Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার: অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার: অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা


বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো দক্ষ মানবসম্পদ। যে দেশ যত বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করতে পারে, সে দেশ তত দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যা-ঘন দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Technical and Vocational Education and Training TVET) বিষ্কারের কোনো বিকল্প নেই। এটি শুধু বেকারত্ব হ্রাস করে না, বরং শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্য পুরণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।


কারিগরি শিক্ষার ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা


বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পর থেকেই। ১৯৬০-এর দশকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর ভিত্তি স্থাপিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, এগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এসএসসি (ভোকেশনাল) সহ বিভিন্ন কোর্স চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী (২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকে), কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্টের হার প্রায় ১৯% এ পৌঁছেছে, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় উন্নতি। সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের মধ্যে ২০% এবং পরবর্তী পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০টি পর্যন্ত উন্নীত করা। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদরাসা


টাকা (মোট ১২,৬৭৮ কোটি টাকা)। দেশে বর্তমানে শতাধিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, শতাধিক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (TSC) এবং এবং হাজারেরও ব


ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ডিপ্লোমা পর্যায়ে আসন সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে।


অগ্রগতি ও সাফল্যের দিকগুলো


প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ বিভাগীয় মহিলা পলিটেকনিক, জেলা পর্যায়ে নতুন পলিটেকনিক স্থাপন, ৩২৯টি TSC প্রকল্পের অধীনে অনেকগুলো চালু হয়েছে।


নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি মহিলা পলিটেকনিক ও বিশেষ কোর্সের মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।


আধুনিকায়নের উদ্যোগ কম্পিউটার, রোবটিক্স, Al, IoT, গ্রিন স্কিলস, ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক নতুন কোর্স চালু হচ্ছে।


বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে।


উপবৃত্তি ও উৎসাহ প্রদান কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, ফি মওকুফ ইত্যাদি চালু রয়েছে।


বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ


কারিগরি শিক্ষার বিষ্টর সত্ত্বেও বেশ কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।


আসন শূন্য থাকা অনেক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬০-৬৩% আসন ফাঁকা থাকে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে TSC-তে SSC (Voc) এ ৬৩.৪৩% এবং HSC (Voc) ৩৬২.১৬% আসন অপূর্ণ ছিল।


শিক্ষার মান ও শিল্প-সংযোগের অভাব → পুরনো সিলেবাস, অপর্যাপ্ত আধুনিক ল্যাব-ইকুইপমেন্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে দুর্বল লিঙ্কেজের কারণে গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।


সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এখনও কারিগরি শিক্ষাকে "দ্বিতীয় কেশ্রেণির মনে করে। সাধারণ শিক্ষার প্রতি ফোঁক বেশি।


শিক্ষক সংকট ও প্রশিক্ষণের অভাব যোগ্য ও আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে।


অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হার অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষিতদের চেয়ে কম নয়।


ভবিষ্যৎ সম্প্রবনা ও করণীয়


বাংলাদেশের জন্য কারিগরি শিক্ষাকে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ জরুরি।


সিলেবাসকে শিল্পের চাহিদা ও ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা


শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে


Internship. Apprenticeship, Industry Attachiment বাধ্যতামূলক করা


আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ, ডিজিটাল


ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণা


নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রকল্প TVET Implementation Plan (২০২৫-২০৩০) এর আওতায় ৮৭টি অ্যাকশন প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন


উপসংহারে বলা যায়, কারিগরি শিক্ষার বিস্তর ও মানোন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের 'উন্নয়নশীল দেশ' থেকে 'উন্নত দেশে' উত্তরণ সম্ভব নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে যেন থাকে দক্ষতার চাবি, যা দিয়ে তারা নিজেদের পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি নম্বরও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করি।


মোঃ আবুল খায়ের খন্দকার

ইন্সট্রাক্টর

ডঃ আখতার হামিদ খান ভি, টি, আই,

কুমিল্লা-৩৫০০।

মন্তব্য করুন