান্য ৮টি যুদ্ধে
৬২২. মহানবীর জীবনের শেষ অভিযান > তাবুক অভিযান
৬২৩. তাবুক অভিযানে সাহাবীদের ভীষন কষ্ট > সূর্যের প্রচন্ড কিরণ, প্রখর তাপ, পানির অভাব
৬২৪. আমুল উফুদ বা প্রতিনিধি প্রেরণের বছর > নবম হিজরী
৬২৫. যে সকল অঞ্চলে অভিযান প্রেরণ করা হয়নি > ওমান, হাজরামাউত, নাজরান, মাহরা, বাহরাইন ; এ সমস্ত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা মদিনায় রাসূলুল্লাহ (স.) এর নিকট আগমন করে
৬২৬. নবম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করে > ইয়ামেনের অনেক গোত্র, মাহরা ও ইয়ামেনের খ্রীস্টানগণ
৬২৭. যেসব গোত্র প্রতিনিধি পাঠিয়ে রাসূলুল্লাহ (স.) এর আনুগত্য এবং বাৎসরিক কর প্রদানের অঙ্গীকার করে > খ্রিস্টান গোত্র বনু হানিফা, বনু তাগলিব, বনু হারিস, বনু কিনদা
৬২৮. তাবুকে বায়জান্টাইন বাহিনীর পলায়নের পর মুসলমানের সঙ্গে সন্ধি ও বার্ষিক জিযিয়া কর প্রধান করে > আইলাহের খ্রিস্টান শাসনকর্তা, মাকনি আজরুহ ও জারবা মরুদ্যানের ইহুদি সম্প্রদায়
৬২৯. প্রতিনিধি প্রেরণের বছর ইসলাম গ্রহণকারী প্রত্যেক গোত্রকে প্রদান করা হয় > লিখিত সন্ধিপত্র ও শিক্ষা দানের জন্য মুয়াল্লিম
৬৩০. বিদায় হজ সংঘটিত > ৬৩২ খ্রি. ১০ম হিজরী
৬৩১. বিদায় হজ্বের জন্য মক্কার পথে রওয়ানা > দশম হিজরী ২৫ শে জিলকদ, ৬৩২ খ্রি. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি
৬৩২. রাসূলুল্লাহ (স.) বিদায় হজ্বের পূর্বে উমরা করেছেন > ২ বার
৬৩৩. দুবার উমরা আদায়ের পর হজ্বে যাওয়ার উদ্দেশ্য > হজ্বের বিধি-বিধান মানুষকে সরাসরি অবহিত করা
৬৩৪. সূরা বারায়াত নাজিল হলে ৬৩১ খ্রি. আরবের সমস্ত গোত্রকে ইসলাম গ্রহণের জন্য সময় দেন > ৪ মাস
৬৩৫. বিদায় হজ্জে ৬৩২ খ্রি. সাহাবীর সংখ্যা > ১ লক্ষ ১৪ হাজার
৬৩৬. বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ (স.) এর সঙ্গে ছিলেন > আয়েশা সিদ্দিকার (রা.)
৬৩৭. রাসূলুল্লাহ (স.)বিদায় হজ্বের কুরবানির জন্য মদিনা থেকে সঙ্গে নেন > ১০০ উট
৬৩৮. বিদায় হজ্বে মদিনা থেকে মক্কায় পৌঁছ ন > যাত্রার ১০ দিন পর
৬৩৯. মক্কা থেকে ৬ মাইল দূরে > যুল হুলায়ফা নামক স্থান
৬৪০. রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবীদের নিয়ে ইহরাম বেঁধে হজ্বের পোশাক পরিধান করেন > যুল হুলাইফা নামক স্থানে
৬৪১. কাবাঘর তাওয়াফ করেন > ৭ বার
৬৪২. সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করেন > ৭ বার
৬৪৩. জিলহজ্ব মাসের ৮ম দিনে অবস্থান করেন > মিনায়
৬৪৪. জিলহজ্ব মাসের ৯ম দিনে অবস্থান করেন > আরাফার ময়দানে
৬৪৫. বিদায় হজের ভাষণ দেন আরাফাতের ময়দানে > জবালে রহমতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে
৬৪৬. "স্মরণ রেখো, প্রতিটি কাজের জন্য তোমাদেরকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহি করতে হবে"- বিদায় হজ্বের ভাষণ
৬৪৭. "সর্বদা, অন্যের আমানত হেফাজত করবে এবং পাপকার্য এড়িয়ে চলবে"> বিদায় হজ্বের ভাষণ
৬৪৮. তোমরা যা আহার কর, যা পরিধান কর, তাদেরকেও অনুরুপ খাদ্য-বস্ত্র দান করো > বিদায় হজ্বের ভাষণে দাস-দাসীদের ব্যাপারে
৬৪৯. কেউ কারো কোন কিছু জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না > অনুমতি ব্যতীত
৬৫০. পরস্পরের প্রাধান্যের একমাত্র মাপকাঠি > খোদাভীতি বা সৎকর্ম
৬৫১. "হে প্রভু, আমি কি তোমার বাণী সঠিকভাবে জনগণের নিকট পৌঁছাতে পেরেছি?"> উপস্থিত সাহাবীগণ বলে উঠলেন হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পেরেছেন ; তোমরা সাক্ষী, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি বিদায়! আল-বিদা!! > বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (স.)
৬৫২. আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ধর্ম হিসেবে ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম- এ আয়াত শুনে কেঁদে ফেলেন > আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
৬৫৩. মহানবী (স.) মদিনা থেকে কুরবানির জন্য উট নিয়ে এসেছিলেন > ১০০ টি
৬৫৪. রাসূলুল্লাহ (স.) নিজের তরফ থেকে উট কুরবানি করেন > ৬৩ টি ; ৬৩ বছর বয়সের বছর প্রতি ১টি করে
৬৫৫. অবশিষ্ট ৩৭ টি উট কুরবানি করেন > হযরত আলী (রা.)
৬৫৬. বিদায় হজ্বের অন্যান্য নাম > হুজ্জাতুল বিদা, হুজ্জাতুল ইসলাম, হুজ্জাতুল বালাগ
৬৫৭. বিদায় হজ্বের দুই মাস পর সিরিয়ায় অভিযান প্রেরণের নির্দেশ দেন > ওসামা বিন জায়েদের নেতৃত্বে
৬৫৮. সিরিয়ায় অভিযান প্রেরণের নির্দেশ দেন > একজন মুসলিম দূতকে হত্যা করার কারণে
৬৫৯. সিরিয়ার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয় > মুসায়লামা ভন্ডনবীর আবির্ভাবে
৬৬০. রাসূলুল্লাহ (স.) মধ্যরাত্রে জান্নাতুল বাকী কবরস্থান জিয়ারত করেন > সাহাবীদের পারলৌকিক শান্তি কামনায়
৬৬১. রাসূলুল্লাহ (স.) শেষবারের মতো মসজিদে উপস্থিত হন > হযরত আব্বাস (রা.) এর পুত্র ফজল ও আলী (রা.) এর কাঁধে ভর দিয়ে
৬৬২. রাসূলুল্লাহ (স.) ইন্তিকাল করেন > ৬৩২খ্রি. ৮ ই জুন, ১১ই হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবারে ৬৩ বছর বয়সে আয়েশা সিদ্দিকার গৃহে
৬৬৩. গোত্র প্রথার বিলোপ সাধন , ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধে নতুন জাতি প্রতিষ্ঠা > মদিনা সনদের মাধ্যমে
৬৬৪. "যদি কেহ ঐশ্বরিক বিধানসম্মত শাসন বিধি প্রতিষ্ঠার গৌরব দাবি করতে পারেন, তবে তিনি মুহাম্মদ (স.) ছাড়া আর কেউ নন "> বসওয়ার্থ
৬৬৫. রাসূলুল্লাহ (স.) সমগ্র আরব উপদ্বীপকে শাসনকার্যের সুবিধার্থে ভাগ করেন > ৯টি প্রদেশে
৬৬৬. রাসূলুল্লাহ (স.) কর্তৃক বিভক্ত ৯ টি প্রদেশ > মদিনা, খায়বর, মক্কা, তায়েফ, ইয়ামেন, সানা, হাজরামাউত, ওমান ও বাহরাইন
৬৬৭. প্রদেশের শাসনকর্তা উপাধি > ওয়ালী বা গভর্নর
৬৬৮. "সকল মানুষ সমান । মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক অনুগত এবং মানুষের সর্বাধিক কল্যাণকামী" > রাসূলুল্লাহ (স.) এর ঘোষণা
৬৬৯. তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম ব্যবহার করে। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত" > রাসূলুল্লাহ (স.) এর ঘোষণা
৬৭০. উচ্চ স্থান থেকে আজান দেওয়ার ব্যবস্থা প্রচলিত হয় > হযরত উমর (রা.) এর পরামর্শক্রমে
৬৭১. জেরুজালেমের বাইতুল মুকাদ্দাস এর পরিবর্তে কাবা ইসলামের কিবলা নির্ধারিত হয় > দ্বিতীয় হিজরী
৬৭২. নগরবাসী ও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আরব গন জীবিকা নির্বাহ করত > ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকার্য দ্বারা
৬৭৩. রাসূলুল্লাহ (স.) এর সময়ে যে সকল উৎস হতে রাজস্ব আদায় করা হতো > গনীমাত , যাকাত, জিযিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর), খারাজ (ভুমিকর), আলফাই (রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি)
৬৭৪. গনীমত হচ্ছে > যুদ্ধলব্ধ সম্পদ
৬৭৫. গনীমতের চার পঞ্চমাংশ বন্টন করা হয় > যোদ্ধাগনের মধ্যে
৬৭৬. অবশিষ্ট পঞ্চমাংশ বা খুমুস নির্ধারিত > মহানবী (স.) এর জন্য
৬৭৭. যাকাত ধার্য করা হয় > যদি সম্পদ পূর্ণ এক বছর হস্তগত থাকে তাহলে সংসারের আবশ্যকীয় খরচাদি বাদ দিয়ে বাকি সম্পত্তি নিসাব পরিমাণ হলে তার উপর আড়াই পার্সেন্ট হারে
৬৭৮. অমুসলিম প্রজাদের যুদ্ধে যোগদান হতে রেহাই এবং জান-মালের নিরাপত্তা জনিত কর > জিযিয়া কর
৬৭৯. জিযিয়া অর্থ > নিরাপত্তা মূলক সাময়িক কর
৬৮০. জিযিয়ার পরিমাণ > বাৎসরিক ১ দিনার
৬৮১. পারস্যে জিযিয়ার নাম > গেজিট; রোমান সাম্রাজ্যে জিযিয়ার নাম > "ট্রাইবিউটম ক্যাপিটিস"
৬৮২. জিযিয়া থেকে প্রাপ্ত আয় > সৈন্যদের ব্যয়ভার নির্বাহে ব্যয় করা হতো
৬৮৩. অমুসলিম প্রজাদের ভূখণ্ডের উপর ধার্যকৃত কর > খারাজ বা ভূমি কর
৬৮৪. পারস্যে খারাজের নাম > খারাগ ; রোমান সাম্রাজ্যে খারাজের নাম > ট্রাইবিউটম সলি
৬৮৫. রাসূলের সময় খারাজের পরিমাণ > উৎপন্ন শস্যের অর্ধেক
৬৮৬. আলফাই হচ্ছে > রাষ্ট্রীয় ভূমি
৬৮৭. আলফাই থেকে আদায়কৃত অর্থ ব্যয় হতো > মুসলমান জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য
৬৮৮. আলিমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী । যারা শিক্ষার পথে বের হয় তারা গৃহে না ফেরা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে > রাসুলের বাণী
৬৮৯. জ্ঞানীর কলমের কালী > শহিদের রক্ত চেয়েও পবিত্র
৬৯০. এক মুহূর্তের জন্য স্রষ্টার সৃষ্টির নিয়ে চিন্তা করা > সারা রাত ইবাদত অপেক্ষা উত্তম
৬৯১. রাহমাতুল্লিল আলামীন অর্থ > বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহমত বা আশীর্বাদস্বরূপ
৬৯২. "তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্রও এনে দেয় তথাপি মহাসত্যের সেবা ও স্বীয় কর্তব্য হতে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবো না" > রাসূলুল্লাহ (স.)
৬৯৩. আরবগণ আল-আমিন উপাধিতে ভূষিত করেছিল > চারিত্রিক মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে
৬৯৪. "আমি শাস্তি প্রদানের জন্য আবির্ভূত হই নি, শান্তির দূত হিসেবে এসেছি " > রাসূলুল্লাহ (স.)
৬৯৫. ক্ষমার মূর্ত প্রতীক > হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
৬৯৬. রাসূলুল্লাহ (স.)স্বহস্তে করতেন > গৃহের যাবতীয় কাজকর্ম এমনকি দুগ্ধদোহন, ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও জুতা মেরামত
৬৯৭. মজলুম মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (স.) এসেছেন > যখন আরবের অধিবাসীরা জুলুম অবিচারে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত
৬৯৮. " মুহাম্মদ (স.) এমনই একজন মহাপুরুষ ছিলেন, যাঁকে না হলে বিশ্ব অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তিনি নিজেই নিজের তুলনা । তাঁর কৃতিত্বময় ইতিহাস মানবজাতির ইতিহাসে এক সমুজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে" > যোসেফ হেল
৬৯৯. রাসূলুল্লাহ (স.) আরব জাতিকে সুসভ্য জাতিতে পরিণত করেন > মাত্র ২২ বছর সময়ের মধ্যে
৭০০. কোনদিন রুঢ় আচরণ দ্বারা কাউকে মনঃকষ্ট দেননি > রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইসলামের ইতিহাস - তৃতীয় অধ্যায় - খুলাফায়ে রাশেদীন
৭০১. খলিফা অর্থ > প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি
৭০২. প্রত্যেক মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি > পবিত্র কুরআনের ভাষায়
৭০৩. হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহর নেতাকে বলা হয় > খলিফা
৭০৪. খিলাফত হচ্ছে > মিনহাজুন নবুওয়্যাত বা নবুয়তের পদ্ধতি
৭০৫. ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরিপূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন > খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে
৭০৬. ইসলামী শাসন ব্যবস্থার আদর্শ সোনালী যুগ > ৩০ বছরের খিলাফতকাল
৭০৭. পৃথিবীর সর্বপ্রথম খলিফা > হযরত আদম আলাইহিস সালাম
৭০৮. মুসলমানদের জনমতের ভিত্তিতে নির্বাচিত নেতা হচ্ছে > ইমাম বা খলিফা
৭০৯. খুলাফায়ে রাশেদীন অর্থ > সত্য পথগামী প্রতিনিধিবর্গ
৭১০. রাসূলুল্লাহ (স.) এর ইন্তেকালের পর আল্লাহ ও রাসূলের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ী ইসলামী শাসনব্যবস্থার পরিচালক ৪ জন বিশিষ্ট সাহাবীকে বলা হয় > খুলাফায়ে রাশেদিন
৭১১. খিলাফত অনুসরণে রাসূলের নির্দেশ > "তোমাদের উপর আমার আদর্শের অনুসরণ ও খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের অনুসরণ অত্যাবশ্যক"
৭১২. প্রশাসনিক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা > খলিফা
৭১৩. খলিফাগন শাসন কার্য পরিচালনা করেছেন > উপদেষ্টাদের পরামর্শে
৭১৪. খিলাফত হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান যা মহানবী (স.) এর মিশনের প্রতিনিধিত্ব করে > ইবনে খালদুন
৭১৫. খুলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি > গণতান্ত্রিক
৭১৬. খলিফাগণ নির্বাচিত হতেন > যোগ্যতার ভিত্তিতে
৭১৭. খলিফাদের তিনটি উপাধি > খলিফা, ইমাম ও আমীরুল মু'মিনীন
৭১৮. খলিফা হওয়ার জন্য অধিকারী হতে হবে > ৭টি গুণ বা বৈশিষ্ট্যের
৭১৯. খলিফার ৭টি গুণ > কুরাইশ বংশোদ্ভুত, মুসলমান, পুরুষ, প্রাপ্ত বয়স্ক, চরিত্রবান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, শাসনকার্য পরিচালনার উপযোগী, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞানের অধিকারী
৭২০. মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উপযুক্ত শাসনের অধিকারী হতে হবে > খলিফাকে
৭২১. খলিফাদের নির্বাচন পদ্ধতি ছিল > দুটি ; জনগণের সরাসরি নির্বাচন, নির্বাচক মন্ডলী কর্তৃক মনোনয়ন দান
৭২২. জনগণের সরাসরি সমর্থনে নির্বাচিত > হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
৭২৩. নির্বাচক মন্ডলী কর্তৃক নির্বাচিত খলিফা > হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.)
৭২৪. সকলে আনুগত্য শপথ বা বায়াত গ্রহণ করতেন > খলিফার হাতে হাত রেখে
৭২৫. বেতন না নিয়ে সাধারণ মুসলমানের মত সরকারী ভাতা গ্রহণ করতেন > খলিফাগণ
৭২৬. বায়তুল মাল থেকে প্রদত্ত ভাতা খলিফাগণ নিজ সম্পত্তি থেকে বাইতুল মালে ফেরত দিয়েছেন > মৃত্যুর আগে
৭২৭. খলিফাগণ রাজকার্য পরিচালনা করতেন > মসজিদে বসে
৭২৮. খলিফা নির্বাচনে আনসারগণ একত্রিত হন > সাকিফা নামক মিলনায়তনে
৭২৯. দুজন খলিফা নির্বাচন চেয়েছিলেন > আনসারগণ ; একজন আনসার থেকে, একজন মুহাজির থেকে
৭৩০. একদল মুহাজির খলিফা হিসেবে প্রচারণা চালায় > হযরত আলী (রা.) কে
৭৩১. আনসারগণ খলিফা নির্বাচনের দাবী জানান > সা'দ বিন আবু উবায়দাকে
৭৩২. খলিফা নির্বাচনের বাক-বিতন্ডায় আনসারদের বুঝাতে সক্ষম হলেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৩৩. আবু বকর সিদ্দিককে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করা হোক এ ব্যাপারে সকলে একমত হলেন > উমর (রা.) এর উদ্দীপনায়
৭৩৪. আবু বকরের হাতে বায়াত গ্রহণ করলেন > মুহাজিরদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত উমর (রা.), আনসারদের মধ্যে হযরত বাসির ইবনে সা'দ (রা.)
৭৩৫. আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা > এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (স.) এর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল
৭৩৬. আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হলেন > বয়োজ্যেষ্ঠতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সূক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, সামাজিক কার্যকলাপ ও ব্যক্তিগত প্রভাবের জন্য
৭৩৭. ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের মতে- খলিফা নির্বাচনের জন্য শর্ত > ৪টি
৭৩৮. খলিফা নির্বাচনের ৪টি শর্ত > ন্যায়পরায়ণতা, দৃঢ়চিত্ততা, ইন্দ্রিয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা
৭৩৯. আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের যোগ্যতা > রাসূলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, রাসূলের চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্য, রাসূলের পূর্ণ আস্থা, কথা ও কাজে আবু বকর (রা.) এর প্রতি ইঙ্গিত, আবু বকরের মর্যাদা ও আর্থিক আত্মত্যাগ
৭৪০. দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৪১. দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচনে নির্বাচকমন্ডলী > আব্দুর রহমান (রা.), উসমান (রা.), সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) ও বিশিষ্ট সাহাবীগণ
৭৪২. উমর (রা.) এর কড়া মেজাজের জন্য দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে সম্মতি দিতে ইসস্তত করলেন > তালহা (রা.)
৭৪৩. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচিত হলেন > গণতান্ত্রিকভাবে
৭৪৩. তৃতীয় খলিফা নির্বাচনের নির্বাচক মন্ডলী > হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের, হযরত সাদ ও হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)
৭৪৪. তৃতীয় খলিফা নির্বাচনের সময়কাল > হযরত উমর (রা.) ইন্তেকালের ৩ দিনের মধ্যেই
৭৪৫. খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহনে রাজী ছিলেন না > জনগণের শ্রদ্ধাভাজন হযরত আব্দুর রহমান (রা.)
৭৪৬. খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণে প্রত্যাশী ছিলেন না > হযরত সাদ, হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের (রা.)
৭৪৭. হযরত আব্দুর রহমান তৃতীয় খলিফা হিসেবে প্রস্তাব করেন > হযরত উসমান ও আলী (রা.) এর নাম
৭৪৮. হযরত জুবায়ের তৃতীয় খলিফা হিসেবে প্রস্তাব করেন > হযরত উসমান ও আলীর (রা.) এর নাম
৭৪৯. হযরত সাদ তৃতীয় খলিফা হিসেবে সমর্থন করেন > হযরত উসমান (রা.) কে
৭৫০. উসমান ও আলী (রা.) পারস্পরিক সমর্থন দান করেন > তৃতীয় খলিফা নির্বাচনে
৭৫১. তৃতীয় খলীফা নির্বাচনে কারো পক্ষে সমর্থন দেননি >আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)
৭৫২. হযরত উসমান তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হলেন > ১ জনের সমর্থন বেশি পাওয়ায়
৭৫৩. হযরত উসমান খলিফা নির্বাচিত হলেন > হযরত উমর (রা.) এর মৃত্যুর চতুর্থ দিনে ৬৪৪ খ্রি. ২৪ হিজরীর পহেলা মহররম
৭৫৪. আরবের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় > হযরত উসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ডের পর
৭৫৫. চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিদ্রোহী কুফাবাসীরা সমর্থন করে > হযরত জুবায়ের (রা.) কে
৭৫৬.চতুর্থ খলিফা হিসেবে বসরাবাসীরা সমর্থন করে > হযরত তালহা (রা.) কে
৭৫৭. মিসরীয়রা চতুর্থ খলিফা হিসেবে সমর্থন করে > হযরত আলী (রা.) কে
৭৫৮. চতুর্থ খলিফা নির্বাচনে নির্বাচকমন্ডলী > বিভক্ত হয় তিনটি দলে
৭৫৯. মিসরীয়রা চতুর্থ খলিফা হিসেবে হযরত আলী (রা.) এর নাম প্রস্তাব করেন > হযরত উসমান (রা.) এর হত্যার ৫ম দিনে
৭৬০. হযরত আলী (রা.) কে চতুর্থ খলীফা হিসেবে সমর্থন করেন > কুফা ও বসরার বিদ্রোহীরা
৭৬১. হযরত আলী (রা.) চতুর্থ খলীফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি হন > মদীনার প্রভাবশালী নাগরিকদের অনুরোধে
৭৬২.গণতান্ত্রিকভাবে আলী (রা.) চতুর্থ খলিফা হিসাবে নির্বাচিত হন > ২৩ জুন ৬৫৬ খ্রি.
৭৬৩. হযরত আবু বকর (রা.) এর খিলাফতকাল > ২ বছর ৩ মাস ৯ দিন
৭৬৪. হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতকাল > ১০ বছর ৬ মাস ৩ দিন
৭৬৫. হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতকাল > ১১ বছর ১১ মাস ১৭ দিন
৭৬৬. হযরত আলী (রা.) এর খিলাফতকাল > ৪ বছর ৮ মাস ২৩ দিন ; ইমাম হাসান (রা.) এর খিলাফতকাল > ৬ মাস ৮ দিন
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ৬৩২-৬৩৪ খ্রি.
৭৬৭. নবী রাসুলগণের পরেই মর্যাদা > হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর
৭৬৮. আজীবন রাসূলুল্লাহ (স.) এর পাশে ছায়ার মত ছিলেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৬৯. ইসলামের সেবায় ধন-সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে বিলিয়ে দেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৭০. হযরত আবু বকর (রা.) এর প্রকৃত নাম > আব্দুল্লাহ, উপনাম > আবু বকর, উপাধি >সিদ্দিক ও আতিক, পিতা > উসমান ওরফে আবু কুহাফা, মাতা > সালমা ওরফে উম্মুল খায়ের
৭৭১. আবু বকর (রা.) জন্ম গ্রহণ করেন > ৫৭৩ খ্রি. মক্কার কুরাইশ বংশের তাইম গোত্রে
৭৭২. রাসূলুল্লাহ (স.) এর ৩ বছরের ছোট ছিলেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৭৩. জাহেলী যুগের বিরাট ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৭৪. আবু বকর (রা.) ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া ও ইয়ামেন সফর করেন > ১৮ বছর বয়সে
৭৭৫. রক্তপণ আদায়ের জিম্মাদারী ন্যাস্ত ছিল > হযরত আবু বকর (রা.) এর উপর
৭৭৬. ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মদ্যপান ও মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন > আবু বকর (রা.)
৭৭৭. আমাদের এমন কোন দিন অতিবাহিত হয়নি যেদিন রাসূলুল্লাহ (স.) সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের গৃহে পদার্পণ করেননি > আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)
৭৭৮. "আমি যখন তার নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করি, তিনি কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই সাথে সাথে তা গ্রহণ করেছিলেন " > আবু বকর (রা.) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.)
৭৭৯. বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম মুসলমান > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৮০. কুরাইশদের ধাক্কা দিয়ে বেষ্টনী ভেঙে রাসূলুল্লাহকে মুক্ত করেন > আবু বকর (রা.)
৭৮১. বেলাল (রা.) বিপুল অর্থে খরিদ করে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন > আবু বকর (রা.)
৭৮২. "হযরত আবু বকর (রা.) আমাদের নেতা, তিনি আমাদের নেতাকে আজাদ করেছেন" > হযরত উমর (রা.) এর মন্তব্য
৭৮৩. "আবু বকর- এর সম্পদ দ্বারা আমার যে উপকার হয়েছে, অন্য কারো সম্পদ দ্বারা সেরূপ হয়নি" > বলেছেন রাসূলুল্লাহ (স.)
৭৮৪. "নিঃসন্দেহে জান ও মালের দিক দিয়ে আমার ওপর আবু বকর (রা.) এর চেয়ে অধিক অনুগ্রহ অন্য কারো নেই > বলেছেন রাসূলুল্লাহ
৭৮৫. ইসলাম গ্রহণের সময় আবু বকর (রা.) এর ছিল > ৪০ হাজার দিরহাম
৭৮৬. হিজরতে মদিনায় পৌঁছার পর আবু বকর (রা.) এর নিকট অবশিষ্ট ছিল > ৫ হাজার দিরহাম
৭৮৭. রাসূলুল্লাহ (স.) এর হিজরতের সাথী, গুহার সাথী, সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী > হযরত আবু বকর (রা.)
