Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ

সোনালি সূচিকর্মে মোড়ানো কাবার গিলাফ

কাবা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সর্বপ্রথম ইবাদতের ঘর, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের চিরন্তন কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন কোটি কোটি মুসল্লি পবিত্র এই ঘরের দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করেন। কাবা ঘরের মূল সৌন্দর্য ফুটে উঠে মূলত তার সূক্ষ্ম কারুকাজ, সোনালি সূচিকর্ম এবং পবিত্র বাক্যাবলির সম্মিলনে তৈরি কালো আবরণের মাধ্যমে। যেটা কিসওয়া নামে-ই বেশ প্রসিদ্ধ। আরবি ভাষায় ‘কিসওয়াহ’ শব্দের অর্থ হলো এমন আবরণ, যা দিয়ে কোনো কিছু সজ্জিত করা হয়। আর সেই থেকেই কাবার মহিমান্বিত গিলাফকে বিশেষভাবে ‘কিসওয়া’ বলা হয়। এটি প্রায় ৬৭০ কেজি খাঁটি রেশম, ১২০-১৫০ কেজি সোনা এবং ১০০ কেজি রূপার সুতা দিয়ে তৈরি হয়। গিলাফের উচ্চতা ১৪ মিটার। আরবি ভাষায় ‘কিসওয়াহ’ শব্দের অর্থ হলো এমন আবরণ, যা দিয়ে কোনো কিছু সজ্জিত করা হয়। আর সেই থেকেই কাবার মহিমান্বিত গিলাফকে বিশেষভাবে ‘কিসওয়া’ বলা হয়। এটি প্রায় ৬৭০ কেজি খাঁটি রেশম, ১২০-১৫০ কেজি সোনা এবং ১০০ কেজি রূপার সুতা দিয়ে তৈরি হয়। গিলাফের উচ্চতা ১৪ মিটার। প্রতিটি থান এক মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া। সবমিলিয়ে গিলাফটির মোট ওজন প্রায় ১,৩০০ কেজি হয়ে থাকে। গিলাফের উপর সোনালী সুতা দিয়ে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, আল্লাহু জাল্লা জালালুহু, সুবহানাল্লাহু ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম এবং ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান ও কোরআনের অন্যান্য আয়াত খোদাই করা থাকে। মক্কার উম্মুল জুদ এলাকার বিশেষ কারখানায় দক্ষ কারিগররা এটি হাতে তৈরি করেন। বর্তমানে এটি তৈরিতে ১৭ মিলিয়ন সৌদী রিয়াল ব্যয় হয়। আগে প্রতিবছর আরাফার দিন (৯ জিলহজ) পরিবর্তন করা হলেও, বর্তমানে হিজরি বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ পহেলা মহররম নতুন গিলাফ লাগানো হয়। আর পুরোনো গিলাফটি নামানোর পর টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং জাদুঘরে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। 

হজের সময় ভিড় থেকে গিলাফ রক্ষার জন্য এবং পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে গিলাফের নিচের অংশ সামান্য উপরে তুলে রাখা হয়। এসবই অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, যাতে কাবা শরিফের মর্যাদায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এক কথায় কাবা শরিফের গিলাফ ঈমান, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। এর কালো রঙে যেমন রয়েছে বিনয় ও গাম্ভীর্য, তেমনি সোনালি আয়াতে ফুটে ওঠে আল্লাহর কালামের মহিমা। প্রতি বছর এর পরিবর্তন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন যেমন নতুন হয়, তেমনি আমাদের ঈমানকেও বারবার নবায়ন করতে হয় আল্লাহর স্মরণে ও তার পথে ফিরে আসার মাধ্যমে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