Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২০ অপরাহ্ণ

সুস্থ বিকাশে গুণগত শিক্ষার অগ্রগতি হয়

এগুলো বাইরের হজমী।

কোনো উৎপাদন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ খুঁজে পেলাম না।

নিঃসন্দেহে এর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।


বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও অতি আদরে অভিভাবকবৃন্দ তাদের সন্তানদের এগুলো কিনে দেন।


আমার শিশু শ্রেণিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে বাইরের খাবার না খাওয়ার জন্য। 


আমার বিদ্যালয়ের সামনে খাবারের যে দোকানগুলো আছে তাতে অত্যন্ত নিম্ন মানের খাবার জিনিস বিক্রি হয়।

মাঝে মাঝে তো সেখান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিসও অবুঝ শিশুদের কাছে গছিয়ে দেয়া হয়।

দোকানদারকে ধরলে সে ভুলে হয়েছে বলে জানায়।


যাই হোক,অভিভাবক সমাবেশ ও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে এ বিষয়ে ব্রিফিং করার কারণে এগুলোর প্রবণতা কম হলেও নির্মূল হয় নাই।

তার মধ্যে এখন তারা নিয়মিত স্কুল থেকে খাবারও পায়।

এক্ষেত্রে তো এগুলো খাওয়ার তো কোনো প্রশ্নও থাকার কথা নয়।


তবুও আজ ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর কাছে এগুলো পেলাম।

দাদা তার প্রিয় নাতীর আবদার না ফেলতে পেরে ভালোবেসে কিনে দিয়েছেন।


গল্পটি ভালোবাসার আড়ালে নিষ্ঠুরতায় ভরা।


বিষয়টি মোটেই হাল্কা নয়।


এই বাজে মানের খাবারগুলোর জন্য শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মারাত্মক ভাবে মানসিক ক্ষতি হয়।

যা আমাদের কাছে দৃশ্যমান নয় বলে এর ক্ষতির পরিমাণটা আমরা ঠিক ঠাওর করতে পারি না।

জ্বর,হাম,ডায়ারিয়া,চর্মরোগ বা অন্যান্য রোগগুলো আমাদের  জ্ঞানে গুরুত্বের সাথে রোগ বলে অনুধাবিত হয় কিন্তু বাইরের নিম্ন মানের খাবারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমরা অনুধাবন করতে পারি না।এ বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে।


আমরা শ্রেণিকক্ষে শিশুর মনোযোগ আনয়নে নানা রকম প্রচেষ্টা চালাই।

এই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এই খাবারগুলোর কারণে।


হ্যাঁ,আমি ঠিকই বলছি;নিম্ন মানের বাইরের খাবার শিশুর মনোযোগে ব্যাপক ভাবে বিঘ্ন ঘটায়।


শিশুর বিকাশে তাই এই খাবারগুলো প্রথম সারির অন্তরায় সৃষ্টি করে।


বাইরের খাবারে অভ্যস্ত শিশুকে আপনি সহজে ক্লাসে মনোযোগী করতে পারবেন না।

সেই সাথে সেই শিশু আর পাঁচটা শিশুর শিখনেও বিঘ্ন ঘটিয়ে থাকে।

এসব শিশু অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে থাকে এবং শৃঙ্খলা বোধ সম্পর্কে উদাসীন থাকে।

আমরা একটি শ্রেণিকক্ষে নানা ধরণের শিশু নিয়ে কাজ করি।

শিশুর বৈশিষ্ট্যে চঞ্চলতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে অতি মাত্রায় চঞ্চলতার পেছনে স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য কাজ করে না বরং রসদ হিসেবে কাজ করে এইসব বাইরের খাবার।


বিশেষত গ্রামের শিশুরা এই খাবারগুলোর থেকে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একে এদের অভিভাবকদের অসচেতনা কাজ করে আর দুয়ে গ্রামের দোকানগুলোতে সহজেই নিম্ন মানের জিনিস অধিক মুনাফায় চালিয়ে দেয়া যায়।

এর জন্য কোনো মোবাইল কোর্ট আসে না, আর না আসে এদের নিয়ে সুচিন্তা করার উপর মহল।


তারচেয়েও বড় অনুতাপের বিষয় হলো,এগুলো বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়!!


এদেশের প্রশাসন যদি শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে না পারে তবে তাদের দেশের উন্নয়নের শপথ গ্রগণটা ব্যর্থতার গ্লানিতে ভরে উঠবে।


কেন এগুলো গ্রামের দোকানে পাওয়া যাবে??

আদৌ কী এসব বন্ধ হবে?


আমি আমার অবস্থান থেকে অভিভাবক সচেতনা আর শিশুকে বার বার বুঝিয়ে এগুলো বিমুখ করতে পারি।


তবে এর উৎপাদন বন্ধ না হলে কী ক্ষতি কমবে?


আসুন সবাই সচেতন হই।

ওদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে দেই।

শিশুর সুস্থ ও সুন্দর বিকাশে স্বাক্ষর রাখি।

মন্তব্য করুন