৭৮৮. যদি আমি ভালো কাজ করি, আমাকে সাহায্য করবেন, যদি অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে যাই, আমাকে সংশোধন করে দিবেন > আবু বকর (রা.) এর প্রথম ভাষণ
৭৮৯. শাসকদের নিকট সত্য প্রকাশ করাই উত্তম আনুগত্য > আবু বকর (রা.) এর প্রথম ভাষণ
৭৯০. সত্য গোপন রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল > হযরত আবু বকর (রা.) এর প্রথম ভাষণ
৭৯১. যে জাতি আল্লাহর পথে জিহাদ করে না > তারা লাঞ্চিত অভিশপ্ত হয়
৭৯২. যে জাতির মধ্যে খারাপ কাজ ব্যাপক হয় > তাদের উপর আল্লাহ বালা-মুসিবত ব্যাপক করে দেন
৭৯৩. আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা হওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত > রাসুলুল্লাহ (স.) রোগশয্যায় নামাজের ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ
৭৯৪. আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন > গণতান্ত্রিক পন্থায়
৭৯৫. আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হয়ে মূল ৩ টি সমস্যার সম্মুখীন হন > ভন্ড নবীদের আবির্ভাব, স্বধর্ম ত্যাগীদের বিদ্রোহ, যাকাত অস্বীকারকারীদের গোলযোগ
৭৯৬. মুতার যুদ্ধে শহীদদের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য > রাসূলুল্লাহ (স.) হযরত উসামা বিনা যায়েদকে নিজ হাতে পতাকা বেঁধে দিয়েছিলেন
৭৯৭. যদি আল্লাহ তাআলা হযরত আবু বকর (রা.) এর মাধ্যমে আমাদের উপর করুণা না করতেন, তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে যেতাম > আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ
৭৯৮. "রাসূলুল্লাহ (স.) এর ইন্তেকালের পর আমার পিতার উপর এমন সব আকষ্মিক বিপদ আপতিত হয় যে, যদি তা কোন বিরাট পাহাড়ের উপর নাযিল হতো তাহলে সে পাহাড়ও টুকরো টুকরো হয়ে যেত" > আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)
৭৯৯. স্বধর্ম ত্যাগী, মুরতাদ, ভন্ড নবীর আবির্ভাব, যাকাত প্রদানে অস্বীকার এ সকল সমস্যার সমাধানে আবু বকর (রা.) যে যুদ্ধের ঘোষণা করেন তা > রিদ্দার যুদ্ধ
৮০০. মিথ্যা নবুয়ত দাবী করে > সম্মান ও পদমর্যাদার লোভে
৮০১. আরব বাসীদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে > মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে
৮০২. স্বধর্মে ফিরে যেতে চায় > বেদুইন স্বার্থন্বেষী গোত্রপতি ও আরবের বিভিন্ন গোত্রের মানুষ
৮০৩. ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চল জয় হয় > আবুবকরের খিলাফত কালে
৮০৪. রিদ্দা যুদ্ধের সময় ধর্মত্যাগীদের সাহায্য করেছিল > রোমান ও পারসিকরা
৮০৫. আবু বকর (রা.) সেনাদলকে ভাগ করেন > ১১টি দলে
৮০৬. ভন্ড নবী আসওয়াদ আনাসির সমর্থক বিদ্রোহী > আবস ও জুবিয়ান গোত্রদ্বয়
৮০৭. আবু বকর (রা.) আবস ও জুবিয়ান গোত্রদ্বয়কে পরাজিত করেন > যুলকাশা ও রাবারজার যুদ্ধে
৮০৮. আসওয়াদ আনাসী শোচনীয় ভাবে মৃত্যুবরণ করে > যুলকাশা ও রাবারজার যুদ্ধে
৮০৯. তুলাইহার সমর্থক বিদ্রোহী গোত্রদ্বয় > তামিম ও ইয়ারবু
৮১০. তুলাইহার সমর্থক তামিম ও ইয়ারবু গোত্রকে পরাজিত করেন > খালিদ (রা.)
৮১১. তুলাইহা বহু অনুচরসহ ইসলামে দীক্ষিত > পরাজিত হওয়ার পর
৮১২. মহিলা ভন্ডনবী সাজাহকে বিয়ে করে > ভন্ড নবী মুসায়লামা
৮১৩. ভন্ডনবী মুসায়লামার সমর্থক > বনু হানিফা গোত্রের ৪০ হাজার লোকের একটি বিদ্রোহী দল
৮১৪. খালিদ বিন ওয়ালিদ ভন্ড নবী মুসায়লামাকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন > ইয়ামামার যুদ্ধে
৮১৫. ইয়ামামার যুদ্ধকে মৃত্যুর বাগান বলে উল্লেখ করেছেন > ঐতিহাসিক তাবারি
৮১৬. কঠিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধসমূহের মধ্যে ইয়ামামার যুদ্ধ অন্যতম > জোসেফ হেল
৮১৭. ইয়ামামার যুদ্ধে নিহত > মুসায়লামা সহ হানিফা গোত্রের প্রায় ১০ হাজার ধর্মত্যাগী
৮১৮. ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন > বহু সাহাবী এবং ৭০ জন হাফেজে কুরআন
৮১৯. মহিলা ভন্ড নবী সাজাহ হানিফা গোত্রের লোকজনসহ ইসলাম গ্রহণ করে > ইয়ামামার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে
৮২০. পবিত্র কুরআন সংকলনের পরামর্শক > হযরত উমর (রা.)
৮২১. পবিত্র কুরআন সংকলনের উদ্যোক্তা > হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
৮২২. পবিত্র কুরআন সংকলনের দায়িত্ব অর্পণ > অহী লিখক সাহাবী হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রা.) কে
৮২৩. ভন্ডনবীদের দমন, যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন, মুরতাদ্দের দমন ও কুরআন সংকলনে অবদানের জন্য আবু বকরকে বলা হয় > ইসলামের ত্রাণকর্তা
৮২৪. রাসূলুল্লাহ (স.) এর জীবদ্দশায় সর্বপ্রথম নবুয়ত দাবি করে > ইয়ামেনের আনাসি গোত্রের নেতা আসওয়াদ আনাসি
৮২৫. ভন্ড নবী আসওয়াদ আনাসি নিহত হয় > ইয়ামেনের নিহত শাসনকর্তার আত্মীয় ফিরোজ দায়লামি কর্তৃক
৮২৬. ভন্ড নবী মুসায়লামা > মধ্য আরবের ইয়ামামার বনু হানিফা গোত্রের
৮২৭. ভন্ড নবী মুসায়লামা ইসলাম গ্রহণ করেছিল > প্রতিনিধি আগমনের বছর
৮২৮. কুরআনের বাণী নকল করে নিজস্ব পদ্ধতিতে নামাজ চালু করে > ভন্ড নবী মুসায়লামা
৮২৯. ভন্ড নবী তুলাইহা > উত্তর আরবের বনু সা'দ গোত্রের
৮৩০. যাকাত বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে > ভন্ড নবী তুলাইহা বেদুইনদের সাথে ষড়যন্ত্র করে
৮৩১. ভন্ড নবী তুলাইহাকে দমন করেন > বুজাখার যুদ্ধে খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
৮৩২. ভন্ড নবী মুসায়লামা ও সাজাহ বাহিনীর কাছে পরাজিত হন > হযরত ইকরামা ও সূরাহবিল (রা.)
৮৩৩. ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৩৩ খ্রি.
৮৩৪. ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন > ৭০ জন হাফেজে কুরআন সাহাবী
৮৩৫. আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহের কারণে প্রাণ হারান > ধর্মপ্রাণ মুসলমান
৮৩৬. পারস্য অভিযান > ৬৩৩ খ্রি.
৮৩৭. পারস্য অভিযানে প্রথমে > ৮ হাজার সৈন্য প্রেরিত হয় > সেনাপতি মুসান্নার নেতৃত্বে
৮৩৮. মুসান্নার সাহায্য ১০ হাজার সৈন্য প্রেরিত হয় > মহাবীর খালিদের নেতৃত্বে
৮৩৯. খালিদ বাহিনী মুসান্না বাহিনীর সাথে মিলিত হয় > ইউফ্রেটিস নদীর উপকূলে
৮৪০. খালিদ ও মুসান্নার সম্মিলিত বাহিনী পারস্য বাহিনীকে প্রথমে আহ্বান জানায় > ইসলাম গ্রহণের
৮৪১. পারস্য বাহিনী অস্বীকার করে > ইসলাম গ্রহণ ও জিজিয়া দিতে
৮৪২.পারস্য বাহিনীর প্রধান সেনাপতি > হরমুজ
৮৪৩. পারস্য অভিযানেকে বলা হয় > Battle of Chains
৮৪৪. পারস্য অভিযানকে Battle of Chains বলার কারণ > পারস্য বাহিনী প্রধান হরমুজ সৈন্যদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখে
৮৪৫. পারস্য অভিযানে দ্বৈতযুদ্ধ সংঘটিত হয় >
মহাবীর খালিদ ও পারস্য বাহিনী প্রধান হরমুজের সঙ্গে
৮৪৬. হরমুজ নিহত হলে মুসলিম বাহিনী জয় করে > পারসিক রাজকুমারী দ্বারা রক্ষিত দুর্গ
৮৪৭. ওয়ালাজারা যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি বাহমান পরাজয় বরণ করে > খালিদ ও মুসান্না (রা.) এর নিকট
৮৪৮. মহাবীর খালিদ হীরা দখল করেন > পারস্য বাহিনীকে অন্য একটি যুদ্ধে পরাজিত করে
৮৪৯. খলিফার বশ্যতা স্বীকার, সন্ধিপত্র স্বাক্ষর ও জিযিয়া প্রদানের সম্মত হয় > হীরার অধিবাসীগণ
৮৫০. হীরা দখলের পর খালিদ মুসলিম আধিপত্য বিস্তার করেন > আনবার, আইনুত তামুর ও দুমায়
৮৫১. সিরিয়া অভিযানে আবু বকর (রা.) সেনাবাহিনীকে ভাগ করেন > ৪টি ভাগে
৮৫২. সিরিয়া অভিযানে প্রথম ভাগে আমর ইবনুল আস (রা.) এর নেতৃত্বে > ফিলিস্তিনের দিকে গমন
৮৫৩. দ্বিতীয় ভাগে আবু ওবায়দা (রা.) এর নেতৃত্বে > হিমসের দিকে গমন
৮৫৪. তৃতীয় ভাগে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) এর নেতৃত্বে > দামেস্কের দিকে গমন
৮৫৫. সিরিয়া অভিযানে সুরাহবিল ইবনে হাসানা (রা.) এর নেতৃত্বে > জর্ডানের দিকে গমন
৮৫৬. সিরিয়া অভিযানে আবু ওবায়দা জাবিয়ায়, সুরাহবিল ইবনে হাসানা বসরায় ও আমার ইবনুল আস (রা.) আরবায় > সৈন্যবাহিনী নিয়ে উপনীত হয়
৮৫৭. সিরিয়া অভিযানে সর্বাধিনায়ক ছিলেন > আবু ওবায়দা (রা.)
৮৫৮. সিরিয়া অভিযানে হিরাক্লিয়াসের ভ্রাতা থিওডোরাসের সৈন্য > ২ লক্ষ ৪০ হাজার
৮৫৯. সিরিয়া অভিযানে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ৪০ হাজার
৮৬০. সিরিয়া অভিযান সংঘটিত হয় > ৬৩০ খ্রি. আজানাদাইন প্রান্তরে
৮৬১.আজানাদাইনের যুদ্ধে থিওডোরাস পরাজিত হয় > মুসলিম বাহিনীর নিকট
৮৬২. সিরিয়া অভিযানে হিরাক্লিয়াস পলায়ন করে > এন্টিয়াকে/এন্টি ওকে
৮৬৩. আজানাদাইনের যুদ্ধে হিরাক্লিয়াস পরাজিত হওয়ায় > প্যালেস্টাইন মুসলিম আধিপত্যে চলে আসে
৮৬৩. হযরত আবু বকর (রা.) জ্বরাক্রান্ত হন > ৭ই জমাদিউস সানি ১৩ হিজরি
৮৬৪. ইসলামে খিলাফত সম্পর্কে প্রথম চুক্তিপত্র > হযরত উমর (রা.) এর খিলাফত সম্পর্কে লিখিত চুক্তিপত্র
৮৬৫. প্রথম লিখিত চুক্তিপত্রের লিখক > উসমান (রা.) আবু বকর (রা.) এর নির্দেশে উমরের খিলাফত সম্পর্কে
৮৬৬. আবু বকর (রা.) এর ইন্তেকাল > ১৩ হিজরী ২১ জমাদিউস সানি ৬৩ বছর বয়সে
৮৬৭. আবু বকর (রা.) এর জানাযার ইমামতি করেন > উমর (রা.)
৮৬৮. আবু বকর (রা.) কে দাফন করা হয় > আয়েশা সিদ্দিকার হুজরা মোবারকে রাসূলুল্লাহ (স.) এর (স.) এর পাশে
৮৬৯. "এরূপ সংকটের দিনে হযরত আবু বকরের মতো খলিফা না থাকলে ইসলাম ও ইসলামী রাষ্ট্র কোনটাই রক্ষা পেতো না ।" > আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)
৮৭০. আবু বকরকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় > খিলাফত লাভের পূর্বে ও পরে অক্লান্ত সেবা ত্যাগ তিতিক্ষা ও ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদানে
৮৭১.নেতৃস্থানীয় ও বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করে > হযরত আবু বকর (রা.)
৮৭২. আবু বকর (রা.) সিদ্দীক উপাধি লাভ করেন > রাসূলুল্লাহ (স.) এর মেরাজ গমনের ঘটনা নিঃসংকোচে বিশ্বাস করার কারণে
৮৭৩. আবু বকর (রা.) কে ইসলামের খেদমতের ব্যাপারে কেউ অতিক্রম করতে পারবে না > হযরত উমর (রা.)
৮৭৪. "যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে আবু বকরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম" > রাসুলুল্লাহ (স.)
৮৭৫. প্রতিকূল ঝড় সংকুল আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে ইসলামের তরীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র তারই প্রাপ্য > আবু বকর সম্পর্কে মাওলানা মোহাম্মদ আলী
৮৭৬. হযরত আবু বকর (রা.) এর স্বল্পকালীন খিলাফতের অধিকাংশ সময় ব্যাপৃত ছিল > রিদ্দা যুদ্ধে
৮৭৭. বিশ্বজয়ে বের হওয়ার পূর্বে আরববাসীদেরকে নিজেদের দেশকে জয় করতে হয়েছিল > পি.কে. হিট্টি
৮৭৮. মহানবী (স.) এর উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব > হযরত আবু বকর (রা.)
৮৭৯. ইসলাম ও মহানবী (স.) এর জন্য আবু বকর (রা.) প্রহৃত বা আঘাতপ্রাপ্ত হন > পৌত্তলিকদের হাতে
৮৮০. স্বপ্ন ব্যাখ্যায় আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের অধিকারী > হযরত আবু বকর (রা.)
৮৮১. অস্পুট সুরে ফুঁপিয়ে কান্নার কারণে আবু বকরকে বলা হয় > আওয়াহুম মুনীব
৮৮২. মহানবী (স.) অন্তিম কালে নামাযের ইমামতির আদেশ দেন > আবু বকর (রা.) কে
৮৮৩. রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহে আবু বকর (রা.) অনুসারী ছিলেন > গণতন্ত্রের
৮৮৪. আবু বকর (রা.) কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন > মজলিস আশ-শূরা বা মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করে
৮৮৫. রাসূলে কারীমের পর আবু বকর (রা.) শ্রেষ্ঠ মুসলমান ছিলেন > আলী (রা.)
৮৮৬. দীন-দুঃখীর দুর্দশা দূর করার জন্য সর্বপ্রথম বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন > আবু বকর (রা.)
৮৮৭. কোন বিষয়ে সমস্যার সমাধানে সর্বপ্রথম পবিত্র কুরআনে অনুসন্ধান, কুরআনে না পেলে হাদীসে খোঁজ করতেন, হাদিসে যদি না পাওয়া যেত তাহলে আহবান করতেন > বিশেষ সভার
৮৮৮. আবু বকর (রা.) দুটি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখতেন > প্রশাসকদের সম্মানও মর্যাদা রক্ষা, তাদের সাথে স্বেচ্ছাচারমূলক ব্যবহার না করা
৮৮৯. আবু বকর (রা.) বিনা দ্বিধায় পদচ্যুত করতেন > নিয়োগের পর কেউ অযোগ্য বলে প্রমাণিত হলে
৮৯০. বাইতুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রতিষ্ঠা ও এর কার্যক্রম শুরু > রাসুলুল্লাহ (স.) এর যুগেই
৮৯১. আবু ওবায়দার উপর বাইতুল মালের দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল > আবু বকরের খিলাফতে
৮৯২. ইফতা হচ্ছে > শরীয়তের আহকাম প্রচার ও ফাতাওয়া বিভাগ
৮৯৩. আবু বকর (রা.) এর ফাতাওয়া বিভাগে ছিলেন > হযরত আলী, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব, যায়েদ ইবনে সাবিত ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)
৮৯৪. সমস্ত সাহাবী ছিলেন > ইসলামী মুজাহিদ
৮৯৫. সমগ্র সেনাবাহিনীর জন্য নিযুক্ত থাকতেন > একজন সিপাহসালার
৮৯৬. ইরাকের বনী ওয়ালের সমস্ত মূর্তিপূজক ও খ্রিস্টান মুসলমান হয়েছিলেন> হযরত মুসান্নার (রা.) এর চেষ্টায়
৮৯৭. ইরাকী-আরবের অধিকাংশ গোত্র মুসলমান হয়েছিলেন > হযরত খালিদের দাওয়াতে
৮৯৮.নিশ্চয়ই আমাদের আত্মীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ (স.) এর আত্মীয়দের সাথে উত্তম ব্যবহার করব- এটি উত্তম (বুখারী) > আবুবকর (রা.) এর উক্তি
৮৯৯. নবী চরিত্রের পূর্ণ প্রতিবিম্ব > হযরত আবু বকর (রা.)
৯০০. সাদাসিধা চাল-চলন, মোটা কাপড় ব্যবহার করেন > হযরত আবু বকর (রা.)
৯০১. "আমি প্রত্যেকের উপকারের প্রতিদান দুনিয়াতে পরিশোধ করে দিয়েছি কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.) এর উপকার সমূহ আমার উপর
রয়ে গিয়েছে, তার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা পরকালে দিবেন" > রাসূলুল্লাহ (স.)
হযরত উমর ফারুক ( রা.) ৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.
৯০২. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জন্মগ্রহণ করেন > ৫৮৩ খ্রি. কুরাইশ বংশের আদী গোত্রে, ডাক নাম > আবু হাফস, উপাধি > ফারুক, পিতা > খাত্তাব, মাতা > হাতামা বা হানতামা , গাত্রবর্ণ > ঈষৎ রক্তিম, মাথা > ভাঁজ বিশিষ্ট, গাল > স্বল্প মাংসল, দাঁড়ি > ঘন, দেহ> দীর্ঘকায়
৯০৩. শক্তিশালী, তেজস্বী ও কুস্তিগীর হিসেবে বিখ্যাত > হযরত উমর (রা.)
৯০৪. কুরাইশ বংশের ১৭ জন শিক্ষিতের মধ্যে অন্যতম > হযরত উমর (রা.)
৯০৫. হযরত উমর (রা.) এর অজ্ঞাতসারেই ইসলাম গ্রহণ করেন > তার বোন ফাতেমা ও ভগ্নিপতি সাঈদ
৯০৬. মক্কার বিধর্মীদেরকে একত্রিত করে ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করায় তিনি উপাধি লাভ করেন > ফারুক বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী
৯০৭. উমরা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন > নবুয়তের সপ্তম বছরে
৯০৮. সর্বপ্রথম আযান ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন > হযরত উমর (রা.)
৯০৯. খন্দকযুদ্ধে সমরকুশলতার স্বীকৃতি স্বরূপ খন্দকে একটি মসজিদ নির্মিত হয় > হযরত উমর (রা.) এর নামে
৯১০. খায়বর অঞ্চলে বিস্তীর্ণ ভূ-সম্পত্তি ইসলামের সেবায় উৎসর্গ করেন > উমর (রা.)
৯১১. রাসূলুল্লাহ (স.) এর ইন্তেকাল পর মজনু হালাতে বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন > উমর (রা.)
৯১২. আবু বকর (রা.) এর খেলাফতকালের প্রধান উপদেষ্টা ও বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন > হযরত উমর (রা.)
৯১৩. "ভাইসাব ! আমি আমার কোন আত্মীয়স্বজনকে খলিফা মনোনীত করিনি ; বরং হযরত উমরকে মনোনীত করেছি যাতে আপনারা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হন । উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলে উঠলো, আমরা আপনার কথা শুনলাম এবং মনোনয়ন মেনে নিলাম" > উমরের মনোনয়ন সম্পর্কে হযরত আবু বকর (রা.)
৯১৪. হযরত উমর (রা.) খিলাফতের দায়িত্বে গ্রহণ করেন > ৬৩৪ খ্রি. ২৩শে আগস্ট
৯১৫. খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের ইরাক, পারস্য, মিশর অভিযানগুলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সামরিক অভিযানসমূহের অন্যতম; নেপোলিয়ন, হ্যানিবল ও আলেকজান্ডার পরিচালিত যুদ্ধগুলোর সাথে তুলনীয় > পি.কে. হিট্টি
৯১৬. আরবের পূর্বে দিকে > পারস্য সাম্রাজ্য;
ইরাক বা মেসোপটেমিয়া হতে আমুদরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বর্তমান ইরান নিয়ে > পারস্য সাম্রাজ্য গঠিত
৯১৭. পারস্য সাম্রাজ্যের ইরাক প্রদেশ আরব ভূখন্ডের সংলগ্ন হওয়ায় > আরববাসীর সাথে প্রায় সংঘর্ষ লাগতো
৯১৮. মুসলমানগন অস্ত্র ধারণ করতে বাধ্য হয়েছিল > পারস্যবাসীদের শত্রুতা সহ্য করতে না পেরে
৯১৯. সভ্যতার লীলাভূমি মেসোপটেমিয়া বা ইরাক ছিল > পারস্য সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ
৯২০. মুসলমানগণ হীরারাজ্য পুনরুদ্ধার করেন > ৬৩৪ খ্রি. সেপ্টেম্বরে নামারিকের যুদ্ধ বিজয়ে
৯২১. মুসান্নার সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য উমর (রা.) পাঠান > আবু ওবায়দা (রা.) এর নেতৃত্বে একটি সেনাদল
৯২২. নামারিকের যুদ্ধের পারস্য বাহিনীর সেনাপতি > রুস্তম
৯২৩. জসরের যুদ্ধকে সেতুর যুদ্ধ বলা হয় > যুদ্ধের পূর্বেও পরে মুসলিম বাহিনী নৌকা দ্বারা সেতু নির্মাণ করে ইউফ্রেটিস নদী অতিক্রম করেছিল বলে
৯২৪. সেতুর যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি > আবু ওবায়দা (রা.)
৯২৫. জসর বা সেতুর যুদ্ধে রুস্তম বাহিনীর সেনানায়ক > বাহমান
৯২৬. সেতুর যুদ্ধ সংঘটিত হয় > অক্টোবর, ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে
৯২৭. সেতুর যুদ্ধে শহীদ হন > সেনাপতি আবু ওবায়দা (রা.), তার ভ্রাতা এবং সুযোগ্য মুসলিম সেনানায়কসহ ৬০০০ মুসলিম যোদ্ধা
৯২৮. সেতুর যুদ্ধে শহীদ আবু ওবায়দা (রা.) এর স্থলাভিষিক্ত হলেন > হযরত মুসান্না (রা.)
৯২৯. সেতুর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পূর্ব বিজিত স্থানসমূহ রক্ষার জন্য মুসান্না রাজধানী স্থাপন করেন > উলিসে
৯৩০. বুওয়ায়েবের যুদ্ধ সংঘটিত > ৬৩৫ খ্রি. 'বুওয়ায়েব' নামক স্থানে
৯৩১. বুওয়ায়েবের যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে বিধ্বস্ত করেন > মুসলিম সেনাপতি মুসান্না (রা.)
৯৩২. পারস্য সেনাপতি মিহরানসহ অধিকাংশ সৈন্য নিহত হলেন > বুওয়ায়েবের যুদ্ধে পলায়নের পথ না পেয়ে
৯৩৩. বুওয়ায়েবের যুদ্ধ বিজয়ের কিছুদিন পর ৬৩৫ খ্রি . এপ্রিলে প্রাণ ত্যাগ করেন > বীর সেনানায়ক হযরত মুসান্না (রা.)
৯৩৪. কাদেসিয়ার যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৩৫ খ্রি. নভেম্বরে
৯৩৫. কাদেসিয়ার যুদ্ধে মুসলিম সিপাহী > সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
৯৩৬. কাদেসিয়ার যুদ্ধের পূর্বে মুসলিম দূতকে অপমান করে > পারস্যরাজ ইয়াজদিগার্দ
৯৩৭. কাদেসিয়ার যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি > মহাবীর রুস্তম
৯৩৮. কাদেসিয়ার যুদ্ধে পারস্য বাহিনী সৈন্য সংখ্যা > ১ লক্ষ ২০ হাজার
৯৩৯. কাদেসিয়ার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ৬০ হাজার
৯৪০. কাদেসিয়ার যুদ্ধে সাহাবী সংখ্যা > বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৯৯ জনসহ ১০০০ জন
৯৪১. কাদেসিয়ার যুদ্ধে সেনাপতি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) অসুস্থ হওয়ায় তার স্থলাভিষিক্ত হলেন > খালিদ বিন আরতাফা (রা.)
৯৪২. কাদেসিয়ার যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল > ৩ দিন
৯৪৩. কাদেসিয়ার যুদ্ধের প্রথম দিন কে বলা হয় > ইয়াওমুল আরমাছ বা বিশৃঙ্খলার দিন ; দ্বিতীয় দিন কে বলা হয় > ইয়াওমুল আগওয়াস বা সাহায্যের দিন ; তৃতীয় দিনকে বলা হয় > ইয়াওমুল উন্মাস বা দুর্দশার দিন
৯৪৪. কাদেসিয়ার যুদ্ধের তৃতীয় দিনের রাতকে লাইলাতুল হারীর বা গোলযোগপূর্ণ রাত বলা হয় > সারারাত যুদ্ধ চলমান ছিল বলে
৯৪৫. কাদেসিয়ার যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে সাহাবী কাকার সাথে মল্লযুদ্ধে নিহত হলো > পারস্য প্রসিদ্ধ বীর বাহমান
৯৪৬. পারস্য সেনাপতি রুস্তম পলায়ন করতে গিয়ে নিহত হলে > পারস্যবাহিনী মুসলিম বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে
৯৪৭. কাদেসিয়ার যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছিল > ইরাকের কৃষককুল
৯৪৮. পারসিকদের যুদ্ধ স্পৃহা প্রশমিত হতে থাকে > কাদেসিয়ার যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায়
৯৪৯. সেলুসিয়া ও টেসিফোন শহরকে একত্রে বলা হয় > মাদায়েন বা দুই শহর
৯৫০. আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলিউকাসের বংশধর কর্তৃক নির্মিত পশ্চিমাংশের শহর > সেলুসিয়া
৯৫১. পারস্য রাজগন কর্তৃক নির্মিত পূর্বাংশের শহর > টেসিফোন শহর নামে পরিচিত
৯৫২. মুসলমানগণ মাদায়েন বিজয় করেন > ৬৩৭ খ্রি. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে
৯৫৩. মাদাইনকে ইরাকের রাজধানী করেন > সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
৯৫৪. জালুলার যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৩৭ খ্রি. ডিসেম্বরে জালুলা নামক প্রান্তরে
৯৫৫. কাদেসিয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পারস্যের শেষ সাসানী বংশী সম্রাট ইয়াজদিগার্দ সৈন্যসহ পলায়ন করে > হুলওয়ান প্রদেশে
৯৫৬. জালুলার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি > হযরত কাকা (রা.)
৯৫৭. জালুলার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ১২,০০০
৯৫৮. বিপুলসংখ্যক পারসিক বাহিনী মুসলিমদের নিকট পরাজিত হয় > ৮ দিন জালুলা দুর্গ অবরোধের পর
৯৫৯. জালুলার যুদ্ধে মুসলমানদের দখলে আসে > হুলওয়ান প্রদেশ
৯৬০. জালুলার যুদ্ধে মুসলমানগণ দখল করে > টাকরিট, হিত ও কিরকিসিয়া দুর্গ
৯৬১. সমগ্র মেসোপটেমিয়া বা ইরাক মুসলমানদের দখলে আসে > ৬৩৭ খ্রি. ডিসেম্বরে জালুলার যুদ্ধে
৯৬২. ৬৩৮ খ্রি. কুফা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন > সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
৯৬৩. হীরার নতুন রাজধানী করেন > কুফায়
৯৬৪. কুফা নগরী অবস্থিত > ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে
৯৬৫. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বসরা শহর প্রতিষ্ঠা করেন > উতবা উবাল্লার নিকট শাতআল আরবে
৯৬৬. আরব ভূখণ্ডের তুলনায় ইরাক শহর > সুজলা-সুফলা ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ু বিশিষ্ট
৯৬৭. কূফা শহরে > ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র, জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক, পন্ডিত ও দরবেশের বসবাস
৯৬৮. নিহাওয়ানদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৪২ খ্রি.
৯৬৯. হুলওয়ান বিজিত হলে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় > পারস্য সম্রাট ইয়াজদিগার্দ ও মুসলমানদের মধ্যে
৯৭০. পারস্য সম্রাট ইয়াজদিগার্দ সৈন্য সংঘবদ্ধ করেন > জুবজান, রাই, ইস্পাহান ও হামাদান প্রভৃতি অঞ্চল হতে
৯৭১. নিহাওয়ানদের যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি > ফিরোজান
৯৭২. নিহাওয়ানদের যুদ্ধে পারস্য সৈন্য সংখ্যা > ১ লক্ষ ৫০ হাজার
৯৭৩. নিহাওয়ানদের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যের সংখ্যা > ৩০ হাজার
৯৭৪.উমর (রা.) নিহাওয়ানদের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেন > নোমান বিন মুকরান (রা.) কে
৯৭৫. নিহাওয়ানদের যুদ্ধে বিজয় লাভ করে > মুসলিম বাহিনী
৯৭৬. সেনাপতি নোমান বিন মুকরান (রা.) শাহাদাত বরণ করেন > নিহাওয়ানদের যুদ্ধে
৯৭৬. অতি প্রাচীনকাল থেকে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ও লীলাভূমি > ইরাক
৯৭৭. প্রথম ৩ শতাব্দীতে ইসলামের জ্ঞানভাণ্ডারে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন > ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী পারসিকগণ
৯৭৮. আরবের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত > রোমান সাম্রাজ্য
৯৭৯. রোমান সাম্রাজ্যের পূর্ব নাম > বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
৯৮০. বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য গঠিত > সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, জর্দান ও মিশর নিয়ে
৯৮১. ভৌগোলিক দিক দিয়ে সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন প্রকৃতপক্ষে > আরবের অন্তর্গত
৯৮২. রোমানদের নৌ ঘাঁটি ছিল > কিলিসমা বর্তমান সুয়েজ শহর
৯৮৩. হিজায প্রদেশের অতি সন্নিকটে ছিল > শত্রুপক্ষের কিলিসমা বা সুয়েজ শহর
৯৮৪. হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ দামেস্ক নগরী অবরোধ করে রাখেন > প্রায় ৬ মাস
৯৮৫. রাতের অন্ধকারে প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে দামেস্ক নগরীর ভিতরে প্রবেশ করে দ্বাররক্ষীদের হত্যা করে > খালিদ বিন ওয়ালিদসহ একদল দুঃসাহসী যোদ্ধা
৯৮৬. দামেস্ক সম্পূর্ণভাবে মুসলমানদের হস্তগত হয় > ৬৩৫ খ্রি. সেপ্টেম্বরে
৯৮৭. দামেস্ক বিজয় খালিদকে সাহায্য করেন >
আবু ওবায়দা, আমার ইবনুল আস, সূরাহবিল (রা.)
৯৮৮. দামেস্ক পুনরুদ্ধারে সম্রাট হিরাক্লিয়াস এন্টিওক থেকে প্রেরণ করে > ৫০ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী
৯৮৯. দামেস্কে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে রোমানগণ >
মুসলমানদের নিকট সন্ধি প্রস্তাব দেয়
৯৯০. সন্ধি প্রত্যাখাত হলে রোমানগণ ও মুসলমানদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ফিহল নামক স্থানে ফিহলের যুদ্ধ
৯৯১. ফিহলের যুদ্ধে পরাজিত হয় > রোমান বাহিনী
৯৯২. হিমসের অধিবাসীগণ আত্মসমর্পণ করে > মুসলমানগণ প্রচন্ডভাবে হিমস আক্রমণ করলে
৯৯৩. উমর (রা.) নির্দেশে হিমসের দায়িত্ব দেওয়া হয় > আবু ওবায়দাকে (রা.) কে
৯৯৪. জর্দানের দায়িত্ব দেওয়া হয় > আমর ইবনুল আসকে (রা.) কে
৯৯৫. দামেস্কের দায়িত্ব দেওয়া হয় > খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) কে
৯৯৬. ইয়ারমুকের যুদ্ধের জন্য হিরাক্লিয়াস রোমান বাহিনী গঠন করে > আর্মেনীয়, সিরীয়, রোমীয় ও আরব গোত্রীয় খ্রিস্টানদের নিয়ে
৯৯৭. ইয়ারমুকের যুদ্ধে হিরাক্লিয়াস থিওডোরাসের নেতৃত্বে প্রেরণ করে > ২ লক্ষ ৪০ হাজার সৈন্য
৯৯৮. ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ৩৫ হাজার
৯৯৯. ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি আবু ওবায়দার সাথে মিলিত হয় > আমর ইবনুল আস, খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ; ইয়ারমুকের যুদ্ধের রোমান সৈন্য হতাহত হয় > ৭০ হাজার মতান্তরে লক্ষাধিক; মুসলিম সৈন্য শাহাদাত বরণ করে > ৩ হাজার ; যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৩৬ খ্রি. আগস্টে ইয়ারমুক প্রান্তরে
১০০০. ইয়ারমুকের যুদ্ধে রোমানদের পরাজয়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস আশ্রয় গ্রহণ করে > কনস্টান্টিনোপলে
১০০১. হযরত উমর (রা.) ইয়ারমুকের যুদ্ধের পর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) কে সেনাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেন > ৬৩৮ খ্রি.
১০০২. হযরত উমর (রা.) সেনাপতি খালিদকে অব্যাহতি দিয়ে তদস্থলে নিযুক্ত করেন > আমর ইবনুল আস (রা.) কে
১০০৩. মুসলমানগণ প্যালেস্টাইনের রাজধানী জেরুজালেম অধিকার করেন >, ৬৩৭ খ্রি.
১০০৪. ইয়ারমুকের যুদ্ধের পর প্যালেস্টাইনের রাজধানী জেরুজালেম অবরোধ করেন > আমর ইবনুল আস (রা.)
১০০৫. জেরুজালেম অবরোধে পালিয়ে যান > রোমান শাসনকর্তা আরতাবুন
১০০৬. অবরুদ্ধ জেরুজালেম নগরের অধিবাসীবৃন্দ আত্মসমর্পণ করতে স্বীকৃত হলো এ শর্তে যে > উমর (রা.) স্বয়ং জেরুজালেমে এসে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করবেন
১০০৭. জেরুজালেম নগরে প্রবেশের সময় উটের রশি টানছিলেন > হযরত উমর (রা.) ; আর উটের পিঠে বসা ছিলেন > ভৃত্য
১০০৮. জেরুজালেম নগরী দখলে খ্রিস্টান ধর্মগুরু সাফ্রোনিয়াস ও উমর (রা.) এর মধ্যে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় > ৬৩৭ খ্রি. জিযিয়া করদানের শর্তে
১০০৯. জেরুজালেম নগরী দখলের সন্ধীপত্রে সাক্ষী ছিলেন > খালিদ বিন ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস, আব্দুর রহমান বিন আউফ ও আমীর মুয়াবিয়া (রা.)
১০১০. মুসলিম আধিপত্য খর্ব করার জন্য রোমান সম্রাটের প্ররোচনায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে > ৩০ হাজার জাজিরা বাসি
১০১১. নিরাপত্তার জন্য আবু ওবায়দা (রা.) জাজিরা দখল করেন > ৬৩৮ খ্রি.
১০১২. জাজিরা দখলের পর মুসলমানগণ দখল করে > আর্মেনিয়া, রোমান শক্তির কেন্দ্র সাইলিসিয়া
১০১৩. উমর ((রা.) এর খিলাফতের মাত্র ৬ বছরের মধ্যে (৬৩৪-৬৪০ খ্রি.) মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয় > সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন
১০১৪. উমর (রা.) আমীর মুয়াবিয়া (রা.)কে সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন > ৬৪০ খ্রি.
১০১৫. মিসর বিজয়ের কারণ > ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু হিজাযের সন্নিকটে মিসর অবস্থিত, রোমানদের শক্তিশালী নৌ ঘাঁটি মিসরে, প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি, বাণিজ্য কেন্দ্র, কৃষি সম্পদ সমৃদ্ধ মিসর, নীলনদের দান মিসর, সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন বিজয়ের পরও মিসরে রোমানদের কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন
১০১৬. সেনাপতি আমর ইবনুল আস ৬৩৯ খ্রি. ১২ই ডিসেম্বর মিসরের দিকে অগ্রসর হলেন > ৪,০০০ সৈন্য নিয়ে
১০১৭. আমর ইবনুল আস (রা.) ৪০০০ সৈন্য নিয়ে দখল করেন > ওয়াদি আল-আরিশ নামক স্থান, ফারামা, বিলবিল, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শহর
১০১৮. ব্যাবিলন দখলে উমর (রা.) জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.) কে আমর ইবনুল আসের সাহায্যার্থে পাঠালেন > ১০,০০০ সৈন্যসহ
১০১৯. হেলিওপলিসের যুদ্ধে সংঘটিত হয় > ৬৪০ খ্রি.
১০২০. হেলিওপলিসের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ১৪,০০০ ; বাইজান্টাইন সৈন্য সংখ্যা > ২৫,০০০
১০২১. হেলিওপলিসের যুদ্ধে আমর ইবনুল আসের নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় > বাইজান্টাইন সেনাবাহিনী
১০২২. হেলিওপলিসের যুদ্ধে পরাজিত রোমান সেনাপতি থিওডোরাস আত্মগোপন করে > আলেকজান্দ্রিয়ায়
১০২৩. হেলিওপলিসের যুদ্ধে পরাজিত মিসরের শাসনকর্তা সাইরাস আশ্রয় গ্রহণ করে > ব্যাবিলন দুর্গে
১০২৩. মুসলমান ব্যাবিলন দখল করে ৬৪১ খ্রি.৭ই
এপ্রিল > দুর্গ প্রাচীর অতিক্রম করে
১০২৪. বাইজান্টাইনের সামরিক ঘাঁটি আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধ করেন > আমর ইবনে আস (রা.)
১০২৫. আলেকজান্দ্রিয়া দখলে মুসলমানদের আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে > বাইজান্টাইন সেনাপতি থিওডোরাস
১০২৬. আলেকজান্দ্রিয়া দখলে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা > ২০,০০০ ; আর শত্রুক পক্ষের রোমান সৈন্য সংখ্যা > ৫০,০০০
১০২৭. আলেকজান্দ্রিয়া মুসলমানদের হস্তগত হয় > ৬৪১ খ্রি. ৮ ই নভেম্বর
১০২৮. আলেকজান্দ্রিয়া দখলের পর সন্ধি হয় >
মুসলমান ও রোমানদের মধ্য
১০২৯. আলেকজান্দ্রিয়া সন্ধি শর্তানুযায়ী জান-মালে নিরাপত্তায় রোমান সম্রাট অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় > মুসলমানদের বার্ষিক ১৩ হাজার দিনার জিযিয়া দিতে
১০৩০. রোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ প্রদেশ মিসর মুসলমানদের হস্তগত হয় > আলেকজান্দ্রিয়া দখলের পর
১০৩১. আমার ইবনুল আস ব্যাবিলনের নিকট বিখ্যাত ফুস্তাত শহর নির্মাণ করেন > ৬৪২ খ্রি. আলেকজান্দ্রিয়া দখলের পর
১০৩২. মিশরের রাজধানী কায়রো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে মিশরের রাজধানী ছিল > ফুস্তাত নগরী
১০৩৩. মিশরের বাসিন্দাদের অবস্থার উন্নতি, রাজস্ব নির্ধারণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহ দান, অমুসলিমদের সাথে সদয় ব্যবহার করেন > আমর ইবনুল আস
১০৩৪. উমর (রা.) এর নির্দেশে আমার ইবনুল আস নীলনদ ও লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেন > ৬৪২ খ্রি. খাল খনন করে
১০৩৫. রোমান ও মুসলমান সাম্রাজ্যদ্বয়ের সীমারেখা চিহ্নিত পর্বত > টরাস পর্বত
১০৩৬. মুসলমানগণ রোমান সাম্রাজ্যের মূলে কুঠারাঘাত হেনেছিল > সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, মিশর এ তিনটি সুন্দর উর্বর প্রদেশ অধিকার করে
১০৩৭. পারস্য সাম্রাজ্য ও রোমান সাম্রাজ্য বিজয়ের অন্যতম কারণ > মুসলমানদের মরণপণ সংগ্রাম- মরলে শহীদ ; বাঁচলে গাজী
১০৩৮. মুসলমানগন শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতো > শাহাদাত লাভের আশায়
১০৩৯. পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য মুসলমানদের হস্তগত হওয়ার অন্যতম কারণ > সাম্রাজ্যের স্বৈরাচারী শাসন কার্য
১০৪০. মুসলমানদের পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের বিজয়ের অন্যতম কারণ > সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস, ও অন্যান্য সেনাপতির রণদক্ষতা ও কর্মকৌশলতা
১০৪১. পারসিক ও রোমান সৈন্যদের ছিল না > জাতীয়তাবোধ , দেশাত্মবোধ (অর্থের জন্যই যুদ্ধ করতো তারা )
১০৪২. যে রাষ্ট্র জাতীয়তাবোধ ও জনগণের সক্রিয় সহানুভূতির উপর প্রতিষ্ঠিত নয় > সে রাষ্ট্রের পতন অবশ্যম্ভাবী
১০৪৩. ইসলামের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামল (৬৩৪ থেকে ৬৪৪ খ্রি.)
১০৪৪. তার শাসনকাল ইসলামের কৃতিত্বপূর্ণ সামরিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে । হযরত উমর (রা.) শুধু একজন বিখ্যাত বিজেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক এবং নিরঙ্কুশ সফলকাম জাতীয় নেতাদের অন্যতম > হযরত উমর (রা.) সম্পর্কে ড. এস.এম. ইমামউদ্দিন
১০৪৫. ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রকৃত স্থপতি > হযরত উমর (রা.)
১০৪৬. হযরত উমর (রা.) এর শাসন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য > গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা
১০৪৭. খলিফার নীতি ও কার্য সম্পর্কে জনগণের গঠন মূলক সমালোচনা করার অধিকার ছিল > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১০৪৮. সাম্য-স্বাধীনতা, একতা, ভাতৃত্ব, জনকল্যাণকর ব্যবস্থা ছিল > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১০৪৯. হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতে গণতন্ত্রের আদর্শ যতদূর পালন করা হয়েছিল, সেই আদর্শ অর্জন করতে বিশ্বের আরো অধিক সময় লাগবে > মাওলানা মোহাম্মদ আলী
১০৫০. শূরা অর্থ-পরামর্শ, মজলিস-উশ-শূরা অর্থ > পরামর্শ সভা
১০৫১. রাষ্ট্রীয় কার্যাদী সম্পাদনের জন্য প্রাক ইসলামী নীতি ও কুরআনের নির্দেশ অনুসরণপূর্বক সাহাবীদের সাথে পরামর্শের জন্য যে সভার আহ্বান করা হয় > তাকে মজলিস-উশ-শূরা বা পরামর্শ সভা বলে
১০৫২. হযরত উমর (রা.) খিলাফত পরিচালনা করতেন > মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে
১০৫৩. পরামর্শ ছাড়া কোন খিলাফত চলতে পারে না > হযরত উমর (রা.) এর ঘোষণা
১০৫৪. হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতে মজলিসে শূরা বিভক্ত ছিল > দুই ভাগে : মজলিসুল আম, মজলিসুল খাস
১০৫৫. মজলিসুল আম গঠিত ছিল > জ্ঞানীগুনী সাহাবী, মদিনার গণ্যমান্য নাগরিক, বিশিষ্ট বেদুইন প্রধানগণ অর্থাৎ মুহাজিরিন ও আনসারদেরকে নিয়ে
১০৫৬. মজলিসুল খাস গঠিত ছিল > হযরত আলী, হযরত উসমান, হযরত তালহা, হযরত জুবায়ের (রা.) এর সমন্বয়ে
১০৫৭. উমর (রা.) এর দৈনন্দিন শাসনকার্যে পরামর্শ গ্রহণ করতেন > মজলিসুল খাসের
১০৫৮. উমর (রা.) এর শাসনের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি > আরব জাতীয়তাবাদ অক্ষুন্ন রাখা
১০৫৯. আরব জাতীয়তাবাদ অক্ষুন্ন রাখতে হযরত উমর (রা.) ঘোষণা করেন > ২টি নীতি
১০৬০. হযরত উমর (রা.) ঘোষিত প্রথম নীতি > আরব উপদ্বীপে একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য কোন ধর্মের লোক অবস্থান করতে পারবে না - এই উদ্দেশ্যে খায়বরের ইহুদী ও নাজরানের খ্রিস্টানদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে আরবের বাইরে অবস্থানের নির্দেশ দেন
১০৬১. হযরত উমর (রা.) ঘোষিত দ্বিতীয় মূলনীতি > আরব উপদ্বীপ শুধু আরব বাসীদের জন্য সংরক্ষিত, জমিজমা ক্রয় করা বা চাষাবাদ করা আরববাসীর জন্য নিষিদ্ধ
১০৬২. জিম্মি বা নিরাপত্তা প্রাপ্ত বলা হয় > মুসলিম শাসিত অঞ্চলের অমুসলিম প্রজাদেরকে
১০৬৩. জিম্মিরা মুসলিম রাষ্ট্রে সকল অধিকার ভোগ ও জান-মালের নিরাপত্তার জন্য প্রদান করে > জিযিয়া কর
১০৬৪. জিম্মিদের কর ফেরত দেওয়া হতো > খলিফা তাদের নিরাপত্তা দিতে যদি ব্যর্থ হতেন
১০৬৫. অমুসলমানদের উপাসনাগৃহ, গির্জা রক্ষা, শিশু, বৃদ্ধ ও পশু হত্যা কিংবা অত্যাচার ও অমানবিক কাজকর্ম হতে সৈন্যদেরকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হতো > যুদ্ধের প্রাক্কালে
১০৬৬. শাসনকার্যের সুবিধার জন্য উমর (রা.) সমগ্র সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করেন > ১৪ টি প্রদেশে
১০৬৭. উমর (রা.) এর সাম্রাজ্যের ১৪ টি প্রদেশ > মক্কা, মদিনা, সিরিয়া, জাযিরা, বসরা, কুফা, মিসর, প্যালেস্টাইন, ফারস, কিরমান, খোরাসান মাকরান, সিজিস্তান ও আজারবাইজান
১০৬৭. উমর (রা.) এর সময় প্রদেশের শাসনভার ন্যস্ত ছিল > একজন ওয়ালি বা গভর্নর এর উপর
১০৬৮. উমর (রা.) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের নিকট কৈফিয়ত তলব করতেন > সাধারণ লোকের অভিযোগে
১০৬৯. শাসনকর্তাগণ জনগণের সেবক মাত্র, এ আদর্শ হতে তিলমাত্র বিচ্যুত হলে উমর (রা.) এর অমোঘ দন্ডে হতে নিস্তার ছিল না > প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের
১০৭০. ওয়ালি বা গভর্নরগণ নির্দিষ্ট বেতনের পাশাপাশি স্ব স্ব রাজধানীর মসজিদে > জুমার নামাজের ইমামতি করতেন
১০৭১. আমিল বা জেলা প্রশাসক, কাজী বা বিচারক, সাহিবুল বায়তুল মাল বা কোষাধ্যক্ষ স্ব স্ব কর্তব্য পালন করতেন > হযরত উমর (রা.) এর আমলে
১০৭২. জেলা প্রশাসক, বিচারক ও কোষাধ্যক্ষ এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য নিযুক্ত ছিল > নির্দিষ্ট কর্মচারী
১০৭৩. কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে উমর (রা.) উচ্ছেদ করেন > প্রাচীন শোষণমূলক ভূসত্ত্ব ও জমিদারি প্রথা
১০৭৪. হযরত উমর (রা.) এর পূর্বে রাজস্বের উৎস ছিল > পাঁচ প্রকার : যাকাত, জিযিয়া, খারাজ, উশর, বাণিজ্য কর, খুমুস ও আলফাই
১০৭৫. রাসূলুল্লাহ (স.) এর যুগে ঘোড়ার যাকাত ছিল না > যেহেতু ঘোড়ার ব্যবসার প্রচলন ছিল না
১০৭৬. ঘোড়ার ব্যবসা খুব লাভজনক হওয়ায় ঘোড়ার উপর যাকাত নির্ধারণ করেন > হযরত উমর ফারুক (রা.)
১০৭৭. অমুসলিম ধনীর উপর ৪ দিনার, মধ্যবিত্তের উপর ২ দিনার এবং অল্প আয়ের লোকের উপর ১ দিনার জিযিয়া কর নির্ধারণ করেন > উমর (রা.)
১০৭৮ অমুসলিম কৃষকরা দিতো > খারাজ বা ভূমিকর : উৎপন্ন শস্যের সর্বোচ্চ ২ ভাগের ১ অংশ, সর্বনিম্ন ৫ ভাগের ১ অংশ
১০৭৯. মুসলিম প্রজার দেওয়া ফসলি ভূমির কর হচ্ছে > উশর
১০৮০. বৃষ্টির পানি দ্বারা চাষাবাদ হলে উশর > ১০ ভাগের ১ অংশ ; আর কৃত্রিম উপায়ে পানি সেচ দ্বারা চাষাবাদ হলে উশর > ফসলের ২০ ভাগের ১ অংশ
১০৮১. গনিমতের পাঁচ ভাগের চার অংশ বন্টন করে দেওয়া হতো > মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে ; আর পাঁচ ভাগের এক অংশ > রাসূলুল্লাহ (স.) এর আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সৈন্যদের সাজ সরঞ্জামে ব্যয়
১০৮২. দখলচ্যূত কিংবা উত্তরাধিকারহীন সম্পত্তি বা পলাতক দেশত্যাগীর যে সমস্ত জমি মুসলমানদের হাতে এসে পড়ে তা > আলফাই নামে অভিহিত
১০৮৩. আলফাই থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে > খালখনন, নদীর বাঁধ নির্মাণ, কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পানীয় জলের সুব্যবস্থা করা হতো
১০৮৪. হযরত উমর (রা.) কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন > খালিদ বিন হিশামের পরামর্শে
১০৮৫. বাইতুল মাল এর রক্ষক খলিফা হলেও বাইতুল মাল ছিল > জনসাধারণের সম্পত্তি
১০৮৬. বাইতুল মালের অর্থ শাসনকার্যের সাধারণ খরচ ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত অর্থ ভাগ করে দেওয়া হতো > রাষ্ট্রের মুসলমানদের মধ্যে
১০৮৭. দিওয়ানুল খারাজ বা রাজস্ব বিভাগ নামে স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন > উমর (রা.) ; দিওয়ান উল-খারাজ বা রাজস্ব বিভাগ সংক্ষেপে পরিচিত > উমরের দিওয়ান নামে
১০৮৮. হযরত আবু বকর (রা.) এর সময় অর্থ অধিদপ্তরকে বলা হত > বাইতুল মাল ; আর হযরত উমর (রা.) এর সময় বাইতুল মালের নাম > দিওয়ান
১০৮৯. জাতীয় অর্থের সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য হযরত উমর (রা.) সর্বপ্রথম প্রচলন করেন > আদমশুমারি
১০৯০. রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বন্টন এর ক্ষেত্রে পৃথিবীর ইতিহাসে ইহাই সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ আদমশুমারি > পি.কে. হিট্টি
১০৯১. উমর (রা.) এর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ভাতা ভোগীদের নামের তালিকায় ছিল > আরব, মাওয়ালী, মুসলমান পুরুষ, স্ত্রী, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ
১০৯২. উমর (রা.) এর শাসনামলে বিশেষ ভাতা ভোগী ছিল > অক্ষম, পঙ্গু, দুর্বল, রুগ্ন প্রভৃতি ব্যক্তিদের
১০৯৩. উমর (রা.) এর শাসনামলে ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত > ৩টি নীতি দ্বারা : মহানবী (স.) এর আত্মীয়তা ; ইসলাম গ্রহণ অগ্রগণ্যতা ; ইসলাম ধর্মে সামরিক ও অন্যান্য খেদমত
১০৯৪. উম্মাহাতুল মুমিনীন রাসূলুল্লাহ (স.) এর স্ত্রীগণ পেতেন বার্ষিক > ১০,০০০- ১২,০০০ দিরহাম
১০৯৫. বদরের যোদ্ধারা > ৫০০০ দিরহাম; উহুদের যোদ্ধারা > ৪০০০ দিরহাম ; মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণকারীরা ও রিদ্দা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা > ৩০০০ দিরহাম ; বদর যুদ্ধের পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের সন্তানগন, ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা > ২০০০ দিরহাম ; মক্কার অধিবাসী ও অন্যান্য লোকজন সর্বনিম্ন ২০০ - ৮০০ দিরহাম বার্ষিক ভাতা পেতেন
১০৯৬. শাসন বিভাগ থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন > উমর (রা.)
১০৯৭. বিচার বিভাগের ভার ওয়ালী বা প্রাদেশিক গভর্নরের পরিবর্তে ন্যস্ত করা হয় > কাজীর উপর
১০৯৮. প্রত্যেক প্রদেশ ও জেলায় কাজী নিযুক্ত করা হত > কুরআন ও হাদিসের বুৎপত্তিসম্পন্ন, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী ও সম্ভ্রান্ত বংশীয় মুসলমানদের মধ্য থেকে
১০৯৯. বিচার বিভাগের সর্বময়কর্তা ছিলেন > খলিফা হযরত উমর (রা.) নিজেই
১১০০. সামরিক শাসনের সুবিধার্থে সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করেন > ৯ টি জেলায় : মদিনা, কুফা, বসরা, ফুসতাত, মিসর, দামেস্ক, হিমস, প্যালেস্টাইন ও মসুল
১১০১. জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রত্যেক জেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতো > ৪ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য
১১০২. সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন > খলিফা হযরত উমর (রা.) নিজেই
১১০৩. সৈন্যবাহিনী পদাতিক, অশ্বারোহী, তীরন্দাজ, বাহন সেবক প্রত্যেক বাহিনীর ছিল > একজন অধিনায়ক
১১০৪. রণক্ষেত্রে সৈন্যরা শত্রুর মোকাবেলা করতো > ৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে : অগ্র, মধ্য, পশ্চাৎ ও দুই পার্শ্ব
১১০৫. যুদ্ধে সৈন্যদের রসদ সরবরাহ হত > 'আহরা' নামক সংস্থার মাধ্যমে
১১০৬. যুদ্ধে সৈন্যরা ব্যবহার করত > তরবারি, বর্শা, বল্লম, তীর, ধনুক, ঢাল, বর্ম ও শিরস্ত্রাণ
১১০৭. জনশান্তি রক্ষা ও অপরাধ নির্মূলকল্পে কাজ করতো > দিওয়ান উল আহদাস
১১০৮. দিওয়ানুল আহদাসের প্রধান কর্মচারীর উপাধী > সাহিবুল আহদাস
১১০৯. দিওয়ানুল আহদাসের কর্মচারীগণ নিযুক্ত থাকতেন > অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ, ওজন পরীক্ষাকরণ, মদবিক্রি বন্ধকরণ ও চুরি-ডাকাতি নিবারণে
১১১০. হযরত উমর (রা.) এর খেলাফতে নাজরাত-ই -নাফিয়ার তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় > অসংখ্য সরকারি ভবন, মসজিদ, খাল, সড়ক, হাসপাতাল ইত্যাদি
১১১১. হযরত উমর (রা.) জলকষ্ট নিবারণ ও ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য খনন করেন > বসরায় আবু মুসা খাল, পারস্যে সাদ খাল, ইরাকে মাকাল খাল, মিসরে আমিরুল মো'মিনিন খাল
১১১২. কাবাগৃহ পুননির্মাণ ও মদিনা মসজিদ সম্প্রসারণ করেন > হযরত উমর (রা.)
১১১৩. হাজার হাজার নতুন মসজিদ, অসংখ্য দুর্গ, সেনানিবাস, সরকারী কার্যালয় ভবনসমূহ, দিওয়ান, বায়তুল মাল ও অতিথি ভবন স্থাপিত হয় > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১১১৪. হযরত উমর (রা.) রাজধানী মদিনাকে দূরবর্তী প্রদেশগুলোর সাথে সংযুক্ত করেন > প্রশস্ত দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করে
১১১৫. হযরত উমর (রা.) শাহাদাত বরণ করেন > ফজরের নামাজ আদায়কালে আবু লুলু ফিরোজ নামক পারস্যবাসি গোলামের আক্রমণে
১১১৬. আবু লুলু ছিল > কুফার শাসনকর্তা মুঘিরার ভৃত্য
১১১৭. আবু লুলু হযরত উমর (রা.) কে ছুরিকাঘাত করেন > হরমুজান জাফিনা নামক দুজন যুদ্ধবন্দীর যোগসাজসে ব্যক্তিগত কারণে
১১১৮. সামান্য কয়েকটি পংক্তিতে হযরত উমর (রা.) এর চরিত্র অংকন করা যায়- সরলতা ও কর্তব্যপরায়ণতা ছিল তার জীবনাদর্শ এবং ন্যায়পরায়ণতা ও একাগ্রতা ছিল তার শাসনের মূলনীতি > ঐতিহাসিক মুইর
১১১৯. হযরত উমর (রা.) এর ছিল না > আড়ম্বরপূর্ণ শাহী বালাখানা, নিরাপত্তার জন্য কোন দেহরক্ষী
১১২০. আল্লাহর শপথ আমার দিল খোদার ব্যাপারে যখন নরম হয় তখন পানির ফেনার চেয়েও অধিক নরম ও কোমল হয়ে যায় ; আর আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের ব্যাপারে যখন শক্ত ও কঠোর হয় তখন তা প্রস্তর অপেক্ষা অধিক শক্ত দুর্ভেদ্য হয়ে পড়ে > উমর (রা.)
১১২১. হযরত উমর (রা.)বিনিন্দ্র রজনী যাপন করতেন, পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন > জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, অভাবগ্রস্তদের অর্থ ও খাদ্য সাহায্য দেওয়ার জন্য
১১২২. হযরত উমর ( রা.) স্বীয় স্ত্রীকে নিঃসঙ্গ বেদুইন মহিলার গৃহে পৌঁছে দিতেন > প্রসূতির প্রসব যাতনা নিবারণার্থে
১১২৩. হযরত উমর (রা.) নিজের কাঁধে খাদ্যের বোঝা বহন করতেন > দুর্ভিক্ষের সময়
১১২৪. মদপানের অপরাধে হযরত উমর (রা.) বেত্রাঘাত করেন > নিজপুত্র আবু শামাকে
১১২৫. হযরত উমর (রা.) কে স্পর্শ করেনি > স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
১১২৬. উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র সবাই সমান ছিল > হযরত উমর (রা.) এর চোখে
১১২৭. অপরাধী প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে পদচ্যুত করতে দ্বিধাবোধ করেননি > উমর (রা.)
১১২৮. মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমানা পারস্য, সিরিয়া, মিশর পর্যন্ত প্রসারিত হয় > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১১২৯. মাত্র ১০ বছরের মধ্যে তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার গুনে এশিয়ার পারস্য ও সিরিয়া, ইউরোপের রোম বা বাইজান্টাইন, আফ্রিকার মিশর > ইসলামের পতাকা তলে এসে পড়ে
১১৩০. পৃথিবীর ইতিহাসে হযরত উমর (রা.) এর শাসনামল (৬৩৪-৬৪৪খ্রি.) মূল্যায়িত হয়েছে > স্বর্ণ যুগ ও মানবতার কল্যাণের যুগ হিসেবে
১১৩১. অতি সামান্য একজন ব্যক্তিও প্রকাশ্যে শাসনব্যবস্থার ঘটনামূলক সমালোচনা করতে পারতেন > হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১১৩২. বিশ্বের ইতিহাসে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পথিকৃৎ বলা হয় > হযরত উমর (রা.) কে
১১৩৩. হযরত উমর (রা.) সরকারী ভাতার ব্যবস্থা করেন > দুর্বল, অসহায়, অন্ধ, খোঁড়া, বেকার, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অনাথ প্রমুখের জন্য
১১৩৪. দাসমুক্তি আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় কাজ > রাসূলুল্লাহ (স.) এর ঘোষণা
১১৩৫. সমগ্র ইসলামী রাজ্যে দাসত্ব প্রথা বিলোপে বলিষ্ঠ প্রদক্ষেপ নেন > উমর (রা.)
১১৩৬. প্রতিটি মসজিদ সংলগ্ন স্থানে মক্তব স্থান পেল > হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতে
১১৩৭. মুসলমানগন কেবল আরবেই নয় সমগ্র বিজিত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এমন সব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যার দৃষ্টান্ত প্রাচীনকালে বা খ্রিস্টান রাজ্যেও পাওয়া যায় না > জোসেফ হেল
১১৩৮. হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে > শরীয়তের কানুন প্রবর্তন, পুলিশ বাহিনী গঠন, জেলখানা স্থাপন, হিজরী সন প্রচলন, সীমান্তদুর্গ নির্মাণ, দিওয়ান প্রতিষ্ঠা, কৃষিব্যবস্থা, চাষীদের অবস্থার উন্নতি বিধান, নারী শিক্ষার প্রসার
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.):
১১৩৯. মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালির (রা.) জন্মগ্রহণ করেন > মক্কার কুরাইশ বংশে
১১৪০. উহুদের যুদ্ধে খালেদ বিন ওয়ালিদ ছিলেন > কুরাইশদের পক্ষে
১১৪১. খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) আমর ইবনুল আসের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন > ৬২৮ খ্রি. হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরের পর
১১৪২. তাবুক অভিযানে মুসলিম সৈন্যদের সিপাহসালার > খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
১১৪৩. তাবুক অভিযানে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করার কারণে রাসূলুল্লাহ (স.) খালিদকে উপাধি দেন > সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারি
১১৪৪. খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) বিনা রক্তপাতে ইসলাম ধর্মের দীক্ষিত করেন > হারিস গোত্রকে
১১৪৫. খালিদ দিন ওয়ালিদ (রা.) দমন করেন > ভন্ড নবী মুসায়লামা, তোলায়হা, আসওয়াদ আনাসী ও সাজাহকে
১১৪৬. খালিদের দুঃসাহসিকতা ও আবু বকরের বিজ্ঞতা না থাকলে সেই দিন ইসলামের শত্রুপক্ষ জয় লাভ করত > রিদ্দা যুদ্ধ সম্পর্কে ফন ক্রেমার
১১৪৭. খালিদ বিন ওয়ালিদ সেনাপতিত্ব গ্রহণ করে > উলিসের যুদ্ধে পারস্যের হীরা রাজ্য জয় করেন
১১৪৮. আজনাদাইনের যুদ্ধে ৬৩৪ খ্রি. রোমানদের কে পরাস্ত করে খালিদ (রা.) দখল করেন > দামেস্ক, জর্দান, হিমস
১১৪৯. খালেদ বিন ওয়ালিদ রোমান বাহিনীকে সম্পূর্নরূপে পরাজিত করেন > ৬৩৬ খ্রি. সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধে
১১৫০. নিঃসন্দেহে খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর তুলনা করা যায় > সিজার, হানিবল, নেপোলিয়ন প্রভৃতি বীরের সাথে
১১৫১. উহুদের যুদ্ধ থেকে শুরু করে জীবনে কোন যুদ্ধেই পরাজয় বরণ করেননি বা হিনতা জনক সন্ধি স্বাক্ষর
করেননি > খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)
হযরত উসমান গনী (রা.) (৬৪৪-৬৫৬ খ্রি.)
১১৫২. হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জন্মগ্রহণ করেন > ৫৭৩ মতান্তরে ৫৭৫ খ্রি. কুরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রে
১১৫৩. উসমান (রা.) এর পঞ্চম পুরুষ আবদে মানাফের স্তরে > রাসূলুল্লাহ (স.) এর (স.) এর বংশের সাথে মিলিত হয়
১১৫৪. উসমান (রা.) এর পারিবারিক নাম > আব্দুল্লাহ ও আবু উমর, পিতা-আফফান, মাতা- আরওয়া / উরওয়াহ
১১৫৫. রাসূলুল্লাহ (স.) এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম- এ দুই নূরের টুকরাকে বিয়ে করেছেন বলে > হযরত উসমান (রা.) এর বলা হয় যূন্নূরাইন বা দুই জ্যোতির অধিকারী
১১৫৬. হযরত উসমান (রা.) এর পরদাদা কুরাইশ বংশের অন্যতম সরদার > উমাইয়া ইবনে আবদে শামস
১১৫৭. কুরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রের নাম > উমাইয়া ইবনে আবদে শামস এর নামানুসারে রাখা হয়
১১৫৮. কুরাইশবংশ দুটি শাখা হাশেমী ও উমাইয়া গোত্র বিভক্ত হয় > মক্কা ও কাবা শরীফের কর্তৃত্ব নিয়ে
১১৫৯. উসমান (রা.) কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন > কিশোর বয়সে
১১৬০. উসমানক (রা.) কে গনী বলা হয় > তিনি সেই সময়ের সেরা ধনী ছিলেন বলে
১১৬১. উসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন > ৩৪ বছর বয়সে
১১৬২. ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে হযরত উসমান (রা.) এর স্বপ্ন > "জেগে উঠো, ওহে ঘুমন্ত ব্যক্তি, মক্কায় আহমদ আগমন করেছেন "
১১৬৩. ইসলাম গ্রহণে উসমান (রা.) কে কঠিন শাস্তি দেয়, বেঁধে মারধর করে > ইসলামের ঘোর দুশমন তার চাচা হাকাম
১১৬৪. আমার যদি অন্য একটি কন্যা থাকতো, তাহলে আমি তাকেও উসমানের সাথে বিবাহ দিতাম > রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন
১১৬৫. নবুয়তের পঞ্চম বছরে কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উসমান (রা.) এর স্ত্রী রুকাইয়া সহ হিজরত করেন > আবিসিনিয়ায়
১১৬৬. প্রথম ওহি লিখক সাহাবী > হযরত উসমান (রা.)
১১৬৭. মুয়াবিয়া (রা.) ইসলাম গ্রহণ করার পর খ্যাতি অর্জন করেন > ওহী লিখক হিসেবে
১১৬৮. মুহাজিরদের পানির কষ্ট দূর করতে ইহুদীর 'বীরে রুমা' নামক কূপটি উসমান (রা.) ক্রয় করেন > ১৮০০ দিরহামের বিনিময়ে
১১৬৯. উসমান (রা.) 'বীরে রুমা' কূপটি ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য > ওয়াকফ করে দেন
১১৭০. উসমান রাদিয়াল্লাহু রাসুলুল্লাহর নির্দেশে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি > তার স্ত্রী রুকাইয়া মারাত্মক রোগাক্রান্ত ছিলেন বলে
১১৭১. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় ও গনিমতের অংশ দেওয়া হয় > হযরত উসমান ( রা.) কে
১১৭২. উসমান (রা.) অংশগ্রহণ করতে পারেননি > বদরের যুদ্ধে ও জাতুর রেকার যুদ্ধে
১১৭৩. যুদ্ধে অর্থ-সম্পদ দানে সর্বাগ্রে ছিলেন > হযরত উসমান (রা.)
১১৭৪. প্রত্যেক নবীরই সাথী থাকে, আমার বেহেশতে সাথী হবেন > উসমান (রা.)- তিরমিজি > উসমান (রা.) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.)
১১৭৫. রাসূলুল্লাহ (স.) হযরত উসমান (রা.) এর পক্ষ হতে নিজের একহাতের উপর অন্য হাত রেখে শপথ করেন > বাইআতুর রিদওয়ানে
১১৭৬. খায়বর যুদ্ধে মুসলিম অধিনায়ক ছিলেন > হযরত উসমান ( রা)
১১৭৭. তৃতীয় খলিফা নির্বাচনে সম্পূর্ণ দায়িত্ব > হযরত আব্দুর রহমান (রা.) এর উপর
১১৭৮. হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বিনিদ্র রজনী যাপন করে নির্বাচনকারী প্রতিটি লোকের গৃহে গমন করেন > তৃতীয় খলিফা নির্বাচনে
১১৭৯. হযরত উসমান (রা.) ৭০ বছর বয়সে তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হলেন > অধিকাংশ নির্বাচকমন্ডলী তার অনুকূলে হওয়ায়
১১৮০. হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতকালে ইসলামের পতাকা উড়তে থাকে > মক্কা থেকে কাবুল পর্যন্ত
১১৮১. হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতের এর প্রথম ৬ বছর ছিল > খুবই শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা
১১৮২. ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম গৃহযুদ্ধ > হযরত উসমান (রা.) এর হত্যাকান্ড
১১৮৩. হযরত উসমান (রা.) যে সকল অযৌক্তিক অমূলক অভিযোগের কারণে জীবন দিতে হয় > স্বজনপ্রীতি, বায়তুল মালের অর্থচয়, চারণ ভূমি ব্যক্তিগত ব্যবহার, আবুজর গিফারী (রা.) কে নির্বাসন, কুরআনে অগ্নিসংযোগ, কাবা সম্প্রসারণ, ভাতা বন্ধ করা
১১৮৪. হযরত উসমান (রা.) রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন কিছু লোক বেছে নিয়েছিলেন > যাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজন ছিল
১১৮৫. আবু মুসা আশয়ারীকে কুফা ও বসরার শাসনকর্তার পদ থেকে অপসারণ করেন > ৬৫০ খ্রি. মদিনার অধিবাসীগণ তার বিরুদ্ধে কুরাইশদের প্রতি পক্ষপাতী করার অভিযোগে
১১৮৬. মিসর বিজয়ী আমার ইবনুল আস মিসরের গভর্নর ছিলেন > হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতের চতুর্থ বছর পর্যন্ত
১১৮৭. হযরত উসমান (রা.) আমর ইবনুল আসকে অপসারণ করেন > মিসরের রাজস্ব সচিব আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাদ এর সাথে মতবিরোধের কারণে
১১৮৮. হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসারকে হযরত উসমান (রা.) অপসারণ করেননি > হযরত উমর (রা.) তাকে অপসারণ করে গিয়েছিলেন
১১৮৯. ঐতিহাসিকগণ মনে করেন- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে অপসরন করা হয়েছিল > এর জন্য উসমানের (রা.) দুই একজন উপদেষ্টাকে দায়ী বলে মনে করা হয়
১১৯০. আব্দুল্লাহ ইবনে আরকামকে অপসারণ করা হয়েছিল > বার্ধক্য জনিত কারণে
১১৯১. হযরত উসমান (রা.) এর যদি স্বজনপ্রীতি থাকতো > তাহলে হযরত ওয়ালীদের দোষ চাপা দিয়ে কুফার শাসনকর্তার পদে বহাল রাখতেন
১১৯২. হযরত উসমান (রা.) এর আত্মীয় হওয়া সত্বেও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লিপ্ত ছিল > হযরত সাঈদ ইবনে আস (রা.)
১১৯৩. হযরত আবু জর গিফারী (রা.) কে উসমান (রা.) নির্বাসন দেননি > বরং তিনি নিজেই মদিনার একটি নির্জন স্থানে বসবাসকরত দু বছর পর মৃত্যুবরণ করেন
১১৯৪. হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.) এর সাথে কঠোরতা করা হয়নি বরং তিনি সাবাঈ দলের প্রচারণা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় > হযরত উসমান (রা.) তাকে বুঝিয়েছিলেন
১১৯৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ভাতা বন্ধ করার কারণ হচ্ছে > হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্বতন্ত্র কুরআনের মাসহাফ চাওয়ার পরেও তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন
১১৯৬. গোটা মুসলিম উম্মাকে কুরআনের একই কপির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে > হযরত উসমান (রা.) এর অবদান অনস্বীকার্য
১১৯৭. হযরত উসমান (রা.) তা'আলা আনহু নিজেই বলেন মানুষ বলে আমি আমার আত্মীয়-স্বজনকে ভালোবাসি এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় অংশ সমূহ দিয়ে থাকি > আমি তাদেরকে সাহায্য করে থাকি আমার ব্যক্তিগত অর্থ থেকেই
১১৯৮. হযরত উসমান (রা.) আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদকে উপঢৌকনস্বরূপ পঞ্চাশ হাজার মুদ্রা ফেরত নিয়েছিলেন > মুসলমানদের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠলে (বাইতুল মালের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ মিথ্যা)
১১৯৯. উসমান (রা.) নিজেই বর্ণনা করেন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বে আমি আরবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উট-বকরির মালিক ছিলাম > হজ্বের জন্য রক্ষিত দুটি উট ছাড়া আমার কাছে আর কোন উট নেই (সরকারি চারণ ভূমি ব্যবহারের অভিযোগ মিথ্যা)
১২০০. বাইতুল মালের গবাদি পশুর জন্য নির্দিষ্ট ছিল মদিনার চারণ ভূমি > হযরত উমর (রা.) এর যুগ হতে
১২০১. হযরত উসমান ( রা.) কুরআনের নির্ভুলতা রক্ষার্থে সাহাবাদের পরামর্শ ক্রমেই জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন > বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার কুরআন শরীফ
১২০২. গাছের ছালে, পশুর চামড়ায় ও পাথরের উপর লিখিত কুরআন একত্রিত করে রাখেন > হযরত আবু বকর (রা.)
১২০৩. হযরত আবু বকরের সময় কুরআনের লিখিত পান্ডুলিপি রেখে যান > হযরত উমর (রা.) এর কন্যা হাফসা (রা.) এর নিকট
১২০৪. হযরত উমর-উসমানের সময় ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি > সুদূর আফ্রিকা পর্যন্ত
১২০৫. হযরত উসমান (রা.) এর সময় কুরআনের বিশুদ্ধ পান্ডুলিপি ছাড়া অন্যান্য পান্ডুলিপি পোড়ানোর কারণ > বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা বিভিন্ন হওয়ায় কুরআনের বিভিন্নভাবে শব্দের উচ্চারণ পরিলক্ষিত হয়
১২০৬. হযরত হাফসা (রা.) থেকে সংগ্রহ করা বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি থেকে কপি করা হয় >৬টি : ৪টি কপি বসরা, কুফা, দামেস্ক ও মক্কায় প্রেরণ করা হয়, বাকি ২টি কপি মদিনায় রাখা হয়
১২০৭. কাবা ঘরের সম্প্রসারণের কাজ আরম্ভ করেছিলেন হযরত উমর, আর তা সমাপ্ত করেছিলেন হযরত উসমান (রা.) > ৬৪৭ খ্রি.
১২০৮. হযরত উসমান (রা.) এর সময় কাবা সম্প্রসারণের জমির মূল্য দাবি করে জমির মালিকগণ > যা উমর( রা.) এর সময় দাবী করত না
১২০৯. উসমান (রা.) জমির মূল্য দিতে চাইলে তা নিতে অস্বীকার করে জমির মালিকগণ > ফলে তাদেরকে কারারুদ্ধ করেন
১২১০. শাসনকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদেরকে পরবর্তী হজের সময় আসতে বললে শাসনকর্তারা সকলে আসলেন > কিন্তু অভিযোগকারী কেউই উপস্থিত হয়নি
১২১১. নিজের নিরাপত্তার জন্য বাসভবনে দ্বার রক্ষী বা দেহরক্ষী মোতায়েনের পক্ষপাতী ছিলেন না > হযরত উসমান (রা.)
১২১২. হযরত উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগে ছিল > ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
১২১৩. হযরত উসমান (রা.) এর শেষ ৬ বছর ছিল > সংকটময়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অচলাবস্থা ও গোলযোগপূর্ণ অবস্থা
১২১৪. হযরত উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণ > মুসলমানদের মধ্যে স্বার্থপরতা, বৈষম্য, গোত্রীয় কোন্দল, ধর্মের প্রতি শৈথিল্যভাব
১২১৫.উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণ > বাক-স্বাধীনতা, সমালোচনা পূর্ণ অধিকার , বড় সাহাবীদের ইন্তেকাল, হাশেমী ও উমাইয়া দ্বন্দ্ব, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা
১২১৬. হযরত উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণ > কুরাইশ ও অকুরাইশ বিজিত অঞ্চলের জমি খরিদ নিয়ে বসরা ও কুফায় চরম দ্বন্দ্ব , ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদি-খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের শত্রুতা, মুহাজিরগণ মজলিসুল খাসের সদস্য পদ হতে বঞ্চিত হওয়ায় বৈষম্য সৃষ্টি, হযরত উসমান (রা.) এর সরলতা উদারতায় ঘোর অপরাধীকেও ক্ষমা করে দেওয়া, রক্তপাত অপছন্দ করা, বিজয় অভিযান বন্ধ হওয়াতে যোদ্ধাদের অসন্তুষ্টি
১২১৭. "তাঁর দুর্বলতা ছিল যে তিনি বিদ্রোহের কারণ অনুধাবন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারে অসমর্থ ছিলেন" > উসমান (রা.) সম্পর্কে আমির আলী ও বানার্ড লুইস
১২১৮. "এ বিদ্রোহ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যাযাবরদের বিদ্রোহ, যা কেবল উসমানের খিলাফতের বিরুদ্ধে নয়, যে কোন ব্যক্তির পরিচালিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ" > বার্নাড লুইস
১২১৯. হযরত উসমান (রা.) এর খেলাফতের শেষ দিকে গোলযোগ দমনে পরামর্শ সভায় > অধিকাংশ গভর্নর বিদ্রোহীদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনের কথা বলেন
১২২০. পরামর্শ সভায় হযরত উসমান (রা.) বলেন > আমি যথাসম্ভব কোমলতা ও ক্ষমাশীলতার সাথে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করব
১২২১. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) বলেন > আপনি মদিনা ছেড়ে আমার সাথে সিরিয়া চলুন অন্যথায় ভয়াবহ বিপদ দেখা দিতে পারে
১২২২. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) এর প্রস্তাবে হযরত উসমান (রা.)বলেন > আমার মাথা কাটা গেলেও আমি প্রিয় নবী (স.) এর মদিনা ছেড়ে যাব না
১২২৩. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাবে হযরত উসমান ( রা.)বলেন > আমার কাছে নবীর প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়াও পছন্দ নয়
১২২৪. পরামর্শ সভাশেষে কুফার গভর্নর হযরত সাঈদ ইবনুল আস (রা.) কে কুফায় প্রবেশ করতে দিলোনা > বিদ্রোহীরা
১২২৫. হযরত উসমান (রা.) কুফাবাসীদের ইচ্ছানুসারে গভর্নর নিযুক্ত করেন > আবু মুসা আশআরী (রা.) কে
১২২৬. মিশরের কিছু লোক মদিনায় খলিফার নিকট অভিযোগ পেশ করে > মিশরের শাসক আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাফাহর নির্যাতন সম্পর্কে
১২২৭. মিশরের শাসক আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাফাহ উসমান (রা.) তিরস্কৃত চিঠির জবাবে > ক্ষমাপ্রার্থনা বা সাবধানতার পরিবর্তে অভিযোগকারীদেরকে নির্মম প্রহারে ১ জন মারা যায়
১২২৮. মদীনার মসজিদে নববীতে ৬২৬ খ্রি. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাফাহর নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করে > মিশরের ৭০০ লোক
১২২৯. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাফাহকে পদচ্যুত করে মিশরের প্রতিনিধি দলের ইচ্ছানুসারে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করেন > মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে
১২৩০. মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে গভর্নর নিযুক্ত করলে ফিরে যায় > বসরা, কুফা ও মিসরের বিদ্রোহীরা
১২৩১. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সাফাহর ঘটনা তদন্তের জন্য উসমান (রা.) মিসরীয় প্রতিনিধি দলের সাথে পাঠান > মুহাজির ও আনসারদের একটি দল
১২৩২. মিসরীয় প্রতিনিধি দল ৩ মাইল পথ যাওয়ার পর দেখলেন > একজন হাবশী দাস উটের পিঠে চড়ে অতিদ্রুত মিসরে যাচ্ছে
১২৩৩. হাবশী দাসের কাছে পাওয়া গেল > উসমানের সিলমোহরকৃত গভর্নর ইবনে আবী সাফাহকে দেওয়া চিঠি
১২৩৪. হাবশী দাসের কাছে পাওয়া চিঠিতে লেখা ছিল > মুহাম্মদ ইবনে আবুবকর ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করে ফেলো
১২৩৫. মিশরের নবনিযুক্ত গভর্নর মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ও অন্যান্যরা উত্তেজিত হয়ে হাবশী দাসের চিঠি নিয়ে ফিরে আসেন > মদীনায়
১২৩৬. হাবশী দাসের কাছে পাওয়া চিঠি দেখানো হলো > হযরত তালহা, জুবায়ের, সাদ ও আলী (রা.) কে
১২৩৭. চিঠি, উট, দাস কে নিয়ে সকলে উসমানের কাছ থেকে গেলে > উসমান (রা.) কসম করে চিঠি অস্বীকার করেন
১২৩৮ "মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ও তাঁর সঙ্গী- সাথীদের হত্যা করে ফেলো" পরে জানা গেল > এ চিঠির লিখক, পত্রদাতা হচ্ছে মারওয়ান
১২৩৯. 'মারওয়ান কে আমাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হোক' বিদ্রোহীরা দাবি করলে > উসমান (রা.) রাজী হলেন না
১২৪০. বিদ্রোহীরা খলিফার অবসারণ দাবী করলে হযরত উসমান (রা.) বললেন > "আমার মধ্যে জীবন থাকতে আমি আল্লাহর দেওয়া খিলাফত নিজ হাতে খুলে ফেলবো না এবং মহানবী (স.) এর ওসিয়ত মতো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধৈর্য অবলম্বন করব"
১২৪১. হযরত উসমান (রা.) এর বাড়ীতে পানি পৌঁছানো নিষিদ্ধ করে বিদ্রোহীরা উসমানের বাসভবন অবরোধ করে রাখে > ৪০ দিন
১২৪২. হযরত উসমান (রা.) বারবার মর্মস্পর্শী ভাষণ দিলেও > বিদ্রোহীরা বুঝলো না, সাড়াও দিলো না
১২৪৩. হযরত উসমান (রা.) বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুমতিও দিলেন না > ভক্ত-অনুরক্ত, আনসার ও মুহাজিরগণকে
১২৪৪. বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুমতি নেই বলে বিদ্রোহীদের বুঝাতে চেষ্টা করলেন > হযরত আলী, তালহা, জুবায়ের ও সাদ (রা.)
১২৪৫. বিদ্রোহীরা উসমানের বাসভবন ত্যাগ করতে রাজি হয়নি > খলিফার পদত্যাগ বা মারওয়ান কে হস্তান্তর ছাড়া
১২৪৬. হযরত আলী (রা.)তালহা ও জুবায়ের (রা.) বাধ্য হয়ে উসমানের বাড়ি পাহারায় মোতায়েন করলেন > তাদের ছেলেদেরকে; ইমাম হাসান (রা.) আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও আপন জায়গায় অনড় ছিলেন
১২৪৭. দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে প্রাচীর টপকে ছাদে উঠে হযরত উসমান (রা.) এর কাছে পৌঁছে যায় > মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সহ কয়েকজন
১২৪৮. উসমান (রা.) কে হত্যা না করে ফিরে গেলেন > মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর
১২৪৯. ১ম জন লোহার খণ্ড ও ২য় জন বর্শা দিয়ে আঘাত করার সময় > হযরত উসমান (রা.) পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন
১২৫০. উসমান (রা.) এর স্ত্রী নায়েলার ৩টি আঙ্গুল কেটে যায় > তরবারির আঘাত ঠেকাতে
১২৫১. উসমান (রা.) এর শাহাদাত > ৬৫৬ খ্রি. ১৭ই জুন, ৩৫ হিজরি ১৮ই যিলহজ্জ, জুমার দিন আসরের সময়
১২৫২. উসমান (রা.) এর লাশ দাফনহীন পড়ে থাকে > ২ দিন ; শনিবার রাতে জীবনবাজি রেখে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করেন > কিছু সংখ্যক মুসলমান
১২৫৩. খিলাফের পবিত্র আসন ও খলিফার প্রতি জনসাধারণের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও ভক্তি শিথিল হয়ে যায় > হযরত উসমান (রা.) হত্যার ফলে
১২৫৪. "বিদ্রোহী কর্তৃক খলিফার হত্যাতে যে বেদনাবিধুর দৃষ্টান্তের সৃষ্টি হয়, তা ইসলামের ঐতিহ্যের প্রতীক খিলাফতের ধর্মীয় ও নৈতিক মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছিল" > বার্নাড জিওস
১২৫৫. এ হত্যাকাণ্ড সর্বকালের জন্য খলিফার ব্যক্তিগত পবিত্রতা নষ্ট করে > খোদাবক্স
১২৫৬. মুসলমানের ঐক্য-সম্প্রীতি, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বেবোধ বিনষ্ট হয় > উসমান (রা.) এর হত্যার ফলে
১২৫৭. উসমান (রা.) এর হত্যার ফলে উমাইয়া বংশের সিরিয়ার শাসনকর্তা আমীর মুয়াবিয়া (রা.) > মদিনার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব অস্বীকার করেন
১২৫৮. হযরত উসমান (রা.) এর হত্যা ছিল > গৃহযুদ্ধের বিপদ সংকেত
১২৫৯. হযরত উসমান (রা.) এর হত্যা কান্ডের প্রতিক্রিয়ায় গৃহযুদ্ধ হয় > হযরত আলী (রা.) এর খিলাফতে
১২৬০. উসমান (রা.) এর হত্যায় মদিনার প্রাধান্য লোপ পাওয়ায় পরবর্তী খলিফাগণ রাজধানী স্থানান্তর করেন > কুফা, দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডোভায়
১২৬১. মধ্যমাকৃতির শ্মশ্রুমণ্ডিত হযরত উসমান (রা.) এর জীবনকাল > ৮২ বছর
১২৬২. মুসলিম দাসদেরকে অত্যাচারী মনিবের কাছ থেকে ক্রয় করে আজাদ করে দিতেন > হযরত উসমান (রা.)
১২৬৩. আঞ্চলিক ভাষার কুরআনের সকল পাণ্ডুলিপি জ্বালিয়ে বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় হযরত হাফসার (রা.) এর নিকট সংরক্ষিত পান্ডুলিপির আলোকে কুরআন মাজীদ সংকলনের কারণে হযরত উসমান (রা.) এর বলা হয় > জামিউল কুরআন বা কুরআন একত্রকারী বা সংকলনকারী
১২৬৪. বায়তুল মাল হতে এক কপর্দকও গ্রহণ করেননি > হযরত উসমান (রা.)
১২৬৫. হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ দেখা দেয় > চতুর স্বার্থান্বেষী মারওয়ানের কুচক্রান্তে
১২৬৬. বিরাট নৌবহর তৈরি করে অনেক উপদ্বীপ জয় করেন > হযরত উসমান (রা.)
১২৬৭. শাসনকার্যের সুবিধার্থে উসমান (রা.) সিরিয়াকে বিভক্ত করেন > ৩টি স্বতন্ত্র প্রদেশে
১২৬৮. ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশ ঘোষণা করেন > সিরিয়ার সাইপ্রাস, আরমানিয়া ও তিবরিস্থানকে
১২৬৯. সেনাবাহিনীর প্রধান দপ্তর ছিল > সবচেয়ে বড় ৫টি প্রদেশে
১২৭০. হযরত উসমান (রা.) এর সময় বাইতুল মালের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন > ওকবা ইবনে আমির; কাজী ছিলেন > যায়েদ ইবনে সাবিত
১২৭১. হযরত উসমান (রা.) এর খেলাফতে শাসকদের কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত ছিলেন > মুহাম্মদ ইবনে মুসলিমা ও উসামা ইবনে যায়েদ
১২৭২. হযরত উসমান (রা.) জনগণের কল্যাণ স্থাপন করেন > সড়ক, গৃহ, মসজিদ, মুসাফিরখানা ও অতিথি শালা
১২৭৩. খায়বর হতে আসা জলোচ্ছ্বাসের দুর্ভোগে হযরত উসমান (রা.) মদিনার কিছু দূরে মাহজুর নামক স্থানে তৈরি করেন > বেড়িবাঁধ
১২৭৪. মসজিদে নববীর পাশের জমিগুলো খরিদ করে ২৯ হিজরীতে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে সমাপ্ত করেন > ১০ মাসের অবিরাম চেষ্টায়
১২৭৫. উসমান (রা.) চারণভূমি সম্প্রসারণ করেন > যুদ্ধঘোড়া ও উটের সংখ্যা বেড়ে গেলে
১২৭৬. নৌ বহরের আবিষ্কার করেন > হযরত উসমান (রা.)
১২৭৭. মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতেন, ইসলামি দর্শন চিন্তাধারা বর্ণনা করতেন > হযরত উসমান (রা.)
১২৭৮. হযরত উসমান (রা.) এর অংক শাস্ত্রে বিশেষ জ্ঞান ছিল > ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে
১২৭৯. হযরত উসমান (রা.) যায়েদ ইবনে সাবিত কে সাথে নিয়ে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে বিন্যস্ত করেন > ইলমে ফারায়েয তথা উত্তরাধিকারী আইন
১২৮০. হযরত উসমান (রা.) এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব > কুরআন মাজীদকে সকল প্রকার বিকৃতির হাত হতে রক্ষা করা এবং এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার দান
১২৮১. আজারবাইজান ও বাবুল আবওয়াব বিজয়ের সময় ৩০ হিজরী সনে বিভিন্ন দেশের সৈন্যদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় > কুরআন তিলাওয়াত নিয়ে ; মিশরীয়দের পড়ার রীতি ছিল একরকম ; ইরাকী ও সিরিয়াবাসীদের পড়ার রীতি ছিল অন্যরকম
১২৮২. হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষিত সিদ্দিকে আকবরের সময়কার লিখিত সংকলনটি সংগ্রহ করেন > সাহাবা কেরামের পরামর্শে হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু
১২৮৩. সিদ্দিকি আকবরের সময়কার লিখিত সংকলনটি বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয় > হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত ও হযরত সাঈদ ইবনে আস (রা.) কর্তৃক ৮ কপি করে
১২৮৪. যারা নিজ উদ্যোগে কোরআন সংকলন করেছেন তাদের সংকলনগুলো নষ্ট করার নির্দেশ দেন > হযরত উসমান (রা.)
শেরে খোদা হযরত আলী (রা.)- ৬৫৬-৬৬১ খ্রি.
১২৮৫. ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জন্মগ্রহণ করেন > ৬০০ খ্রি. মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে
১২৮৬. হযরত আলী (রা.) এর পিতা > আবু তালিব ; মাতা > ফাতেমা বিনতে আসাদ ; ডাকনাম > আবু তুরাব, আবুল হাসান ; উপাধি > আসাদুল্লাহ,হায়দার, মুরতাযা
১২৮৭. রাসূলুল্লাহ (স.) আলী (রা.) এর প্রতি পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন > আবু তালেবের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না বলে
১২৮৮. রাসূলুল্লাহ (স.) এর নবুয়তের শুরুতেই বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন > হযরত আলী (রা.) মাত্র ১০ বছর বয়সে
১২৮৯. হিজরতের সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (স.) এর ঘরে বিছানায় শায়িত ছিলেন > হযরত আলী (রা.)
১২৯০. রাসূলুল্লাহ (স.) এর আদরের কান্না ফাতেমা তুজ জোহরা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে শাদী দেন > হযরত আলী (রা.) এর সাথে
১২৯১. হযরত আলী (রা.) এর স্ত্রী ফাতেমার গর্ভে জন্ম নেয় > তিন পুত্র- হাসান, হুসাইন, মুহসিন ও দুই কন্যা- জয়নব, উম্মে কুলসুম
১২৯২. হযরত হাসান-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা এর বংশধরগণ ইতিহাসে পরিচিত > সৈয়দ নামে
১২৯৩. হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু অনত্র বিয়ে করেন > হযরত ফাতেমাতুয যুহরাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা এর ইহধাম ত্যাগের পর
১২৯৪. রাসূলুল্লাহ (স.) এর জীবদ্দশায় প্রায় সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন > আলী (রা.)
১২৯৫. হযরত আলী (রা.) বদর যুদ্ধে সম্মুখ সমর বা মল্ল যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেন > কুরাইশ বিখ্যাত বীর আমর ইবনে আবজুদকে
১২৯৬. আলী (রা.) এর খায়বর যুদ্ধে বীরত্তের কারণে লাভ করেন > জুলফিকার তরবারি
১২৯৭. হযরত আলী (রা.)খায়বার যুদ্ধে কামূস দুর্গ জয় করে শৌর্য-বীর্য প্রদর্শন করলে রাসূলুল্লাহ (স.) তাকে উপাধি দেন > আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ
১২৯৮. হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি লিখকের দায়িত্ব পালন করেন > হযরত আলী (রা.)
১২৯৯. মক্কা বিজয়ের সময় ইসলামী পতাকা বহন করেন > হযরত আলী (রা.)
১৩০০. রাসূলুল্লাহ (স.) এর নির্দেশে তাবুক অভিযানের সময় হযরত আলী (রা.) অবস্থান করেন > মদিনায়
১৩০১. হযরত আলী (রা.) তাবুক অভিযানের অংশগ্রহণের বড় অনুরোধ করলে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন > হযরত হারুনের সাথে হযরত মুসার যেমন সম্পর্ক, ঠিক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক ; শুধু পার্থক্য এই যে আমার পরে কোন নবী নেই
১৩০২. সূরা তাওবা অবতীর্ণ হলে এর সংবাদ শত্রুদের নিকট জানানোর দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন > হযরত আলী (রা.) এর উপর
১৩০৩. দশম হিজরীতে ইয়েমেনে সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারিত হয় > আলী (রা.) এর মাধ্যমে
১৩০৪. হযরত আবু বকর (রা.) কে নির্বিঘ্নে মেনে নেন এবং তার খেলাফতকালে ভন্ড নবীদের প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করেন > হযরত আলী (রা.)
১৩০৫. হযরত আবু বকর ও উমরের খিলাফত কালে হযরত আলী (রা.) ছিলেন > মজলিস উস শূরার সদস্য
১৩০৬. হযরত আলী (রা.) তার কন্যা উম্মে কুলসুমকে শাদি দেন > উমর (রা.) এর সাথে
১৩০৭. চতুর্থ খলিফা নির্বাচনে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে > বিদ্রোহী এক ব্যক্তি হযরত উসমান (রা.) এর রক্তাক্ত জামা ও তার স্ত্রীর কর্তিত আঙ্গুল প্রদর্শন করে
১৩০৮. কুফা, বাসরা ও মিশরের বিদ্রোহী দলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী দল > আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার নেতৃত্বে মিশরীয় বিদ্রোহী দল
১৩০৯. মদিনার বিশিষ্ট নাগরিকদের অনুরোধে হযরত আলী (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন > ৬৫৬ খ্রি. ২৩ শে জুন
১৩১০. হযরত আলী (রা.)খিলাফত গ্রহণের পর যেসব সমস্যার সম্মুখীন হলেন > হযরত উসমান হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের দাবি, হযরত উসমান কর্তৃক প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের রদবদল সংক্রান্ত সমস্যা এবং উমাইয়াগণ কর্তৃক জায়গির ও ভূ-সম্পত্তি সরকারের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি
১৩১১. হযরত আলী (রা.) কে উসমান হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের দাবি জানান > হযরত তালহা, জুবায়ের, আয়েশা সিদ্দিকা ও আমীর মুয়াবিয়া (রা.)
১৩১২. কুফা, বসরা ও মিসর এ তিনটি কেন্দ্রের বহু সংখ্যক লোক উসমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল ; তৎক্ষণাৎ হত্যাকারীদের সনাক্ত করে শাস্তি প্রদান সহজ ছিল না বলে হযরত আলী (রা.)জানালেন যে > রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
১৩১৩. হযরত আলী (রা.)ও মুয়াবিয়ার মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় > হযরত উসমান হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণকে কেন্দ্র করে
১৩১৪. খলিফার ঘাতকের উপর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য সিরিয়াবাসীকে কাজে লাগালে এবং গোষ্ঠীসমূহের বিদ্রোহ দমন করলেই আলী (রা.) বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতেন । এভাবে তিনি মুয়াবিয়ার আকাঙ্ক্ষা বিনাশ করে উমায়াদের ক্ষমতা লাভের পথ রুদ্ধ করতে পারতেন > ঐতিহাসিক মুইর
১৩১৫. হযরত আলী (রা.)পদত্যাগের নির্দেশ দিলেন > কুফা, বসরা, মিসর ও সিরিয়ার শাসনকর্তাকে
১৩১৬. বসরায় আব্দুল্লাহ ইবনে আমিরের স্থলাভিষিক্ত করলেন > উসমান বিন হানিফকে
১৩১৭. মিসরে আব্দুল্লাহ বিন সাদের স্থলাভিষিক্ত করলেন > হযরত কায়েস বিন সাদকে
১৩১৮. কুফার শাসনকর্তা আবু মুসা আশআরী পদত্যাগ করতে রাজি হলেন > হযরত আলী (রা.) এর নির্দেশে
১৩১৯. হযরত আলী (রা.) এর নির্দেশে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেন > সিরিয়ার শাসনকর্তা আমীর মুয়াবিয়া (রা.)
১৩২০. উমাইয়াগণ হযরত আলী (রা.) এর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে > অন্যায়ভাবে দখলকৃত সরকারি ভূ-সম্পত্তি সরকারের নিকট প্রত্যার্পণের নির্দেশ দিলে
১৩২১. হযরত আলী (রা.) এর খিলাফতে তিনটি গৃহযুদ্ধ সংগঠিত হয় > উষ্ট্রের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ, নাহরাওয়ানের যুদ্ধ
১৩২২. উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ৬৫৬ খ্রি.
১৩২৩.উষ্ট্রের যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) এর বিপক্ষে > তালহা, জুবায়ের ও আয়েশা সিদ্দিকা
১৩২৪. তালহা, জুবায়ের ও আয়েশা সিদ্দিকা জোট গঠন করে বসরায় আক্রমণ করেন > মক্কা-মদিনায় ও ইরাক হতে ৩০০০ সৈন্য সংগ্রহ করে
১৩২৫. উষ্ট্রের যুদ্ধে হযরত আয়েশা সিদ্দিকার উপস্থিতিতে হযরত আলী (রা.) এর পক্ষ ত্যাগ করে > অধিকাংশ বসরাবাসী
১৩২৬. হযরত তালহা, জুবায়ের, আয়েশা সিদ্দিকার ত্রি-শক্তির মোকাবেলায় পরাজিত হন > বসরার শাসনকর্তা উসমান বিন হানিফ
১৩২৭. বিদ্রোহ দমনে কুফার সৈন্যবাহিনীসহ হযরত আলী (রা.) বসরায় উপস্থিত হন > ৬৫৬ খ্রি. অক্টোবর মাসে
১৩২৮. আলী (রা.) এর শান্তি প্রস্তাবে সম্মত হলেন > তালহা, জুবায়ের (রা.)
১৩২৯. শান্তি প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হল > খলিফা প্রাথমিক বিপর্যয় গুলো কাটিয়ে উঠলে অনতিবিলম্বে হযরত উসমান (রা.) এর হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের সমুচিত দণ্ডবিধান করবেন
১৩৩০. হযরত তালহা, জুবায়ের ও আয়েশা সিদ্দিকার সাথে শান্তি আলোচনা বানচাল করতে বদ্ধপরিকর > কুফা, বসরা ও মিসরীয় বিদ্রোহীগণ
১৩৩১. রাতের অন্ধকারে আশতার নাখয়ী ইবনে সাওদা প্রমুখ বিদ্রোহী নেতা উভয় শিবিরে আক্রমণ করে > ৬৫৬ খ্রি. ৯ ডিসেম্বর
১৩৩২. কোন পক্ষই জানার সুযোগ পেল না > কারা প্রথমে আক্রমণ করেছে
১৩৩৩. মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ > উষ্ট্রের যুদ্ধ
১৩৩৪. হযরত আয়েশা উষ্ট্রে এবং হযরত আলী (রা.) অশ্বে আরোহন করে যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করেন > যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও আয়ত্তে আনার জন্য
১৩৩৫. ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম গৃহযুদ্ধ > উষ্ট্রের যুদ্ধ
১৩৩৬. উষ্ট্রের যুদ্ধে আয়েশা সিদ্দিকা বিদ্রোহীদের দ্বারা আক্রান্ত হলে তার নিরাপত্তায় নিহত হন > হযরত তালহা, জুবায়ের ও অন্যান্য সাহাবীসহ ৪,৭০০ সৈন্য
১৩৩৭. উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় > হযরত আলী (রা.)ও আয়েশা সিদ্দিকার মাঝে ভুল বুঝাবুঝি, বিদ্রোহীদের উস্কানি ও প্ররোচনায়
১৩৩৮. উষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে মতবিরোধের অবসান হলো > মক্কা, বসরা ও কুফার মুসলমানদের মধ্যে
১৩৩৯. হযরত আলী (রা.) কায়েস ইবনে সাদ, সাহল ইবনে হানিফ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে যথাক্রমে > মিসর, হিজাজ ও বসরার শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন
১৩৪০. হযরত আলী (রা.)বিশাল ইসলামী রাষ্ট্রের মধ্যস্থলে কুফাকে রাজধানীর মর্যাদা দান করলেন > ৬৫৭ খ্রি.
১৩৪১. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) ঘোষণা করেন- হযরত উসমান (রা.) এর হত্যাকারীদের বিচার না হলে > তিনি হযরত আলী (রা.) এর আনুগত্য স্বীকার করবেন না
১৩৪২. হযরত আলী (রা.)ও মুয়াবিয়ার সংঘর্ষের কারণ > শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরে খলিফা হযরত আলী (রা.) এর আনুগত্য স্বীকারে মুয়াবিয়ার অসম্মতি, হযরত উসমান কর্তৃক উমাইয়া গনকে প্রদত্ত জায়গীর ও সরকারি ভূ-সম্পত্তি সরকারকে প্রত্যার্পনে মুয়াবিয়ার অসম্মতি, আমীর মুয়াবিয়া (রা.) উমাইয়া গোত্রের আর হযরত আলী (রা.) হাশেমি গোত্রের
১৩৪৩. উমাইয়াগণ আলী (রা.) এর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিল > আর্থিক সুবিধা নষ্ট হওয়ায়
১৩৪৪. হযরত আলী (রা.) এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় যে উসমান হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে জড়িত আছে > খলিফা হযরত আলী (রা.)
১৩৪৫. সিরিয়াবাসীদেরকে হযরত আলী (রা.) এর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলে > হযরত উসমান (রা.) এর রক্তাক্ত বস্রাদি ও তাঁর স্ত্রীর নায়েলার কর্তিত আঙ্গুল প্রদর্শন করে
১৩৪৬. মুয়াবিয়ার অবাধ্যতায় হযরত আলী (রা.) ৬৫৭ খ্রি. সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হন > ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে
১৩৪৭. খলিফাকে বাধা দেওয়ার জন্য মুয়াবিয়া ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিম তীরে সিফফিন নামক প্রান্তরে উপস্থিত হন > ৬০ হাজার সৈন্য নিয়ে
১৩৪৮. সিফফিনের যুদ্ধের শুরুতে হযরত আলী (রা.) শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমীর মুয়াবিয়া (রা.)কে আহ্বান জানান > অনর্থক রক্তপাত এড়ানোর জন্য
১৩৪৯. সিফফিনের যুদ্ধে সৈন্যবাহিনীকে হযরত আলী (রা.) এর নির্দেশ > শত্রু দ্বারা আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে
১৩৫০. সিফফিনের যুদ্ধে সর্বপ্রথম আক্রমণ করে > মুয়াবিয়ার সৈন্যরা ৬৫৭ খ্রি. ২৬ জুলাই
১৩৫১. হযরত আলী (রা.) এর বীর বিক্রমে যুদ্ধে মুয়াবিয়া বাহিনী শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ে > যুদ্ধের তৃতীয় দিন
১৩৫২. মুয়াবিয়ার সৈন্যগণ বর্শার অগ্রভাগে পবিত্র কুরআন শরীফ বেঁধে যুদ্ধবন্দের কৌশল গ্রহণ করে > মুয়াবিয়ার সেনাপতি আমর ইবনুল আসের পরামর্শে
১৩৫৩. বর্শার অগ্রভাগে কুরআন ঝুলানোর রাজনৈতিক চাল বুঝতে পেরে হযরত আলী (রা.)সৈন্যদের নির্দেশ দিলেন > বিজয় লাভ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য
১৩৫৪. চলমান যুদ্ধে হযরত আলী (রা.)হাফেজে কুরআনদের বুঝাতে চেষ্টা করেন যে > এটি শত্রুদের একটি রাজনৈতিক চাল মাত্র
১৩৫৫. অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও হযরত আলী (রা.)যুদ্ধ বন্ধে সায় দেন > হাফেজে কোরআন সৈন্যদের পীড়াপীড়িতে
১৩৫৬. দুমাতুল জান্দালের মীমাংসায় হযরত আলী (রা.) এর পক্ষে প্রতিনিধি > কুফার পদচ্যুত সরল মনের গভর্নর আবু মুসা আল আশআরী (রা.)
১৩৫৭. দুমাতুল জান্দালের মীমাংসায় মুয়াবিয়ার পক্ষের প্রতিনিধি > আমর ইবনুল আস
১৩৫৮. হযরত আলী (রা.)ও মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি দুজনের গোপন আলোচনায় সিদ্ধান্ত হলো > হযরত আলী (রা.)ও মুয়াবিয়া উভয়কে অপসারিত করে তৃতীয় একজনকে খলিফা নিযুক্ত করতে হবে
১৩৫৯. হযরত আলী (রা.) এর প্রতিনিধি হযরত আবু মুসা আশআরী বললেন > আমি আলী (রা.) এর পদচ্যুতির ঘোষণা দিলাম
১৩৬০. তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে আমীর মুয়াবিয়া (রা.) এর প্রতিনিধি আমার ইবনুল আস বললেন > হে জনতা ! আপনারা আবু মুসার রায় শুনলেন, তিনি তার লোককে পদচ্যুত করেছেন । আমি তা গ্রহণ করলাম এবং মুয়াবিয়াকে সে পদে নিযুক্ত করলাম
১৩৬১. দুমাতুল জান্দালের সালিশি রায়ে > হযরত আলী (রা.) এর অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্রদ্ধ মনে কুফায় প্রত্যাবর্তন করলেন
১৩৬২. একজন খলিফাকে পদচ্যুত করে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার অধিকার > জনগণের ; কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির অধিকার নয়
১৩৬৩. হযরত আলী (রা.)ও আমীর মুয়াবিয়া (রা.) উভয়কে
পদচ্যুত করার প্রথমে প্রস্তাব দেন > মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমার ইবনুল আস
১৩৬৪. আমর ইবনুল আস বয়োজ্যেষ্ঠতার দোহাই দিয়ে প্রথমে রায় ঘোষণা করতে বলেন > আবু মুসা আশআরি ( রা.) কে
১৩৬৫. নির্বাচিত খলিফার সাথে একজন অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তার খিলাফত ভাগের প্রশ্ন > শুধু অবাস্তবই নয় ; সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবৈধ
১৩৬৬. কোন খলিফা অপসারিত হলে বা নিহত হলে > পরবর্তী খলিফা মুসলমানদের একটি সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন
১৩৬৭. দুমাতুল জান্দালে সালিশের মূল বিষয় থাকার কথা ছিল > হযরত উসমান হত্যার শাস্তি দাবি এবং হজরত আলী কর্তৃক মুয়াবিয়ার অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ
১৩৬৮. দুমাতুল জান্দালের মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি > হযরত আলী (রা.)
১৩৬৯. দুমাতুল জান্দালের প্রতারণা পূর্ণ রায় কে অমান্য করে > হযরত আলী (রা.) এর সমর্থক ১২ হাজার সৈন্য ; দল ত্যাগ করে হারুরা নামক গ্রামে মিলিত হয়েছিল বলে এদেরকে বলা হয় > হারুরিয়া বা খারেজী
১৩৭০. খারেজি শব্দের অর্থ > দলত্যাগী
১৩৭১. খারেজিদের স্লোগান > লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর আইন ছাড়া কোনো আইন নেই।
১৩৭২. সিফফিনের যুদ্ধের পর দুমাতুল জান্দালের সালিশি রায় কে অমান্য করে যে দলটি হযরত আলী (রা.) এর পক্ষ ত্যাগ করে > তাদেরকে ইতিহাসে খারেজী বলে।
১৩৭৩. খারেজিরা হারুরা নামক গ্রামে মিলিত হয়েছিল বলে তাদেরকে বলা হয় > হারুরিয়া; আল্লাহর হুকুমের প্রবক্তা ছিলেন বলে তাদেরকে বলা হয় > মুহাককীমা
১৩৭৪. হযরত আলী (রা.) এর পক্ষ বর্জন করে খারেজিরা তাদের নেতা নির্বাচন করে > আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবকে
১৩৭৫. আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবির নেতৃত্বে খারেজিরা শিবির স্থাপন করে > নাহরাওয়ানে
১৩৭৬. খারেজিদের মতে > খলিফাকে গোটা মুসলিম সমাজ কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে। যোগ্যতাই খলীফা নির্বাচনের মাপকাঠি, তবে তাকে খাঁটি বা প্রকৃত মুসলমান হতে হবে
১৩৭৭. খারেজিরা হযরত আবু বকর, উমরকে মনে করত > আইনসংগত খলিফা ; অন্যান্য খলিফা কে মনে করত > অবৈধ দখলদারি
১৩৭৮. খারজিদের মতে- যে মুসলমান নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় কর্তব্য পালন করে না > সে কাফেরদের সমপর্যায়ভুক্ত বা ধর্মদ্রোহী ; তাকে পরিবারবর্গসহ হত্যা করা কর্তব্য
১৩৭৯. খারেজিদের মতে কোন মুসলমান গুনা করে বিনা তাওবায় মারা গেলে > অনন্তকাল জাহান্নামের শাস্তির ভোগ করবে
১৩৮০. খারেজিদের মতে- মুসলমান ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় > একটি অন্যায় পদক্ষেপ নিলে
১৩৮১. খারেজিরা তাদের দল বহির্ভুত লোকদেরকে মনে করত > কাফের বা ধর্মদ্রোহী
১৩৮২. খারেজিরা উদার ছিল > অমুসলিমদের প্রতি; খারেজীদের সহানুভূতি ছিল > মাওয়ালী বা অনারব মুসলিমদের প্রতি
১৩৮৩. খারেজিরা ছিল ইসলামের বিশুদ্ধতাবাদী- ধর্মের দিক দিয়ে ঘোড়া এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক > খোদাবক্স
১৩৮৪. মক্কা-মদিনা দখলের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় > মুয়াবিয়ার বাহিনী
১৩৮৫. বসরসীদের বিদ্রোহ দমন করেন > বসরার শাসনকর্তা ইবনে আব্বাসের সহকারী জিয়াদ
১৩৮৬. আহওয়াজ ও কিরমানে বিদ্রোহ দমন করেন > হযরত আলী (রা.)নিজেই
১৩৮৭.আলী (রা.)ও মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধির চুক্তি অনুযায়ী > সিরিয়া ও মিসর মুয়াবিয়ার শাসনাধীনে থাকবে এবং সাম্রাজ্যে অবশ্যই হযরত আলী (রা.) এর শাসনাধীনে থাকবে
১৩৮৮.খারেজি নামক নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয় > হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে
১৩৮৯. হযরত আলী (রা.) রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু শাহাদাত বরণ করেন > ৬৬১ খ্রি. খারেজি সম্প্রদায়ের আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম এর ছুরিকাঘাতে
১৩৯০. আলী (রা.)ও মুয়াবিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে সংঘটিত > ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা, মারজরাহিতের যুদ্ধ, আরাফাতের যুদ্ধ ও কারবালার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড
১৩৯১. উমাইয়া বংশের পতনের পটভূমি রচনা করেছিল > ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা, মারজরাহিতের যুদ্ধ, আরাফাতের যুদ্ধ ও কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা - এ সমস্ত নৃশংস কার্যাবলী
১৩৯২. হযরত আলী (রা.) এর রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা > সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়াকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া, সিফফিনের যুদ্ধে জয়লাভের মুহূর্তে হাফেজে কুরআনদের পীড়াপিড়িতে যুদ্ধ বন্ধ করে দেওয়া, পরবর্তীতে মুয়াবিয়ার সাথে অহেতুক আপোষ মীমাংসা
১৩৯৩. উসমান হত্যার অপরাধীরা হযরত আলী (রা.) এর সমর্থক হওয়ায় > মুয়াবিয়া হযরত আলী (রা.) এর বিরুদ্ধে দুষ্কৃতিকারীদের প্রশ্রয় ও আশ্রয় দানের অভিযোগ আনার সুযোগ পায় ও অপপ্রচার করে
১৩৯৪. হযরত আলী (রা.) এর খিলাফত প্রাপ্তির চতুর্থ মাসে সংঘটিত হয় > উষ্ট্রের যুদ্ধ
১৩৯৫. উষ্ট্রের যুদ্ধে জয়লাভ করেও হযরত আলী (রা.) এর শক্তি হ্রাস প্রায় >দুষ্কৃতিকারীগণ কর্তৃক তালহা (রা.) ও জুবায়ের (রা.) শহীদ হলে
১৩৯৬. হযরত আলী (রা.) মক্কা-মদিনার প্রভাবশালী কুরাইশদের আস্থা হারান > মদিনা হতে রাজধানী কুফায় স্থানান্তর করায়
১৩৯৭. হযরত আলী, আমীর মুয়াবিয়া (রা.) ও আমর ইবনুল আসকে কুফা, দামেস্ক ও ফুস্তাতের মসজিদে নামাজের ইমামতি শেষে একই দিনে গোপন ষড়যন্ত্রে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় > খারেজীগণ
১৩৯৮. আমার ইবনুল আস খারেজি আততায়ীর হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেন > হত্যার নির্দিষ্ট দিনে মসজিদে অনুপস্থিত থাকায়
১৩৯৯. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) আহত হয়েও প্রাণে রক্ষা পেলেন > খারেজি আততায়ীর হাত থেকে দামেস্কের জামে মসজিদে
১৪০০. হযরত আলী (রা.) কুফার জামে মসজিদে আব্দুর রহমান ইবনে মুলজামের বিষাক্ত ছুরির অব্যর্থ আঘাতে হযরত আলী (রা.)গুরুতর আহত হন > ৬৬৭ খ্রি. ২৪ জানুয়ারি ; আহত হওয়ার তৃতীয় দিনে ২৭ জানুয়ারি শাহাদাত বরণ করেন
১৪০১. হযরত আলী (রা.)> রক্তিম বর্ণ বিশিষ্ট, দীর্ঘশ্মশ্রু, ঘন বুরু সহ প্রশস্ত নেত্র ও উজ্জ্বল টাকবিশিষ্ট মধ্যমাকৃতির দেহের অধিকারী ছিলেন
১৪০২. সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী মুসলমান > হযরত আলী (রা.)
১৪০৩. হযরত আলী (রা.) এর লিখিত দিওয়ানে আলী > আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ
১৪০৪ রাসূলুল্লাহ (স.)বলেন > আমি জ্ঞানের শহর; আর আলী তার দরজা
১৪০৫ সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ রচনা করেন > হযরত আলী (রা.) এর তত্ত্বাবধানে আবুল আসওয়াদ আদ দুয়াইলি
১৪০৬.সমঝোতা ও দীর্ঘসূত্রতা তার পতনের অনিবার্য কারণ হয়েছে" > আলী (রা.)সম্পর্কে উইলিয়াম মূর
১৪০৭. হযরত আলী (রা.) এর পরে ৬৬১ খ্রি. কুফাবাসী কর্তৃক খলিফা মনোনীত হলেন > হযরত ইমাম হাসান (রা.)
১৪০৮. ইমাম হাসান খলিফা নির্বাচিত হলে আমীর মুয়াবিয়া (রা.) ঘোষণা করলেন > সমগ্র মুসলিম জাহানের একচ্ছত্র খলিফা বলে
১৪০৯. আমীর মুয়াবিয়া (রা.) কুফা আক্রমণ করেন > বিশাল সৈন্যসহ
১৪১০. ইমাম হাসান (রা.) ৪০ হাজার সৈন্য বাহিনীকে দুই ভাগে ভাগ করে সেনাপতি কায়েসের নেতৃত্বে ১২,০০০ সৈন্যের একটি দল প্রেরণ করেন > মুয়াবিয়ার সিরিয়া বাহিনীর গতিরোধের জন্য ; প্রধান সৈন্যদলসহ তিনি মাদায়েনে অগ্রসর হতে থাকেন
১৪১১. সেনাপতি কায়েস যুদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়ালে > ইমাম হাসানের সৈন্যদলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ; কুফাবাসী বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং লুটতরাজ শুরু করে
১৪১২. কুফাবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভগ্ন হৃদয়ে ইমাম হাসান কুফা ত্যাগ করে আশ্রয় গ্রহণ করেন > পারস্যের রাজধানীতে
১৪১৩ ইমাম হাসান (রা.) এবং আমীর মুয়াবিয়া (রা.) এর মধ্যে সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয় (এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ রক্তপাত থেকে বেঁচে যায়)> ইমাম হাসান ( রা.) রাজকোষ হতে বাৎসরিক বৃত্তি গ্রহণ করার শর্তে
১৪১৪. ইমাম হাসান (রা.) শাহাদাত বরণ করেন > ৬৬৯ খ্রি. মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াযীদের প্ররোচনায় স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক বিষ প্রয়োগে
১৪১৫. শিয়া শব্দের অর্থ > দল ; ইতিহাসে হযরত আলী (রা.)রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর দল সাধারণত > শিয়া নামে পরিচিত
১৪১৬. শিয়া মাজহাব প্রথমে প্রকাশ করে > রাজনৈতিক দল হিসেবে ; পরবর্তীতে পরিণত হয় ধর্মীয় দল হিসেবে
১৪১৭. শিয়া আন্দোলনের বীজ বপন হয় > হযরত আবু বকর (রা.) খলীফা নির্বাচনের সময় হতে
১৪১৮. হযরত আলী (রা.) এর সমর্থকগণ গোপনে আন্দোলন শুরু করে > তাকে না জানিয়ে
১৪১৯. শিয়াদের উৎপত্তির কারণ > রাসূলুল্লাহ (স.) এর জামাতা হওয়া সত্বেও হযরত আলী (রা.) কেন চতুর্থ খলিফা, দুমাতুল জান্দালে হযরত আলী (রা.) এর পরাজয়, খারেজি আব্দুর রহমান ইবনে মুলজামের হাতে হযরত আলী (রা.) এর শাহাদাত, ইয়াজিদের প্ররোচনায় স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক বিষ প্রয়োগে ইমাম হাসানের শাহাদাত, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা
১৪২০. ইমাম হুসাইনের রক্ত শিয়া মাযহাবের বীজ বলে প্রমাণিত হয় এবং ১০ই মুহররম তারিখে শিয়া মতবাদ জন্ম লাভ করে > পি.কে. হিট্টি
১৪২১. শিয়া মতবাদ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে জন্ম হয় > হযরত ইমাম হুসাইন এর হত্যার ফলে
১৪২২. পারসিকগণ শিয়াদের উদ্দেশ্য সমর্থন করে > উমাইয়া শাসনে অসন্তুষ্ট হয়ে
১৪২৩. হযরত আলী (রা.) এর বংশের খিলাফত পুনরুদ্ধারে শিয়ারা পরিচালনা করে > উমাইয়া বিরোধী অভিযান
১৪২৪. আব্বাসীয় আমলে শিয়ারা বিদ্রোহের চেষ্টা করে > তাদের দাবি পূরণ না হলে
১৪২৫. আব্বাসীয় আমলে শিয়ারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করে > উত্তর আফ্রিকায়
১৪২৬. উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা একটি রাষ্ট্র গঠন করে > ইমাম হুসাইন (রা.) এর অন্যতম বংশধর ইদ্রিসের নেতৃত্বে
১৪২৭. ইমামত বা নেতৃত্ব হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বংশধরদের বংশগত অধিকার > শিয়াদের মতে
১৪২৮. ইমামতের মতবাদ ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ > শিয়াদের নিকট
১৪২৯. শিয়ারা অবৈধ খিলাফতের দাবিদার মনে করে > প্রথম তিন খলিফা, উমাইয়া ও আব্বাসী খলিফাগণকে
১৪৩০. শিয়াদের কালিমা >লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স.) ওয়া আলিয়্যু খলীফাতুল্লাহ
১৪৩১. ইমাম মুসলিম সমাজের একচ্ছত্র নেতা। তিনি আল্লাহ কর্তৃক নিযুক্ত এবং তাঁর নির্বাচনের ব্যাপারে মানুষের কোনো অধিকার নেই > শিয়াদের মতে
১৪৩২. ইমাম বা আধ্যাত্মিক নেতার মধ্যে দুটি গুণ অভ্রান্ততা ও নিষ্পাপতা যুগপৎ বিদ্যমান থাকে > শিয়াদের মতে
১৪৩৩. শিয়াদের মতে- সত্যিকার ইসলাম পুনরুদ্ধার, সমগ্র বিশ্বজয় ও কিয়ামতের পূর্বে সহস্রাব্দ সূচনার জন্য আবির্ভূত হবেন > দ্বাদশ ইমাম মাহদী (আ.)
১৪৩৪. হযরত আলী (রা.)হযরত মুহাম্মদ (স.) এর নিকট হতে আধাত্মিক শক্তির আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন > শিয়াদের বিশ্বাস ( এগুলো হযরত আলী ( রা.) এর সময়কার শীয়াদের আকীদা ; তবে বর্তমানে শিয়াদের আকীদায় এমন বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে না)
চতুর্থ অধ্যায় - ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমন
১৪৩৫. পৃথিবীর বৃহত্তম উপমহাদেশ > ভারতীয় উপমহাদেশ
১৪৩৬. ভারতীয় উপমহাদেশের > উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে > ভারত মহাসাগর, পূর্বে > মায়ানমার, পশ্চিমে > ইরান ও আরব সাগর
১৪৩৭. ভারতবর্ষ নামকরণ হয়েছে > প্রাচীনকালে 'ভারত' নামক এক হিন্দু রাজার নামে
১৪৩৮. মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার না থাকায় > ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব হয় > কাশ্মীর, কৌনজ, মালব, গুজরাট, বুন্দেলখণ্ড, আজমির, দিল্লি, সিন্ধু ও বাংলা
১৪৩৯. সপ্তম শতাব্দীতে কাশ্মীরের উচ্চবিলাসী কর্কট বংশীয় রাজা > মাতানের বিখ্যাত সূর্য মন্দিরের নির্মাতা ললিত্যদিত্য
১৪৪০. নবম শতাব্দীতে কাশ্মীরের শাসন ক্ষমতা দখল করে > উৎপল বংশ
১৪৪১. ভারতীয় উপমহাদেশে বাস করে > পৃথিবীর প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগ লোক
১৪৪২. অষ্টম শতাব্দীতে প্রথমভাগে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ রাজ্য কৌনজের রাজা ছিলেন > যশোবর্মণ
১৪৪৩. মালব রাজ্য শাসিত হয় > প্রতিহার রাজপুত্র বংশ কর্তৃক
১৪৪৪. আরবগণ জুনায়েদের নেতৃত্বে প্রতিহার রাজ্যের পশ্চিমাংশ আক্রমণ করলে > প্রথম নাগভট্টের অধীনস্থ প্রতিহারগণ আরবদেরকে পরাজিত করে রাজ্য সুরক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল
১৪৪৫. গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর গুজরাট রাজ্যের ক্ষমতা লাভ করেন > গুরজর প্রধান
১৪৪৬. গুরজর বংশ গুজরাট রাজ্যে রাজত্ব করে > অষ্টম শতাব্দীর মধ্যকাল পর্যন্ত
১৪৪৭. বুন্দেলখন্ডে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে > নবম শতাব্দীতে চান্দেলা বংশ
১৪৪৮. মুসলিম অভিযানের প্রাক্কালে আজমির ও দিল্লিতে রাজত্ব করতো > শক্তিশালী চৌহান বংশীয় রাজপুতগণ
১৪৪৯. হর্ষবর্ধনের রাজ্যভুক্ত ছিল > বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত সিন্ধু প্রদেশ
১৪৫০. আরবদের অভিযানের সময় সিন্ধুর শাসনকর্তা ছিলেন > চাচের পুত্র রাজা দাহির
১৪৫১. সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সহজেই সিন্ধু বিজয় করতে সক্ষম হন > রাজা দাহিরের কুশাসন ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে
১৪৫২. রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর অষ্টম শতাব্দীর প্রথমভাগে > গোপালের শাসনে পালরাজা বংশের শাসন শুরু হয়
১৪৫৩. হিন্দু সমাজের ঐক্য সংহতির মূলে কুঠারাঘাত হানে > জাতিভেদ প্রথা
১৪৫৪. হিন্দু সমাজ মূলত ৪টি স্তরে বিভক্ত > ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র
১৪৫৫. ব্রাহ্মণরা ব্যস্ত থাকতো > সাধারণ ধর্ম-কর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানে
১৪৫৬. ক্ষত্রিয়গণ করতো > যুদ্ধ-বিগ্রহ
১৪৫৭. বৈশ্যগণ করতো > ব্যবসা-বাণিজ্য
১৪৫৮. শুদ্রগণ করতো > ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও সাধারণ কাজকর্ম
১৪৫৯. হিন্দুদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল > আন্ত-সাম্প্রদায়িক বিবাহে
১৪৬০. হিন্দুরা একাধিক বিবাহ করতে পারলেও প্রচলন ছিল না > বিধবা বিবাহের
১৪৬১. হিন্দুদের স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীসহ মরণ বরণ করার প্রথাই > ঘৃণ্য সতীদাহ প্রথা
১৪৬২. ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষুদ্র রাজ্য 'বাংলা' বিখ্যাত ছিল > কার্পাস বস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য
১৪৬৩. ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষুদ্র রাজ্য 'বাংলা' এর জনসাধারণের প্রধান পেশা > কৃষি
১৪৬৪. বাংলার অভিজাত ও উচ্চ শ্রেণীর লোকেরা > বিলাসবহুল জীবন যাপন করত
১৪৬৫. বাংলার জনগণের জীবন দুঃখ-দুর্দশায় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠতো > প্রাকৃতিক দুর্যোগে
১৪৬৬. মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষে ৩টি ধর্ম বিরাজমান ছিল > বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও হিন্দুধর্ম
১৪৬৭. ভারতবর্ষের প্রধান ধর্ম ছিল > হিন্দু ধর্ম; (বৌদ্ধধর্ম লুপ্ত, জৈনধর্ম অপ্রিয় ছিল)
১৪৬৮. ভারতবর্ষের অধিকাংশ রাজা হিন্দু হওয়ায় সর্বপ্রকার ব্যবস্থা করতেন > হিন্দু ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য
১৪৬৯. প্রাক মুসলিম যুগে ভারতবর্ষে শাসন ব্যবস্থা ছিল তিনটি স্তরে > প্রাদেশিক, জেলা ও পল্লী গ্রাম (সর্বনিম্ন ইউনিট)
১৪৭০. মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের শাসন ব্যবস্থার সর্বেসর্বা ছিলেন > রাজা
১৪৭১.মুসলমানেরা ভারত অভিযানের প্রথম প্রচেষ্টা শুরু করে > ৬৩৬-৬৩৭ খ্রি. হযরত উমর (রা.) এর শাসনামলে
১৪৭২. ভারত অভিযানের চেষ্টা করা হয় > হযরত আলী (রা.)ও আমির মুয়াবিয়ার শাসনামলে
১৪৭৩. সর্বশেষ বিখ্যাত উমাইয়া খলিফা > আল ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক
১৪৭৪. উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নর নিযুক্ত হন > হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
১৪৭৫. হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা ছিলেন > মুহাম্মদ বিন কাসিম
১৪৭৬. সিন্ধু ও মুলতান অঞ্চলে মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় > মুহম্মদ বিন কাসেমের নেতৃত্বে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্দেশে খলিফা আল ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক এর শাসনামলে
১৪৭৭. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুর পূর্বাঞ্চলের গভর্নর থাকা অবস্থায় কতিপয় আরব বিদ্রোহী সীমান্ত অতিক্রম করে আশ্রয় লাভ করে > সিন্ধু রাজা দাহিরের নিকট
১৪৭৮. সিন্ধু অভিযানের অন্যতম কারণ > আরব বিদ্রোহীদের প্রত্যার্পণে রাজা দাহির হাজ্জাজের দাবি প্রত্যাখ্যান করে, উমাইয়াদের পারস্য অভিযানের সময় পারস্যবাসিকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করে, মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমানা সিন্ধু প্রদেশের অতি সন্নিকটে, ভারতীয় হিন্দু রাজাদের বৈরী মনোভাব ও সামরিক উস্কানি
১৪৭৯. মুসলমানদের সিন্ধু অভিযানে ইন্ধন যোগায় > খলিফা আল ওয়ালিদ ও গভর্নর হাজ্জাজের রাজ্য জয়ের ইচ্ছা
১৪৮০. সিন্ধু অভিযানের প্রধান ও প্রত্যক্ষ কারণ
> সিন্দুর সামুদ্রিক বন্দর দেবলের নিকট জলদস্যু কর্তৃক মুসলমানদের বাণিজ্যিক ৮টি জাহাজ লুন্ঠন
১৪৮১. সিংহল হতে রওনা করা ৮ টি জাহাজে ছিল > আরব বণিকদের পরিবার-পরিজন ও উপঢৌকন
১৪৮২. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ রাজা দাহিরকে পত্র দেন > লুণ্ঠিত জাহাজের দ্রব্য ও বন্দীদের ফেরত এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে
১৪৮৩. রাজা দাহির জাহাজের লুন্ঠিত দ্রব্য ও বন্দীদের ফেরত না দেওয়ায় এবং জলদস্যুদের শাস্তি না দেওয়ায় > হাজ্জাজ ক্রদ্ধ হয়ে খলিফা ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে সিন্ধু বীজয়ের উদ্দেশ্যে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন
১৪৮৪. সিন্ধু বিজয়ের উদ্দেশ্যে প্রেরিত প্রথম দুটি অভিযান ব্যর্থ হয় > ওবায়দুল্লাহ ও বুদাইলের নেতৃত্বে
১৪৮৫. সিন্ধুর তৃতীয় অভিযান ৭১২ খ্রি. প্রেরিত হয় > ১৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে
১৪৮৬. মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রি. দেবল দূর্গে উপস্থিত হয় > ১২ হাজারের অধিক সৈন্য নিয়ে; ৬০০০ সিরীয় ও ইরাকী যোদ্ধা, ৬০০০ উষ্ট্রারোহী, ৩০০০ উষ্ট্র
১৪৮৭. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মুহাম্মদ বিন কাসিমের সাহায্যার্থে জলপথে পাঠান > আজানিক বা আল-আরুস বা কনে নামক অস্ত্রশস্ত্রসহ অন্য সেনাবাহিনী
১৪৮৮. দেবল দুর্গে হিন্দু-মুসলমানদের ঘোরতর যুদ্ধে > হিন্দুদের শোচনীয় পরাজয় ও দেবল মুসলমানদের হস্তগত হয়
১৪৮৯. দেবলের পর মুহাম্মদ বিন কাসিমের অধিকার> নিরুন, সিওয়ান ও সিসাম শহর
১৪৯০. রাওয়ারে রাজা দাহিরের সেনাবাহিনী ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের সেনাবাহিনীর মধ্যে ঘোরতর যুদ্ধ হয় > ৭১২ খ্রি. জুন মাসে
১৪৯১. রাওয়ারের যুদ্ধে রাজা দাহির পরাজিত নিহত হলে > তার সৈন্যবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র পালিয়ে যায়
১৪৯২. মুহাম্মদ বিন কাসিম মুলতানের রাভা নদীর তীরবর্তী সিকা নামক দুর্গ অধিকার করেন > ৭১৩ খ্রি.
১৪৯৩.মুহাম্মদ বিন কাসিম > একাধারে কবি, দক্ষ সেনাপতি, বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও সুশাসক
১৪৯৪. মুহাম্মদ বিন কাসিমের শাসনামলে (৭১২-৭১৫ খ্রি.) প্রায় সোয়া ৩ বছরে > স্থানীয় ব্রাহ্মনদের প্রতি সদয় ব্যবহার করেন
১৪৯৫. দেবলে মসজিদ ও মুসলিম সেনানিবাস স্থাপন করেন > মুহাম্মদ বিন কাসিম
১৪৯৬. আরবিয় মুসলমানদের দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথকে প্রসারিত ও সুগম করে > সিন্ধু বিজয়
১৪৯৭. সিন্ধু দেশে বসতি স্থাপন করে সিন্ধু রমণীদের বিয়ে করে > আরব সৈনিকদের মধ্যে অনেকেই
১৪৯৮. ইন্দো-আরবিয় সভ্যতা ও সাংস্কৃতির ধারক- বাহক হিসেবে ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করেছিল > সংমিশ্রিত আর্য-সেমিটিক জাতি ১৪৯৯. সিনূ বিজয়ের পর যারা ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেন > দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহ.), আজমীরের খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী (রহ.), চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী (রহ.), বগুড়ার সৈয়দ মাহমুদ সারওয়ার (রহ.), সিলেটের শাহজালাল (রহ.), রংপুরের কারামত আলী (রা.)জৈনপুরী (রহ.)
১৫০০. আউলিয়া কেরামের সাম্য, মৈত্রী, সহিষ্ণুতা ও উদারতায় দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে > ভারতবর্ষের নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়
১৫০১. সুফি মতবাদ ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে > ভারতীয়, আরবিয় ও পারসিক চিন্তাধারার সংযোগে
১৫০২. আরবিয়গণ ভারতীয়দের নিকট থেকে লাভ করে > হিন্দুধর্ম, দর্শন, আয়ুর্বেদশাস্ত্র, জোতির্বিদ্যা, গণিত, সংগীত, লোকগীতি, সাহিত্য, দাবা, স্থাপত্য, চিত্রশিল্প
১৫০৩. ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার গ্রন্থ অনূদিত হয় > আরবি ভাষায়
১৫০৪. মুসলমানদের আগমনের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে হ্রাস পায় > বর্ণভেদের কঠোরতা, হিন্দুদের কুশাসন ভীতি
১৫০৫. ভারতবর্ষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি আনয়ন করেছিল > ইসলামের সাম্য-মৈত্রীর আদর্শ
সুলতান মাহমুদ (৯৯৭-১০৩০ খ্রি.)
১৫০৬. গজনীর অধিপতি সবুক্তগীন কর্তৃক তুর্কি গজনবী বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় > ৯৭৭ খ্রি.
১৫০৭. সর্বুক্তগীনের পুত্র সুলতান মাহমুদ জন্মগ্রহণ করেন > ৯৭১ খ্রি.
১৫০৮. বাল্যকালে যুদ্ধবিদ্যা, শাসনপদ্ধতি ও রাজনীতিবিদ্যা সম্পর্কে যথেষ্ট শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা লাভ করেন > সুলতান মাহমুদ
১৫০৯. পিতা সর্বুক্তগীনের মৃত্যুর পর স্বীয় ভাই ইসমাইলকে পরাজিত ও কারারুদ্ধ করে সুলতান মাহমুদ গজনীর সিংহাসনে আরোহন করেন > ৯৭৭ খ্রি. ২৬ বছর বয়সে
১৫১০. সুলতান মাহমুদ ১০০০-১০২৭ খ্রি. ভারত অভিযান পরিচালনা করে জয়লাভ করেন > মোট ১৭ বার
১৫১১. ঐতিহাসিকদের ধারণা- সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযান > পৌত্তলিকতার ধ্বংস সাধন করে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে
১৫১২. ঐতিহাসিকদের মতে- সুলতান মাহমুদের উপর ভারতে ইসলাম প্রচারের দায়িত্বভার ন্যস্ত করেন > আব্বাসীয় খলীফা কাদির বিল্লাহ
১৫১৩. সুলতান মাহমুদ বিধ্বস্ত করেন > হিন্দুদের সুবিখ্যাত নগরকোট মন্দিরসহ অসংখ্য মন্দির
১৫১৪. সুলতান মাহমুদ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন > কতিপয় রাজা ও হাজার হাজার হিন্দুকে
১৫১৫. মুসলিম সৈন্যদের পাশাপাশি সুলতান মাহমুদ পোষণ করতেন > বিরাট হিন্দু সৈন্যদল; যারা মুসলিম সৈন্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করতো
১৫১৬. সুলতান মাহমুদের অভিযানে নিহিত ছিল না > ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ী সাম্রাজ্য স্থাপন করা
১৫১৭. সুলতান মাহমুদ গজনিতে পৃথক কলোনী স্থাপন করেন > হিন্দুদের বসবাসের জন্য
১৫১৮. সুলতান মাহমুদ গজনীতে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন > হিন্দু সংস্কৃতি ও স্থানীয় সাহিত্য বিকাশের জন্য
১৫১৯. সুলতান মাহমুদ একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন > মধ্য এশিয়ায়
১৫২০. ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম সীমান্তের কিছু অংশ ও পাঞ্জাব অধিকারকে কেন্দ্র করে ইতোপূর্বে তার পিতা সবুক্তগীন ও জয়পালের মধ্যে সংঘটিত হয় >কয়েকটি যুদ্ধ
১৫২১. সুলতান মাহমুদ শক্তিশালী গজনী সাম্রাজ্য গঠন করেন > পাঞ্জাব ও মুলতানকে স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করে
১৫২২. সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান পরিচালনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য > সন্ধির শর্ত ভঙ্গকারী বিশ্বাসঘাতক ও শত্রুপক্ষকে সাহায্যদানকারী শাসকগণকে শাস্তিদানের উদ্দেশ্যে
১৫২৩. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য > ভারতবর্ষের অফুরন্ত ধন-সম্পদ আহরণ করে তার সাম্রাজ্যকে বিশ্বে সমৃদ্ধশালী ও সুসজ্জিত নগরীতে পরিণত করা
১৫২৪. সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষ অভিযানে উদ্বুদ্ধ হন > রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে
১৫২৫. রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দিকে ভারতবর্ষের নৃপতিদের দুর্বল করে সুলতান মাহমুদ সচেষ্ট হয়েছিলেন > মধ্য এশিয়ায় একটি নির্বিঘ্ন ও নিষ্কণ্টক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে
১৫২৬. সুলতান মাহমুদ স্বীয় সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি আদায় করেন > বাগদাদের খলিফা কাদের বিল্লাহর নিকট হতে
১৫২৭. সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রি. ভারতবর্ষে প্রথম অভিযানে অধিকার করেন > খায়বর গিরিপথে ভারতের কয়েকটি সীমান্ত নগরী ও দুর্গ
১৫২৮. সুলতান মাহমুদ ১০০১ খ্রি. পাঞ্জাবের রাজা জয়পালের বিরুদ্ধে অভিযান করেন > ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে
১৫২৯. সুলতান মাহমুদ ও জয়পালের মধ্যে পেশোয়ারের নিকট সংগঠিত যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দী হয় > জয়পাল ও তার অনুসরবর্গ
১৫৩০. পেশোয়ারের যুদ্ধে পরাজিত জয়পাল ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্তি লাভ করে পাঞ্জাবের শাসনভার পুত্র আনন্দপালকে অর্পণ করে অপমানে ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করে > অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে
১৫৩১. সুলতান মাহমুদ ১০০৪ খ্রি. বিজয় লাভ করেন > ভীরার রাজ্য
১৫৩২. সুলতান মাহমুদ ১০০৬ খ্রি. জয়লাভ করেন > মুলতানের শাসনকর্তা আবুল ফাতাহ এর বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করে
১৫৩৩. সুলতান মাহমুদ ১০০৮ খ্রি. উন্দ নামক স্থানে আনন্দ পালের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে জয়ী হয়ে হস্তগত করেন > প্রচুর ধন-সম্পদ
১৫৩৪. সুলতান মাহমুদ ১০০৯ খ্রি. দখল করেন > কাংড়া পাথরের নগরকোট
১৫৩৫. সুলতান মাহমুদ ১০১০ খ্রি. পরাজিত করেন > মুলতানের বিদ্রোহী শাসনকর্তা দাউদকে
১৫৩৬. সুলতান মাহমুদ ১০১৪ খ্রি. আনন্দপালের পুত্র তিলোচন পালকে পরাজিত করে অধিকার করেন > রাজধানী নন্দনা
১৫৩৭. সুলতান মাহমুদ থানেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযানে জয়লাভ করেন > ১০১৪ খ্রি.
১৫৩৮. সুলতান মাহমুদের বশ্যতা স্বীকার করে ১০১৯ খ্রি. > কনৌজের প্রতিহারে রাজ্যপাল ভীত হয়ে
১৫৩৯. রাজ্যপালকে আক্রমণ করে হত্যা করে >
কালিঞ্জরের চান্দেলি রাজা গোল্ডারের নেতৃত্বে
১৫৪০. সুলতান মাহমুদ ১০১৯ খ্রি. অভিযানে পরাজিত করেন > চান্দেলা রাজ্যের রাজা গোল্ডারকে
১৫৪১. সুলতান মাহমুদ ১০২১-১০২২খ্রি. অধিকার করেন > গোয়ালিয়র দুর্গ
১৫৪২. সুলতান মাহমুদ ১০২৩ খ্রি. অধিকার করেন > গোল্ডার দুর্গ
১৫৪৩. সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রি. বিজয় করেন > সোমনাথ মন্দির
১৫৪৪. সোমনাথ অভিযানে হিন্দু সৈন্যগণ পরাজিত হয় > মুসলিম সৈন্যদের অমিত বিক্রম সাহস, তেজস্বীতা, যুদ্ধস্পৃহা ও রণকৌশলে
১৫৪৫. সোমনাথ মন্দির বিজয়ের সুলতান মাহমুদ হস্তগত করেন > হিন্দুদের যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত অফুরন্ত ধন রত্ন
১৫৪৬. সুলতান মাহমুদ ১০২৭ খ্রি. শেষ অভিযান প্রেরণ করেন > জাঠদের বিরুদ্ধে
১৫৪৭. সুলতান মাহমুদের শেষ অভিযানে জাঠগণ পরাজিত হলে তাদেরকে দেওয়া হয় > মৃত্যুদণ্ড
১৫৪৮. সুলতান মাহমুদের ভারতবর্ষের অভিযানে সৈন্যদের সাথে ভারতে এসে ইসলাম প্রচার করেন > পীর-দরবেশ
১৫৪৯. সুলতান মাহমুদ স্থায়ীভাবে স্বীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন > শুধুমাত্র পাঞ্জাবে
১৫৫০. সুলতান মাহমুদের সাফল্যের কারণ > তিনি সুদক্ষ সেনানায়ক, সমরকুশলী, সামরিক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নৃপতি এবং তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, শৃঙ্খলাপূর্ণ, সুশিক্ষিত, সুসজ্জিত ও নির্ভীক সেনাবাহিনী
১৫৫১. সুলতান মাহমুদের সাফল্যের কারণ > সকল যুদ্ধের সুলতান মাহমুদের স্বয়ং উপস্থিতিতে সৈন্যদের উৎসাহ-উদ্দীপনা, জিহাদের মর্মবাণী ও ধর্মীয় পুণ্যলাভের প্রেরণা, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য-সামগ্রী লাভের আকাঙ্ক্ষা
১৫৫২. সুলতান মাহমুদ ছিলেন > সাহসী, ধৈর্যশীল, নীতিজ্ঞানসম্পন্ন, উচ্চাভিলাসী, আত্মমর্যাদাপূর্ণ, ধর্মনিষ্ঠ, আত্মপ্রত্যয়ী, অধ্যবসায়ী, কর্তব্যপরায়ণ ও পরধর্মসহিষ্ণু
১৫৫৩. সুলতান মাহমুদ গজনিতে পরলোক গমন করেন > ১০৩০ খ্রি. ৬০ বছর বয়সে ; শাসনকাল > ৩৩ বছর
১৫৫৪. সুলতান মাহমুদের পর তার দুই পুত্র মাসুদ ও মুহাম্মদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় > উত্তরাধিকার স্বত্ব নিয়ে
১৫৫৫. মাসুদ ও মুহাম্মদ এর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে মাসুদ জয়ী হয়ে > অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করে ভাই মুহাম্মদকে
১৫৫৬. সেলজুক ও তুর্কি বাহিনীর আক্রমণে > মাসুদ সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়
১৫৫৭. সুলতান মাহমুদের সেনাবাহিনী মুহাম্মদকে সিংহাসনে বসানোর পরে তিনি শাসনভার অর্পণ করেন > তার পুত্র আহমেদকে
১৫৫৮. মাসুদকে কারাগারে হত্যা করে > মুহাম্মদের পুত্র আহমেদ
১৫৫৯. মাসুদের পুত্র মওদুদ ক্ষিপ্ত হয়ে > মুহাম্মদের সমগ্র পরিবারের বিনাশ সাধন করে
১৫৬০. মওদুদ নয় বছর রাজত্ব করে মারা গেলে > সেলজুকদের আক্রমণ প্রতিরোধে অক্ষম কয়েকজন দুর্বল শাসক গজনির সিংহাসন অধিকার করেন
১৫৬১. গজনী বংশের শেষ সুলতান ছিলেন > খসরু মালিক
১৫৬২.খসরু মালিক মুহাম্মদ ঘুরীর নিকট পরাজিত হন > ১১৮৬ খ্রি.
১৫৬৩. গজনী বংশ পতনের কারণ > জনসমর্থনের অভাব, আরামপ্রিয় ও বিলাসী উত্তরাধিকারীগণ, হত্যা, ষড়যন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ
মুইজ উদ্দীন মুহাম্মদ ঘুরী (১১৭৫- ১২০৬ খ্রি.)
১৫৬৪. ঘুর রাজ্যটি অবস্থিত > আফগানিস্তানের অন্তর্গত হিরাত ও গজনির মধ্যবর্তী পার্বত্যাঞ্চলে
১৫৬৫. ঘুর রাজ্যটি স্বাধীন রাজ্য ছিল > দশম শতাব্দীতে
১৫৬৬. সুলতান মাহমুদ ঘুর রাজ্যটি অধিকার করেন > ঘুররাজ মুহাম্মদ বিন সুরকীকে পরাজিত করে
১৫৬৭. মুইজ উদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম ইতিহাসে পরিচিত > শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী নামে
১৫৬৮. সর্বপ্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার গৌরব অর্জন করেন > শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী
১৫৬৯. মুহাম্মদ ঘুরীর আক্রমণকালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল > গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত
১৫৭০. মুহাম্মদ ঘুরী সহজে ভারত জয় করেন > সমগ্র ভারত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার কারণে
১৫৭১.খসরু মালিক গজনী থেকে বিতাড়িত হয় > ওজ বা সেলজুক তুর্কিদের দ্বারা
১৫৭২. মুহাম্মদ ঘুরী পাঞ্জাব আক্রমণের সময় পাঞ্জাবের শাসন ক্ষমতা ছিল > খসরু মালিকের
১৫৭৩. মুহাম্মদ ঘুরী মুলতান আক্রমকালে মুলতানের রাজত্ব করছিল > কারামতী শিয়া সম্প্রদায়
১৯৭৪. মুলতানের দক্ষিণে ছিল > সিন্ধু
১৫৭৫. মুহাম্মদ ঘুরী সিন্ধু আক্রমনের সময় সিন্ধু ছিল > সুমরা শিয়া মুসলিম গোত্রের দখলে
১৫৭৬. মুহাম্মদ ঘুরীর আক্রমণকালে দিল্লি-আজমীরে শাসন করছিল > চৌহান রাজবংশ
১৫৭৭. কনৌজে শাসন করছিল > গাহঢ়বাল বা রাঠোর রাজবংশ
১৫৭৮. মালবে শাসন করছিল > পারামার রাজবংশ
১৫৭৯. গুজরাটে শাসন করছিল > চালুক্য বা বাঘেলা রাজবংশ
১৫৮০. বুন্দেলখন্ডে শাসন করছিল > চান্দেলা বংশ
১৫৮১. চেদীতে শাসন করছিল > কলচুরী বংশ
১৫৮২. বিহার ও বাংলায় শাসন করেছিল > পাল ও সেন বংশ
১৫৮৩. রাজপুত বংশের রাজ্য গুলোর সর্বাপেক্ষা
শক্তিশালী > দিল্লি ও আজমিরের চৌহান রাজ্য
১৫৮৪. দিল্লি ও আজমিরের চৌহান রাজ্যের বিখ্যাত রাজা > পৃথ্বিরাজ
১৫৮৫. মুসলিম আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পৃথ্বিরাজ মিত্রসংঘ গঠন করেছিলেন > রাজপুত রাজাদের নিয়ে
১৫৮৬. কনৌজের গাহঢ়বাল বংশের খ্যাতনামা শাসক ছিলেন > গোবিন্দ চাঁদ
১৫৮৭. গাহঢ়বাল বংশের শাসক গোবিন্দ চাঁদের সময় কনৌজের রাজ্য সীমানা বিস্তার লাভ করে > পাটনা পর্যন্ত
১৫৮৮. কনৌজের শাসক গোবিন্দ চাঁদের পর রাজা হন > বিজয় চাঁদ
১৫৮৯. কনৌজের গাহঢ়বাল বংশের শেষ রাজা বিজয় চাঁদ পরাজিত হন > মুহাম্মদ ঘুরীর হাতে
১৫৯০. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানকালে গুজরাটের শাসনকর্তা ছিলেন > দ্বিতীয় ভীম
১৫৯১. পূর্ব- ভারতের দুটি বিখ্যাত রাজপুত্র রাজ্য > পাল রাজ্য ও সেন রাজ্য
১৫৯২. কোন এক সময়ে পাল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল > সমগ্র বঙ্গ ও বিহার
১৫৯৩. বাংলা ও বিহারে এসে পালদের পরাজিত করে সেন বংশ প্রতিষ্ঠা করে > দক্ষিণ ভারতের সামন্ত সেন
১৫৯৪. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানকালে বাংলায় রাজত্ব করছিলেন > লক্ষণ সেন
১৫৯৫. লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে বাংলার রাজধানী ছিল > গৌড়
১৫৯৬. মুহাম্মদ ঘুরীর প্রধান সেনাপতি > কুতুবউদ্দিন আইবেক
১৫৯৭. কুতুবউদ্দিনের সেনাপতি > ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী
১৫৯৮. লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা অধিকার করেন > মুহাম্মদ ঘুরীর সেনাপতি কুতুব উদ্দিন আইবেকের অনুমতিক্রমে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী
১৫৯৯. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানকালে ভারতবর্ষে চরম আকার ধারণ করে > সামাজিক অনাচার, জাতিভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ, কোন্দল
১৬০০. হিন্দু সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে সামাজিক কাঠামোতে চরম আঘাত হানে > জাতিভেদ প্রথা
১৬০১. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানকালে হিন্দু সমাজ ৪ শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল > ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূভ্র
১৬০২. হিন্দু সমাজের উচ্চ বর্ণের নিপীড়নের ফলে নিম্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ আকৃষ্ট হয় > ইসলামের প্রতি
১৬০৩. হিন্দু সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করে > সামাজিক কুসংস্কার
১৬০৪. একজন উচ্চবিলাসী সুলতান ছিলেন> মুহাম্মদ ঘুরী
১৬০৫. চির বৈরি রাজবংশ > সেলজুক ও গজনি রাজবংশ
১৬০৬. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য > রাজ্য প্রতিষ্ঠা
১৬০৭. মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানের কারণসমূহ: রাজ্য প্রতিষ্ঠা, ঘুরী বংশের নিরাপত্তা ও রাজ্য বিস্তার করা
১৬০৮. মুহাম্মদ ঘুরীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা > গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মদ
১৬০৯. মুহাম্মদ ঘুরীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা > মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ
১৬১০. মুহাম্মদ ঘুরী প্রথম অভিযানে ১১৭৫ খ্রি. মুলতান ও উচ দখল করেন > কারামতি শিয়া সম্প্রদায়কে পরাজিত করে
১৬১১. মুহাম্মদ ঘুরী ১১৭৫ খ্রি. গুজরাটের রাজধানী আনহিলওয়ারা আক্রমণ করে পরাজিত হন > আনহিলওয়ারা রাজা দ্বিতীয় ভীম কর্তৃক
১৬১২. ভারতের প্রবেশদ্বার > পাঞ্জাব
১৬১৩. মুহাম্মদ ঘুরী পাঞ্জাবের পেশওয়ার অধিকার করেন > ১১৭৯ খ্রি.
১৬১৪. মুহাম্মদ ঘুরী পাঞ্জাবের শিয়ালকোট অধিকার করেন > ১১৮৫ খ্রি.
১৬১৫. মুহাম্মদ ঘুরী গজনী বংশের শেষ সুলতান খসরু মালিককে পরাজিত ও বন্দী করে সমগ্র পাঞ্জাব দখল করেন > ১১৮৬ খ্রি.
১৬১৬. মুহাম্মদ ঘুরীর দ্রুত পাঞ্জাব দখলের ফলে শংকিত হয়ে পড়ে > দিল্লি ও আজমীরের চৌহানরাজ পৃথ্বিরাজ
১৬১৭. তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের মধ্যে সংঘটিত হয় > ১১৯১ খ্রি.
১৬১৮. তরাইনের যুদ্ধ সংঘটিত হয় > থানেশ্বরের প্রায় ১৪ মাইল দূরে তরাইন নামক স্থানে
১৬১৯. তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বিরাজের সৈন্য সংখ্যা> ২০ হাজার অশ্বারোহী, ৩ হাজার রণহস্তি, অসংখ্য পদাতিক
১৬২০. তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরীর মুসলিম বাহিনী পরাজিত ও বিতাড়িত হয় > পৃথ্বীরাজের ভ্রাতা ও সেনাধ্যক্ষ গোবিন্দ রায়ের আক্রমণে
১৬২১. তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী আহত হন > তীরবিদ্ধ হয়ে
১৬২২. মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের মধ্যে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় > ১১৯২ খ্রি.
১৬২৩. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরীর সৈন্য সংখ্যা > ১ লক্ষ ২০ হাজার
১৬২৪. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ ও রাজপুত রাজাদের সম্মিলিত সৈন্য সংখ্যা > ৩ লক্ষ
১৬২৫. পৃথ্বীরাজ বাহিনী পরাজিত, পৃথ্বীরাজের ভ্রাতা গোবিন্দ রায় নিহত ও পৃথ্বীরাজকে পলায়ন কালে হত্যা করা হয় > তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে
১৬২৬. মুহাম্মদ ঘুরী তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় লাভের কারণ > অসীম বীরত্ব, উন্নতমানের যুদ্ধ কৌশল, সাংগঠনিক ক্ষমতা
১৬২৭. রাজপুত কনপেডারেসীকে নির্মূল করা হয় > তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে
১৬২৮. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভের ফলে > উত্তর ভারত ঘুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়
১৬২৯. মুহাম্মদ ঘুরী বিজিত এলাকার শাসনভার ন্যস্ত করেন > বিশ্বস্ত অনুচর, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও দক্ষ সেনানায়ক কুতুবউদ্দিন আইবেকের উপর
১৬৩০. মুহাম্মদ ঘুরীর সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেক (১১৯৩-১১৯৪ খ্রি.) জয় করেন > মিরাট, কোইল বা আধুনিক আলীগড় ও দিল্লি
১৬৩১. কুতুবউদ্দিন আইবেক মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজধানী নির্বাচিত করেন > দিল্লিকে
১৬৩২. মুহাম্মদ ঘুরী ও কুতুব উদ্দিন আইবেকের সম্মিলিত সৈন্যবাহিনী চান্দওয়ারের যুদ্ধে > কনৌজের রাজা জয়চাঁদকে পরাজিত করেন ১১৯৪ খ্রি.
১৬৩৩. কুতুবউদ্দিন আইবেক দ্বিতীয় ভীমদেরকে পরাজিত করে গুজরাটের রাজধানী আনহিলওয়ারা অধিকার করেন > ১১৯৬. খ্রি.
১৬৩৪. কুতুবউদ্দিন আইবেক বুন্দেলখণ্ডের চান্দেল্যরাজ পরমার্দী দেবের রাজধানী কালিঞ্জর অধিকার করেন > ১২০২ খ্রি.
১৬৩৫. কুতুবউদ্দিন আইবেক কালিঞ্জর দূর্গের পরে দখল করেন> মাহোবা ও কালপিও
১৬৩৬. কুতুবউদ্দিন আইবেক যখন উত্তর ভারতের সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে মুসলিম আধিকার প্রতিষ্ঠা করেন > ঠিক সে সময়ে ১২০৪ খ্রি. পূর্ব ভারতের বিহার ও বাংলা অধিকার করে মুসলিম রাজ্যসীমা সম্প্রসারণ করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী
১৬৩৭. মুহাম্মদ ঘুরী প্রকৃত অর্থে দিল্লি, গজনি ও ঘুর রাজ্যের সুলতানের মর্যাদা লাভ করেন > ১২০৩ খ্রি.
১৬৩৮. মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় > ১২০৫ খ্রি. খাওয়ারিজম শাহের নিকট পরাজিত হলে
১৬৩৯. মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পূর্বে > ঘুর সাম্রাজ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, গজনি ও মুলতানে ঘুরীর প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি, পাঞ্জাবে খোক্কার উপজাতির অরাজকতা শুরু
১৬৪০. কুতুবউদ্দিনের সহায়তায় মুহাম্মদ ঘুরী দমন করেন > খোক্কারদের বিদ্রোহ
১৬৪১. খোক্কারদের বিদ্রোহ দমন করে পাকিস্তানের লাহোর হতে গজনি প্রত্যাবর্তনের পর মুহাম্মদ ঘুরী নিহত হন > খোক্কার বংশীয় একজন আততায়ীর হাতে ১২০৬ খ্রি. ; ঘুরীর শাসনকাল > ৩১ বছর
১৬৪২. মুহাম্মদ ঘুরী চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন > দূরদর্শী রণনৈপুন্য, নির্ভীকতা, ধার্মিকতা, বিদ্যোৎসাহিতা ও প্রজাবাৎসল্যের জন্য
১৬৪৩. সমরকুশলী, অসীম বীরত্ব ও যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী মুহাম্মদ ঘুরীর সাফল্যের কারণ > সংঘবদ্ধ সামরিক বাহিনী, উন্নতমানের যুদ্ধ কৌশল, সৈন্য পরিচালনায় অপূর্ব দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন অশ্বারোহী বাহিনী
১৬৪৪. মুহাম্মদ ঘুরীর কোন সন্তান না থাকায় ঘুরী সাম্রাজ্যে তার স্থলাভিষিক্ত হন > ভ্রাতুষ্পুত্র গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
১৬৪৫. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদের রাজত্বকালে > গজনিতে তাজউদ্দীন ইয়ালদুজের, সিন্ধুতে নাসিরউদ্দিন কুবাচার ও ভারতবর্ষে উত্তরাঞ্চলে কুতুবউদ্দিন আইবেকের রাজত্ব ছিল
১৬৪৬. ঘুরী বংশের পতন হয় > খাওয়ারিজম শাহ ঘুর সাম্রাজ্য দখল করলে
কুতুবউদ্দিন আইবেক (১২০৬-১২১০ খ্রি.)
১৬৪৭. কুতুবউদ্দিনকে ক্রীতদাস হিসেবে বাল্যকালে ক্রয় করেন > নিশাপুরের কাজী ফখরউদ্দিন আব্দুল আজীজ
১৬৪৮. কাজী ফখরউদ্দিন আব্দুল আজিজের পর > তার সন্তানেরা কুতুবউদ্দিনকে বিক্রয় করেন
১৬৪৯. গজনিতে আনলে কুতুবউদ্দিনকে ক্রয় করেন > মুইজউদ্দীন
১৬৫০. কুতুবউদ্দিন প্রথমে নিযুক্ত হন > আমীর আকুব বা আস্তাবলের প্রধান হিসেবে
১৬৫১. কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৩-১১৯৪ খ্রি. অধিকার করেন > মিরাট, হানসি, দিল্লি, রণথম্ভোর ও কোইল
১৬৫২. ঘুরী ও কুতুবউদ্দিন আইবেক যুগ্ম অভিযানে ১১৯৪ খ্রি. দখল করেন > কনৌজ
১৬৫৩. কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৬-১২০২ খ্রি. মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন > বারানসি, কালিঞ্জর, গুজরাট, কনৌজ ও মাহোবা প্রভৃতি অঞ্চলে
১৬৫৪. মৃত্যুর পূর্বে মুহাম্মদ ঘুরী উত্তর ভারতের বিজিত অঞ্চলের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে কুতুবউদ্দিন আইবেক কে ভূষিত করেন > 'মালিক' খেতাবে
১৬৫৫. কুতুবউদ্দিন আইবেককে সুলতান উপাধি, খাত-ই-আজাদী ও রাষ্ট্রীয় চাঁদোয়া চিহ্ন প্রদান করেন > মুহাম্মদ ঘুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
১৬৫৬. খাত-ই-আজাদী হচ্ছে > দাসত্বমোচন লিপি
১৬৫৭. স্বাধীন দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠা করেন কুতুবউদ্দিন আইবেক > ১২০৬ খ্রি.
১৬৫৮. ঈর্ষাপরায়ন তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ ভারতের সমগ্র বিজিত অঞ্চলের কর্তৃত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিলে > কুতুবউদ্দিন আইবেক তাকে এক যুদ্ধে পরাজিত করেন
১৬৫৯. সৈনিকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এবং গজনীবাসীরা তাজউদ্দীনকে আমন্ত্রণ জানালে গজনি ত্যাগে বাধ্য হন > কুতুবউদ্দিন আইবেক
১৬৬০. কুতুবউদ্দিন আইবেকের আনুগত্য স্বীকার করেন > বাংলার শাসনকর্তা বখতিয়ার খলজী, মুলতান ও উচের অধিপতি নাসিরউদ্দিন কুবাচা
১৬৬১. বখতিয়ার খলজি ও নাসিরউদ্দিন কুবাচার আনুগত্যে > কুতুবউদ্দিন নিজেকে ঘোষণা করলেন দিল্লির স্বাধীন সুলতান হিসেবে
১৬৬২. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক চৌগান খেলার সময় অশ্বপৃষ্ঠ থেকে পড়ে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন > ১২১০ খ্রি.
১৬৬৩. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক সমাহিত > লাহোরে আনারকলির নিকট
১৬৬৪. চৌগান খেলা > আধুনিক পোলো খেলার মতো এক জাতীয় খেলা
১৬৬৫. মধ্যযুগের গোড়ার দিকে চৌগান খেলা খুব জনপ্রিয় ছিল > ভারত ও পারস্যে
১৬৬৬. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী ১২০৪ খ্রি. আগমন করেন > হিন্দু সেন বংশের সর্বশেষ নৃপতি লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায়
১৬৬৭. ইখতিয়ার উদ্দিন অশ্ব বিক্রেতার ছদ্মবেশে ১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে আকস্মিকভাবে নদীয়া আক্রমণ করে হত্যা করেন > রাজপ্রাসাদের রক্ষীদের
১৬৬৮. মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজপ্রাসাদের পশ্চাৎ দরজা দিয়ে রাজা লক্ষণ সেন প্রাণভয়ে পলায়ন করেন > নদীপথে বর্তমান ঢাকার দিকে বিক্রমপুরে
১৬৬৯. মূলত বিশাল সৈন্যবাহিনীর আগমনের পূর্বেই > মাত্র ১৮ জন নিয়ে সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খলজী বিনা যুদ্ধে নদীয়া জয় করেন
১৬৭০. বখতিয়ার খলজী বাংলা ও বিহার জয় করেন > সুলতান কুতুবউদ্দিনের নির্দেশেই
১৬৭১. বাংলার রাজধানী নদীয়ার পরিবর্তে বখতিয়ার খলজি রাজধানী স্থানান্তর করেন > লক্ষণাবতী অথবা গৌড়ে
১৬৭২.বখতিয়ার খলজীর ১০ হাজার সৈন্যের ব্যর্থ অভিযান > দেবকোট ও তিব্বত
১৬৭৩. বখতিয়ার খলজীর অসংখ্য সৈন্য মৃত্যুবরণ করে > দেবকোট তিব্বত অভিযানে
১৬৭৪. বখতিয়ার খলজী দেবকোটে আততায়ীর হাতে নিহত হন > ১২০৬ খ্রি.
১৬৭৫. পাল ও সেন বংশের অবসানে বাংলা ও বিহার ঘুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় > বখতিয়ার খলজীর সেনানায়কত্বে
১৬৭৬. ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চলে সর্বপ্রথম মুসলিম রাজনৈতিক প্রাধান্য কায়েম হয় > বখতিয়ার খলজীর বাংলা ও বিহার জয়ের ফলে
বাংলাদেশে ইসলাম
১৬৭৭. মানবজাতির আদি পুরুষ হযরত আদম আলাইহিস সালাম বেহেশত হতে অবতরণ করেন > ভারত উপমহাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত সিংহলে বর্তমানে শ্রীলংকার জাবালে আদম পাহাড়ের চূড়ায়
১৬৭৮. সিংহল থেকে এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়ে প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্রভূমি আরব উপদ্বীপে বসতি স্থাপন করেন > হযরত আদম (আ.)
১৬৭৯. মানব সভ্যতার দুটি সুস্পষ্টধারা > তৌহিদবাদ ও শিরকবাদ
১৬৮০. নবীগণের শিক্ষা ও প্রচারের ভিত্তিতে যে ধারা > তৌহিদবাদ
১৬৮১. নবীগণের শিক্ষা ও প্রচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাত্মক ধারা > কুফরবাদ বা শিরকবাদ
১৬৮২. মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নতি ও অগ্রগতি লাভ করে > লক্ষাধিক নবীর প্রচেষ্টা ও সাধনায়
১৬৮৩. সারা বিশ্বের মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির সুষ্ঠ বিকাশে একজন মহান সংগঠকের প্রয়োজনে আল্লাহ প্রেরণ করেন > হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে
১৬৮৪. হযরত মুহাম্মদ (স.) সমগ্র বিশ্ববাসীকে দান করলেন > পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান তথা আল্লাহর মনোনীত ইসলাম
১৬৮৫. ইসলামের আহবানে সর্বপ্রথম সাড়া দিলেন > হযরত খাদিজা (রা.), হযরত আলী (রা.), রাসূলুল্লাহ (স.) এর পালকপুত্র যায়েদ ( রা.), আবু বকর সিদ্দীক (রা.)
১৬৮৬. সমগ্র বিশ্বে ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে > সুফি, আউলিয়া ও পূত চরিত্রের মুসলিম ব্যবসায়ীর আদর্শ ও নিষ্ঠা
১৬৮৭. প্রাচীন বাংলার সীমানা > উত্তরে- হিমালয়; দক্ষিণে- বঙ্গোপসাগর; পূর্বে- গারো-খাসিয়া, লুসাই, জয়ন্তিয়া, ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম শৈলশ্রেণি বা পার্বত্য চট্টগ্রাম ; পশ্চিমে- বিহারের রাজমহল পাহাড় ও কলিঙ্গ
১৬৮৮. বাংলার সমগ্র এলাকাটি > সমতুলভূমি
১৬৮৯. বাংলার বৃহত্তম অংশ গঠিত > গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটি দ্বারা
১৬৯০. বাংলার নামকরণ সম্পর্কে আবুল ফজল তার আইন-ই আকবরী গ্রন্থে বলেছেন > এদেশের জমিতে উঁচু উচু আল বেঁধে বন্যার পানি থেকে জমি রক্ষা করত
১৬৯১. দেশের নামের সাথে 'আল' শব্দ যুক্ত হয়ে উৎপত্তি হয় > বঙ্গ+আল = বঙ্গাল
১৬৯২. আরব বণিকদের জাহাজ যাতায়াত করতো > ভারতের পশ্চিম উপকূল পার হয়ে বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে চীন দেশে
১৬৯৩. সমগ্র বাংলায় অনার্য অধিবাসীর রাজনৈতিক আধিপত্য > খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক পর্যন্ত
১৬৯৪. খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষদিকে বাংলার বিভিন্ন অংশে আর্যদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা হতে থাকে > নন্দরাজ বংশের পতনের পর মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠায়
১৬৯৫. পাল রাজবংশের গোড়াপত্তন ঘটে > ৭৫০ অব্দে গোপাল রাজা নির্বাচিত হলে
১৬৯৬. পাল রাজবংশ বাংলায় রাজত্ব করে > প্রায় ৪০০ বছর
১৬৯৭. একাদশ শতকের শেষভাগ থেকে বাংলায় রাজত্ব করে > সেন বংশ
১৬৯৮. সেন বংশের সর্বশেষ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী বাংলা অধিকার করেন > ১২০৪ খ্রি.
১৬৯৯. তৌহিদবাদের সম্পূর্ন পরিপন্থী আর্যধর্মের লোকেরা পূজা করত > অগ্নি, ইন্দ্র, বারুন, পবনের
১৭০০. আর্যরাপূজা সম্পন্ন করতো > হোম, যজ্ঞ ও বলিদানের মাধ্যমে
১৭০১. মন্ত্র উচ্চারণ করে পূজা সম্পাদন করতো > ব্রাহ্মণরা
১৭০২. ধীরে ধীরে আর্যধর্ম ব্রাহ্মণধর্মে পরিণত হলে সৃষ্ট হয় > ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণীর
১৭০৩. জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব হয় > ভারতে
১৭০৪. বৌদ্ধধর্মে বিলীন হওয়া ধর্মগ্রন্থহীন জৈন ধর্মের একমাত্র উৎস > মহাবীর
১৭০৫. বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক > গৌতম বৌদ্ধ
১৭০৬. বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা > অহিংস, দয়া, দান, সৎচিন্তা, সংযম, সত্যভাষণ, সৎকার্যসাধন ও স্রষ্টাতে আত্মসমর্পণ
১৭০৭. বৌদ্ধধর্ম দুর্বল হয়ে পড়ে > হিন্দুধর্মের প্রভাবে
১৭০৮. বাংলায় হিন্দু ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পায় > দ্বাদশ শতকের শেষভাগে সেন বংশের প্রভাবে
১৭০৯. বাংলায় প্রসার লাভ করে> হিন্দুদের কৃষ্ণ, শিব ও অন্যান্য দেবদেবীর পূজা
১৭১০. হিন্দুসমাজ ব্যবস্থায় শীর্ষস্থানলভ্য ব্রাহ্মণরা সম্পন্ন করতো > পূজানুষ্ঠান, ব্রতানুশীলন, যাগ-যজ্ঞের কোন পৌনঃপুনিক আচরণাদি
১৭১১. হিন্দুসমাজ ব্যবস্থায় নিম্নশ্রেণিতে চলতো > নিদারুণ অভাব, দারিদ্র, ক্ষুধা, পীড়ন, শোষণ যন্ত্রণা ও মৃত্যু
১৭১২. নিম্নবর্ণের কোন লোক ব্রাহ্মণকন্যাকে বিবাহ করতে পারতো না ; কিন্তু ব্রাহ্মণরা নিম্নবর্ণের যেকোনো রমণীকে বিবাহ করলেও > ব্রাহ্মণ বংশের রমণীদের মতো স্ত্রীর মর্যাদা পেতো না
১৭১৩. বাংলার সমাজব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল > হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেহগত বিলাসে, সাহিত্য-কাব্য-কবিতার মাধ্যমে যৌন কামনা বাসনায়
১৭১৪. বাংলা কৃষি প্রধান দেশ হলেও প্রাচীন বাংলা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল > বস্ত্রশিল্পের সূক্ষ্ম মসলিন কাপড়ে জন্য
১৭১৫. প্রাচীন বাংলায় উন্নতি লাভ করেছিল > কাঠশিল্প, হস্তশিল্প ও দেশ- বিদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের প্রথম পর্যায়:
১৭১৬. ইসলাম প্রচারের ধারাবাহিকতা > রাসূলুল্লাহ (স.), সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, তাবয়ে- তাবেয়ীগণ, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়া মুসলমানদের বিভিন্ন দল
১৭১৭. ইসলামের আগমনের পূর্ব হতেই আরবরা পারদর্শী ছিল > ব্যবসা-বাণিজ্যে
১৭১৮. বাংলার দক্ষিণ পূর্ব উপকূলে প্রথম যুগে ইসলামের সত্য বাণী প্রবেশ করে > মুসলিম বণিকদের সাহায্যে
১৭১৯. আরবদেশ এশিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে হাওয়ায় এশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্য চাবিকাঠি ছিল > আরবদের হাতে
১৭২০. ভারতের উপকূলীয় বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল > আরবদের
১৭২১. প্রাচীনকাল থেকেই আরবদের যোগাযোগের ফলে তাদের প্রভাব লক্ষণীয় > চট্টগ্রামের সংস্কৃতিতে
১৭২২. প্রচুর আরবি শব্দ ব্যবহৃত হয় > চট্টগ্রামী ভাষায়
১৭২৩. চট্টগ্রামী লোকদের মুখের আদল বা গঠন > আরবদের মত
১৭২৪. বাংলার উপকূল অঞ্চলে আরব বণিকদের আগমনের মাধ্যমেই > বাংলায় ইসলামের সুত্রপাত হয়
১৭২৫. অনেক বণিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন > বাংলার বহু বিধর্মী রমণীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার পরে
১৭২৬. বিভিন্ন মুসলিম সেনাপতি বারবার ভারতের সিন্ধুর সীমান্তে অভিযান প্রেরণ করেন > হযরত উমর (রা.) এর আমল হতেই
১৭২৭. সমগ্র সিন্ধু জয় করে ভারতে ইসলাম প্রবেশের পথ সুগম করেন > ৭১২ খ্রি. মুহাম্মদ বিন কাসিম
১৭২৮. ইসলাম ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে > হিজরী প্রথম শতকেই
১৭২৯. প্রথম যুগে বাংলা আগমন করেছিলেন > একনিষ্ঠ ইসলাম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী (রহ.)
১৭৩০.শাহ সুলতান বলখী ইসলাম প্রচার করেন > প্রথমে ঢাকা জেলার হরিরাম নগরে পরে বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে
১৭৩১. কথিত আছে- শাহ সুলতান বলখী সমুদ্র পথে বাংলায় আগমন করে ইসলাম প্রচার করেন> চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে
১৭৩২. হযরত শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী (রহ.) এর মাজার > বর্তমান নেত্রকোনা জেলার অন্তর্গত মদনপুর গ্রামে
১৭৩৩. শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী মদনপুর গ্রামের জনসাধারণকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেন > বহু অলৌকিক কার্যের মাধ্যমে
১৭৩৪. কথিত আছে- শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমীর সাথে যে ব্যক্তি একবার সাক্ষাৎ করেছে >সে-ই ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছে
১৭৩৫. বাংলা আগমনকারী প্রথম যুগের মুজাহিদ সুফীগণের অন্যতম > বিস্ময়কর ও চমকপ্রদ কিংবদন্তীর নায়ক হযরত বাবা আদম শহীদ (রহ.)
১৭৩৬. শাহাজাদপুর এসে ইসলাম প্রচার করেন > হযরত মাখদুম শাহ দৌলা শহীদ (রহ.)
১৭৩৭. ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর ভারতের গৌড় অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন > জালালুদ্দিন তাবরিকী (রহ.)
১৭৩৮. পূর্ববঙ্গে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার বহু পূর্বেই ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন > হযরত শাহ নিয়ামতুল্লাহ (রহ)
১৭৩৯. রাজশাহী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারকদের মধ্যে প্রথম > শাহ মাখদুম (রহ.)
১৭৪০. প্রাচীন সুফী দরবেশদের মধ্যে খ্রিস্টীয় নবম শতকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন হযরত বোস্তামী (রহ.)
১৭৪১. বহুসংখ্যক সুফী-অলী-দরবেশের আগমনের কারণে চট্টগ্রামকে বলা হয় > ১২ আউলিয়ার দেশ
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের দ্বিতীয় পর্যায়:
১৭৪২. বাংলায় ইসলাম প্রচার ও দ্বিতীয় পর্যায় > ত্রয়োদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ হতে চতুর্দশ শতকের শেষ ভাগ
১৭৪৩. উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় ইসলাম প্রচার করেন > হযরত শাহ তুর্কান শেখ (রহ.)
১৭৪৪. ত্রয়োদশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচার করেন > হযরত মাওলানা তকীউদ্দিন (রহ.)
১৭৪৫. সোনারগাঁওয়ে অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম প্রচার ও শিক্ষা সম্প্রসারণের কাজে আত্মনিয়োগ করেন > শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.)
১৭৪৬. ইসলামের বিভিন্ন শাস্ত্র শিক্ষাদানের জন্য সোনারগাঁওয়ে মাদ্রাসা স্থাপন করেন > শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ (রহ.)
১৭৪৭. উত্তর ও পশ্চিম-দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রচারক > উলুগ-ই-আজম খাজাজী (রহ.)
১৭৪৮. লাখনৌতির সুলতান রুকনুদ্দীনের সেনাপতি হিসেবে বহুস্থানে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীয়ন করেন> উলুগ-ই-আজম খাজাজী (রহ.)
১৭৪৯. বাংলার দক্ষিণাংশে চব্বিশ পরগনা ও খুলনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক দুজন মুজাহিদ > সাইয়্যেদ আব্বাস আলী মক্কী (রহ.) ও তাঁর বোন রওশন আরা (রহ.)
১৭৫০. বর্তমান চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমায় মুসলমানদের একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন > সাইয়্যেদ আব্বাস আলী মক্কী (রহ.) ও তার ভগ্নি রওশন আরা (রহ.) এর প্রচেষ্টা ও সাধনার ফল
১৭৫১. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার নদীপথে ভ্রমণ করলে সহজ উপলব্ধি করা যায় > হযরত শাহ বদর (রহ.) বা বদর পীরের প্রভাব
১৭৫২. দক্ষিণ পূর্ব বাংলার মুসলিম-হিন্দু মাঝি মাল্লারা নৌকা ছাড়ার পূর্বে উচ্চারণ করে > বদর পীরের নাম
১৭৫৩. পূর্ববঙ্গ ও আসামের পশ্চিমাংশে বর্তমান সিলেটে অতুলনীয় ইসলাম প্রচারক > হযরত শাহজালাল ইয়ামানী মুজাররদী (রহ.)
১৭৫৪. হযরত শাহজালালের হাতে এদেশের অধিকাংশ লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে > পর্যটক ইবনে বতুতা (রহ.)
১৭৫৫. ইসলাম প্রচারক বহু আলেম-দরবেশের আস্তানা ও মাজার দেখা যায় > দিনাজপুরে
১৭৫৬. দিনাজপুর জেলায় ইসলাম প্রচারক আলেম ও দরবেশদের অন্যতম > সাইয়্যেদ নাসিরুদ্দিন শাহ্ নেকমর্দান (রহ.)
১৭৫৭. চতুর্দশ শতকে বাংলার কেন্দ্রভূমি গৌড় ও পান্ডুয়ায় ইসলাম প্রচার করেন > শায়খ আলী সিরাজুদ্দিন (রহ.)
১৭৫৮. নোয়াখালী জেলায় সর্বাধিক প্রসিদ্ধি অর্জনকারী ইসলাম প্রচারক > মাওলানা আহমদ তানুরী (রহ.)
১৭৫৯. সমগ্র বাংলা মুসলিম শাসকদের অধীনে আসে > ত্রয়োদশ শতকের শুরু অর্থাৎ ১২০৪ খ্রি. থেকে পরবর্তী ২৫০ বছরের মধ্যে
১৭৬০. মুসলমানদের ধর্মীয় প্রেরণার উৎস বখতিয়ার খলজী বাংলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করেন > বহু মসজিদ ও মাদরাসা
১৭৬১. বাংলার জনপ্রিয় শাসক তুঘরিল খাঁন ইসলাম প্রচারের জন্য আলেম ও দরবেশগণকে দান করেন > ৫ মণ স্বর্ণ
১৭৬২. ইসলাম প্রচারক আলেম ও দরবেশগণের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনকারী শাসকবর্গ > তৎকালীন বাংলার শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ, ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ, শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, সেকান্দার শাহ ও গিয়াসুদ্দীন আযম শাহ
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের তৃতীয় পর্যায়
১৭৬৩. গৌড়ের সুলতান গিয়াসুদ্দীন আযম শাহের সহপাঠী ও বন্ধু শাহ নূর কুতুবুল আলম (রহ.) ইসলাম প্রচার করেন > গৌড়ে
১৭৬৪. ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে ইসলামী জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা সমবেত হন > শাহ নূর কুতুবুল আলম (রহ.) এর কাছে
১৭৬৫. যশোর ও খুলনা অঞ্চলে সর্বাগ্রে স্মরণযোগ্য ইসলাম প্রচারক, ইসলামী সমাজ-বিধি প্রবর্তক > হযরত খানজাহান আলী (রহ.)
১৭৬৬. হযরত খানজাহান আলীর সংগঠন ক্ষমতা, জনসেবা, অকৃত্রিম চরিত্র-মাধুর্যে মুগ্ধ-বিমোহিত হয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে > খুলনা অঞ্চলের অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো
১৭৬৭. হযরত খানজাহান আলী (রহ.) ইসলাম প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন > তাঁর শিষ্য-শাগরিদগণকে
১৭৬৮. বাংলায় তৃতীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রচার শুরু হয় > পঞ্চদশ শতক হতে .
১৭৬৯. তৃতীয় পর্যায়ে সুন্দরবন অঞ্চলের ইসলাম প্রচারক > হযরত খালাস খান (রহ.)
১৭৭০. উত্তরবঙ্গের ইসলাম প্রচারক > হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)
১৭৭১. বগুড়ায় ইসলাম প্রচারক > হযরত বাবা আদম শহীদ (রহ.)
১৭৭২. ঢাকার সোনারগাঁওয়ে ইসলাম প্রচারক > শাহ মাল্লাহ (রহ.)
১৭৭৩. ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক > শাহজালাল (রহ.) ও শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)
১৭৭৪. পাবনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক > শাহ আফজাল মাহমুদ (রহ.) ও গাজী শায়খ মুহাম্মদ বাহাদুর (রহ.)
১৭৭৫. রাজশাহী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক > শাহ মুয়াজ্জাম দানীশ (রহ.)
১৭৭৬. টাঙ্গাইল অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক > শাহ আদম কাশ্মীরি ও শাহ জামাল (রহ.);
১৭৭৭. চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক > শাহপীর (রহ.) ও কাজী মুওয়ারাজিল (রহ.)
কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক:
১৭৭৮. তিনটি প্রাচীন সভ্যতার নাম > মিসরীয়, মেসোপটেমীয় ও গ্রীক সভ্যতা
১৭৭৯. হিজাবা > কাবাঘর আবৃতকরণ
১৭৮০. হিব্রুদের আদি পুরুষ > হযরত ইবরাহীম (আ.)
১৭৮১. হিজরতের পূর্বে ধর্ম শিক্ষাদানের জন্য মদীনায় পাঠানো হয় > সাহাবী হযরত মুসআব (রা.) কে
১৭৮২. মহানবী ( স.) এর আম্মাজান তাকে আদর করে ডাকতেন > আহমদ নামে
১৭৮৩. Arabia Felix বা সৌভাগ্য আরবভূমি বলা হয় > ইয়ামেনকে
১৭৮৪. উত্তর আরব গোত্র অভিহিত > নিযারি বা মুদারি নামে
১৭৮৫. আরবী ভাষার আদি জনক > ইয়ারাব ইবনে কাহতান
১৭৮৬. মালা > বেদুইনদের গোত্রপতি বা শাইখকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার জন্য গঠিত পরামর্শ পরিষদ
১৭৮৭. সেকায়া > জমজম কূপ থেকে হাজীদের পানি বিতরণ করাকে বুঝায়
১৭৮৮. রিফাদা > হজ্ব পালনকারী লোকদের পবিত্র নগরিতে সাদর সম্ভাষণ জানানো
১৭৮৯. লিওয়া > পতাকা উত্তোলন
১৭৯০. ওকায > কাব্যগাঁথা, প্রবাদ, বীরত্ব ও বাগ্মিতা প্রতিযোগিতার বিখ্যাত মেলা
১৭৯১. হারবুল ফুজ্জার বা হারবে ফিজার তথা অন্যায় সমর বা পাপাচারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় > মক্কার কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে
১৭৯২. এ পর্যন্ত কাবাঘর সংস্কার করা হয় > সর্বমোট ১০ বার
১৭৯৩. ইলহাম > এক প্রকার ওহী
১৭৯৪. নামূসুল আকবার > হযরত জিবরাঈল (আ.)
১৭৯৫. ইসলামী জীবন দর্শনের মূল উৎস > আল কুরআন
১৭৯৬. আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন > ৪০টি মুসলিম পরিবার
১৭৯৭. আউস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয় > বুয়াস যুদ্ধ
১৭৯৮. মুলতবী ওমরাহ > কাযা ওমরাহ
১৭৯৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববী নির্মাণ করেন > বনী নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সুহাইল নামক দুজন এতিম বালকের একখন্ড জমি ক্রয় করে
১৮০০. Cambridge Medieval History গ্রন্থের লেখক > উইলিয়াম বেকার
১৮০১. ফুস্তাত নগরীর প্রতিষ্ঠা করেন > ৬৪২ খ্রি. আমর ইবনুল আস (রা.)
১৮০২. সর্বপ্রথম মিথ্যা নবুয়্যত দাবী করে > ভন্ড নবী আসওয়াদ আনসী
১৮০৩. বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক মারওয়ান > হযরত উসমান ( রা.) এর প্রধান উপদেষ্টা
১৮০৪. সিকা দূর্গটি অবস্থিত > রাভা নদীর তীরে
১৮০৩. শোষণের হাতিয়ার সুদ প্রথার অপর নাম > কুসীদ প্রথা; জাহেলী যুগে সুদের পরিমাণ ছিল ১০০%, কখনো বিশেষ বিশেষ মূহুর্তে স্থানভেদে ২০০%
১৮০৪. প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান > মিসর ও মেসোপটেমিয়া
১৮০৫. বী’রে রুমা কূপটির মালিক > এক ইহুদী (পরে উসমান রা. ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেন)
১৮০৬. তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত থাকবে - এ কথাটি বলেছেন > রাসূলুল্লাহ (স.) আবু বকর (রা.) কে
১৮০৭. ইয়ারমুক > সিরিয়ায় অবস্থিত একটি মরুদ্যানের নাম
১৮০৮.গণতন্ত্র > যে শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রের সর্বস্তরের নাগরিকের মতামতের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তাদের রায়কে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত
১৮০৯. দামেস্ক > বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সিরিয়ার রাজধানী
১৮১০. প্রথম ওহী লেখক > হযরত উসমান (রা.)
১৮১১.আবওয়া অভিযান ৬২৩খ্রি., নাখলার খণ্ডযুদ্ধ ও বদরযুদ্ধ ৬২৪খ্রি., উহুদ ৬২৫খ্রি., খন্দক ৬২৭খ্রি., হুদায়বিয়ার সন্ধি ৬২৮খ্রি., দূত প্রেরণ ৬২৮খ্রি., খায়বর ৬২৮খ্রি., মুলতবী ওমরা বা কাযা ওমরা ৬২৯খ্রি., মুতার যুদ্ধ ৬২৯খ্রি., মক্কা বিজয়, আজনাদাইন, হুনাইন, তায়েফ বিজয় ও তাবুক অভিযান ৬৩০খ্রি.,আমুল উফুদ ৬৩১, বিদায় হজ্জ ৬৩২ খ্রি.
১৮১২. রাসূলুল্লাহ (স.) এর নেতৃত্বে প্রথম সামরিক পদক্ষেপ > আবওয়া অভিযান , ৬২৩ খ্রি. ৭০ জন সদস্য নিয়ে মদীনা থেকে ২৯ মাইল দূরে ওয়াদ্দান নামক স্থানে কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে
১৮১৩. মুসলিম ও কাফের সৈন্য সংখ্যার অনুপাত:
(নাখলা- ১২ : ৪) ; (বদর- ৩১৩ : ১০০০) ; (উহুদ-৭০০ : ৩০০০) ;
(খন্দক-৩০০০ : ১০০০০) ;(খায়বর- ১৬০০ : ৪০০০) ;(মুতার যুদ্ধ-৩ হাজার : লক্ষাধিক);
(মক্কাবিজয় - ১০০০০ : সাফওয়ান, ইকরামা, সুহাইল+ মাখযুম গোত্রের লোকজন) ; (হুনাইন- ১২ হাজার : ২০ হাজার) ; (তায়েফ- বিশাল মুসলিম বাহিনী : তায়েফবাসী) ;
(তাবুক- ৪০ হাজার : লক্ষাধিক )
১৮১৪. হযরত আবু বকর (রা.) এর খিলাফতকালে সংঘটিত:
রিদ্দা ৬৩২খ্রি., বুজাখার যুদ্ধ ৬৩২খ্রি., যুলকাশা, রাবারজার ও ইয়ামামার যুদ্ধ ৬৩৩খ্রি., পারস্য অভিযান ৬৩৩খ্রি., সিরিয়া অভিযান : ……..,
মুসলিম ও শত্রুপক্ষের সৈন্যের অনুপাত-
(বুজাখার যুদ্ধ- ৬০০০ : অসংখ্য) ; (ইয়ামামার যুদ্ধ- ইকরামা, সুরাহবিল ও খালিদ বাহিনী : মুসাইলামা ও সাজাহ সহ বনু হানীফা গোত্রের ৪০ হাজার বিদ্রোহী) ;
(পারস্য অভিযান - মুসান্না ও খালিদ বাহিনীর ১৮ হাজার : পারস্য বাহিনী) ;
(সিরিয়া অভিযান- ৪০ হাজার মুসলিম : ২ লক্ষ ৪০ হাজার খ্রিস্টান)
১৮১৫. হযরত উমর ( রা.) এর খিলাফতকালে সংঘটিত: (পারস্য বিজয়ের)
(নামারিকের যুদ্ধ ৬৩৪খ্রি.-মুসান্না, খালিদ ও আবু ওবায়দা বাহিনী : রুস্তম বাহিনী) ;
(জসরের যুদ্ধ ৬৩৪খ্রি.- আবু ওবায়দা বাহিনী : রুস্তম বাহিনী) ;
(বুওয়ায়েবের যুদ্ধ ৬৩৫খ্রি.- মুসান্না বাহিনী : পারস্য মিহরান বাহিনী) ;
(কাদেসিয়ার যুদ্ধ ৬৩৫ খ্রি.- সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, খালিদ বিন আরতাফা , হযরত কাকা (রা.) বাহিনী-এর ৬০ হাজার : রুস্তম, বাহমান বাহিনী- এর ১ লক্ষ ২০ হাজার) ;
মাদায়েন বিজয় ৬৩৭ খ্রি. ; (জালুলার যুদ্ধ ৬৩৭ খ্রি.- হযরত কাকা ১২ হাজার সৈন্য : জালুলা দূর্গে অবরুদ্ধ পারস্য সম্রাট ইয়াজদিগার্দ বাহিনী); (নিহাওয়ানদের যুদ্ধ ৬৪২ খ্রি.- নুমান বিন মুকরান বাহিনী- ৩০ হাজার : পারসিক ফিরোজান বাহিনী ১ লক্ষ ৫০ হাজার) ;
(সিরিয়া বিজয়ের): দামেস্ক বিজয় ৬৩৫ খ্রি. ;
(ফিহলের যুদ্ধ ৬৩৫ খ্রি.- খালিদ বাহিনী: ৫০ হাজার হিরাক্লিয়াস বাহিনী) ;
হিমস অধিকার ৬৩৫ খ্রি. ; (ইয়ারমুকের যুদ্ধ ৬৩৬ খ্রি.- ৩৫ হাজার আবু ওবায়দা বাহিনী : ২ লক্ষ ৪০ হাজার হিরাক্লিয়াসের থিওডোরাস বাহিনী) ;
প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম অধিকার ৬৩৭ খ্রি ;. (জাজিরা দখল ৬৩৮ খ্রি.- আবু ওবায়দা বাহিনী : ৩০ হাজার জাজিরাবাসী)
মিসর বিজয়ের: (হেলিওপলিসের যুদ্ধ ৬৪০ খ্রি.- ১৪ হাজার আমর ও জুবায়ের ইবনুল আওয়াম বাহিনী : ২৫ হাজার রোমান থিওডোরাস বাহিনী) ;
(আলেকজান্দ্রিয়া দখল ৬৪১ খ্রি.- ২০ হাজার আমর ইবনুল আস বাহিনী : রোমান সম্রাট কনস্টাইনের ৫০ হাজার থিওডোরাস বাহিনী )
১৮১৬. হযরত আলী (রা.) এর খিলাফতকালে সংঘটিত: (সর্বপ্রথম গৃহযুদ্ধ জঙ্গে জামাল বা উষ্ট্রের যুদ্ধ ৬৫৬ খ্রি.- তালহা, জুবায়ের ও হয়রত আয়েশা (রা.) এর ৩ হাজার সৈন্য : হযরত আলী (রা.) এর সৈন্যবাহিনী) ; (সিফফিনের যুদ্ধ ৬৫৭ খ্রি.- আমীর মুয়াবিয়া ( রা.) এর ৬০ হাজার সৈন্য: হযরত আলী (রা.) এর ৫০ হাজার সৈন্য)
১৮১৭. ইমাম হাসান (রা.) ও আমীর মুয়াবিয়া (রা.) এর মধ্যকার যুদ্ধ ও সমঝোতা ৬৬১ খ্রি. -( ইমাম হাসান ( রা.) এর ৪০ হাজার সৈন্য: আমীর মুয়াবিয়া (রা.) এর বিপুল সৈন্য)
১৮১৮. (মুহাম্মদ বিন কাসিম: ৭১২-৭১৫ খ্রি.) ; (সুলতান মাহমুদ: ৯৯৭- ১০৩০ খ্রি.) ; (মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী: ১১৭৫- ১২০৬ খ্রি.) ; (কুতুবউদ্দিন আইবেক: ১২০৬-১২১০ খ্রি.)
বি.দ্র.-সম্মানিত পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী ও পাঠকবৃন্দ, কোন ভুল পরিদৃষ্ট হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রয়োজনে মেসেজে অবহিত করবেন, যাতে সংশোধন করা যায়।(WhatsApp ০১৭৮২৩৮৮৩৩৪)
১৫-০৪-২০২৬ খ্রি. ; ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরী
রচনা, সংকলন ও সম্পাদনায়:
মোহাম্মদ ফোরকান হোসাইন
সাবেক শিক্ষার্থী -
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা, ষোলশহর চট্টগ্রাম।
ঘনিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদরাসা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।
MADRASAH-NAME :
STUDENT-NAME :
CLASS:
ROLL :
GUARDIANS OPINION :
প্রিন্ট বা শেয়ার করে পড়তে Open ক্লিক - প্রথমে সম্পূর্ণ লিঙ্কটি সিলেক্ট করুন।
https://docs.google.com/document/d/1X2wdYSfEfMXeSPqgH824OCJAJUh5Twjav1z6m_0HZJg/edit?usp=drivesdk
৭১
১৪৫ মন্তব্য